শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

ভাঙে বেড়িবাঁধ, দায় কার?/সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
ভাঙে বেড়িবাঁধ, দায় কার?/সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বেড়িবাঁধ ভাঙার আগে সতর্কবার্তা থাকে। কোথাও মাটি সরে যায়, কোথাও ফাটল ধরে, কোথাও নদীর স্রোত বাঁধের পাড় কামড়ে ধরে। স্থানীয় মানুষ বিষয়টি জানান, জনপ্রতিনিধিরা অবহিত হন, সংবাদও প্রকাশিত হয়। কিন্তু সংস্কারের কাজ শুরু হয় না। তারপর একদিন জোয়ার আসে, বাঁধ ভাঙে, পানি ঢোকে। শুরু হয় প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ। এটাই কি আমাদের উপকূল ব্যবস্থাপনার নিয়ম? সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বেশি দূর যেতে হয় না। বুধহাটা বাজার, শ্মশানঘাট তেঁতুলতলা, প্রতাপনগর, বড়দল, আনুলিয়া কিংবা খাজরার বাঁধের দিকে তাকালেই চিত্রটি স্পষ্ট হয়। বুধহাটা শুধু একটি বাজার নয়। দীর্ঘদিনের এই বাণিজ্যকেন্দ্রের সঙ্গে আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। অথচ বেতনা নদীর ভাঙন এখন বাজারটির অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে বুধহাটা বাজার সংলগ্ন বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। কয়েক দিনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাত বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নদীখননের কারণে স্রোতের চাপ বাজারমুখী হয়েছে।

 

জুলাইয়ে বুধহাটা ও নওয়াপাড়া এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার খবর আসে। সেখানে ২০০ থেকে ৩০০ হাত বাঁধের নিচের অংশ নদীতে চলে যাওয়ার পাশাপাশি প্রায় ১০০ হাত মূল বাঁধে বড় ফাটল দেখা দেয়। এতে বুধহাটা, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহরসহ আশপাশের বহু গ্রাম, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের প্লাবনের ঝুঁকিতে পড়ে। বৈরামপুরেও বেতনা নদীর ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে বাঁধকে দুর্বল করে তুলছে। সেখানে কয়েক মাসে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট চর নদীতে বিলীন হয়েছে এবং ভাঙন বাঁধসংলগ্ন সড়কের কাছাকাছি চলে এসেছে। এটি শুধু আশাশুনির সমস্যা নয়; পুরো সাতক্ষীরার উপকূলীয় বাস্তবতা একই। চলতি বছরের মে মাসে আশাশুনি ও শ্যামনগরের অন্তত ৪০টি স্থানে বেড়িবাঁধ তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আশাশুনির মরিচ্চাপ নদীর তেঁতুলিয়া সেতু এলাকাও ছিল সেই ঝুঁকির তালিকায়।

 

গত বছর আনুলিয়ার বিছট গ্রামের কাছে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। চলতি বছর বড়দল ও খাজরা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিলে প্রায় ২০টি গ্রাম এবং হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও মৎস্যঘের প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়। আর সর্বশেষ প্রতাপনগরের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের বাঁধ ভাঙার ঘটনা আবারও সেই পুরোনো বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। স্থানীয় মানুষের হিসাবে ভাঙন প্রায় ১৫০ ফুট হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাথমিক হিসাবে তা ৬০ থেকে৭০ ফুট। বাঁধ রক্ষায় শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোদাল-ঝুড়ি নিয়ে কাজে নেমেছেন। অথচ এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঝুঁকির কথা আগেই জানানো হয়েছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিবার মানুষ নিজেরাই কেন বাঁধ রক্ষায় নামবেন?

 

রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোথায়? আশাশুনির মানুষ দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করতে অভ্যস্ত। কিন্তু মানুষের সহনশীলতাকে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার বিকল্প বানানো যায় না। বাঁধ ভাঙার পর জিওব্যাগ ফেলা, মাটি ফেলা, বাঁশের পাইলিং করাÑএসব জরুরি ব্যবস্থা হতে পারে; কিন্তু এগুলো স্থায়ী সমাধান নয়। আরও বড় প্রশ্ন নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে। কোথাও নদী খনন হচ্ছে, কোথাও স্রোতের গতিপথ বদলাচ্ছে, কোথাও তীর থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। এসব কাজের সঙ্গে বাঁধের নিরাপত্তার সম্পর্ক বিবেচনা না করলে এক জায়গা রক্ষা করতে গিয়ে অন্য জায়গা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই নদী ও বাঁধকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

 

এখন আর প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়Ñবাঁধ ভাঙলে কীভাবে সামলানো হবে? প্রশ্ন হওয়া উচিতÑবাঁধ যাতে না ভাঙে, তার জন্য আজ কী করা হচ্ছে? পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর কারিগরি জরিপ করতে হবে। বাঁধের উচ্চতা, প্রস্থ, মাটির গুণমান, ফাটল, নদীর স্রোত ও তীরভাঙনের গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে একটি ঝুঁকি-মানচিত্র তৈরি করা প্রয়োজন। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী সংস্কার করতে হবে। বুধহাটা বাজার ও শ্মশানঘাট তেঁতুলতলার মতো জন বসতিপূর্ণ এলাকায় সাময়িক জোড়াতালির বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ শক্তিশালী করতে হবে।

