শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
মওলানা ভাসানী(১৮৮০-১৯৭৬) ছিলেন একাধারে ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনীতির এক কিংবদন্তি পুরুষ। তাঁকে “মজলুম জননেতা” বলা হয় কারণ তিনি সারাজীবন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন। জন্ম: ১২ ডিসেম্বর ১৮৮০, সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে। শিক্ষা: ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় শিক্ষাগ্রহণ করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দর্শনে গভীর প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক সূচনা: ১৯১৭ সালে খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পণ। ১৯৪৯ সালে তিনি ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন। ঐতিহাসিক অবদান: ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন এবং বিখ্যাত “ওয়ালাইকুম আসসালাম” বলে বিদায় জানানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
’ভাসানী’ নামকরণের ইতিহাস
তাঁর নামের সাথে ‘ভাসানী’ যুক্ত হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯২০-এর দশকে আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসান চরে বাঙালি কৃষকরা নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। আব্দুল হামিদ খান সেখানে গিয়ে শোষিত কৃষকদের সংগঠিত করেন এবং তাঁদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন শুরু করেন। ভাসান চরের সেই ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই জনগণ তাঁকে ভালোবেসে ‘ভাসানী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ’মওলানা’ বনাম ‘মাওলানা’: শব্দতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা, বানানে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকলেও এদের প্রায়োগিক ও উৎসগত দিক নিয়ে বিতর্ক ও ভিন্নতা রয়েছে:
মাওলানা: এটি আরবি শব্দ ‘মাওলা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ অভিভাবক, বন্ধু বা নেতা। সাধারণত ইসলামি শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
মওলানা: বাংলায় অনেক সময় উচ্চারণভেদে বা স্থানীয় বানান রীতিতে ‘মাওলানা’ কে ‘মওলানা’ লেখা হয়। তবে আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ক্ষেত্রে ‘মওলানা’ বানানটি বাংলা সাহিত্যে এবং তাঁর ভক্তদের কাছে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও আবেগের রূপ নিয়েছে। অনেকে মনে করেন, তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও কৃষকবান্ধব রাজনীতির কারণে তাঁকে সাধারণ মাদ্রাসার আলেমদের থেকে আলাদা করতে এই বানানটি অধিক জনপ্রিয় হয়েছে।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন ছিল মূলত মজলুম জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং ইসলামী সমাজতন্ত্রের (রুবুবিয়াত) সংমিশ্রণ। তিনি আজীবন কৃষক-শ্রমিকের পক্ষে আপসহীন সংগ্রাম করেছেন, ক্ষমতার মোহে বিমোহিত না হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার মতাদর্শ ছিল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, শোষণমুক্ত সমাজ গঠন এবং “হুকুমত-ই-রব্বানীয়া” বা ন্যায়ভিত্তিক সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা।
মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শনের মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
মজলুমের অধিকার ও কৃষক আন্দোলন: তার রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ। আসামের ‘লাইন প্রথা’ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত-সর্বত্রই তিনি শোষিত মানুষের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন।
রুবুবিয়াত বা ইসলামী সমাজতন্ত্র: ভাসানী ইসলামের মানবিক ও সাম্যবাদী দিকগুলো নিয়ে “রুবুবিয়াত” দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। তার মতে, সম্পদ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া সম্পদ সবার জন্য সমানভাবে বণ্টিত হওয়া উচিত।
বামপন্থা ও অসাম্প্রদায়িকতা: তিনি চীনের মাওপন্থী কম্যুনিস্ট বা বামধারার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন।
আপসহীন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা: তিনি সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা এবং শোষণের কঠোর বিরোধী ছিলেন। কাগমারী সম্মেলনে তিনি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে “আসসালামু আলাইকুম” বলে বিচ্ছিন্নতার হুংকার দিয়েছিলেন।
সাধারণ জীবনযাপন: তিনি ক্ষমতার লোভ বর্জন করে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। এজন্যই তাকে “মজলুম জননেতা” এবং “লাল মওলানা” বলা হয়।
সারসংক্ষেপে, ভাসানীর দর্শন ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রে জনমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ধর্ম ও সমাজতন্ত্রের সংমিশ্রণে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
বঙ্গবন্ধু ও মওলানা ভাসানী: সম্পর্ক ও কথোপকথন
মওলানা ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্পর্ক ছিল পিতা-পুত্রের মতো গভীর, আবার রাজনৈতিকভাবে গুরু-শিষ্যের মতো। বঙ্গবন্ধু মওলানা ভাসানীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং ‘ভাসানী সাহেব’ বা ‘হুজুর’ বলে সম্বোধন করতেন। ১৯৪৯ সালে যখন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়, মওলানা ছিলেন সভাপতি আর শেখ মুজিব ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মওলানা ভাসানীই তরুণ মুজিবকে রাজনীতির মাঠ পর্যায়ে পরিচিত করতে এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ দিতেন।
ঐতিহাসিক কিছু কথোপকথন ও ঘটনা:
১. কারাগারে দেখা (১৯৫০-এর দশক): একবার কারাগারে থাকাকালীন মওলানা ভাসানী অনশন করছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ তে লিখেছেন যে, তিনি মওলানাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করলে মওলানা বলেছিলেন: “মুজিব, মরতে তো একদিন হবেই, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে নয়।”
২. আওয়ামী লীগের কাউন্সিল (১৯৫৫): দল থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ‘আওয়ামী লীগ’ করার সময় মওলানা ভাসানী শেখ মুজিবের দূরদর্শিতার প্রশংসা করে বলেছিলেন: “মুজিব, তুমি ঠিকই ধরেছো। এই দেশ সবার, এখানে ধর্মের নামে রাজনীতি বেশিদিন চলবে না।”
৩. স্বাধীনতার পর (১৯৭২): বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরলেন, মওলানা ভাসানী তাঁকে জড়িয়ে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন: “মুজিব, তুই এসেছিস, এখন আমার মরেও শান্তি।” বঙ্গবন্ধুও সবসময় বলতেন, “হুজুর (ভাসানী) যা বলেন, তার মধ্যে জনগণের মনের কথা থাকে।” যদিও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মাঝেমধ্যে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, কিন্তু একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কখনও ম্লান হয়নি।
মওলানা ভাসানী ছিলেন রাজপথের আপসহীন নেতা, আর বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই আন্দোলনের সার্থক রূপকার। মওলানা ছিলেন আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক শক্তির উৎস, আর বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই শক্তির প্রয়োগকারী। তাঁদের এই রসায়নই বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
লেখক: কলামিষ্ট ও গবেষক।

