মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

হামে শিশু মৃত্যুর ভয়াবহতা: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
হামে শিশু মৃত্যুর ভয়াবহতা: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বাংলাদেশ আবারও এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর মৃত্যু ঘটছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৪০০-এর বেশি শিশুমৃত্যুর আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, আবার অনেকে মনে করছেন প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। দেশের প্রায় সব বিভাগেই হাম ছড়িয়ে পড়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক কয়েক লক্ষ ছাড়িয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই রোগে আক্রান্তদের বড় অংশই পাঁচ বছরের নিচের শিশু।
বাংলাদেশ একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের সফল দেশগুলোর মধ্যে ধরা হতো। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে বহু বছর ধরে হাম প্রায় নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে অর্ন্তবর্তীকালিন সরকারের সময়ে টিকাদানে ঘাটতি, ভ্যাকসিন সংকট, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা, সচেতনতার অভাব এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে আবারও ভয়াবহভাবে ফিরে এসেছে এই রোগ। আজকের বাংলাদেশে হামের এই পুনরুত্থান শুধু একটি রোগের বিস্তার নয়, বরং এটি আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি এবং সামাজিক সচেতনতার এক কঠিন পরীক্ষাও।
হাম কী ? অনেকেই একে সাধারণ জ্বর বা শিশুদের চর্মরোগ ভেবে ভুল করেন। কিন্তু বাস্তবে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুব সহজেই অন্য শিশু বা মানুষ আক্রান্ত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাম পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সংক্রামক রোগগুলোর একটি। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত অন্য মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। হামের লক্ষণ শুরু হয় সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া দিয়ে। এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেক পরিবার প্রথমদিকে এটিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু এই অবহেলাই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ হাম শুধু চামড়ার ফুসকুড়িতে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ফুসফুসে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ, তীব্র ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে। দুর্বল ও অপুষ্ট শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা পায়নি বা অসম্পূর্ণ টিকা পেয়েছে, তাদের জন্য হাম প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো এত বেশি মৃত্যু এবার কেন ঘটছে? অতীতে তো হাম ছিল, কিন্তু এত ব্যাপক মৃত্যুর খবর পাওয়া যেত না। এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে।
প্রথমত, টিকাদানে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্যে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত হাম-রুবেলা টিকাদানের হার কমে গেছে। এমনকি কিছু সময় ভ্যাকসিন সরবরাহেও সংকট দেখা দেয়। ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের মধ্যে একসাথে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ত, করোনা মহামারির পর অনেক দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। বহু পরিবার শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়নি, আবার অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছিল। ফলে “ইমিউনিটি গ্যাপ” বা রোগ প্রতিরোধের ফাঁক তৈরি হয়েছে। এই ফাঁকই এখন বিপজ্জনকভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।
তৃতীয়ত, দেশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বস্তি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে। যেখানে এক ঘরে অনেক মানুষ থাকে, সেখানে একজন আক্রান্ত হলেই পুরো পরিবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চতুর্থত, অপুষ্টি একটি বড় কারণ। বাংলাদেশের বহু শিশু এখনও অপুষ্টিতে ভোগে। অপুষ্ট শিশুর শরীর রোগ প্রতিরোধে দুর্বল থাকে। হাম হলে তাদের নিউমোনিয়া বা মারাত্মক জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব থাকলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকেরা তাই হাম আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
পঞ্চমত, অনেক পরিবার এখনও কুসংস্কার বা ভুল তথ্যের কারণে টিকা নিতে অনীহা দেখায়। কেউ কেউ মনে করেন টিকা দিলে সমস্যা হয়, আবার অনেকে গুজবে বিভ্রান্ত হন। অথচ বাস্তবতা হলো হামের টিকা কোটি কোটি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছে। বিশ্বজুড়ে দুই ডোজ টিকা গ্রহণই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা হিসেবে স্বীকৃত।
সরকারের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল এই প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কখনও দুর্বল হতে দেওয়া উচিত ছিল না। দেশে টিকার পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে গিয়ে শিশুদের তালিকা তৈরি করে টিকা নিশ্চিত করতে হতো। স্কুল, মসজিদ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে যেসব এলাকায় শিশুরা টিকা পায়নি, সেখানে আগেভাগে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো গেলে হয়তো এত বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো। তবে ইতোমধ্যে সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাখ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কর্মসূচি দ্রুত এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। হামের চিকিৎসা নিয়ে একটি ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন হাম হলে “গায়ে বের হতে দিতে হয়”, বেশি ওষুধ খাওয়া যাবে না, বা ঘর অন্ধকার করে রাখতে হবে। এগুলোর অনেকটাই বৈজ্ঞানিক নয়। হাম হলে শিশুকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার, জ্বর নিয়ন্ত্রণ, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে ইচ্ছেমতো ওষুধ না খাইয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো হামের টিকা কি জরুরি? উত্তর হলো, অবশ্যই জরুরি। শুধু জরুরি নয়, এটি শিশুর জীবনের জন্য অপরিহার্য। চিকিৎসাবিজ্ঞান বহু আগেই প্রমাণ করেছে, দুই ডোজ হাম-রুবেলা টিকা একজন শিশুকে মারাত্মক হাম থেকে সুরক্ষা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একটি দেশকে নিরাপদ রাখতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হয়। এই হার কমে গেলেই মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের একটি বড় শিক্ষা দিচ্ছে। একটি রোগকে একবার নিয়ন্ত্রণে আনলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। টিকাদান বন্ধ হলে বা দুর্বল হলে বহু বছর পরেও সেই রোগ ভয়ংকরভাবে ফিরে আসতে পারে। হাম সেই বাস্তবতার নির্মম উদাহরণ। একটি শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি রাষ্ট্রের জন্যও ব্যর্থতার বেদনা। কারণ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগে হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। আজ প্রয়োজন রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে শিশুদের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। দরকার নিরবচ্ছিন্ন টিকাদান, দ্রুত চিকিৎসা, গ্রাম পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সচেতনতা গড়ে তোলা। কারণ প্রতিটি শিশুর জীবন মূল্যবান। একটি টিকা, একটি সচেতনতা, একটি সময়মতো চিকিৎসাই হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে হাজারো নিষ্পাপ প্রাণ।
তথ্যসুত্র : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও প্রথম আলো।

