শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

রোনালদো বিশ্বকাপ জিতলে কে হবেন ‘বিশ্বসেরা’?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
রোনালদো বিশ্বকাপ জিতলে কে হবেন ‘বিশ্বসেরা’?

২০০০ সালের আগের ফুটবল বিশ্ব বিভক্ত ছিল দুটো নামে—পেলে নাকি ম্যারাডোনা? যুগ যুগ ধরে ধরে চলা সেই চিরন্তন বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে ফুটবল মাঠে আবির্ভাব ঘটেছিল দুই ভিন গ্রহের ফুটবলারের- লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিগত দেড় দশক ধরে এই দুই জন মিলে পেলে-ম্যারাডোনা যুগের সেই পুরোনো বিতর্ককে ইতিহাস বানিয়ে ফুটবল বিশ্বকে এক আধুনিক দ্বৈরথ উপহার দিয়েছেন।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরার পর ফুটবল দুনিয়ার একটা বড় অংশ রায় দিয়ে দিয়েছিল—”The GOAT debate is over!” অর্থাৎ, সর্বকালের সেরার বিতর্ক শেষ। কিন্তু আসলেই কি শেষ? ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বর্তমান ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ স্কোয়াড এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ‘শেষ সুযোগের’ দিকে তাকালে নতুন একটা সমীকরণ সামনে আসে।

ধরে নেওয়া যাক, ২০২৬ সালে পর্তুগাল বিশ্বজয় করলো এবং রোনালদো তার অধরা বিশ্বকাপটি পেয়ে গেলেন। তাহলে কি রোনালদো এককভাবে মেসির চেয়ে এগিয়ে ‘গোট’ হতে পারবেন? ফুটবলীয় বিশ্লেষণ এবং যুক্তি বলছে—না, তাও ক্রিস্টিয়ানো এককভাবে সর্বকালের সেরা হতে পারবেন না। এর পেছনে রয়েছে কিছু কারণ-

‘ওয়ান-ম্যান আর্মি’ বনাম ‘টিম এফোর্ট’

২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল কিন্তু কাগজে-কলমে সেরা ছিল না। মেসি প্রায় একাই (৭টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করে) পুরো দলকে টেনে ফাইনালে নিয়ে গেছেন এবং চ্যাম্পিয়ন করেছেন।

অন্যদিকে, বর্তমান পর্তুগাল দল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তারকাবহুল দল। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা, ভিতিনহা, হোয়াও নেভেস, রুবেন দিয়াজ কিংবা রাফায়েল লিয়াওদের নিয়ে গড়া এই দল যেকোনও পজিশনেই বিশ্বসেরা। এই দলে রোনালদোর ভূমিকা হয়তো হবে একজন দুর্দান্ত ফিনিশারের, কিন্তু মেসির মতো পুরো দলকে মাঝমাঠ থেকে তৈরি করে টেনে নেওয়ার মতো ভূমিকা এই বয়সে রোনালদোর পক্ষে অসম্ভব।

প্লে-মেকিং ও ফুটবলের নান্দনিকতা

ফুটবল শুধু সংখ্যার খেলা নয়, ফুটবল একটি শিল্প। রোনালদো ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা গোল স্কোরার এবং বক্স স্ট্রাইকার। তার গোল করার ক্ষমতা প্রশ্নাতীত।

মেসি একই সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন। পাশাপাশি ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোল সহায়তাকারী। আবার ফুটবলের ইতিহাসের সেরা প্লে-মেকার ও ড্রিবলারদের একজন।

রোনালদো ট্রফি জিতলে তার ভূমিকা থাকবে গোলে, কিন্তু মেসি ট্রফি জিতেছেন ফুটবলকে ডিফাইন করে। মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করা, ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে বোকা বানানো এবং নিখুঁত পাসিংয়ের যে জাদু মেসির আছে, তা রোনালদোর ট্রফি ক্যাবিনেটে বিশ্বকাপ যোগ হলেও এগুলো অধরা।

ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের ব্যবধান

ফুটবলে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি ধরা হয় ব্যালন ডি’অর-কে। মেসির ঝুলিতে আছে রেকর্ড ৮টি ব্যালন ডি’অর। রোনালদোর সংগ্রহে আছে ৫টি।

পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিতলেও ব্যক্তিগত এই অর্জনের বিশাল ব্যবধান (৩টি ব্যালন ডি’অর) ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না, যা মেসিকে সবসময়ই এককভাবে কিছুটা এগিয়ে রাখবে।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়

মেসি ২০২২ সালে শুধু বিশ্বকাপ জেতেননি, তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। এর আগে ২০১৪ সালেও একই গৌরব অর্জন করেছিলেন। বিশ্বকাপে মেসির এই একক আধিপত্য ফুটবলের ইতিহাসে বিরল। পর্তুগাল যদি বিশ্বকাপ জেতেও বর্তমান দলের শক্তির গভীরতার কারণে রোনালদোর এককভাবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়া বা গোল্ডেন বল জেতার সম্ভাবনা বেশ কম।

পর্তুগাল যদি এবার বিশ্বকাপ জেতে, তবে ২০০০ সালের আগের পেলে-ম্যারাডোনার বিতর্ক যেমন স্থবির হয়ে গিয়েছিল, তেমনি মেসি-রোনালদোর আধুনিক বিতর্কটি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। রোনালদোর ফুটবলের সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হবে। অনেকে মেসির পাশে বসাবেন কিংবা এগিয়েও রাখতে চাইবেন।

তারপরও যদি প্রশ্ন করা হয়—‘কে এককভাবে ইতিহাসের একমাত্র সেরা’- তাহলে ফুটবল রোমান্টিক, বিশ্লেষক এবং বোদ্ধাদের ভোটটি মেসির নান্দনিকতা, প্লে-মেকিং এবং ফুটবলীয় জাদুর কারণে আর্জেন্টাইন ১০ নম্বরের দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকবে।

Ads small one

‘আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
‘আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে’

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির সংবাদ সম্মেলনের আগেই গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ফাইনাল নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন। নিউইয়র্কের জ্যাভিটস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ‘দিবু’ বলেন, “বিশ্বকাপের আগে থেকেই হাতের চোটের ব্যথা আমাকে ভোগাচ্ছে। যেসব বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করেছি, সবাই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। গ্রুপ পর্বে আমি ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি। তবে শেষ ষোলো থেকে এ নিয়ে আর ভাবিনি। এখন অনেকটাই ভালো অনুভব করছি। তবু আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে।”

দলে অর্জন নিয়ে ভাবনা

কয়েক বছর আগে কিছু সতীর্থর সঙ্গে আড্ডায় তিনি বলেছিলেন, দুটি বিশ্বকাপ জিতলে তিনি অবসর নেবেন। তার সেই ভাইরাল মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘হ্যাঁ, এটি এএফএ অনুশীলন মাঠে নিকোর সঙ্গে কথা বলার সময় বলেছিলাম… তবে প্রথমে আমাদের জিততে হবে, আমি কেবল সেটির দিকেই মনোনিবেশ করছি। এই দলের সঙ্গে আমরা বছরের পর বছর ধরে উন্নতি করছি। দল যা অর্জন করেছে তা ভেবেই মাঝে মাঝে আমার কান্না চলে আসে। এখনও আনন্দের অনেক মুহূর্ত আসা এবং তা উপভোগ করা বাকি রয়েছে।’’

এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তার অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘‘আমি গতবারের চেয়ে এই বিশ্বকাপ অনেক বেশি উপভোগ করছি। সৌদি আরবের ম্যাচের পর আমি অনেক ভুগেছিলাম। খুব বেশি শটের মুখোমুখি হইনি, অথচ তারা গোল করে দিয়েছিল। আমি কেবল পেনাল্টি শুটআউটে একটি নিষ্পত্তিমূলক ভূমিকা পালন করতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয় এখন আমি পায়ে আরও ভালো খেলছি। আমি রবিবার মাঠে নামব এবং আপনারা আমাকে হাসিমুখে দেখতে পাবেন।’’

মানসিক শক্তি এবং ‘দিবু’র সেই চেতনা

প্রতিটি ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নিজের শক্তির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তারা আমার বিরুদ্ধে এক বা দুটি গোল করতে পারে, কিন্তু পরবর্তী প্লে-তেই আমি সেই একই ‘দিবু’ । চাপ আমাকে কাবু করতে পারে না। আমি আমার গ্লাভস পরে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখার চেষ্টা করি। খেলা যাই হোক না কেন, আমার মধ্যে সেই পাড়ার চেতনা রয়েছে, যা আমাকে মার দেল প্লাতার ‘ব্যারিও জার্দিন’-এ খেলা সেই একই দিবু বানিয়ে রাখে।’’

৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার ফাইনালে প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, ‘‘দারুণ দল, প্রিমিয়ার লিগে খেলা খেলোয়াড়দের কারণে আমি তাদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানি। তাদের একজন দুর্দান্ত কোচ রয়েছেন, এটি কেবল লামিনকে নিয়ে নয়, তাদের একটি দুর্দান্ত দল রয়েছে এবং তারা একটা সুনির্দিষ্ট কারণেই এখানে এসেছে। তাদের নিজস্ব শক্তি রয়েছে, তবে আমাদেরও শক্তি রয়েছে। আশা করি এটি এমন একটি ম্যাচ হবে যা দর্শকরা দীর্ঘদীন মনে রাখবেন।’’

ম্যাচের প্রস্তুতি এবং কোচের ওপর আস্থা নিয়ে তিনি বললেন, ‘‘আমি মনে করি যখন আমরা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম, সেটি ছিল জাতীয় দলের সঙ্গে আমার দ্বিতীয় সবচেয়ে উপভোগ্য ম্যাচ। দুবার জেতা, চতুর্থ তারকা অর্জন করা—মানুষের উদযাপনের সঙ্গে এটি কেমন হতে পারে তা আমি কেবল কল্পনাই করতে পারি।’’

কঠিন পরিস্থিতি ও খাপ খাইয়ে নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘‘মাঝে মাঝে মানুষ আপনার মুখোমুখি হওয়া প্রতিপক্ষ নিয়ে তাদের মতামত দেয়, কিন্তু আমরা তো প্রতিপক্ষ বেছে নিই না। সব ম্যাচই কঠিন, রবিবার ফাইনালটি হবে দুপুর ৩টায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে, এবং আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’’

শান্ত থাকা ও দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো নিয়ে মার্টিনিজের কথা, ‘‘আমি খুব শান্ত বোধ করছি। একজন গোলরক্ষকের ভূমিকা কেবল ম্যাচের মধ্যে ভালো সেভ করার চেয়েও বেশি কিছু। তাকে নিজের হাফ থেকে বেরিয়ে আসতে হয়, আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হয়। এগুলো হলো ফুটবলের এমন কিছু দিক যা আমার সতীর্থদের এই নিশ্চয়তা দেয় যে আমি শান্ত আছি, আমাকে তাদের আত্মবিশ্বাস দেখাতে হবে। যখন তারা তা দেখে, তখন তারা, যারা ফুটবলে এত দুর্দান্ত, কেবল সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়। এই বিশ্বকাপে আমরা অনেক গোল করতে পেরেছি এবং এ পর্যন্ত আমরা গত বিশ্বকাপের চেয়ে একটি গোল কম হজম করেছি।’’

কোচের বার্তা নিয়ে সরাসরি বললেন তিনি, ‘‘কোচ আমাকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘তুমি কেমন আছ তা বড় বিষয় নয়, আমি তোমাকে আমার দলে চাই।’ আমার জন্য এটি ১০টি পেনাল্টি সেভ করা এবং সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় থাকার চেয়েও বেশি আনন্দের। আর যদি আমার সেই মুহূর্তটি না আসে এবং আমরা ফাইনাল জিতি, তবে সেটিও সমান তাৎপর্যপূর্ণ হবে।’’

ফাইনালের আগে স্পেন কোচের স্পষ্ট বার্তা, ‘মেসিকে ম্যান-মার্কিং নয়’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ফাইনালের আগে স্পেন কোচের স্পষ্ট বার্তা, ‘মেসিকে ম্যান-মার্কিং নয়’

