মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

বেতনের টাকাটা বৌদির হাতে দিও/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
বেতনের টাকাটা বৌদির হাতে দিও/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির রেখে যাওয়া একটি বাক্য এখন শুধু শোকের নয়, জবাবদিহিরওÑ“বেতনের টাকাটা বৌদির হাতে দিও।” একটি ছোট বাক্য, কিন্তু এর ভেতরে আছে একজন সাংবাদিকের শ্রমের মূল্য, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের বড় প্রশ্ন। পুলক চ্যাটার্জি ছিলেন বরিশালের সাংবাদিকতার পরিচিত মুখ। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকালে কাজ করেছেন। একসময় সমকালের বরিশাল ব্যুরোপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করা এই মানুষটির শেষ সময়ে তাঁর প্রাপ্য অর্থের কথা উঠে আসা তাই নিছক ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ১১ সেপ্টেম্বর বরিশালের পারারা রোডে সমকালের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর রেখে যাওয়া একাধিক নোটের কথাও সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। কোনো একটি ঘটনাকে তাঁর মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ হিসেবে তুলে ধরা দায়িত্বশীল হবে না। কিন্তু তাঁর বেতন বা বৈধ পাওনার প্রশ্নটি স্পষ্টভাবে সামনে আনা জরুরি। ঠিক কত টাকা, কোন সময়ের বা কোন খাতে তাঁর পাওনা ছিলÑতা সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক হিসাব থেকেই নির্ধারিত হবে।

 

অনুমান করে কোনো অঙ্ক বা সময়কাল বলা ঠিক নয়। তবে যদি কোনো বৈধ পাওনা থেকে থাকে, সেটি তাঁর পরিবারের অধিকার। প্রতিষ্ঠানের অনুগ্রহ নয়। এখানেই আসে প্রাতিষ্ঠানিক দায়ের প্রশ্ন। একজন সাংবাদিক যখন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তখন তাঁর কাছ থেকে সময়, শ্রম, দক্ষতা ও পেশাগত দায়িত্ব প্রত্যাশা করা হয়। সেই শ্রমের বিনিময়ে নির্ধারিত পারিশ্রমিক সময়মতো দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির মৌলিক দায়িত্ব। চাকরি শেষ হলে হিসাব চুকিয়ে দেওয়া, কর্মী মারা গেলে তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারীর কাছে পাওনা পৌঁছে দেওয়াÑএগুলোও সেই দায়িত্বের অংশ।

 

অতএব কোনো কর্মীর পাওনা নিয়ে পরিবারকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে কেন? কেন একজন কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীকে প্রতিষ্ঠানের দরজায় পাওনার হিসাব জানতে দাঁড়াতে হবে? কেন কর্মীর জীবদ্দশায় যে হিসাব পরিষ্কার হওয়ার কথা, তা মৃত্যুর পরও অস্পষ্ট থাকবে? প্রতিষ্ঠান যদি কর্মীর শ্রমের হিসাব রাখে, তবে তাঁর পাওনার হিসাবও রাখতে হবে। এখানে সংবাদমাধ্যমের দায় আরও বেশি। কারণ যে প্রতিষ্ঠান সমাজের কাছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়ের দাবি তোলে, তার নিজের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই মানদ- প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

 

সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে কর্মীর ন্যায্য পারিশ্রমিকের অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুলকের ঘটনায় তাই আবেগের চেয়ে এখন প্রয়োজন স্বচ্ছতা। তাঁর কোনো বৈধ পাওনা থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে হিসাব যাচাই করে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রয়োজন হলে পরিবারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করে প্রাপ্য অর্থ ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে হবে। কোনো প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তার সমাধানের দায়িত্বও প্রতিষ্ঠানেরÑপরিবারের নয়।

 

কর্মীর পাওনা পরিশোধের জন্য পরিবারকে দৌড়াতে হবেÑএমন ব্যবস্থা কোনো দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের হতে পারে না। আর এখানেই বিষয়টি ব্যক্তিগত গ-ি ছাড়িয়ে বৃহত্তর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিক, বিশেষ করে মফস্বলের সাংবাদিক, অনিশ্চিত কর্মপরিবেশে কাজ করেন। কোথাও নিয়োগপত্র নেই, কোথাও নিয়মিত বেতন নেই, কোথাও চাকরি শেষ হওয়ার পর পাওনা নিষ্পত্তির সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নেই। অথচ সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করা হয়।

