বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

যারা জায়গা পেলেন বিজয়ের মন্ত্রিসভায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
যারা জায়গা পেলেন বিজয়ের মন্ত্রিসভায়

দশকব্যাপী দ্রাবিড় রাজনীতির আধিপত্য ভেঙে তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় বসেছে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)। রোববার (১০ মে) এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজয়। একইসঙ্গে তার মন্ত্রিসভার ৯ জন সদস্যও শপথ গ্রহণ করেছেন।

বিজয়ের এই নতুন মন্ত্রিসভায় বৈচিত্র্যের ছোঁয়া লক্ষ্য করা গেছে। মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন চিকিৎসক, দন্তচিকিৎসক, সাবেক আইআরএস কর্মকর্তা এবং ২৯ বছর বয়সী সর্বকনিষ্ঠ এক বিধায়ক। তবে প্রথম দফার এই তালিকায় কেবল টিভিকে নেতাদেরই রাখা হয়েছে, কোনও কংগ্রেস নেতা এতে অন্তর্ভুক্ত হননি।

বিজয়ের মন্ত্রিসভায় সবথেকে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ২৯ বছর বয়সী অভিনেত্রী এস কীর্তনা। শিবকাশি আসন থেকে নির্বাচিত এই বিধায়ক বিজয়ের মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠতম সদস্য। গণিত ও পরিসংখ্যানে উচ্চশিক্ষিত কীর্তনা বাজি শিল্পের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নারীদের সমান মজুরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তালিকায় আরও রয়েছেন বিজয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও দলের সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দ। চেন্নাইয়ের টি-নগর আসনে ডিএমকে প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি আজ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন সাবেক জাতীয় বাস্কেটবল খেলোয়াড় ও তুখোড় রাজনৈতিক কৌশলবিদ আধব অর্জুন। গত নির্বাচনে স্টালিনের জয়ে বড় ভূমিকা রাখা এই নেতা এবার ভিল্লিবাক্কাম থেকে বিজয়ী হয়ে বিজয়ের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন।

বিজয় তার প্রশাসনে শিক্ষিত ও পেশাজীবীদের প্রাধান্য দিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন চিকিৎসক ও সাবেক আইআরএস কর্মকর্তা ড. কেজি অরুণরাজ এবং দন্তচিকিৎসক ড. টিকে প্রভু।

প্রবীণদের মধ্যে চমক সৃষ্টি করেছেন এআইএডিএমকে-র সাবেক প্রভাবশালী নেতা কেএ সেঙ্গোত্তাইয়ান। পাঁচ দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজয়ের হাত ধরে তিনি এবার মন্ত্রী হয়েছেন। এছাড়া বিজয়ের ২০ বছরের ব্যক্তিগত ম্যানেজার ও দলের কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট পি ভেঙ্কটরামানন, আইটি বিশেষজ্ঞ নির্মল কুমার এবং জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান ও অভিনেতা রাজমোহন আরুমুগাম মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Ads small one

১০টি পয়েন্টে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে সাংসদের ডিও লেটার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
১০টি পয়েন্টে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে সাংসদের ডিও লেটার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার ১০টি জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মারাত্মক নদী ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। গত ১১ মে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বরাবর এ সংক্রান্ত একটি ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) প্রদান করেন তিনি।
ডিও লেটারে সাংসদ উল্লেখ করেন, আশাশুনি উপজেলা মারাত্মক নদী ভাঙনকবলিত এলাকা। টেকসই বাঁধের অভাবে অনেক জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আশাশুনি সদর, প্রতাপনগরের কুড়িকাউনিয়া ও হরিশখালি, আনুলিয়ার মনিপুর ও বিছট, বুধহাটা বাজার এলাকা এবং বড়দলের গোয়ালডাঙ্গাসহ ১০টি পয়েন্টে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর আশা, এই আবেদন বাস্তবায়িত হলে তারা ভিটেমাটি হারানোর দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবেন এবং দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনের অবসান ঘটবে।

একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বেচে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন লেবানন, ফিরছে লাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বেচে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন লেবানন, ফিরছে লাশ

