রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

যেসব অভ্যাসে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে আপনার চার্জার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
যেসব অভ্যাসে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে আপনার চার্জার

চার্জিং কেবল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এমন এক প্রযুক্তি, যাকে আমরা সাধারণত গুরুত্ব দিই না—যতক্ষণ না এটি হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায় এবং ফোনে চার্জ দেওয়ার উপায় থাকে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই কেবল নষ্ট হওয়ার পেছনে বড় কারণ আমরা নিজেরাই। একটু যত্ন নিলেই এগুলোর আয়ু অনেক বাড়ানো সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড লাইফ সাইকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল পেক্ট তার ল্যাবে নিয়মিত চার্জিং কেবল পরীক্ষা করেন—ভাঙেন, টানেন, অতিরিক্ত ব্যবহার করেন, এমনকি এক্স-রে করে ভেতরের ক্ষতিও দেখেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেন ইলেকট্রনিক্সের মর্গ।’

অনেকের ধারণা, কেবল সঠিকভাবে পেঁচিয়ে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পেক্ট এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জিং কেবল কীভাবে পেঁচিয়ে রাখা হচ্ছে, সেটি আসলে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ঢিলেঢালা করে বা একটু এলোমেলোভাবে রাখলেও সাধারণত তাতে ক্ষতি হয় না।

তাহলে কেবল নষ্ট হয় কীভাবে?

সমস্যার মূল: প্লাগের গোড়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জিং কেবল সাধারণত নষ্ট হয় সেই জায়গায় যেখানে তারটি প্লাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কারণ ব্যবহারের সময় এই অংশটিতেই সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে।
ধরুন একটি পেপার ক্লিপ। একই জায়গায় বারবার বাঁকালে সেটি একসময় ভেঙে যায়। চার্জিং কেবলের ভেতরের ধাতব তারও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বারবার বাঁকানো বা চাপ পড়ার ফলে ধাতুর ভেতরে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে, যা শেষে ভেঙে যাওয়ার কারণ হয়।

যেসব অভ্যাস কেবল নষ্ট করে

তার ধরে টেনে প্লাগ খুলে ফেলা: অনেকেই কেবল ধরে টান দেন, কিন্তু এতে প্লাগের সংযোগস্থলে চাপ পড়ে। সবসময় প্লাগ ধরে খুলতে হবে।

অতিরিক্ত টান দিয়ে ব্যবহার: ছোট কেবল দিয়ে দূরের সকেটে পৌঁছাতে গেলে কেবল টানটান হয়ে যায়, যা ক্ষতিকর।

ব্যবহারের সময় বাঁকানো: বিছানায় শুয়ে ফোন ব্যবহার করার সময় প্লাগ বাঁকিয়ে রাখা খুব সাধারণ অভ্যাস—এটিই বড় ক্ষতির কারণ।

গাড়িতে চাপ দিয়ে রাখা: ফোন চার্জে রেখে কাপ হোল্ডারে রাখলে কেবলের ওপর চাপ পড়ে, বিশেষ করে গাড়ি চলার সময়।

ভালো কেবল কেনা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সস্তা কেবল দ্রুত নষ্ট হওয়ার বড় কারণ। তাই একটু ভালো মানের কেবল কেনা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক।

বিশেষ করে ব্রেইডেড (বোনা) কেবল। যেগুলোর ওপর নাইলনের জাল থাকে। সেগুলো বেশি টেকসই। এগুলো ভাঙার সম্ভাবনা কম এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।

চার্জিং কেবল খুব সাধারণ একটি জিনিস মনে হলেও, একটু ভুল ব্যবহারে এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবহার করলে একটি ভালো কেবল অনেক বছর টিকে যেতে পারে।

অতএব, কেবলকে অবহেলা না করে একটু যত্ন নিন— এতে আপনার টাকা বাঁচবে, আর পরিবেশের ওপরও চাপ কমবে।

সূত্র: বিবিসি

Ads small one

নিজের ঘরেই পরবাসী মা: ‘আরা’র দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় কান্নার স্বর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
নিজের ঘরেই পরবাসী মা: ‘আরা’র দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় কান্নার স্বর

নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরের মেহেদীবাগ এলাকার এক চিলতে ভবনের ভেতরে ১৯ জন প্রবীণের বসবাস। এই ছোট ঘরগুলো যেন এক একটি স্মৃতির মহাফেজখানা, যেখানে জমে আছে কেবলই অবহেলা আর বঞ্চনার গল্প। সাতক্ষীরার ‘আরা’ বৃদ্ধাশ্রমের এই বাসিন্দাদের ৯ জনই নারী, যারা জীবনের সবটুকু দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেও আজ ঠাঁই পেয়েছেন অন্যের দয়ায় গড়ে ওঠা এই আশ্রমে।

মিলি বিশ্বাসের গল্পটা অন্য দশটা সাধারণ মায়ের মতো হতে পারতো। নব্বইয়ের দশকে স্বল্প বেতনের চাকরিতে সংগ্রাম শুরু করে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজের উপার্জনে গড়েছেন দোতলা বাড়ি। বড় ছেলে ও ছোট ছেলে দুজনেই সচ্ছল, মেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

