মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বেঁচে থাকার তাগিদে নিঃসন্তান নাছিমার সংগ্রাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
বেঁচে থাকার তাগিদে নিঃসন্তান নাছিমার সংগ্রাম

আজহারুল ইসলাম সাদী: একজন বিধবা নারীর সামাজিক প্রতিকূলতা, একাকীত্ব ও পরিবার সামলানোর নিরন্তর লড়াইয়ের গল্প আমাদের সমাজে বিরল নয়। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা যুক্ত হলে সেই সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে। আর নারীটি যদি হন নিঃসন্তান, তবে তাঁর মানসিক ও সামাজিক দুঃখ- দুর্দশা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে যায়।

সন্তানহীন বিধবা নারীদের জীবনসংগ্রাম আমাদের সমাজের এক রূঢ় বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা নির্দিষ্ট দক্ষতা না থাকায় তাঁদের অধিকাংশকেই দিনমজুরি, গৃহপরিচারিকার কাজ কিংবা ছোটখাটো ব্যবসার মতো স্বল্প আয়ের পথ বেছে নিতে হয়। ধর্মীয় ও উত্তরাধিকার আইনের নানা জটিলতায় সন্তান না থাকায় অনেকেই স্বামীর সম্পত্তির পূর্ণ অধিকার থেকে বঞ্চিত হন; আত্মীয়দের অনাদরে অনেককে ভিটেমাটি ত্যাগ করতে হয়। অসুস্থ হলে দেখাশোনা বা চিকিৎসার খরচ জোগানোর মতোও কেউ থাকে না।

এমনই এক সংগ্রামমুখর জীবনের মুখোমুখি সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার নবনূর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জেলা কারাগারের মধ্যবর্তী স্থানে বসবাসকারী মধ্যবয়সী নারী নাছিমা খাতুন।
ছয় ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে অন্য বোনদের মতো নাছিমারও বিয়ে হয়েছিল। তাঁর একটি সন্তান হলেও অল্প বয়সেই সে মারা যায়। পরবর্তীতে স্বামীকেও হারান তিনি। নিমিষেই নিঃসঙ্গ ও বিধবা হয়ে পড়েন নাছিমা।

বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ বিধবা মাকে নিয়ে আলাদা বসবাস করছেন মধ্যবয়সী নাছিমা। সংসার চালানো ও মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাঁকে। জীবনধারনের তাগিদে তিনি একটি ভ্যানগাড়িতে ভ্রাম্যমাণ দোকান তৈরি করেছেন। শহরের সন্ধ্যার মিল বাজারে সেই ভ্যানে বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া খাবার বিক্রি করেন। এ ছাড়া কাটিয়া এলাকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একটি ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রেও কাজ করেন তিনি। এ দুটি কাজ থেকে অর্জিত সামান্য আয় দিয়েই চলে মা-মেয়ের সংসার।

তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সংসার চালানো এবং মায়ের শারীরিক নানা জটিলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে নাছিমাকে। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিধবা জীবনযাপন করলেও এখন পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যে জোটেনি একটি বিধবা ভাতার কার্ড।

নাছিমা খাতুনের মতো সমাজের এমন প্রান্তিক ও অসচ্ছল নারীদের সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

 

Ads small one

তালায় দুর্গোৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় সজাগ প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তালায় দুর্গোৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় সজাগ প্রশাসন

তালা প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে তালা উপজেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড়, ম-পে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও প্রতিমাশিল্পীরা। উপজেলায় এবার ১২টি ইউনিয়নে মোট ২০২টি পূজাম-পে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, পাটকেলঘাটা থানার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নে ৮৭টি এবং তালা থানার আওতাধীন সাতটি ইউনিয়নে ১১৫টি পূজাম-প রয়েছে। উৎসব নির্বিঘœ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রতিটি ম-পে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশি টহল এবং আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ কুমার ম-ল ও পুরোহিত তপন হালদার জানান, ম-পগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। তালা থানার এসআই (ওসির চার্জ) মহাসীন আলী, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জেল হোসেন এবং তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা জানান, পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একব্যক্তির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একব্যক্তির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরুজ্জামান গাজী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন গাজীর (নূরী) ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর দেবনগর গ্রামের রফিকুল মোল্লার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে ট্রান্সফর্মারের ঢাকনা খোলার পর ভিতরকার জিনিসপত্র মাথায় পড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারাত্মক জখম হন নুরুজ্জামান। পরে চোর চক্রটি একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চুরির ওই ঘটনায় রফিকুল মোল্লা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার রাতে নুরুজ্জামানসহ অন্যরা ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে হাইভোল্টেজ তারের সংস্পর্শে আসেন। পুলিশের ঝামেলার ভয়ে তাঁকে কোনো সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতে রেখে গোপনে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝাউডাঙা অফিসের এজিএম মোছা. মারিয়া ছিদ্দিকা জুঁই জানান, উত্তর দেবনগরের রফিকুল মোল্লার ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। নুরুজ্জামান ওই ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

সম্পাদকীয়/চাল ও ডিমের বাজার: নি¤œআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/চাল ও ডিমের বাজার: নি¤œআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

নিত্যপণ্যের লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে দেশের সাধারণ ও নি¤œআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, সবজির পাশাপাশি ডিম ও মাংসের মতো আমিজাতীয় খাদ্যের দাম যেভাবে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে কর্মসংস্থানের সংকোচন এবং আয়ের স্থবিরতা, অন্যদিকে লাগামহীন ব্যয়Ñএই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অসংখ্য মানুষ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। সামান্য সঞ্চয়ের সুযোগ তো দূরের কথা, দৈনিক প্রয়োজন মেটাতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে বেশিরভাগ পরিবার।
সাম্প্রতিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে চাল ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সরু ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়ে পৌঁছেছে দেড়শ টাকার ওপরে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ধানের চড়া দামের কথা বলা হলেও, পাইকারি ও খুচরা বাজারের এই ফারাক ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বিপণন প্রক্রিয়ায় তদারকি ও জবাবদিহির অভাব না থাকলে পণ্যের এই কৃত্রিম বা অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব নয়।

বাজার ব্যবস্থাপনার এই অস্থিরতা জনজীবনে গভীর সংকট তৈরি করেছে। শুধু অজুহাত দিয়ে পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হলে বাজার মনিটরিং আরও কঠোর করতে হবে। সরবরাহ চেইনে কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বেশি বিপন্ন করে তুলবে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।