 

নদীখনন বা অন্য কোনো উন্নয়নকাজের আগে তার প্রভাব বাঁধ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের ওপর কী পড়বে, সেটিও কারিগরি সমীক্ষায় নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কাজের মান, অর্থ ব্যয় এবং ঠিকাদারি ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমের আগে প্রতিবছর বাঁধের ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগেই জিওব্যাগ, বালুর বস্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখতে হবে। সবশেষে প্রয়োজন জবাবদিহি।

 

একই বাঁধ বারবার ভাঙবে, বারবার সরকারি অর্থে সংস্কার হবে, আবার ভাঙবেÑএই চক্র চলতে পারে না। কোনো প্রকল্প ব্যর্থ হলে তার কারণ খুঁজতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাঁধ ভাঙার পর দৌড়ঝাঁপ নয়Ñভাঙার আগেই পরিকল্পনা, অর্থায়ন, কাজ ও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক। কারণ একটি বেড়িবাঁধ শুধু মাটি ও বালুর স্তূপ নয়; এর ওপারে রয়েছে মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মৎস্যঘের, বাজার ও জীবিকা। বাঁধ রক্ষার সাফল্য জিওব্যাগের সংখ্যায় নয়, কতটি পরিবারকে প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করা গেলÑতার হিসাবেই মাপা উচিত।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। টাটা ক্রপকেয়ার কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেশব সাধু শুক্রবার সকাল দশটায় তার নিজ গ্রাম তৈলকুপিতে প্রায় হাজার পরিবারের মাঝে উক্ত শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

 

কেশব সাধু বলেন, প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন।

 

কেবশ সাধু বলেন, আমি এলাকার মানুষের ভালবাসায় সিক্ত। গতবছর পুজায় আমার বাবা আনন্দ সাধু নিজ হাতে বিতরণ কাজ করেছিলেন। এ বছর বাবা নেই, বাবা থাকলে তিনি নিজ হাতে এ কাজ করতেন। তিনি সকলের কাছে বাবার জন্য আর্শিবাদ কামনা করেন, বাবা যেন পরপারে সুখে শান্তিতে থাকতে পারেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাটা ক্রপকেয়ারের স্বত্বাধিকারী গোবিন্দ সাধু, ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র সাধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: মশার বংশবিস্তার রোধ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জমা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পরবর্তীতে বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত-সে বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ডালটন সানা, ডা. তন্ময় মন্ডল, ডা. মাম্পি মন্ডল এবং ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রহমান রাজ।

উপস্থিত চিকিৎসকরা বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি সচেতনতার বিকল্প নেই। ঘরের চারপাশ ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝাতেই আমরা রোগী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলছি। এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

মেরুদন্ডের চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কমাতে সরকারি হাসপাতালে স্পাইন ইউনিটের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
মেরুদন্ডের চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কমাতে সরকারি হাসপাতালে স্পাইন ইউনিটের দাবি

এসএম বিপ্লব হোসেন: মেরুদন্ডের উন্নত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক স্পাইন ইউনিট চালুর দাবি জানিয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ। একই সঙ্গে স্পাইন সার্জনদের জন্য পৃথক পদ সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে সাতক্ষীরা স্পেশালাইজড হসপিটালের উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্পাইন হেলথ ফর লাইফ’ অর্থাৎ আজীবন মেরুদন্ডের সুস্বাস্থ্য।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থোপেডিকস, ট্রমা ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ। বক্তব্য রাখেন কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বাপ্পী কুমার দাশ, প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলা, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রাসেল, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ-দৌলা সাগর, ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজার কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওশন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খাঁসহ অন্যরা।

সভায় ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ বলেন, মেরুদন্ড সুস্থ না থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। হাঁটাচলা, দৈনন্দিন কাজকর্ম ও শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে মেরুদন্ডের সুস্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই মেরুদন্ড সুস্থ রাখতে সচেতনতা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি। ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড পরিহার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।

মেরুদন্ডের ব্যথাকে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে সেবন করেন। এতে কিডনি ও যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। মেরুদন্ডের ব্যথার পেছনে ডিস্কের সমস্যা ছাড়াও যক্ষ্মা, ক্যানসার, হাড়ের ক্ষয়, কাইফোসিস, স্কলিওসিস ও অস্টিওপোরোটিক ফ্র্যাকচারের মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সরকারি পর্যায়ে উন্নত স্পাইন চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে মেরুদন্ডের চিকিৎসা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে। ফলে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালে এ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক স্পাইন ইউনিট চালু, স্পাইন সার্জনদের জন্য স্বতন্ত্র পদ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে বিদেশে যেতে হচ্ছে। দেশে মানসম্মত স্পাইন চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো গেলে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে এবং দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে। এ লক্ষ্যে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. পলাশ জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্পাইন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরাতেও এ ধরনের সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালিতে চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন।