শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
মওলানা ভাসানী(১৮৮০-১৯৭৬) ছিলেন একাধারে ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনীতির এক কিংবদন্তি পুরুষ। তাঁকে “মজলুম জননেতা” বলা হয় কারণ তিনি সারাজীবন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন। জন্ম: ১২ ডিসেম্বর ১৮৮০, সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে। শিক্ষা: ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় শিক্ষাগ্রহণ করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দর্শনে গভীর প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক সূচনা: ১৯১৭ সালে খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পণ। ১৯৪৯ সালে তিনি ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন। ঐতিহাসিক অবদান: ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন এবং বিখ্যাত “ওয়ালাইকুম আসসালাম” বলে বিদায় জানানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
’ভাসানী’ নামকরণের ইতিহাস
তাঁর নামের সাথে ‘ভাসানী’ যুক্ত হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯২০-এর দশকে আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসান চরে বাঙালি কৃষকরা নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। আব্দুল হামিদ খান সেখানে গিয়ে শোষিত কৃষকদের সংগঠিত করেন এবং তাঁদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন শুরু করেন। ভাসান চরের সেই ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই জনগণ তাঁকে ভালোবেসে ‘ভাসানী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ’মওলানা’ বনাম ‘মাওলানা’: শব্দতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা, বানানে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকলেও এদের প্রায়োগিক ও উৎসগত দিক নিয়ে বিতর্ক ও ভিন্নতা রয়েছে:
মাওলানা: এটি আরবি শব্দ ‘মাওলা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ অভিভাবক, বন্ধু বা নেতা। সাধারণত ইসলামি শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
মওলানা: বাংলায় অনেক সময় উচ্চারণভেদে বা স্থানীয় বানান রীতিতে ‘মাওলানা’ কে ‘মওলানা’ লেখা হয়। তবে আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ক্ষেত্রে ‘মওলানা’ বানানটি বাংলা সাহিত্যে এবং তাঁর ভক্তদের কাছে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও আবেগের রূপ নিয়েছে। অনেকে মনে করেন, তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও কৃষকবান্ধব রাজনীতির কারণে তাঁকে সাধারণ মাদ্রাসার আলেমদের থেকে আলাদা করতে এই বানানটি অধিক জনপ্রিয় হয়েছে।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন ছিল মূলত মজলুম জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং ইসলামী সমাজতন্ত্রের (রুবুবিয়াত) সংমিশ্রণ। তিনি আজীবন কৃষক-শ্রমিকের পক্ষে আপসহীন সংগ্রাম করেছেন, ক্ষমতার মোহে বিমোহিত না হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার মতাদর্শ ছিল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, শোষণমুক্ত সমাজ গঠন এবং “হুকুমত-ই-রব্বানীয়া” বা ন্যায়ভিত্তিক সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা।
মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শনের মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
মজলুমের অধিকার ও কৃষক আন্দোলন: তার রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ। আসামের ‘লাইন প্রথা’ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত-সর্বত্রই তিনি শোষিত মানুষের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন।