বিশ্বকাপের মহারণে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। তবে তাকে থামাতে কোনো ফুটবলারকে আলাদা করে দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বরং পুরো দল মিলে মেসির ওপর কড়া নজর রাখার পরিকল্পনাই করেছে স্পেন। অতীতের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে আটকাতে স্পেন কি বিশেষ কোনো ম্যান-মার্কিং কৌশল ব্যবহার করবে? জবাবে স্পেন কোচ জানিয়ে দেন, এমন পরিকল্পনা নেই।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন সেভিয়ার বয়সভিত্তিক দলের কোচ থাকাকালীন সময়ের একটি ম্যাচের কথা। স্প্যানিশ কাপে বার্সেলোনার বিপক্ষে সেই ম্যাচে কিশোর মেসিকে শুরু থেকেই ম্যান-মার্কিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন ডিফেন্ডারকে, ‘বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে গিয়েছিলাম। তখন ‘মেসি’ নামে এক অসাধারণ প্রতিভাবান ছেলের কথা অনেক শুনেছিলাম। তাই ম্যাচের শুরু থেকেই তাকে ম্যান-মার্কিংয়ে রেখেছিলাম। ৭০ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ছিল ০-০। এরপর যিনি তাকে মার্ক করছিলেন, তিনি হলুদ কার্ড দেখায় আমি তাকে তুলে নিই। আর পরের ১৫ মিনিটেই মেসি চারটি গোল করে বসে।’

সেই অভিজ্ঞতা এখনও তাকে শিক্ষা দেয় বলে জানান স্পেন কোচ, ‘এর মানে কি আমরা এবারও তাকে ম্যান-মার্কিং করবো? না। তবে তার ওপর খুব কাছ থেকে নজর রাখবো।’

নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসিই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।

ফাইনালের আগে মেসির সঙ্গে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তারকা লামিনে ইয়ামালের তুলনাও উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেন দে লা ফুয়েন্তে, মেসি অনন্য। তিনি অসাধারণ প্রতিভাবান এবং তরুণ ফুটবলারদের জন্য অনুকরণীয় এক উদাহরণ। কিন্তু লামিনেকে লামিনেই থাকতে হবে। তাকে নিজের মতো বেড়ে উঠতে সাহায্য করাই আমাদের দায়িত্ব।’

এদিকে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে চোট পাওয়ার পর ইয়ামালের ফিটনেস নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই উদ্বেগ দূর করেছেন স্পেন কোচ, ‘তার উরুতে জোরে আঘাত লেগেছিল। পেনাল্টি বক্সে তাকে ফাউল করা হয়েছিল, আর জায়গাটা বেশ সংবেদনশীল ছিল। তবে আজ সে দলের সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করেছে।’

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে?

ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ড- কোনও দলই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি খেলতে চান না। এটাকে কেউ কেউ নির্যাতনও বলছেন। শনিবার রাতে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের এই ম্যাচই দুই দলই একাদশে বেশ পরিবর্তন আনছে। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমপও তার দলের পরিবর্তন আনার কথা নিশ্চিত করেছেন। এরপরই গুঞ্জন উঠেছে দলের তারকা খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে আজ রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামবেন কি না। যদি তিনি না খেলেন তাহলে গোল্ডেন বুট আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির নিশ্চিতই বলা যায়।

তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমপ নিশ্চিত করেছেন যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে খেলার জন্য ‘প্রস্তুত’ আছেন। তবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে তিনি নিয়মিত শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন।

এমবাপ্পে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় তারকা ছিলেন এবং তার দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও, তার সংগ্রহে একটি গোল্ডেন বুট যোগ করার পাশাপাশি ইতিপূর্বে জেতা বিজয়ী ও রানার্স-আপ মেডেলের সঙ্গে একটি ব্রোঞ্জ মেডেল যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার লিওনেল মেসির সমান ৮টি গোল করেছেন। তবে আর্জেন্টিনার তারকা একটি অ্যাসিস্ট বেশি করার কারণে ফাইনালের সপ্তাহের আগে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের জন্য গণনা করা হয়।

দেশমপ বলেন, তারা খেলুক বা না খেলুক, একজন প্রধান কোচ হিসেবে আগামীকালের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যা যা করা সম্ভব তা করার দায়িত্ব আমার। আমি আশা করি আমরা তা করবো এবং এটি করার জন্য আমাদের সবটুকু চেষ্টা প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি বলেন, এটি একটি ম্যাচ। আমার কাছে কিছু সমাধান রয়েছে। কিছু খেলোয়াড় হয়তো খেলবে, আবার ব্যক্তিগত কারণে অন্য কেউ হয়তো খেলতে চাইবে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার হওয়া কোনও আলোচনা আমি প্রকাশ করতে চাই না। আমার কাছে সব তথ্য নেই, তবে হ্যাঁ, আমি কিছু খেলোয়াড় পরিবর্তন করবো।