Ads small one

সাতক্ষীরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে নিসচার রোড ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে নিসচার রোড ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা

সংবাদদাতা: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রোড ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে শহরের পলাশপোলের শহীদ কাজল সরণিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

নিসচা সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি এস এম মহিদার রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মীর আবু বকরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম ফারুক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সমন্বয়ক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, উপদেষ্টা এবং সাপ্তাহিক মুক্ত স্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আবুল কালাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আলমগীর আশরাফ, সংগঠনের সহসভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মাদ পাড়, মো. ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, প্রভাষক এস এম রজব আলী ও কার্যকরী সদস্য প্রভাষক নাজমুল হক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ আলী ও শাহজাহান আলী মিটন, দপ্তর সম্পাদক মো. কামাল উদ্দীন সরদার, প্রচার সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আতিকুজ্জামান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, যুববিষয়ক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন জনি, কার্যকরী সদস্য মো. আবু সাঈদ, মো. আব্দুল মান্নান, অধ্যক্ষ মোরশেদুল হক, হাফেজ মো. আবুল হোসেন, এম এম রবিউল ইসলাম, মো. মাসুদ হাসান মনি, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. হাবিবুল্লাহ বাহার, মোহাম্মাদ হাফিজ, শেখ জোবায়ের আল জামান, মো. কামাল হোসেন, ডা. অহিদুজ্জামান, মেম্বর রবিউল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, মো. লাল্টু, আবীর হোসেন লিযন ও মো. আতিয়ার রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সভায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক দিয়ে যানবাহন পরিচালনা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তাঁরা আরও বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ জন্য চালক, মালিক, যাত্রী, পথচারী ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিকল্প নেই।

তালায় ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলার আসর, চ্যাম্পিয়নদের জন্য গরু ও ফ্রিজ পুরস্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
তালায় ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলার আসর, চ্যাম্পিয়নদের জন্য গরু ও ফ্রিজ পুরস্কার

oplus_0

তালা প্রতিনিধি: গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সাতক্ষীরার তালায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে আট দলীয় নকআউট টুর্নামেন্ট। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় তালার ভায়ড়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ খেলার আয়োজন করা হয়। ভায়ড়া শাহাপুর বাজার বণিক সমিতি ও এলাকাবাসী এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় তালার মহান্দী দল ও খুলনার ডুমুরিয়া বন্ধু মহল। খেলায় জয়লাভ করে তালার মহান্দী দল।

খেলা দেখতে মাঠে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঐতিহ্যবাহী এ খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু। বিশেষ অতিথি ছিলেন তালা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান সাইদ, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দ্দার ফারুক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেখ কবির হোসেন। খেলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সামছুর সরদার ও আবুল কাশেম শেখ।

আয়োজকরা জানান, টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি গরু এবং রানার্সআপ দলের জন্য একটি ফ্রিজ।

‘মাদককে না বলি, খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলি’ স্লোগানকে সামনে রেখে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এলাকার তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা, সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি এবং গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাকে নতুন করে জনপ্রিয় করে তোলাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলে জানান আয়োজকরা।

দেবহাটায় চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় চিনেডাঙ্গা স্কুল মাঠে আচিমতলা যুব সংঘের আয়োজনে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে আচিমতলা দুরন্ত ফুটবল একাদশকে এক গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লিজেন্ট ফুটবল একাদশ।

 

খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ডা. মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, দপ্তর সম্পাদক এমএ মামুন, সখিপুর ইউনিয়ন তাঁতীদলের সভাপতি ইউসুফ গাজী, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন ও ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আয়শা খাতুন।

খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন ইয়াছির আরাফাত লিপু। সহকারী রেফারি ছিলেন আব্দুল্লাহ ও ইব্রাহীম। ধারাভাষ্য দেন কেটিএসের পরিচালক কবির হোসেন।

প্রধান অতিথি ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিজ অর্থায়নে এলাকার যুবকদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আবারও জয়ী হলে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে নিয়মিত এ ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করবেন।