শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

মায়ের আঁচল”

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
মায়ের আঁচল”

ফারুক আহম্মেদ জীবন
আট বছরের ছেলে নয়ন। পাঁচ বছরের মেয়ে মণি কে নিয়ে। রেদোয়ান আর মমতার ছোট্ট সুখের সংসার। অর্থ বিত্ত ধনসম্পদ না থাকলেও ভালোবাসায় ভরা ছিল রেদোয়ান মমতার কুঁড়ে ঘরটি জুড়ে।
খুবই অল্প বেতনে দারোয়ানের চাকুরী করে রেদোয়ান। তার সেই অতি স্বল্প বেতনের টাকায়। একটু কষ্ট হলেও বাচ্চাদের পড়িয়ে ডাল ভাত খেয়ে বেশ সুখি ওরা।
নয়ন ক্লাস টু তে পড়ে। আর মণি পড়ে শিশু ওয়ানে। ঢাকা বাড্ডা এলাকায় ছোট্ট একটা ভাড়ার ঘরে থাকে
ওরা। বাচ্চা দুটোর হাসি ঝরা চাঁদ মুখ দেখলে রেদোয়ানের সারাদিনের ক্লান্তি যেনো মুহুর্তে ভুলে যায়।
মমতা ভুলে যায় সংসারের পরিশ্রম অভাব কষ্টের কথা। নয়ন মণির কচি মুখে যেনো মিষ্টি কথার খৈ ফোটে সারাটাক্ষণ। আজ ছুটির পর রেদোয়ান এক ছাড়া পাকা কলা। কয়েকটি ডিম, তরকারি মাছ নিয়ে বাসায় ফিরেছে। মমতা তখন রান্না করছিল। নয়ন মণি তাদের বাবাকে ফিরতে দেখে। আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বললো। আম্মু আম্মু দেখো আব্বু বাড়ি এসেছে। তারপর ছুটে গেলো ওদের আব্বুর কাছে। রেদোয়ান বাজার-সদাই রেখে নয়ন মণিকে কোলে তুলে নিল। মমতা প্যাকেটে কলা, ডিম, মাছ আনতে দেখে বললো। অভাবের সংসার এসব আবার আনতে গেলে কেনো? রেদোয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো। টাকার অভাবে বাচ্চা দুটোর তো আপেল, বেদানা, আঙ্গুর, কমলালেবু, ওসব দামী ফল খাওয়াতে পারিনে তাই আনলাম। কলা, ডিম, মাছ এসব খেলেও ওদের শরীর ভালো থাকবে। মমতা হেসে বললো আচ্ছা যাও হাতমুখ ধুয়ে এসো খাবার দিচ্ছি।
তারপর মমতা প্যাকেট থেকে বের করে নয়ন মণির হাতে কলা দিলো। তাতেই অনেক খুশি ওরা। খাওয়া শেষে শোয়ার সময় নয়ন বললো। জানো আব্বু আমি পড়ালেখা ভালো করি বলে স্কুলের স্যার ম্যাডামরা আমাকে অনেক ভালোবাসে। মণি হেসে বললো আমি পড়াশোনা করে বড় হয়ে স্কুলের ম্যাডাম হব। রেদোয়ান বললো, তাই বুঝি মা? মণি বললো, হুম দেখো। নয়ন বললো আমি বড় হয়ে পুলিশ হব। চোর মাস্তানদের ধরে এমন শিক্ষা দেবো আর কখনো অপরাধ করবে না। মমতা আর রেদোয়ান ওদের কচি মুখে ওসব কথা শুনে
কপালে চুম্বন দিয়ে কোলে টেনে নিয়ে বললো। আচ্ছা বেশ হইও। তারজন্য তো ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। এখন ঘুমিয়ে পড়। কাল সকালে আবার তোমরা স্কুলে যাবে।