আসাদুজ্জামান সরদার: সুরঞ্জন দাসের এখন আর কোনো নিজের জমি নেই। তিন বছর আগে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার শ্রীপতিপুর গ্রামে তাঁর একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁইÑএক শতক বসতভিটাটুকুও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল একটাই, মেজ ছেলে শুভ দাসকে (২৫) লেবাননে পাঠিয়ে সংসারের অভাব ঘোচানো। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন চিতাভস্ম হওয়ার পথে। গত সোমবার রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন শুভ।
বুধবার সকালে শ্রীপতিপুর গ্রামে সুরঞ্জনের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। জরাজীর্ণ ঘরের দাওয়ায় বসে ডুকরে কাঁদছেন মা শিখা দাস। একটি ভ্যানের উপর বসে নির্বাক হয়ে বসে আছেন বৃদ্ধ বাবা সুরঞ্জন। তার পাশে বসে সান্ত¦না দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন প্রতিবেশি। প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভিড়ে বাড়িটি শোকাতুর হয়ে উঠেছে। সবার চোখেমুখে একটাই আকুতিÑছেলের মুখটা শেষবারের মতো দেখা।
পেশায় ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস জানান, বাড়ি বিক্রি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। চড়া সুদে এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শুভকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। ভিটে হারিয়ে গত তিন বছর ধরে সপরিবারে এক হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় থাকছেন তিনি। প্রতি মাসে শুভ ৩৫ হাজার টাকা করে পাঠাতেন। সেই টাকা দিয়েই ঋণের কিস্তি শোধ আর ছোট দুই ভাই-বোনের পড়াশোনা চলছিল।
বিলাপ করতে করতে মা শিখা রানী দাস বলেন, “সংসারের হাল ফেরাতে ছেলেটা বিয়েও করেনি। বলেছিল আরও কিছুদিন থেকে টাকা জমিয়ে বাড়ি ফিরে ঘর বাঁধবে। ভগবান কেন আমাদের কপাল পুড়িয়ে দিল? এখন ঋণের টাকা কে শোধ করবে, আর আমার মানিককেই বা কই পাব?”
শুভর ছোট বোন সাধনা দাস কলারোয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। কান্নারত কণ্ঠে সে বলে, “রবিবার রাতে দাদার সাথে শেষ কথা হয়েছিল। দুই মাস টাকা পাঠাতে পারেনি বলে দাদা খুব আফসোস করছিল। দাদাই আমাদের পড়াশোনার খরচ চালাত। দাদাকে তো আর ফিরে পাব না, কিন্তু এখন আমরা থাকব কোথায়? আমাদের পড়াশোনাই বা হবে কীভাবে?”
প্রতিবেশী সুমন দাস বলেন, শুভ খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। এলাকার সবার সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। তার এই অকাল মৃত্যু পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
শুভসহ গত দুই দিনে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাতক্ষীরার মোট তিনজন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এখন পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয় ইউপি মেম্বর শাহাদাত হোসেন বলেন, সুরঞ্জন দাসের এখন আর কোনো নিজের জমি নেই। তিনি এখন পরিবার নিয়ে থাকেন ধানের চাতালের ফেলে রাখা খুপড়ি ঘরে। তিন বছর আগে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার শ্রীপতিপুর গ্রামে তাঁর একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁইÑএক শতক বসতভিটাটুকুও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। চড়া সুদে এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শুভকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। সেই শুভ ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় মারা যাওয়ার খবরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শুভ’র মরদেহ যেন দেশে আনা হয়Ñআমরা সরকারের কাছে সেই দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে এই অসহায় পরিবারটি যেন মাথা গোজার ঠাঁই পায় সে ব্যাপারেও সরকার যেন সহায়তা করেন।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শুভর পরিবার যাতে দ্রুত মরদেহ ফিরে পায়, সে জন্য আমরা কনস্যুলেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করছি। একই সঙ্গে সরকারিভাবে সব ধরণের আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানিয়েছেন, প্রবাসীদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
অভাবের তাড়নায় যে ছেলেকে ভিনদেশে পাঠিয়েছিলেন সুরঞ্জন দাস, এখন সেই ছেলের নিথর দেহটুকু ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় কাটছে তাঁর প্রতিটি প্রহর। ঋণের বোঝা আর শোকÑদুইয়ের ভারে ন্যুব্জ এই পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

 

 

জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জেলা প্রশাসকের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জেলা প্রশাসকের

 

