ভোমরায় শুকনা মরিচ আমদানি কমেছে, কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি গত ১০ মাসে প্রায় এক হাজার টন কমেছে। আমদানিতে এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের দাবি, ভারতের বাজারে শুকনা মরিচের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানির পরিমাণ কমেছে।
ভোমরা কাস্টমস হাউসের রাজস্ব শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই থেকে এপ্রিল) এই বন্দর দিয়ে ৪৮ হাজার ৩৭৫ টন শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছে। যার মোট আমদানি মূল্য ১ হাজার ৩২৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৩৩২ টন। সেই হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্যটির আমদানি কমেছে ৯৫৬ টন।
আমদানি কমে যাওয়ার অজুহাতে সাতক্ষীরার মসলার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গতকাল রোববার সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের মসলা বিতানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি শুকনা মরিচ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে। অথচ এক মাস আগেও এই বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সুলতানপুর বড় বাজারের মেসার্স ফতেমা স্টোরের পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমদানি কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে। এর প্রভাবে খুচরা বাজারে কেজিতে দাম বেড়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা।”
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এম এম আবদুল্লাহ বলেন, ভোমরা বন্দরে আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূলত এই কারণেই শুকনা মরিচের দাম বেড়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আমদানিকারকরা জানান, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশসহ প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে ফলন কম হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকায় এলসি খোলার ক্ষেত্রে তাঁরা কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।