 

এই দ্বৈতনীতি বন্ধ করতে হবে।প্রতিটি সংবাদমাধ্যমের উচিত কর্মীদের জন্য লিখিত নিয়োগ, নির্ধারিত বেতন, সময়মতো পারিশ্রমিক, ছুটি ও অন্যান্য বৈধ সুবিধা নিশ্চিত করা। চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তির বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে। কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার কীভাবে পাওনা পাবে, সেটিও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালায় স্পষ্ট থাকা দরকার। আর শুধু নীতিমালা করলেই হবে নাÑতার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।পুলকের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

 

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো অনুমানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়। কিন্তু তাঁর বৈধ পাওনার প্রশ্নটি তদন্তের ফলের ওপর নির্ভরশীল নয়। পাওনা থাকলে সেটি হিসাব করে পরিশোধ করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তাই এখন প্রয়োজন শোকের আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। পুলকের কোনো বেতন বা বৈধ পাওনা থাকলে তা দ্রুত নির্ধারণ ও পরিশোধ করা হোক। পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করা হোক।

 

একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা, চাকরির নিশ্চয়তা ও কর্ম-পরবর্তী অধিকার নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা হোক। “বেতনের টাকাটা বৌদির হাতে দিও”Ñএই বাক্যটি যেন শুধু পুলকের শেষ অনুরোধ হয়ে না থাকে। এটি সংবাদমাধ্যমের প্রতি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন হয়ে থাকুক। যে সাংবাদিকের শ্রম প্রতিষ্ঠানের সংবাদকে সমৃদ্ধ করে, তাঁর শ্রমের মূল্য পরিশোধ করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

 

আর সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা কোনো সাধারণ দাপ্তরিক ত্রুটি নয়; এটি কর্মীর অধিকার ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির প্রশ্ন। পুলকের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা শুধু তাঁকে স্মরণ করা নয়। তাঁর প্রাপ্য যদি থেকে থাকে, তা তাঁর পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিকের পরিবারকে যেন একই প্রশ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দরজায় দাঁড়াতে না হয়Ñসেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর শেষ কথার প্রকৃত মর্যাদা।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

কপোতাক্ষের ভাঙনে তালার ৪ গ্রামে আতঙ্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষের ভাঙনে তালার ৪ গ্রামে আতঙ্ক

তিন দিন ধরে বাঁধ আগলে আছে মানুষ, প্রশাসনের দেখা নেই!

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা: ঝুড়ি ভর্তি মাটি, হাতে কোদাল। রাত জেগে নদীর পাড়ে পাহারা। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের মানুষ এখন এভাবেই দিন কাটাচ্ছে। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় জোয়ারের পানির চাপে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বালিয়া, শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের হাজারও মানুষ।

গত শনিবার রাতে জোয়ারের পানির তীব্র চাপে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। বিলের মধ্যে থাকা মৎস্যঘেরের মালিকেরা প্রথমে বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত গ্রামে এসে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। ঘুম ভেঙে গ্রামের নারী-পুরুষ-শিশু ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে ছুটে যান নদের পাড়ে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাঁরা ভাঙা অংশ সাময়িকভাবে মেরামত করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকান। সেদিন রক্ষা পেলেও বিপদ কাটেনি।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের আরও দুটি স্থানে নতুন করে ফাটল ধরেছে। পানি চুঁইয়ে ভেতরে ঢুকছে। তিন দিন ধরে গ্রামের মানুষ পালা করে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন এবং দুর্বল স্থানগুলো মাটি দিয়ে শক্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনবল ও উপকরণের অভাবে তা কতক্ষণ টিকবে, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন সবাই।

