বেঁচে থাকার তাগিদে নিঃসন্তান নাছিমার সংগ্রাম
আজহারুল ইসলাম সাদী: একজন বিধবা নারীর সামাজিক প্রতিকূলতা, একাকীত্ব ও পরিবার সামলানোর নিরন্তর লড়াইয়ের গল্প আমাদের সমাজে বিরল নয়। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা যুক্ত হলে সেই সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে। আর নারীটি যদি হন নিঃসন্তান, তবে তাঁর মানসিক ও সামাজিক দুঃখ- দুর্দশা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে যায়।
সন্তানহীন বিধবা নারীদের জীবনসংগ্রাম আমাদের সমাজের এক রূঢ় বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা নির্দিষ্ট দক্ষতা না থাকায় তাঁদের অধিকাংশকেই দিনমজুরি, গৃহপরিচারিকার কাজ কিংবা ছোটখাটো ব্যবসার মতো স্বল্প আয়ের পথ বেছে নিতে হয়। ধর্মীয় ও উত্তরাধিকার আইনের নানা জটিলতায় সন্তান না থাকায় অনেকেই স্বামীর সম্পত্তির পূর্ণ অধিকার থেকে বঞ্চিত হন; আত্মীয়দের অনাদরে অনেককে ভিটেমাটি ত্যাগ করতে হয়। অসুস্থ হলে দেখাশোনা বা চিকিৎসার খরচ জোগানোর মতোও কেউ থাকে না।
এমনই এক সংগ্রামমুখর জীবনের মুখোমুখি সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার নবনূর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জেলা কারাগারের মধ্যবর্তী স্থানে বসবাসকারী মধ্যবয়সী নারী নাছিমা খাতুন।
ছয় ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে অন্য বোনদের মতো নাছিমারও বিয়ে হয়েছিল। তাঁর একটি সন্তান হলেও অল্প বয়সেই সে মারা যায়। পরবর্তীতে স্বামীকেও হারান তিনি। নিমিষেই নিঃসঙ্গ ও বিধবা হয়ে পড়েন নাছিমা।
বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ বিধবা মাকে নিয়ে আলাদা বসবাস করছেন মধ্যবয়সী নাছিমা। সংসার চালানো ও মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাঁকে। জীবনধারনের তাগিদে তিনি একটি ভ্যানগাড়িতে ভ্রাম্যমাণ দোকান তৈরি করেছেন। শহরের সন্ধ্যার মিল বাজারে সেই ভ্যানে বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া খাবার বিক্রি করেন। এ ছাড়া কাটিয়া এলাকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একটি ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রেও কাজ করেন তিনি। এ দুটি কাজ থেকে অর্জিত সামান্য আয় দিয়েই চলে মা-মেয়ের সংসার।
তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সংসার চালানো এবং মায়ের শারীরিক নানা জটিলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে নাছিমাকে। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিধবা জীবনযাপন করলেও এখন পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যে জোটেনি একটি বিধবা ভাতার কার্ড।
নাছিমা খাতুনের মতো সমাজের এমন প্রান্তিক ও অসচ্ছল নারীদের সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।












