বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তমত/ সাম্প্রতিক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
মুক্তমত/ সাম্প্রতিক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

আজহারুল ইসলাম সাদী

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আগের বছরের তুলনায় কিছুটা দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকার, তবে সাধারণ মানুষ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এখনো উদ্বেগ রয়েছে।

সরকারি তথ্য ও চিত্র অনুযায়ীÑ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২,৬০৭টি খুনের ঘটনা ঘটলেও, ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২,৩৩২টিতে। এ সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১১,২৬৯টি থেকে কমে ৯,৩৪৫টিতে এসেছে। ধর্ষণ মামলা ৪,৬৬৬টি থেকে কমে ৪,৪৭২টিতে দাঁড়িয়েছে। দলবদ্ধ সহিংসতার ঘটনা ৮৯টি থেকে কমে ৫৬টিতে নেমে এসেছে। লুট হওয়া অস্ত্রসহ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি, পুলিশের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক চাপে পুলিশ বাহিনী এখনো সম্পূর্ণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং মব জাস্টিস বা দলবদ্ধ হামলা পুরোপুরি থামেনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে কর্মসূচি পালন করছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নত করতে এবং মাঠপর্যায়ে আস্থা ফেরাতে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ দিকনির্দেশনা ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা ‘নিয়ন্ত্রণে আছে, অবনতি হয়নি’ বলা হলেও এখনো উদ্বেগ কেন?

ছিনতাই, চাঁদাবাজির খবর প্রায় প্রতিদিনই অনলাইনসহ পত্রিকার পাতায় উঠে আসে। দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটি। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি আরো উন্নত করতে এরকম বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি।
বর্তমান সময়ে সাতক্ষীরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকা-, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং আলোচিত কিছু মামলা নিয়ে জনমনে আলোচনা রয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরায় জেলা জজ আদালতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাদক ও দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরায় মারামারি ঠেকাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে জাকারিয়া খান নামের এক কলেজছাত্র নিহত হন। এ ঘটনায় প্রধান আসামি নাহিদসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই হত্যাকা-টি জেলায় কিশোর গ্যাং ও স্থানীয় সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকা আদালতে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। এছাড়া জুলাই ২০২৬-এ সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সাতক্ষীরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন সমাজের মধ্যে তীব্র দ্বিমত ও সচেতন মহলের সমালোচনা বিদ্যমান। একদিকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ বিভিন্ন সমন্বয় সভার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করছে, অন্যদিকে সচেতন নাগরিক সমাজ অপরাধের ধরন পরিবর্তন, মাদক ও সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

এই দুই পক্ষের অবস্থান এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. সচেতন সমাজের প্রধান সমালোচনা ও উদ্বেগ: সাতক্ষীরার সুশীল সমাজ, সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে: স্থানীয় সচেতন মহলের বড় অভিযোগ হলো সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বা প্রভাবশালীদের নামে অবাধে চাঁদাবাজি চলছে। এটি সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তি তৈরি করছে।

সীমান্ত জেলা হওয়ায় সাতক্ষীরায় মাদক চোরাচালান ও স্থানীয় পর্যায়ে যুবসমাজের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে সচেতন সমাজ ক্রমাগত সমালোচনা করে আসছে। তারা মনে করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ এখনো শতভাগ কার্যকর নয়।

সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র: সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে নাগরিক সমাজ অভিযোগ তুলছে। শহরের অভ্যন্তরে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল এবং অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক চলাচলের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সচেতন সমাজ সমালোচনা মুখর।

২. প্রশাসনের বক্তব্য ও গৃহীত পদক্ষেপ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন সচেতন সমাজের এই সমালোচনা ও দাবিগুলোকে আমলে নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানাচ্ছে।

মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা: জেলার আইন প্রণেতা (এমপি), পুলিশ সুপার এবং সিভিল সার্জনদের উপস্থিতিতে নিয়মিত সমন্বয় সভা করা হচ্ছে। এসব সভায় সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাত্রিকালীন বিশেষ মহড়া এবং মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লেকভিউ রিসোর্ট এলাকা সহ বিভিন্ন স্পট থেকে চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে বলে জেলা পুলিশ দাবি করছে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

বাংলাদেশের বিপক্ষে সময় নষ্ট করার শাস্তি পেলেন আফগান ক্রিকেটার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের বিপক্ষে সময় নষ্ট করার শাস্তি পেলেন আফগান ক্রিকেটার

বাংলাদেশের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে মাঠের আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেয়েছেন আফগানিস্তানের ব্যাটার আফসার জাজাই। আইসিসির আচরণবিধির লেভেল ওয়ান ভাঙার অপরাধে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার আচরণবিধিতে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।

সম্প্রতি শেষ হওয়া বাংলাদেশ-আফগানিস্তান একমাত্র টেস্টে এ ঘটনা ঘটে। যেখানে আচরণবিধির ২.৪ ধারা ভঙ্গ করেছেন জাজাই। যা মূলত আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের নির্দেশ অমান্য করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ম্যাচে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন জাজাই। এ সময় মাঠে প্রবেশ না করতে এবং সময় নষ্ট বন্ধ করতে মাঠের আম্পায়াররা তাকে একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেন তিনি। পরে ইনিংসের ১৩৯তম ওভারে মাঠের আম্পায়ারদের অনুমতি ছাড়াই আবারও মাঠে প্রবেশ করেন জাজাই।

জাজাই নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। ম্যাচরেফারি ডেভ গিলবার্টের প্রস্তাবিত শাস্তিও মেনে নিয়েছেন তিনি। ফলে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। গত ২৪ মাসে এটিই ছিল তার প্রথম অপরাধ।

