শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

মতবিনিময় সভা শেষ হতেই তালার ইউএনওর বদলি!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
মতবিনিময় সভা শেষ হতেই তালার ইউএনওর বদলি!

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলায় প্রশাসনিক নেতৃত্বে স্থিতিশীলতার সংকট দেখা দিয়েছে। নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরার আয়োজিত প্রথম মতবিনিময় সভা শেষ হতে না হতেই তাঁর বদলির আদেশ আসায় স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বারবার ইউএনও বদলির কারণে উপজেলার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে তালা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সুধীজনদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন ইউএনও হোসনে আরা। সভা চলাকালীন বা শেষ হওয়ার পরপরই তাঁর বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের আদেশে তালা উপজেলায় যোগদান করেছিলেন হোসনে আরা। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় গত ৫ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, বারবার ইউএনও পরিবর্তনের ফলে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা কাজ বুঝে ওঠার আগেই বদলি হয়ে যাওয়ায় নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে ধারাবাহিকতার অভাব। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা। সাধারণ সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি। প্রশাসনের সঙ্গে জনসাধারণের সমন্বয়ে ঘাটতি।
সোমবারের মতবিনিময় সভাটি নিয়েও স্থানীয় সুধীজনদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সভায় আমন্ত্রিত ছিলেন না। এ নিয়ে সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়।
তালা উপজেলার বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, প্রশাসনিক গতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে একজন ইউএনওকে অন্তত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত। ঘন ঘন বদলি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।