রুবুবিয়াত বা ইসলামী সমাজতন্ত্র: ভাসানী ইসলামের মানবিক ও সাম্যবাদী দিকগুলো নিয়ে “রুবুবিয়াত” দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। তার মতে, সম্পদ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া সম্পদ সবার জন্য সমানভাবে বণ্টিত হওয়া উচিত।
বামপন্থা ও অসাম্প্রদায়িকতা: তিনি চীনের মাওপন্থী কম্যুনিস্ট বা বামধারার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন।
আপসহীন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা: তিনি সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা এবং শোষণের কঠোর বিরোধী ছিলেন। কাগমারী সম্মেলনে তিনি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে “আসসালামু আলাইকুম” বলে বিচ্ছিন্নতার হুংকার দিয়েছিলেন।
সাধারণ জীবনযাপন: তিনি ক্ষমতার লোভ বর্জন করে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। এজন্যই তাকে “মজলুম জননেতা” এবং “লাল মওলানা” বলা হয়।
সারসংক্ষেপে, ভাসানীর দর্শন ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রে জনমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ধর্ম ও সমাজতন্ত্রের সংমিশ্রণে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
বঙ্গবন্ধু ও মওলানা ভাসানী: সম্পর্ক ও কথোপকথন
মওলানা ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্পর্ক ছিল পিতা-পুত্রের মতো গভীর, আবার রাজনৈতিকভাবে গুরু-শিষ্যের মতো। বঙ্গবন্ধু মওলানা ভাসানীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং ‘ভাসানী সাহেব’ বা ‘হুজুর’ বলে সম্বোধন করতেন। ১৯৪৯ সালে যখন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়, মওলানা ছিলেন সভাপতি আর শেখ মুজিব ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মওলানা ভাসানীই তরুণ মুজিবকে রাজনীতির মাঠ পর্যায়ে পরিচিত করতে এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ দিতেন।
ঐতিহাসিক কিছু কথোপকথন ও ঘটনা:
১. কারাগারে দেখা (১৯৫০-এর দশক): একবার কারাগারে থাকাকালীন মওলানা ভাসানী অনশন করছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ তে লিখেছেন যে, তিনি মওলানাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করলে মওলানা বলেছিলেন: “মুজিব, মরতে তো একদিন হবেই, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে নয়।”
২. আওয়ামী লীগের কাউন্সিল (১৯৫৫): দল থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ‘আওয়ামী লীগ’ করার সময় মওলানা ভাসানী শেখ মুজিবের দূরদর্শিতার প্রশংসা করে বলেছিলেন: “মুজিব, তুমি ঠিকই ধরেছো। এই দেশ সবার, এখানে ধর্মের নামে রাজনীতি বেশিদিন চলবে না।”
৩. স্বাধীনতার পর (১৯৭২): বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরলেন, মওলানা ভাসানী তাঁকে জড়িয়ে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন: “মুজিব, তুই এসেছিস, এখন আমার মরেও শান্তি।” বঙ্গবন্ধুও সবসময় বলতেন, “হুজুর (ভাসানী) যা বলেন, তার মধ্যে জনগণের মনের কথা থাকে।” যদিও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মাঝেমধ্যে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, কিন্তু একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কখনও ম্লান হয়নি।
মওলানা ভাসানী ছিলেন রাজপথের আপসহীন নেতা, আর বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই আন্দোলনের সার্থক রূপকার। মওলানা ছিলেন আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক শক্তির উৎস, আর বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই শক্তির প্রয়োগকারী। তাঁদের এই রসায়নই বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
লেখক: কলামিষ্ট ও গবেষক।