এই সুখ বেশিদিন ওদের ভাগ্যে সইলো না। অচিরেই দুঃখের অমানিশার অন্ধকার নেমে আসলো ওদের জীবনে।একদিন সকালে রেদোয়ান তার স্ত্রী সন্তানদের কাছ থেকে হাসিমুখে বিদায় নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল। টেক্সি থেকে নেমে রোড পার হয়ে অফিস গেটে যাওয়ার সময় হঠাৎএকটা ট্রাক এসে সজোরে ধাক্কা দিল রেদোয়ানকে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রেদোয়ানকে দেখে চিনতে পেরে অফিসের মালিকের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিলো। মালিক রাব্বি খুবই ভালো মনের উদার মানবিক আর দয়ালু মানুষ। সে দ্রুত ফোন করে একটা এম্বুলেন্স ডেকে নিঃসাড়ে রক্তাক্ত দেহে পড়ে থাকা রেদোয়ানকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো। আর একজনকে দিয়ে রেদোয়ানের স্ত্রীর কাছে সংবাদ পাঠালো।
মমতা নয়ন মণিকে স্কুলে পাঠানোর জন্য। তাদের জামা কাপড় পরিয়ে মাথার চুল আঁচড়িয়ে গুছিয়ে দিচ্ছিলো। লোকটার মুখে সংবাদটা শুনেই মমতার দু,চোখে যেনো অন্ধকার নেমে এলো। মাথা চক্কর দিতে লাগলো তার।
মমতা কেঁদে বলে উঠলো না..এমনটা হতে পারে না। সে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে নয়ন মণিকে নিয়ে ছুটে গেল হাসপাতালে। ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে। রেদোয়ানের পুরো দেহটা সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা।
ডাক্টার বললো সরি অনেক রক্ত ক্ষরণ আর বুকে প্রচন্ড আঘাত লাগার কারণে উনি ঘটনা স্থলেই মারা গেছেন। পাশেই মলিন মুখে দাঁড়িয়ে অফিসের মালিক রাব্বি।
মুখের উপর থেকে কাপড় সরাতেউ মমতা। ও আল্লাহ আমার এ কি হয়ে গেলো বলে কেঁদে ফিটের পর ফিট হতে লাগলো। সেই সাথে নয়ন মণি কাঁদছে আর ওদের আব্বু রেদোয়ানকে ডেকে চলেছে সমানে। হাসপাতাল, আর দাফন কাফনের সকল খরচ বহন করলো অফিসের মালিক রাব্বি। কিছু টাকাও দিল মমতাকে ছেলেমেয়ে মানুষ করার জন্য। মমতা হারিয়ে তার বেঁচে থাকার ঢাল রক্ষা কারী স্বামীকে। যে ছিল তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় স্থল। আর নয়ন মণি হারিয়েছে তাদের বাবাকে। যে ছিল তাদের জন্য বটবৃক্ষের ছায়ার মতো।
কিন্তু না, মমতা ভেঙ্গে না পড়ে। স্বামী হারানোর শোক অনেক কষ্টে কাটিয়ে আজ শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে সে। তার ছেলেমেয়েকে যে মানুষের মতো মানুষ করতে হবে। তাইতো তার স্বামী রেদোয়ানের অফিসের মালিকের দেওয়া সেই সামান্য কয়েক হাজার টাকা দিয়ে সে ছোট খাটো একটা মানেেুষর খাওয়ার হোটেলের ব্যবসা শুরু করলো। মাঝেমধ্যে