মাঠের আম্পায়ার আহসান রাজা ও আলাউদ্দিন পালেকার, তৃতীয় আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব এবং চতুর্থ আম্পায়ার ইজতুল্লাহ সাফি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।

আইসিসির আচরণবিধির লেভেল ওয়ান অপরাধে সর্বনিম্ন শাস্তি আনুষ্ঠানিক তিরস্কার। সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী এক বা দুটি ডিমেরিট পয়েন্টও যোগ হতে পারে।

 

ক্রিকেটারদের পাসপোর্ট-আইফোন-ডলারসহ ৮ লাগেজ উধাও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
ক্রিকেটারদের পাসপোর্ট-আইফোন-ডলারসহ ৮ লাগেজ উধাও

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদের আটটি লাগেজ খোয়া গেছে। লাগেজগুলোতে খেলোয়াড়দের পাসপোর্ট, মূল্যবান আইফোন, মার্কিন ডলার, নগদ টাকা ও ক্রীড়াসামগ্রী ছিল।

এ ঘটনায় ক্রিকেটার এসএম মেহেরাব হোসেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। খোয়া যাওয়া লাগেজ উদ্ধারে রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। তবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত লাগেজগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‌‘লাগেজ খোয়া যাওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি নাটোর অথবা রাজশাহী জেলার মহাসড়ক এলাকার মধ্যে ঘটেছে। দুই জেলার পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। রাজপাড়া থানা থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোয়া যাওয়া লাগেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’

পুলিশ ও ক্রিকেটারদের দেওয়া তথ্যমতে, জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বুধবার সকালে আকাশপথে রাজশাহী ফেরেন দলের সদস্যরা। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিসিবির একটি কাভার্ডভ্যানে খেলোয়াড়দের ৫৪টি লাগেজ নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন চালক সজীব হোসেন। বুধবার সকালে রাজশাহীর একটি হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় আটটি লাগেজ না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিকেটার মেহেরাব হোসেনের লাগেজে ছিল পাসপোর্ট, আইফোন ১৫ প্রো-ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, নগদ তিন লাখ টাকা, প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি পারফিউম ও ব্যবহৃত পোশাক। ক্রিকেটার আব্দুল কাদেরের লাগেজে ছিল প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বিশেষ ম্যাসাজ বেল্ট, দুই জোড়া জুতা ও পোশাক। মোহর শেখ অন্তরের লাগেজে ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি জেবিএল স্পিকার ও পোশাক। ক্রিকেটার মো. ওয়ালিদের লাগেজে ছিল ব্যক্তিগত পোশাক। এ ছাড়া দলের যৌথ চারটি লাগেজে খেলোয়াড়দের ব্যবহৃত বিভিন্ন পোশাক ও সামগ্রী ছিল।

অভিযোগ পাওয়ার পর কাভার্ডভ্যানের চালক সজীব হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। চালক পুলিশকে জানান, মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী আসার পথে হাটিকুমরুল-বনপাড়া বাইপাসের একটি হোটেলে গাড়ি থামিয়ে রাতের খাবার খান তিনি। বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পুঠিয়ার একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি থামিয়ে দেখতে পান, কাভার্ডভ্যানের পেছনের পাল্লা খোলা। তখন তিনি দরজা বন্ধ করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। পরে হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় আটটি লাগেজ না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

লাগেজ খোয়া যাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন দলের ক্রিকেটাররা। আগামী ১৮ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে পাসপোর্ট, ব্যক্তিগত মালামাল ও ক্রীড়াসামগ্রী হারিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রিকেটার মেহেরাব হোসেন কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট দলের ব্যবস্থাপক তৌহিদ তারেক বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা অত্যন্ত বিব্রত ও মর্মাহত। অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। খোয়া যাওয়া লাগেজ দ্রুত উদ্ধারে দুই জেলার পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে আমরা জেনেছি।’

নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা নয়: নেতানিয়াহু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা নয়: নেতানিয়াহু

আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে কোনও হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে একই সঙ্গে তেহরান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে আঘাত না হানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। গত জুনের পর থেকে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে কোনও সরাসরি হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগাম হামলার সম্ভাবনা এবং নির্বাচনের আগে সামরিক সংঘাত সৃষ্টির বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, এটি আমাদের জন্য সুবিধাজনক নয়, এটি মোটেও ভালো কিছু নয়।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, এমনকি ইরান আমাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও তারা আমার ওপরই দোষ চাপাবে।

তবে ইরানি হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েল যে কঠোর জবাব দেবে, তা ফের পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। নির্বাচনের পরে আগাম হামলার সম্ভাবনা কিংবা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরান সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, যার জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।

সৌদি আরবে ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলায় ইসরায়েল কোনও সহায়তা করছে কিনা, এমন প্রশ্নে নেতানিয়াহু বলেন, আমি শুধু আপনাকে এটুকু বলতে পারি, আমাদের বিশাল সাফল্য ও অসাধারণ অর্জনের পর মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই এখন আমাদের দিকে হাত বাড়াচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়াসহ সৌদি আরবে হামলা বেড়েছে। নেতানিয়াহু জানান, ইরানের সহযোগীরা নির্বাচনের আগেই ইসরায়েলে হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ লেবাননের ইরান সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ মারাত্মক আঘাতের মুখে পড়বে এবং দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ ও লিতানি অঞ্চলের অতিরিক্ত ভূখণ্ড হারাবে, যা ইসরায়েলের স্থায়ী সুরক্ষা অঞ্চলের অংশ হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, দশ লাখ শিয়া বাস্তুচ্যুত হবে এবং বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিও রেহাই পাবে না।

সূত্র: উইয়ন নিউজ