মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

ভিডিও কেটে কেটে রিলস: যেভাবে বিকৃত হয় বাস্তব ঘটনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ভিডিও কেটে কেটে রিলস: যেভাবে বিকৃত হয় বাস্তব ঘটনা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি ছোট ভিডিও ক্লিপই কখনও কখনও পুরো বাস্তবতাকে পাল্টে দিতে পারে। বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ‘রিলস’ বা শর্ট ভিডিওর জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আংশিক বা সম্পাদিত ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির প্রবণতা।

একটি ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট না দেখিয়ে শুধু উত্তেজনাকর বা আবেগঘন অংশটুকু কেটে তুলে ধরলে দর্শকের মনে ভিন্ন ধারণা তৈরি হতে পারে। অনেক সময় ভিডিওর আগে বা পরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দেওয়া হয়, যার ফলে ঘটনাটি বাস্তবে যেমন ছিল, তা আর বোঝা যায় না।

সম্প্রতি বিভিন্ন ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের অংশ কেটে এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ বহন করে। এতে করে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং কখনও কখনও অযাচিত উত্তেজনাও ছড়াচ্ছে।

ডিজিটাল বিশ্লেষকদের মতে, ‘রিলস কালচার’-এর মূল সমস্যা হলো দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণ। ফলে অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সচেতনভাবেই ভিডিও সম্পাদনা করে এমন অংশ তুলে ধরেন, যা বেশি ভিউ, লাইক ও শেয়ার পেতে সহায়ক। এতে সত্যতা বা প্রেক্ষাপট অনেক সময় উপেক্ষিত হয়।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের প্রতি মানুষের সহজ বিশ্বাস। একটি ভিডিও দেখলে অনেকেই সেটিকে যাচাই না করেই সত্য ধরে নেন। অথচ একই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ভিডিও বা ভিন্ন কোণ থেকে ধারণ করা ফুটেজ দেখলে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র সামনে আসতে পারে।

এভাবে বিকৃত তথ্য ছড়ানো শুধু ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্নই করে না, বরং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও জনরোষ, গুজব বা সহিংসতার কারণ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিজিটাল যুগে তথ্যের গতি যেমন দ্রুত, তেমনি বিভ্রান্তির ঝুঁকিও তত বেশি। তাই সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য পরামর্শ হলো— কোনও ভিডিও দেখেই তা বিশ্বাস না করে উৎস যাচাই করা, পূর্ণাঙ্গ ভিডিও খোঁজা এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। একই সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিৎ।

Ads small one

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে প্রণোদনা পাবেন বাড়িওয়ালা, প্রজ্ঞাপন জারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে প্রণোদনা পাবেন বাড়িওয়ালা, প্রজ্ঞাপন জারি

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক প্রাপ্ত বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে এই উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোনও গ্রাহক নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হলে সাশ্রয়কৃত অর্থ তার লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন।

বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্য সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করবে। প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। কোনও অবস্থাতেই তা নগদে দেওয়া যাবে না।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর পর স্থাপিত সিস্টেমের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

সৌরভিত্তিক সিস্টেম স্থাপনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসআরইডিএ) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক ইতিমধ্যে স্থাপিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকে এ সংক্রান্ত নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আওতাধীন সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও এ সহায়তা পাওয়া যাবে।

তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপ্রধান তথ্য অফিসার) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এই প্রজ্ঞাপন কার্যকর হবে।

সুন্দরবনের দুয়ার খুলতেই পর্যটক-জেলেদের ব্যস্ততা, প্রথম দিনেই গেল দুই ট্রলার ২৬ পর্যটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের দুয়ার খুলতেই পর্যটক-জেলেদের ব্যস্ততা, প্রথম দিনেই গেল দুই ট্রলার ২৬ পর্যটক

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের দুয়ার। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশের সুযোগ মিলেছে। সুন্দরবন খোলার প্রথম দিনেই পর্যটক ও জেলেদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন থেকে প্রথম দিনেই দুইটি পর্যটকবাহী ট্রলার ২৬ জন পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। একই দিনে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য ১০টি পাস নিয়েছেন জেলেরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, “সুন্দরবনের দুয়ার খোলার প্রথম দিন দুইটি পর্যটকবাহী ট্রলার ২৬ জন পর্যটক নিয়ে কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে গেছে। এছাড়া মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য জেলেরা ১০টি পাস নিয়েছেন। নিয়ম মেনে জেলেরা সুন্দরবনে প্রবেশ করছেন।”

দীর্ঘদিন পর সুন্দরবনে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত জেলেরা। বুড়িগোয়ালিনী এলাকার জেলে জেহের আলী বলেন, “তিন মাস সুন্দরবন বন্ধ থাকায় আমরা খুব কষ্টে সংসার চালিয়েছি। সুন্দরবন বন্ধ থাকায় নৌকা-জাল প্রস্তুত করে রেখেছিলাম। এখন পাস নিয়ে আবার সুন্দরবনে যেতে পারছি, এতে আমরা খুশি। সুন্দরবনই আমাদের জীবিকার প্রধান ভরসা।”

আরেক জেলে বক্স সরদার বলেন, “সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময় অনেক কষ্ট হয়েছে। আজ প্রথম দিন পাস নিয়ে বনে যাচ্ছি। আশা করছি, এবার বনে ভালো মাছ ও কাঁকড়া পাওয়া যাবে। পরিবারের খরচ চালাতে পারব।”

জেলেরা জানান, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ তাদের দীর্ঘদিনের পেশা। বছরের একটি বড় সময় তারা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দিন পাস নিয়ে বনে যেতে পেরে তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

অন্যদিকে, পর্যটকদের আগমনে সুন্দরবনসংলগ্ন পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। বন বিভাগের অনুমতি ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে পর্যটক ও জেলেরা সুন্দরবনে প্রবেশ করছেন।

 

 

সাতক্ষীরায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফটস্কিলস প্রশিক্ষণের সমাপনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফটস্কিলস প্রশিক্ষণের সমাপনী

বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী পেশাভিত্তিক সফটস্কিলস প্রশিক্ষণের ২য় ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ডিজিটাল কর্ণারে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র ও এককালীন আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবী এ ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রশিক্ষণে ট্রেইনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিএইচটি সেন্টার, খুলনার সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি