শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

তালায় বাল্যবিয়ের আয়োজন, ৫ হাজার টাকা জরিমানা; অভিযানে কনের পরিবার পলাতক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
তালায় বাল্যবিয়ের আয়োজন, ৫ হাজার টাকা জরিমানা; অভিযানে কনের পরিবার পলাতক

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় বাল্যবিয়ের আয়োজন বন্ধে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে কিশোরী কনেকে নিয়ে তাঁর বাবা-মা পালিয়ে যান। বরযাত্রীবাহী গাড়ি মাঝপথ থেকে ফিরে যায়। এ ঘটনায় কনের চাচাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানতে পারেন, তালার গাবতলা এলাকার গরু ব্যবসায়ী বজলুর রহমানের ১৬ বছরের বেশি বয়সী এক কিশোরী মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ওই বাড়িতে প্রায় ৫০০ মানুষের ভোজের আয়োজন করা হয়।

বিষয়টি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তালা উপজেলার প্রতিনিধি রাজিবুল ইসলাম, রুপা ঘোষ ও সজীব সরদার ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সেখানে নগরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক এক চেয়ারম্যানসহ প্রায় ৫০০ অতিথির খাবার গ্রহণের বিষয়টি দেখতে পান।

অভিযানকালে অধিদপ্তরের কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, পাটকেলঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেন।

অভিযানের খবর পেয়ে কিশোরীকে নিয়ে তাঁর বাবা-মা পালিয়ে যান। অন্যদিকে, বরযাত্রীবাহী গাড়ি মাঝপথ থেকেই ফিরে যায়। কিশোরীর চাচা মো. মোনজেদ সরদার অপরাধ স্বীকার করে মুচলেকা দেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. শাহেদ হোসেন তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ মামলায় প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার।

কিশোরীর অভিভাবকেরা তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করলেও এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। কিশোরীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ের উদ্যোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মী রাজিবুল ইসলাম ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংগীত শিক্ষক সজীব সরদারের কাছ থেকে নেওয়া দুটি হেলমেট পরে ফেরত দিয়ে ক্ষমা চান কনের পক্ষের লোকজন। জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান ও তরুণ প্রতিরোধকর্মী হৃদয় মণ্ডলও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, শুক্রবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার করবী সুলতানা। সেখানে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। তাঁদের আগামী রোববার সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

 

Ads small one

কেশবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে হতদরিদ্রদের মাঝে মশারি বিতরণ করলেন মেয়র প্রার্থী ফারুকে আজম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে হতদরিদ্রদের মাঝে মশারি বিতরণ করলেন মেয়র প্রার্থী ফারুকে আজম

এমএ রহমান, কেশবপুর (যশোর): আসন্ন কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে মশারি বিতরণ করেছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী প্রভাষক গাজী ফারুকে আজম।

শুক্রবার বিকেলে তিনি এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশারির ব্যবহার, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উদ্যোক্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ সময় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন গাজী ফারুকে আজম।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক শাহাজান আলম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন, ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান, আব্দুল গনি, যুবনেতা আনারুল ইসলাম, শ্রমিক দলের নেতা মিজানুর রহমান, যুবনেতা আব্দুল মালেক ও ঘের ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

কয়রায় জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু, বিচারে মানববন্ধনে উত্তাল এলাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
কয়রায় জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু, বিচারে মানববন্ধনে উত্তাল এলাকা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় সরকারি জমির দখল ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রিয়জন হারানোর শোক বুকে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন নিহতের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন শেষে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের রাজ্জাক চেয়ারম্যানের মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান ও মনিরুজ্জামান বেল্টু, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শরিফুল আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খোকা, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি এম আনোয়ার হোসেন এবং নিহত গোলাম রব্বানীর মেয়ে বৈশাখী ও ছেলে বিল্লাল সরদারসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক।

 

গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর কারণ ও সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। স্বজনকে হারিয়ে পরিবারটি গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম মঠবাড়ী গ্রামে ১৩ শতক সরকারি জমির দখল ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাম রব্বানী (৫২) এবং তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদার (২৬)-এর পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাম রব্বানীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহত অন্যরা হলেন তাঁর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগম (৫৫)।

আহতদের প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গোলাম রব্বানীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ অক্টোবর বুধবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে।

লাবসা ও বৈকারী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
লাবসা ও বৈকারী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ও বৈকারী ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৃথক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাদ মাগরিব নলকুড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা মাঠে লাবসা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লাবসা ইউনিয়ন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি এস এম মামুন হোসেনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আল আজাদী এবং বায়তুল মাল সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান। সম্মেলনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন ইউনিয়ন জামায়াতের টিম সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসেন মোমিন এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনসহ অন্য নেতারা।

অপরদিকে, শুক্রবার বিকেল ৫টায় ৩ নম্বর বৈকারী ইউনিয়নের কাথন্ডা কাপালিপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর অপর কর্মী সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বৈকারী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুস সবুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক মাস্টার মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী। এ সময় ইউনিয়ন জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।