নয়ন-মণিও হোটেলের কাজে মাকে সাহায্য করতে লাগলো। মমতা পরম আদর স্নেহ ভালোবাসা আর মায়া ভরা তার মমতার আঁচল তোলে রেখে। নয়ন মণিকে কোনোরূপ বাবার অভাব বুঝতে না দিয়ে। মমতা দিনের পর দিন। মাসের পর মাস। এভাবে বছরের পর বছর জীবনের সাথে কঠিন সংগ্রাম করে নয়ন মণিকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করে তুলেছে। নয়ন এখন নামকরা মস্ত বড় পুলিশ অফিসার। আর মণি হয়েছে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক।আজ মমতার সেই ছোট্ট ভাতের হোটেলটা সময়ের সাথে ব্যবসা প্রসারিত হয়ে নাম করা
রেস্টুরেন্ট হয়েছে। রোজ একশোজন কর্মচারী খাটে তার রেস্টুরেন্টে। একদিন দুপুরে হঠাৎ রাব্বি অফিসের কয়েকজন কর্মচারী নিয়ে মমতার রেস্টুরেন্টে খেতে গেলো। সেসময় মমতা গাড়ি থেকে নেমে ছেলে নয়ন আর নয়নের বউ আঁখি। সাথে মেয়ে মণি আর মণির হাসবেন্ড চয়নকে নিয়ে দরজা ঠেলে হোটেলের ভিতরে এলো। রাব্বি খাওয়া শেষে বিল দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসতেই মমতা চিনতে পারলো। সে বললো ভাইজান আমাকে চিনতে পেরেছেন? রাব্বি বললো, না ঠিক মনে করতে পারছি না। তবে আপনাকে কোথাও যেনো দেখেছি। তখন মমতা কল্পনায় অনেক বছর আগের পূর্বের ঘটনা সব বললো।
রাব্বি বললো, ও হ্যা..হ্যা..মনে পড়েছে। তখন মমতা পরিবারের সবার সাথে উনার পরিচয় করিয়ে দিল। মমতা বললো, আপনি হয়তো খেয়াল করেননি। এই রেস্টুরেন্টের নামটা আমার স্বামী রেদোয়ানের নামে।
জানেন ভাইজান। আজ যাকিছু করেছি। এর পিছনের সবকিছু অবদান যে আপনার। আপনার দেওয়া সেই টাকা কাজে লাগিয়ে আজ এপর্যন্ত এসেছি। শুনে খুব খুশি হলো রাব্বি। বললো, আপনি যে মনে রেখেছেন সেই সামান্য কটা টাকার কথা এটাই তো আশ্চর্যের বিষয়। মমতা বললো, ভাইজান ভুলে গেলে যে অকৃতজ্ঞ হয়ে যাবো। আর আল্লাহ অকৃতজ্ঞকে ভালোবাসেন না।
ক্যাশে বসা লোকটিকে বললো ভাইজানের কাছ থেকে বিলটা নিয়েন না কেমন। সে মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিল। রাব্বি বললো, না..না.. তাই কি হয়। এটা একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মমতা বললো ঠিক আছে ভাইজান এরপর যখন আমার রেস্টুরেন্টে খেতে আসবেন তখন না হয় দিয়েন। আজকের বিলটা মনে করেন আমি দিলাম। আর হ্যাঁ, সময় করে একদিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসবেন কেমন। রাব্বি বললো, আচ্ছা ঠিক আছে বোন একদিন সময় করে বাড়ির সবাইকে নিয়ে তোমাদের বাড়িতে যাবো। তারপর রাব্বি দরজা দিয়ে রেস্টুরেন্টের বাইরে চলে গেলো।