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ঠজনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরায় নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। বুধবার উক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, জনসেবা, শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। নবাগত জেলা প্রশাসক উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল, জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসেম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, সদস্য শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান বাবুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা জেলার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে সরকারের ৫ মহাপরিকল্পনা বিষয়ে অপর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বলা হয়, “সবার আগে বাংলাদেশ, করবো কাজ, গড়বো দেশ”Ñএই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে একগুচ্ছ যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার। ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ দর্শনের আলোকে এসব অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর চৌধুরি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম।
এতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে বলা হয়Ñ প্রান্তিক ও নি¤œ আয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে ডিজিটাল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডের বিশেষত্ব হলো, এটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে প্রদান করা হচ্ছে। গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৪টি ইউনিয়নের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। লক্ষ্য রয়েছে ৫ বছরে ৫০ লাখ গ্রামীণ পরিবারকে এই ডিজিটাল সুরক্ষার আওতায় আনার।
নদী ও খাল খনন বিষয়ে বলা হয়Ñপরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরুজ্জীবিত করেছে সরকার। আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের হারিয়ে যাওয়া ৫২০টি নদী ও হাজারো খালের পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হবে। সাতক্ষীরা জেলায় ইতোমধ্যে ৩৩টি খালের মধ্যে ৪টির খনন কাজ শেষ হয়েছে এবং ২৫টির কাজ চলমান রয়েছে।
সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় মোট ৩৩টি খাল খনন প্রকল্পের মধ্যে আছেÑ কামু খাল, কাটা খাল, কোলকাতলা খাল, খেজুরডাঙ্গা খাল, পুটিমারী খাল, পুটিমারী শাখা খালে, মজুমদার ও মজুমদার শাখা খাল, লেবুখালি খাল, নারায়নবাড়ি খাল, হেতালবুনিয়া খাল, কুড়িকাহুনিয়া, গেটের খাল, আই খাল, আইতলা খাল, চিত্রা খাল, হিমখালির খাল, ফারি খাল, খোসালখালি খাল, ধানখালি খাল, খলশিমুখো খাল, সোয়লিয়া খাল, হেতেলখালি খাল, গাবলাখালি খাল, খাশখামার খাল, দশ ফুটের খাল, কুমড়া খাল, কাটাখালি খাল, শ্যাম খাল, পাতাকাটা খাল, টুংগিরপুর খাল-০১, টুংগিরপুর খাল-০২, বসুখালি খাল ও বোয়ালমারি খাল।
এসব খালগুলো মধ্যে কামু খাল, কাটা খাল, পুটিমারী শাখা খালে, মজুমদার ও মজুমদার শাখা খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খালগুলোর মধ্যে কুড়িকাহুনিয়া, আইতলা খাল, গাবলাখালি খাল ও হিমখালির খাল খননের জন্য প্রস্তাবিত আকারে রয়েছে। বাকি খালগুলো খননের কাজ চলমান রয়েছে।
কর্মসূচিভুক্ত খালগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান জেলা তথ্য অফিসার। সভায় আরও জানানো হয়, ’সবুজ হোক দেশ, নির্মল হোক পরিবেশ’Ñস্লোগানে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৩ দশমিক ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’-এর মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার আধুনিক ব্যবস্থা চালু করছে সরকার।
জেলা তথ্য অফিসার বলেন, যাতায়াতে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বকীয়তা নিশ্চিত করতে বিআরটিসির মাধ্যমে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে। রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস এবং বিশেষায়িত নিরাপদ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গণপরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বাসের চালক ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বেও থাকবেন নারীরা।
তিনি আরও বলেন, ”কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ”Ñএই চেতনায় দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনার কাজ চলছে। গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। কার্ডধারী কৃষকরা বছরে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তাসহ সার, বীজ, সহজ শর্তে ঋণ ও শস্য বীমার মতো ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।
সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিস জানায়, সরকারের এসব উন্নয়নমূলক কর্মকা- ও নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে তৃণমূলের মানুষকে সচেতন করতে জেলাজুড়ে উঠান বৈঠক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মাইকিং ও ডিজিটাল প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য অফিস আয়োজিত উক্ত প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়েও বসার জায়গা না পেয়ে প্রেস ব্রিফিং বর্জন করে কমপক্ষে ৬০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়নের আওতায় প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিতে বুধবার সাড়ে এগারটার দিকে কমপক্ষে ৬০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যান। এসময় তাঁরা প্রায় সব হলুদ ও ভূইফোড় সাংবাদিকদের চেয়ার দখল করে বসে থাকতে দেখেন। এমতাবস্থায় নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন। মুলধারার সাংবাদিকদের দাঁড়িয়ে রেখে তিনি ব্রিফিং শুরু করলে ‘বসার জায়গা না পেয়ে অগত্য সাংবাদিকরা সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন।’
এবিষয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিস্তারিত জানতে খুবই আগ্রহ নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়েছিলাম। কিন্তু বসার জায়গা না পাওয়া ও জেলা প্রশাসকের অসৌজন্যমুলক আচরণে আমাদের চলে আসা ছাড়া পথ ছিলনা। ’
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা মূলধারার সাংবাদিকরা সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকা-ের সকল খবর প্রচার করে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, গত ১লা এপ্রিল বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের শ্যামনগর সফরের নিউজ মুলধারার সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ কাভারেজ করেন। অথচ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখা যায়নি।