ভুক্তভোগী নাজমিন আক্তার উল্লেখ করেন, শনিবার রাতে সময়মতো না গেলে এতক্ষণে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের লোনা পানিতে তলিয়ে যেত। নতুন করে ফাটল ধরার পর তিন দিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনকে ফোন দেওয়া হলেও কেউ এসে দেখেনি। এই বাঁধ ভেঙে গেলে বালিয়াসহ পাশের শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হবে এবং তলিয়ে যাবে বিস্তীর্ণ মাছের ঘের ও কৃষি জমি। ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান গাজী ও জামাল উদ্দীন জানান, প্রায় ১২-১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খনন শুরু হলে এলাকাবাসী সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদ খননের দাবি জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রথমে দুই দিন সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কাজ করার পর তা বন্ধ করে দেয়। এরপর চলমান গতিতে খনন করায় কপোতাক্ষ নদ তার নিজস্ব গতিপথ থেকে সরে এসে বালিয়া গ্রামের জনবসতির কাছে চলে আসে। এর ফলে বালিয়া অংশে নদের গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

 

একই সময়ে এই এলাকায় টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় নদ আরও খরস্রোতা হয়ে ওঠে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে কোনো স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করেনি। ফলে প্রতিবছর জোয়ারের পানির চাপে টিআরএম সংযোগ খালের পাশে দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কৃষক ও ঘেরমালিকদের কোটি টাকার ক্ষতি হয়। বারবার লিখিত দরখাস্ত, সভা ও মানববন্ধন করেও আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু জানান, বালিয়া গ্রামের বাঁধের একাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো এলাকা লোনা পানিতে ডুবে যাবে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গ্রামবাসীর একটাই দাবি, অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা এবং কপোতাক্ষ নদের বালিয়া অংশ সিএস ম্যাপ অনুযায়ী পুনরায় খনন করে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, বালিয়া এলাকার বাঁধের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত এবং ইতিপূর্বে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে সেখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া গেলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারা দেশে বর্তমানে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাঁধের কাজ করা সম্ভব হবে।

সুন্দরবনে ঘুমন্ত দুই জেলেকে কুপিয়ে জখম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনে ঘুমন্ত দুই জেলেকে কুপিয়ে জখম

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শেষে নৌকায় ঘুমন্ত অবস্থায় দুই জেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁদের সুন্দরবনের হেতালবুনিয়া খাল এলাকা থেকে উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। তবে হামলায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সুন্দরবনের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন বাটলুয়া নদীসংলগ্ন হেতালবুনিয়া খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত দুই জেলে হলেন কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের গোলখালী গ্রামের ওসমান সরদারের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৩২) এবং তাহের সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০)। তাঁরা কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন থেকে বৈধ পাশ নিয়ে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়েছিলেন।
আহত জেলেদের চাচা আব্দুল গনি সরদার উল্লেখ করেন, সকালে হঠাৎ সাইদ নামের এক জেলের মোবাইল নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। সাইদ তাঁকে দ্রুত ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনে আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, হেতালবুনিয়া খালের চরে তাঁর দুই ভাতিজাকে কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সুন্দরবনে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম উল্লেখ করেন, তাঁর ওয়ার্ডের দুই জেলেকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে কাঁকড়া আহরণ শেষে তাঁরা নৌকায় ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কয়রা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ হাসানুজ্জামান উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী জেলেদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

 

সাতক্ষীরায় সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও মাঠপর্যায়ে সংকট ও চড়া দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও মাঠপর্যায়ে সংকট ও চড়া দাম

এম শফিকুল ইসলাম: সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও সাতক্ষীরার মাঠপর্যায়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সার সংকট। রোপা আমন মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে সারের জন্য কৃষকদের ছুটতে হচ্ছে দোকানে দোকানে। অভিযোগ উঠেছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতি বস্তা সারে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের সরকারি মজুদ চাহিদার চেয়েও বেশি। তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অন্য এলাকায় পাচারের কারণে সাধারণ কৃষকেরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা এলাকার কৃষক আবু বক্কর গাজী অভিযোগ করে জানান, চড়া দামে না কিনলে ডিলাররা সার বিক্রি করছেন না। ডিলারদের সিন্ডিকেট অতিরিক্ত মুনাফা লুটতেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, আগস্টে দেশে চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ সার বরাদ্দ ও মজুদ রয়েছে। সাতক্ষীরায়ও সারের কোনো বাস্তব ঘাটতি থাকার কথা নয়। অতিরিক্ত দাম আদায় বা অন্য এলাকায় পাচারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।