Ads small one

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার বিয়ে, থানায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার বিয়ে, থানায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিপসই নিয়ে বিধবার জাল কাবিননামা তৈরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে দুই জনের নাম উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে ফুলবাড়িয়া থানায় নিজেই এ অভিযোগ জমা দেন ওই নারী। এরপর গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি তদন্তে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যায় পুলিশ।

অভিযুক্ত দুই জন হলেন- স্থানীয় কসমেটিক ব্যবসায়ী ও জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য আবদুস ছাত্তার এবং ভুক্তভোগী নারীর ছেলের উকিলশ্বশুর আবদুল কদ্দুস।

ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর মানুষের জমিতে কাজ করে পাঁচ ছেলেকে বড় করেন। সম্প্রতি এক ছেলের উকিলশ্বশুর আবদুল কদ্দুস তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে তিনি রাজি না হচ্ছিলেন না। পরে কদ্দুসের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেন। একটি কাগজে নেওয়া হয় টিপসই। এরপর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তার বিয়ে হয়ে গেছে এবং একটি কাবিননামাও এলাকার লোকজনকে দেখানো হয়। তবে বিয়ের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন ওই নারী।

বৃহস্পতিবার রাতেই ভাইয়ের সঙ্গে গিয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই নারী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ফুলবাড়িয়া থানার একজন এসআই তদন্তের জন্য ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান।

এদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টিপসই নিয়ে বিয়ে হয়ে গেছে— এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার প্রথম বুধবার দ্বিতীয় সালিশে বসেন এলাকাবাসী; কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সালিশে না আসায় শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে জামায়াত নেতা আবদুল ছাত্তারকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছিল; কিন্তু এতে তিনি সাড়া দেননি।

সালিশে থাকা স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘শুক্রবার কোনও সালিস হয়নি। ওই নারী থানায় অভিযোগ দেওয়ায় এটি এখন আইনিভাবেই শেষ হবে। সে কারণে গ্রামের মানুষ সালিশ থেকে সরে এসেছেন। ছাত্তার জামায়াতের নেতা হওয়ায় এলাকায় টুকটাক মাতবরি করতেন। ওই নারীকে বিয়ে করতে আগ্রহী কদ্দুসেরও যোগাযোগ ছিল ছাত্তারের সঙ্গে। নিজের বিয়ের বাসনা পূরণ করতে ছাত্তারকে দিয়ে সব কাজ করিয়েছেন কদ্দুস, আমরা এমনটি ধারণা করছি।’

ঘটনার পর থেকে কদ্দুসকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে শুরু থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে যাচ্ছেন জামায়াতের ইউনিয়ন কমিটির সহযোগী সদস্য আবদুস ছাত্তার। শুক্রবার বিকালে তার মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার শিকার ওই নারী বলেন, ‘এলাকার সালিশে ওরা (আবদুল কুদ্দুস ও আবদুস সাত্তার) না আসায় আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ গতকাল এসে তদন্ত করে গেছে। দেখি, পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়। কদ্দুসের হয়ে ছাত্তার কেন স্বাক্ষর নিলো তা জানি না।’

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, ওই নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে বিয়ের প্রলোভন, অসদুপায়ে এনআইডি ও টিপসই নিয়ে কাবিননামা তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। কাবিননামাসহ মূল কাগজপত্রগুলো খোঁজা হচ্ছে। কোন কাজি এটি করেছেন, তা বের করতে পুলিশ কাজ করছে। কাগজপত্র পাওয়ার পর যাচাই–বাছাই করে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।’

রাজধানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

রাজধানীর তুরাগে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের খুলনার ফুলতলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ওরফে এস কে সাদ্দামকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন জানান, তুরাগ থানা পুলিশের একটি দল শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে তুরাগের খালপাড় ব্রিজসংলগ্ন পাকা রাস্তা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

তিনি জানান, পুলিশের ক্রিমিনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) পর্যালোচনায় সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক রাজনৈতিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দিঘলিয়া ও ফুলতলা থানায় দায়ের করা মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চুরি এবং অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এবার আন্দোলন থেকে আটক নায়ক ইমরান খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
এবার আন্দোলন থেকে আটক নায়ক ইমরান খান

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বাইয়ে প্রতিবাদ করার সময় প্রখ্যাত অভিনেতা ইমরান খানসহ চার শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

শনিবার মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক আগস্ট ক্রান্তি ময়দানসহ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। অনুমোদনহীন কোনও রাজনৈতিক জমায়েত ঠেকাতে পুলিশ এই কঠোর পদক্ষেপে নামে।

দিনের শুরুতে একই স্থান থেকে অন্তত ২০০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন সমাজকর্মী তুষার গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘হাম ভারত কে লোগ’-এর সদস্য এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর সমর্থকরা। রাজধানী দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানাতে অনুমতি ছাড়াই সেখানে জড়ো হয়েছিলেন তারা।

তিন হাজার মানুষকে আটকের পর বিজেপি বলছে ‘জনগণের জয়’তিন হাজার মানুষকে আটকের পর বিজেপি বলছে ‘জনগণের জয়’
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য চলমান আন্দোলনে দিল্লিতে প্রায় তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়।