মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

মতবিনিময় সভা শেষ হতেই তালার ইউএনওর বদলি!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
মতবিনিময় সভা শেষ হতেই তালার ইউএনওর বদলি!

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলায় প্রশাসনিক নেতৃত্বে স্থিতিশীলতার সংকট দেখা দিয়েছে। নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরার আয়োজিত প্রথম মতবিনিময় সভা শেষ হতে না হতেই তাঁর বদলির আদেশ আসায় স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বারবার ইউএনও বদলির কারণে উপজেলার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে তালা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সুধীজনদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন ইউএনও হোসনে আরা। সভা চলাকালীন বা শেষ হওয়ার পরপরই তাঁর বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের আদেশে তালা উপজেলায় যোগদান করেছিলেন হোসনে আরা। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় গত ৫ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, বারবার ইউএনও পরিবর্তনের ফলে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা কাজ বুঝে ওঠার আগেই বদলি হয়ে যাওয়ায় নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে ধারাবাহিকতার অভাব। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা। সাধারণ সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি। প্রশাসনের সঙ্গে জনসাধারণের সমন্বয়ে ঘাটতি।
সোমবারের মতবিনিময় সভাটি নিয়েও স্থানীয় সুধীজনদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সভায় আমন্ত্রিত ছিলেন না। এ নিয়ে সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়।
তালা উপজেলার বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, প্রশাসনিক গতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে একজন ইউএনওকে অন্তত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত। ঘন ঘন বদলি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: শিক্ষার্থীহীন মাদ্রাসায় ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: শিক্ষার্থীহীন মাদ্রাসায় ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী!

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল প্রাণ হলো শিক্ষার্থী। অথচ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার যে চিত্র গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা কেবল উদ্বেগজনকই নয়, রীতিমতো স্তম্ভিত করার মতো। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে যে প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী নেই, কোনো শ্রেণিকক্ষ বা শিক্ষা উপকরণ নেই, সেখানে কাগজে-কলমে বহাল তবিয়তে আছেন ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী! দিনের বেলা যে মাদ্রাসার জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহৃত হয় গোয়ালঘর বা ছাগল বাঁধার স্থান হিসেবে আর রাতে যেখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডাÑসেই ভুতুড়ে প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে সরকারি বই, উপবৃত্তি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছে কোন জাদুবলে, সেই প্রশ্ন এখন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
১৯৯৮ সালে স্থানীয়দের দান করা জমিতে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি শুরুর দিকে ভালো চললেও পরবর্তী সময়ে সুপারিন্টেন্ডেন্টের নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ২০১১ সাল থেকে সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ে। অথচ সরকারি খাতায় প্রতিষ্ঠানটিকে সচল দেখাতে প্রতি বছর জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। অবাক করার বিষয় হলো, চলতি বছরও প্রতিষ্ঠানটি ২২৫ সেট নতুন বইয়ের চাহিদা পাঠায় এবং প্রাক-প্রাথমিক থেকে দাখিল দশম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি বই বরাদ্দও পায়! যেখানে বাস্তবে একজন শিক্ষার্থীরও অস্তিত্ব নেই, সেখানে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সরকারি বই এবং উপবৃত্তির টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে, তা বুঝতে খুব একটা বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, শিক্ষার পবিত্র আঙিনাকে ব্যবহার করে এখানে এক পারিবারিক লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ হওয়া সমস্ত সরকারি অনুদান ও সুবিধা মূলত সুপার ও তাঁর সহকারী শিক্ষিকা স্ত্রী মিলে আত্মসাৎ করছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সরেজমিন অনুসন্ধানেও এর প্রমাণ মিলেছে। যখন মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে ছাগল ও গোখাদ্য মজুত থাকতে দেখা যায়, তখন সহকারী শিক্ষিকা নিজ বাড়িতে ধান শুকানোর ফাঁকে ‘এইমাত্র ক্লাস নিয়ে আসার’ যে দাবি করেন, তা এক চরম ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়। শিক্ষার নামে এমন প্রকাশ্য জালিয়াতি ও প্রতারণা বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে চলছে, তা ভাবতেই অবাক লাগে।
ইতিমধ্যেই জমিদাতারা শিক্ষাহীন এই প্রতিষ্ঠানের কবল থেকে তাঁদের সম্পত্তি ফেরত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এই জালিয়াতির খবর শুনে বিস্মিত হয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আমরা মনে করি, শুধু সাধারণ খোঁজখবর নেওয়াই যথেষ্ট নয়। এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সরকারি সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের যে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তার শিকড় উপড়ে ফেলা জরুরি। শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে এমন তামাশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার এই জালিয়াতির ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় এনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

ঝাউডাঙ্গায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরি, স্বর্ণালঙ্কারসহ টাকা লোপাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
ঝাউডাঙ্গায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরি, স্বর্ণালঙ্কারসহ টাকা লোপাট

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা ঘর থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং দুই ভরির বেশি স্বর্ণের গহনা নিয়ে গেছে।
গতকাল সোমবার রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। বাড়ির মালিক মো. মুকুল হোসেন ঝাউডাঙ্গা বাজারের একজন কাপড় ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় মুকুল হোসেন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

বড়দলে খাসজমির বাসিন্দাদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর, আহত ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
বড়দলে খাসজমির বাসিন্দাদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর, আহত ২

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল বাজারে সরকারি খাসজমিতে বসবাসকারী একটি পরিবারের ওপর হামলা, বসতবাড়ি ও মৎস্য ঘের ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় দুই প্রতিবন্ধী সন্তান আহত হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বড়দল বাজারের বুড়িয়া এলাকার সরকারি খাসজমিতে সপরিবারে বসবাস এবং মৎস্য ঘের করে আসছিলেন দিনমজুর সেলিম গাজী ও তাঁর স্ত্রী জরিনা খাতুন। প্রতিপক্ষ একই গ্রামের মাসুম শেখ, অজিয়ার রহমান সানা অনু ও আব্দুর রহমান সানা ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
এদিন দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের বাড়িতে ঢুকে জায়গা খালি করার হুমকি দেয়। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকায় জরিনা খাতুন অস্বীকৃতি জানালে, হামলাকারীরা তাঁর দুই শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান কারিমা খাতুন ও ইমরানকে পিটিয়ে জখম করে। এ সময় জরিনা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া বসতবাড়ি ও মৎস্য ঘেরের সরঞ্জাম ভাঙচুর করে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয় এবং সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যায়।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খান জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।