শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

যেসব অভ্যাসে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে আপনার চার্জার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
যেসব অভ্যাসে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে আপনার চার্জার

চার্জিং কেবল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এমন এক প্রযুক্তি, যাকে আমরা সাধারণত গুরুত্ব দিই না—যতক্ষণ না এটি হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায় এবং ফোনে চার্জ দেওয়ার উপায় থাকে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই কেবল নষ্ট হওয়ার পেছনে বড় কারণ আমরা নিজেরাই। একটু যত্ন নিলেই এগুলোর আয়ু অনেক বাড়ানো সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড লাইফ সাইকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল পেক্ট তার ল্যাবে নিয়মিত চার্জিং কেবল পরীক্ষা করেন—ভাঙেন, টানেন, অতিরিক্ত ব্যবহার করেন, এমনকি এক্স-রে করে ভেতরের ক্ষতিও দেখেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেন ইলেকট্রনিক্সের মর্গ।’

অনেকের ধারণা, কেবল সঠিকভাবে পেঁচিয়ে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পেক্ট এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জিং কেবল কীভাবে পেঁচিয়ে রাখা হচ্ছে, সেটি আসলে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ঢিলেঢালা করে বা একটু এলোমেলোভাবে রাখলেও সাধারণত তাতে ক্ষতি হয় না।

তাহলে কেবল নষ্ট হয় কীভাবে?

সমস্যার মূল: প্লাগের গোড়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জিং কেবল সাধারণত নষ্ট হয় সেই জায়গায় যেখানে তারটি প্লাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কারণ ব্যবহারের সময় এই অংশটিতেই সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে।
ধরুন একটি পেপার ক্লিপ। একই জায়গায় বারবার বাঁকালে সেটি একসময় ভেঙে যায়। চার্জিং কেবলের ভেতরের ধাতব তারও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বারবার বাঁকানো বা চাপ পড়ার ফলে ধাতুর ভেতরে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে, যা শেষে ভেঙে যাওয়ার কারণ হয়।

যেসব অভ্যাস কেবল নষ্ট করে

তার ধরে টেনে প্লাগ খুলে ফেলা: অনেকেই কেবল ধরে টান দেন, কিন্তু এতে প্লাগের সংযোগস্থলে চাপ পড়ে। সবসময় প্লাগ ধরে খুলতে হবে।

অতিরিক্ত টান দিয়ে ব্যবহার: ছোট কেবল দিয়ে দূরের সকেটে পৌঁছাতে গেলে কেবল টানটান হয়ে যায়, যা ক্ষতিকর।

ব্যবহারের সময় বাঁকানো: বিছানায় শুয়ে ফোন ব্যবহার করার সময় প্লাগ বাঁকিয়ে রাখা খুব সাধারণ অভ্যাস—এটিই বড় ক্ষতির কারণ।

গাড়িতে চাপ দিয়ে রাখা: ফোন চার্জে রেখে কাপ হোল্ডারে রাখলে কেবলের ওপর চাপ পড়ে, বিশেষ করে গাড়ি চলার সময়।

ভালো কেবল কেনা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সস্তা কেবল দ্রুত নষ্ট হওয়ার বড় কারণ। তাই একটু ভালো মানের কেবল কেনা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক।

বিশেষ করে ব্রেইডেড (বোনা) কেবল। যেগুলোর ওপর নাইলনের জাল থাকে। সেগুলো বেশি টেকসই। এগুলো ভাঙার সম্ভাবনা কম এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।

চার্জিং কেবল খুব সাধারণ একটি জিনিস মনে হলেও, একটু ভুল ব্যবহারে এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবহার করলে একটি ভালো কেবল অনেক বছর টিকে যেতে পারে।

অতএব, কেবলকে অবহেলা না করে একটু যত্ন নিন— এতে আপনার টাকা বাঁচবে, আর পরিবেশের ওপরও চাপ কমবে।

সূত্র: বিবিসি

Ads small one

কাজের অভাবে পাইকগাছার হাজারো শ্রমিকের ইটভাটায় পাড়ি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
কাজের অভাবে পাইকগাছার হাজারো শ্রমিকের ইটভাটায় পাড়ি

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় স্থানীয় পর্যায়ে কাজের তীব্র সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবিকার সন্ধানে দেশের বিভিন্ন জেলার ইটভাটায় পাড়ি জমাচ্ছেন হাজারো নিম্নআয়ের মানুষ। তাঁদের সঙ্গে যাচ্ছেন নারী ও শিশুরাও। সংসারের খরচ, সন্তানদের খাবার ও পড়ালেখার ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়েই তাঁরা নিজ এলাকা ছেড়ে দূরদূরান্তে শ্রমিকের কাজ বেছে নিচ্ছেন।

স্থানীয়ভাবে স্থায়ী কর্মসংস্থান ও পর্যাপ্ত দৈনিক কাজের সুযোগ না থাকায় দিনমজুরদের আয় অনিয়মিত। অন্যদিকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষের পাশাপাশি অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারও। এ পরিস্থিতিতে জীবিকার তাগিদে ইটভাটায় কাজ করতে যাচ্ছেন পাইকগাছার অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ।

সাধারণত বর্ষা মৌসুম শেষে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটার মৌসুম শুরু হয়। চলে পরবর্তী বর্ষা মৌসুমের আগ পর্যন্ত। উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিকাজের ব্যস্ততা কমে গেলে অনেক শ্রমজীবী মানুষ কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় চলে যান।

ইটভাটার মালিক বা শ্রমিক সরবরাহকারী সর্দাররা অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অগ্রিম টাকা দেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘দাদন’ নামে পরিচিত। দরিদ্র পরিবারগুলো এই টাকা দিয়ে জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন মেটায়। পরে ইটভাটায় কাজ করে সেই টাকা পরিশোধ করতে হয়। অনেক শ্রমিক একা না গিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পুরো পরিবার নিয়ে ভাটায় যান, যাতে পরিবারের একাধিক সদস্য কাজ করে আয় করতে পারেন।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইট তৈরির মৌসুমে তাঁদের কাজ করতে হয়। সর্দারের মাধ্যমে ছয় মাসের চুক্তিতে তাঁরা ইটভাটায় যোগ দেন। কাজ শুরুর আগে অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়। তবে এই অর্থ পরিশোধের দায় থাকায় অনেক শ্রমিককে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

কাজের ধরন অনুযায়ী ছয় মাসে শ্রমিকদের পারিশ্রমিকও ভিন্ন। ইট তৈরির কারিগররা পান প্রায় এক লাখ টাকা। জোগালিরা পান ৪৫ হাজার টাকা, আগাটক শ্রমিকরা ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, গোড়ারটক শ্রমিকরা ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা এবং মাটি বহনকারীরা পান ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া কাজ শেষে খোরাকি হিসেবে সাত দিনে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দেওয়া হয় বলে শ্রমিকেরা জানান।

শ্রমিকদের জানান, তাঁদের দুই শিফটে কাজ করতে হয়। ফজরের আজানের পরপরই কাজ শুরু হয়ে চলে দুপুর পর্যন্ত। এরপর স্বল্প বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। আবার শ্রমিকদের একটি অংশ পালাক্রমে রাতে কাজ করেন। সব মিলিয়ে অনেক শ্রমিককে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়।

ইটভাটার পাশেই টিনের ঘর তৈরি করে শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানেই তাঁরা বসবাস করেন এবং নিজেরাই রান্না করে খাবার তৈরি করেন। তবে এসব ঘরে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তাঁদের জীবনযাপন করতে হয় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে।

ইটভাটার শ্রমিকদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর। অস্থায়ী ও অপর্যাপ্ত আবাসনে বসবাসের পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘ সময় ধোঁয়া, ধুলাবালি ও গরম পরিবেশে কাজ করতে হয়। এতে শ্বাসতন্ত্রসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, কাজের জন্য পরিবারের সঙ্গে ইটভাটায় যাওয়া অনেক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে তাদের পড়ালেখা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে পাইকগাছার শ্রমজীবী মানুষকে জীবিকার জন্য নিজ এলাকা ছাড়তে হচ্ছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে তাঁদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সীমিত বিশ্রাম ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ বাড়ানো গেলে এসব মানুষের দূরদূরান্তে গিয়ে কঠিন পরিবেশে কাজ করার চাপ কমতে পারে।

এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয়। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এ দিন ফল প্রকাশিত হতে পারে।

এবার এইচএসসিতে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আর এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। অকৃতকার্য বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে এবার থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ দুই মাসের মধ্যে এবং তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও খাতা পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর বিষয়ে মত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ের বেশি সর্বোচ্চ কতটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ফল প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ফল প্রকাশের পর এক মাস পুনর্নিরীক্ষণের কাজ চলবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হবে। এরপর পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করা হবে।

চেয়ারম্যান বলেন, দুই বিষয়ে পরীক্ষা হলে দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। তবে তিন বা তার বেশি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে সময় বেশি লাগবে। সে ক্ষেত্রে তিন মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, পুনর্নিরীক্ষণ, পরীক্ষার আয়োজন, পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে ফল প্রকাশ করতে হবে।

দুই বিষয়ে পরীক্ষা, নাকি আরও বেশি—সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, সোমবারের সভায় অন্তর্বর্তী পরীক্ষার ধরন, সম্ভাব্য পরীক্ষার্থী, কতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রসঙ্গ এলেও পরে অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বোর্ড চেয়ারম্যানরা পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাদের অভিমত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে, নাকি তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদেরও সুযোগ দেওয়া হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভাষ্য, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য এ বছর থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যানরা।

এক বছর অপেক্ষা না করানোর ঘোষণা উপদেষ্টার

এর আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউনে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এসব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে একজন শিক্ষার্থীর অন্য সব মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায় না। তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবন মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই সারাদেশে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট।

এবার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। পরীক্ষার কেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৯টি। এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে (জিএমটি ১৪৩৩) ভূকম্পনটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে চীন ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র (সিইএনসি)।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সিইএনসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতের নাগকু জেলার উচ্চ পার্বত্য এলাকায়, ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।

সিইএনসি জানিয়েছে, তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে ঘটা এই ভূমিকম্পটি স্থানীয়ভাবে বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী কিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ হন, যা আজকের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরে ছিল।