কিন্তু অভিযোগের তির বড় ছেলের দিকে। মিলি বিশ্বাসের দাবি, কৌশলে সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর শুরু হয় নির্যাতন। নিজ বাড়িতেই পরবাসী হয়ে পড়া এই মা অবশেষে আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। ক্ষোভ আর অভিমানে নীল হয়ে যাওয়া এই জননী বলেন, “জীবনের শেষ সময়ে এসে বড় ছেলের মৃত্যু নিজের চোখে দেখে যেতে চাই।” এই চরম হাহাকার যেন কেবল একজন মায়ের নয়, বরং চরম অবহেলার শিকার এক সত্তার আর্তনাদ। আশ্রমের প্রতিটি ঘরেই লুকিয়ে আছে এমন আরও বহু দীর্ঘশ্বাস।

জাহানারা খাতুনের একসময় নাম ছিল করুণা বিশ্বাস। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাকে তার স্বামী অন্যের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে তার দাবি। নতুন জীবনে ধর্ম পরিবর্তন করে সন্তানদের মানুষ করলেও আজ তারা কেউ পাশে নেই। এক সন্তান সম্পর্ক অস্বীকার করেছে, অন্যজন রাখে না কোনো খোঁজ।

লাভলী খাতুন খুলনার খালিশপুরের এই নারীর জীবন যেন সংগ্রামের জীবন্ত দলিল। পঙ্গুত্ব বরণ করার পর স্বামী ছেড়ে গেলে গার্মেন্টস কর্মী আর দিনমজুর হিসেবে কাজ করে তিন মেয়েকে মাস্টার্স পাস করিয়েছেন। সেই মেয়েরা আজ প্রতিষ্ঠিত হলেও মায়ের ঠিকানা হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমের এই চার দেয়াল।

আশ্রমের ১৯ জন প্রবীণের দিন কাটে একঘেয়ে রুটিনে। ভোরে উঠে ওষুধ সেবন আর প্রার্থনা। এরপর জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকা বা বারান্দায় বসে শূন্যতায় চেয়ে থাকা। বিকেলে সামান্য হাঁটাহাঁটি আর আড্ডা থাকলেও অবচেতনে সবাই যেন কারো অপেক্ষায় থাকেন। পরিবার থেকে যোগাযোগ না থাকায় মোবাইল ফোনগুলোও অধিকাংশ সময় নীরব থাকে। রাতের আঁধারে পুরনো স্মৃতি আর সন্তানদের মুখ মনে করেই ভাঙা ঘুমে পার হয় তাদের সময়।

সীমিত সাধ্যের মধ্যেও এই প্রবীণদের আগলে রাখছে ‘আরা’ সংস্থা। আবাসন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, কেবল আশ্রয় দেওয়াই তাদের শেষ লক্ষ্য নয়, তারা চান এই প্রবীণদের আপন ঠিকানায় ফিরিয়ে দিতে। দীর্ঘমেয়াদী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই শত শত প্রবীণকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে যাদের পরিবার কোনোভাবেই গ্রহণ করতে রাজি হয় না, তাদের জন্যই ‘আরা’ আজ শেষ ঠিকানা।

সপ্তাহে চার দিন মাছ, দুই দিন ডিম ও এক দিন মাংসের ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি অনেকটা ব্যক্তি-অনুদান নির্ভর। সরকারি সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয় বলে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হয়।

 

 

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধসহ প্রায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (১০ মে) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর বিভিন্ন বিওপির সদস্যরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।

 

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদরা, হিজলদী, কাকডাঙ্গা, কালিয়ানী বিওপি এবং ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। অভিযানে কলারোয়ার উত্তর ভাদিয়ালী থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ঔষধ, ফকির পাড়া থেকে ৩০ হাজার টাকার শাড়ি এবং কেরাগাছি এলাকা থেকে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল পার্টস জব্দ করা হয়।

এছাড়া সদর থানার গোবিন্দকাঠি ও কালিয়ানী আমবাগান এলাকা থেকে আরও প্রায় ৩ লাখ টাকার ঔষধ ও মোবাইলের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামালের মোট বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ টাকা। শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। জনস্বার্থে এবং দেশের অর্থনীতি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।

 

 

 

কালিগঞ্জে অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন

সংবাদদাতা: অসুস্থ বাবার জমি জালিয়াতির মাধ্যমে লিখে নেওয়া এবং আপন ভাইসহ গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকেল ৩টায় উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

অভিযুক্ত জান্নাতুল বুশরা পেশায় একজন অধ্যাপিকা। মানববন্ধনে তার বড় ভাই ও শ্রীকলা জামে মসজিদের ইমাম আব্দুস সবুর অভিযোগ করেন, তাদের বাবা আব্দুর সাত্তার ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘকাল শয্যাশায়ী ছিলেন। এই সুযোগে তিন বছর আগে জান্নাতুল বুশরা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বাবার ৬ শতক বসতভিটা নিজের নামে লিখে নেন। গত ৩ এপ্রিল বাবার মৃত্যুর পর এই বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে।

আব্দুস সবুর আরও জানান, জমি লিখে নেওয়ার পর জান্নাতুল বুশরা তাকে ও তার অসুস্থ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর গ্রামবাসী তাকে ওই ভিটায় তুলে দিলে আবারও উচ্ছেদের পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। তাকে হয়রানি করতে আদালতে মামলাও করেছেন ওই অধ্যাপিকা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী আব্দুস সবুর শিমুল, ফরিদা বেগম, স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম ও লুৎফন নেছা প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করেন, অধ্যাপিকা বুশরা বহিরাগতদের নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। তারা এই হয়রানি থেকে মুক্তি এবং পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীসহ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।