Ads small one

আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রেবেশের অভিযোগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রেবেশের অভিযোগে মানববন্ধন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাজরা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে কাপসন্ডা বাজারে উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

খাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ বোরহান উদ্দিন বুলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. ইউনুছ আলীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লা, খাজরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর সাত্তার গাজী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ জামাল, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের, ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইবাদুল গাজী ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামসুর রহমান প্রমুখ। কর্মসূচিতে এসময় বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর আশাশুনি উপজেলা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অহিদুল মোল্লা অংশগ্রহণ করেন। তারা দাবী করেন, উক্ত অহিদুল মোল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একাধিক মামলার আসামী।

 

বক্তারা আরো বলেন, বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী নেতা তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাকে দলে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দলের দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে এভাবে চিহ্নিত কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপির মঞ্চে গ্রহণ করাকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা কিছুতেই মেনে নেবে না। বক্তারা এসময় বিতর্কিত এই আওয়ামী লীগ নেতা অহিদুল মোল্লার গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান। একই সাথে তিনি যাতে কোনোভাবেই বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করতে না পারেন, সে বিষয়ে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: সাক্ষরতা অর্জন করি, উন্নত জীবন গড়ি”—এমন প্রত্যয়কে সামনে রেখে যশোরের মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে  আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শতভাগ সাক্ষরতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতার আওতায় এনে দক্ষ ও সচেতন মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা সন্তোষস্বর সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাক্ষরতার গুরুত্ব, শিক্ষার প্রসার এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে সবাইকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সাতক্ষীরায় অ্যাডভান্স ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় অ্যাডভান্স ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষা শুরু

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ বছর মেয়াদী অ্যাডভান্স সার্টিফিকেট ইন ফাইন আর্টস, কম্পিউটার টেকনোলজি ও ফিজিক্যাল এডুকেশন কোর্সের জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০২৬ সেশনের প্রথম পর্ব ও ভেটেরিনারি জুলায়-জুন ২০২৫-২০২৬ সেশনে দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষাটি শুরু হয়। এ কেন্দ্রে মোট ৩৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

কেন্দ্র সচিব ফেরদাউস আরেফিন জানান, সকাল থেকেই সুন্দর ও শান্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার সকল কার্যক্রম বোর্ডের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা ক্রিয়েটিভ ট্রেনিং এন্ড ভেটেরিনারি ইন্সটিটিউটের পরিচালক ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, আমার সব শিক্ষার্থী যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আশা করছি তারা ভালো ফলাফল করবে।