তালায় ক্ষিতিশ মণ্ডল হত্যা মামলার আসামীরা ৮ দিনেও ধরা পড়েনি
পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা পূর্বপাড়ায় ঘেরমালিক ক্ষিতিশ মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আট দিনেও কোনো আসামি ধরা পড়েনি। এদিকে মামলা তুলে নিতে নিহতের স্ত্রী, ছেলে ও সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের চাচাতো ভাই জেয়ালা গ্রামের প্রকাশ মণ্ডল জানান, মৃত্যুর আগে ক্ষিতিশ মণ্ডল তাঁকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনার ডুমুরিয়া থানার চণ্ডীপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (২৮) সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে একটি গাছ থেকে চুরি করে নারকেল পাড়ার সময় ক্ষিতিশের বাধার মুখে পড়েন। এ নিয়ে ইব্রাহীম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
প্রকাশ মণ্ডলের অভিযোগ, ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও একই গ্রামের আব্বাস শেখের ছেলে ঘেরমালিক শেখ হাবিবুর রহমান ক্ষিতিশকে একটি কাজ করে দেওয়ার কথা বলেন। সে অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর ভোর ৩টার দিকে ফোন করে ক্ষিতিশকে তাঁর ঘেরের বাসা থেকে হাবিবুরের ঘেরে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পার্শ্ববর্তী কানা বিশ্বনাথ ঘোষের ঘের থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরে হাবিবুরের ঘেরে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। ক্ষিতিশ রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করে বিশ্বনাথের ঘেরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে চোর আখ্যা দিয়ে চিৎকার করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পানিতে ডুব দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ইব্রাহীম নৌকার বৈঠা দিয়ে ক্ষিতিশের মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। এরপর পানি থেকে তুলে ডাঙায় এনে ইব্রাহীম, তাঁর সহযোগী গফফার শেখ, রবিউল ও মাজেদ লোহার রড দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। পরে তাঁকে জেয়ালা ঘোষপাড়া মহাশ্মশানে নিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে পেছন দিকে হাত বেঁধে রাখা হয়। সেখানে ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে তাঁর দুই পা ও বুকের পাঁজরে আঘাত করে ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দুপুর ১২টার দিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্ষিতিশ মণ্ডলের মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীকে নির্যাতনের সময় স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি দেওয়ার বিনিময়েও তাঁকে রক্ষা করা যায়নি। এ ছাড়া তাঁর স্বামীর কাছ থেকে কয়েকটি অলিখিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর ইব্রাহীম, হাবিবুরসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন সুলেখা। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার আট দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মূল অভিযুক্ত ইব্রাহীম ও হাবিবুরকে আশপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ছাড়া একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয়ে থেকে কয়েকজন অভিযুক্ত নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে তাঁকে, তাঁর ছেলে উৎপল মণ্ডল ও মামলার সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন সুলেখা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তালা থানার উপপরিদর্শক আমিরুজ্জামান মোল্লা জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁরা পলাতক রয়েছেন।