Ads small one

এক মঞ্চে মেসি-রোনালদো, স্বপ্নের আয়োজন করছেন তেভেজ!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
এক মঞ্চে মেসি-রোনালদো, স্বপ্নের আয়োজন করছেন তেভেজ!

পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন ২০২২ সালেই। কিন্তু কার্লোস তেভেজের আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচটা এখনো হয়নি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে পারে। যদি সব পরিকল্পনা ঠিকঠাক এগোয়, ডিসেম্বরে বোকা জুনিয়র্সের ঘরের মাঠ বোম্বোনেরায় দেখা যেতে পারে ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।

প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের আলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন মেসি ও রোনালদো। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দুজনকে একই দলে কিংবা একই মাঠে খেলতে দেখা তাই নিঃসন্দেহে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অবিস্মরণীয় এক দৃশ্য হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সম্প্রতি অবসরের ঘোষণা দেওয়া মেসি এবং পর্তুগালের অধিনায়ক রোনালদো সর্বশেষ একই মাঠে ছিলেন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে। সেবার একটি প্রদর্শনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুজন। মেসি খেলেছিলেন পিএসজির হয়ে, আর রোনালদো ছিলেন রিয়াদ অল-স্টার একাদশে।

সৌদি আরবের কিং ফাহদ ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ গোলে জিতেছিল পিএসজি। মেসি করেছিলেন একটি গোল, আর রিয়াদ অল-স্টার একাদশের হয়ে জোড়া গোল করেছিলেন রোনালদো।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস শনিবার জানিয়েছে, বোকা জুনিয়র্সের সভাপতি ও তেভেজের সাবেক সতীর্থ হুয়ান রোমান রিকেলমের সঙ্গে নিজের বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন নিয়ে কথা বলেছেন তেভেজ। বোম্বোনেরায় ম্যাচটি আয়োজনের বিষয়ে রিকেলমের কাছ থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছেন তিনি।

তবে ম্যাচের চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সপ্তাহের শুক্র বা শনিবার আয়োজন করা হতে পারে ম্যাচটি।

বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ক্যারিয়ারে তিন দফা খেলেছেন তেভেজ। তিন অধ্যায়ে ক্লাবটির হয়ে ২৭৯ ম্যাচে মাঠে নেমে করেছেন ৯৪ গোল, জিতেছেন ১১টি ট্রফি। তাই তার আনুষ্ঠানিক বিদায়ের জন্য বোম্বোনেরার চেয়ে উপযুক্ত মঞ্চ আর কী-ই বা হতে পারে!

টিওয়াইসি স্পোর্টসের খবর অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সী তেভেজের পাশে বিদায়ী ম্যাচে থাকবেন তার শৈশবের বন্ধু ও ফুটবল ক্যারিয়ারের ঘনিষ্ঠজনেরা। প্রতিপক্ষ দলেও থাকবেন ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করা তারকারা।

ইউরোপের ফুটবলে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি ও জুভেন্টাসের মতো বড় ক্লাবে খেলেছেন তেভেজ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও তার পথচলা ছিল এক দশকের বেশি সময়ের। ২০০৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ৭৬ ম্যাচে মাঠে নেমে করেছেন ১৩ গোল।

সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ জন সাবেক ও বর্তমান তারকা এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে বড় দুই নাম মেসি ও রোনালদো। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং ৪১ বছর বয়সী রোনালদো দুজনকেই আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তেভেজের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্ক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে, আর মেসির সঙ্গে তার সম্পর্ক আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম থেকে।

ফলে বোম্বোনেরায় তেভেজের বিদায়ী ম্যাচ সত্যিই যদি মেসি ও রোনালদোকে এক মাঠে হাজির করতে পারে, তাহলে সেটি শুধু একটি বিদায়ী ম্যাচ থাকবে না। পরিণত হতে পারে ফুটবল নস্টালজিয়ার এক মহাউৎসবে।

সিডনিতে শাবনূরের বাসায় অতিথি তাসকিন, জমলো বারবিকিউ আড্ডা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
সিডনিতে শাবনূরের বাসায় অতিথি তাসকিন, জমলো বারবিকিউ আড্ডা

ক্রিকেট মাঠে নয়, সিনেমার পর্দাতেও নয়; সুদূর অস্ট্রেলিয়ার সিডনির এক ঘরোয়া আয়োজনে দেখা মিললো তাসকিন আহমেদ ও শাবনূরের। হাসিমুখে ক্যামেরাবন্দি দুই তারকার সেই মুহূর্ত প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তদের কৌতূহল, কীভাবে একসঙ্গে হলেন ক্রিকেট ও চলচ্চিত্রের দুই জনপ্রিয় মুখ?

ঘটনার সূত্রপাত সিডনিতে শাবনূরের ভাইয়ের বাসায়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বারবিকিউ পার্টিতে যোগ দেন জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ। বর্তমানে ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন শাবনূর।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শাবনূরের সঙ্গে তোলা একটি ছবি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন তাসকিন। ছবিতে দুজনকেই দেখা যায় বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও স্বতঃস্ফূর্ত ভঙ্গিতে।

পোস্টে তাসকিন জানান, অস্ট্রেলিয়ার সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলসে শাবনূরের পরিবারের সঙ্গে বারবিকিউ পার্টিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। পরিবারের আতিথেয়তায় দারুণ একটি সন্ধ্যা কেটেছে বলেও জানান এই ক্রিকেটার।

আয়োজনের জন্য শাবনূর ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাসকিন লেখেন, ‘সেটা একটা সুন্দর সন্ধ্যা এবং বারবিকিউ রাত ছিল। আমাদের আতিথেয়তা করার জন্য শাবনূর আপু ও তার পরিবারকে ধন্যবাদ।’

 

তাসকিনের পোস্টের আগেই অবশ্য এই সাক্ষাতের কথা জানান শাবনূরও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাসকিনের সঙ্গে কাটানো সময়ের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে তিনি লেখেন, ভাইয়ের বাসায় পরিবারের সঙ্গে প্রিয় ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদের সঙ্গে বারবিকিউ পার্টিতে দারুণ সময় কেটেছে তাদের।

তাসকিন ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শাবনূর লেখেন, ‘ধন্যবাদ তাসকিন ও তোমার পরিবারকে, তোমাদের সঙ্গে সময়টা সত্যিই সুন্দর ছিলো।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাসকিনের অবদানের প্রশংসা করে তাকে দেশের গর্ব ও এই সময়ের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে উল্লেখ করেছেন শাবনূর। তাসকিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আরও অনেক সাফল্যও কামনা করেছেন তিনি।

 

অন্যদিকে তাসকিনও শাবনূরকে ‘আপু’ সম্বোধন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আনন্দের কথা জানিয়েছেন।

দুই তারকার পোস্ট প্রকাশের পরই তা নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। মন্তব্যের ঘরে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন অনেকে। কেউ ছবিটির প্রশংসা করেছেন, কেউ আবার এমন সুন্দর একটি মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার জন্য দুজনকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ক্রিকেট মাঠে গতিময় পেসার হিসেবে তাসকিনের পরিচিতি, আর রুপালি পর্দায় শাবনূর দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের ভালোবাসার নাম। দুই ভিন্ন জগতের এই দুই তারকাকে এক ফ্রেমে দেখে তাই স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে।

তবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ছবিটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক তারকাখ্যাতির বাইরের সেই সহজ মুহূর্ত। ক্রিকেট মাঠ কিংবা আলো-ঝলমলে পর্দার বাইরে পরিবারের সঙ্গে হাসি-আড্ডায় সময় কাটাতে দেখা গেল তাসকিন ও শাবনূরকে—সিডনির সেই সন্ধ্যায় যেন প্রবাসের মাটিতে মিলল এক টুকরো বাংলাদেশ।

‘বাড়ি দখল’ এর ঘটনায় যা বললেন দিলারা জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
‘বাড়ি দখল’ এর ঘটনায় যা বললেন দিলারা জামান

দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর উত্তরায় নিজের কেনা ফ্ল্যাটে বাস করছেন দেশের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান। কিন্তু শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তার বাড়ি দখল হয়েছে। এ বিষয়টি শুনে বিস্মিত ও বিরক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী।

দিলারা জামান জানান, প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে তার বর্তমান জীবনের কোনও মিল নেই। ফলে বিভ্রান্তি দূর করতে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মানুষের মাথা কি নষ্ট হয়ে গেছে! একটু ভেবেচিন্তে, কথা বলে লিখলে তো ভালো হয়। ভালো কাজে যদি মস্তিষ্ক কাজে না লাগে, তাহলে কেমন লাগে! কী আর বলব।’

তাহলে দিলারা জামানের বাড়ি দখলের ঘটনা কি একেবারেই ঘটেনি? ঘটেছিল, তবে সেটি আজকের ঘটনা নয়—প্রায় ২২–২৩ বছর আগের।

তার মতে, ২০০৩–২০০৪ সালের দিকে তিনি ঢাকার শ্যামলী এলাকায় থাকতেন। সেখানে ছিল তার পৈতৃক বাড়ি। বাবার কাছ থেকে পাওয়া সেই বাড়িতেই পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। একপর্যায়ে বাড়িটি দখলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে সেই দখলের পরিস্থিতি আর এগোয়নি।

দিলারা জামানের ভাষ্য, ‘ঢাকার শ্যামলীর সেই ঘটনা তো ২২–২৩ বছর আগের। সেই বাড়ি পরে বিক্রি করে দিই। ২০০৮ সালে আমি পরিবার নিয়ে উত্তরায় চলে আসি। এখানে ১৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনি। তার পর থেকে এখানেই থাকছি।’