বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

রোল নম্বরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অদ্ভুত মানুষের গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
রোল নম্বরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অদ্ভুত মানুষের গল্প

আখলাকুর রহমান

খুব মধ্যরাতে যখন চারপাশ নিঝুম হয়ে আসে, তখন কখনো কি ভেবে দেখেছেন—পড়ালেখার মতো এত কঠিন এবং নিরস একটা বিষয়ে এত তীব্র রোমাঞ্চ কীভাবে লুকিয়ে থাকে? একটা ছেলে কিংবা একটা মেয়ে সারা বছর পড়াশোনা করল, দিনরাত এক করে পরীক্ষার খাতায় কী যেন সব লিখল, তারপর একটা খামবন্দি ফলাফলের জন্য দরদর করে ঘামতে লাগল। এই যে পুরো তীব্র উত্তেজনার একটা খেলা, এই খেলার মূল চাবিকাঠি কিন্তু লুকিয়ে আছে মাত্র গুটিকয়েক সংখ্যার ভেতর।

 

আমরা যাকে খুব সহজ ভাষায় বলি—রোল নম্বর। একটা খাতার ওপর কোনো নাম থাকে না, কোনো ধর্ম থাকে না, কোনো গোত্র থাকে না। অথচ আজ থেকে একশ বছর আগে এই উপমহাদেশে দৃশ্যটা এমন ছিল না। খাতার ওপর মস্ত বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকত পরীক্ষার্থীর নাম। আর সেই নামের আড়ালে চলত এক অদ্ভুত অন্ধকারের খেলা। সেই অন্ধকার তাড়িয়ে প্রতিটি খাতার ওপর সংখ্যার এক জাদুকরী আলো যিনি জ্বেলেছিলেন, তিনি সাতক্ষীরার নলতা গ্রামের এক অতি সাধারণ অথচ অতি অসাধারণ মানুষ—খান বাহাদুর আহছানউল্লা।

১৮৭৩ সালের এক কনকনে শীতের রাতে যখন তিনি এই পৃথিবীতে এলেন, নলতা গ্রামের মেঠোপথ তখনো জানত না যে এই ছেলেটি একদিন পুরো ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেবে। তিনি বড় হলেন, পড়াশোনা করলেন এবং একসময় ব্রিটিশ ভারতের শিক্ষা বিভাগে প্রথম মুসলিম ‘ইন্ডিয়ান এডুকেশন সার্ভিস’ অফিসার হিসেবে যোগ দিলেন। চাকরি পাওয়ার পর তিনি একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলেন।

 

পরীক্ষার খাতা যখন পরীক্ষকদের টেবিলে যায়, তখন খাতার ওপর জ্বলজ্বল করতে থাকা নামগুলো দেখে পরীক্ষকদের মনস্তত্ত্বে এক প্রচ্ছন্ন পক্ষপাতিত্ব কাজ করে। কার নাম ‘রাম’, কার নাম ‘রহিম’, কে কোলকাতার বাবুদের ঘরের সন্তান আর কে সাতক্ষীরার কাদা-জল মাখা মফস্বলের ছেলে—তা খাতার নাম দেখেই আলাদা করা যেত। ফলে দেখা যেত, মফস্বলের এক প্রান্তিক কিশোর অসামান্য লিখেও কেবল নামের কারণে কম নম্বর পাচ্ছে, আর শহরের কোনো প্রভাবশালী ঘরের সন্তান সাধারণ লিখেও পার পেয়ে যাচ্ছে। মেধার এই অসম লড়াই খান বাহাদুর আহছানউল্লাকে ভীষণভাবে পীড়িত করত। তিনি ভাবলেন, এই প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়ের একটা শেষ হওয়া দরকার।

 

ঈশ্বরের তৈরি মানুষের মধ্যে জাত-পাত থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের তৈরি খাতার ভেতর মেধার কোনো জাত থাকতে পারে না। তিনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে এক অদ্ভুত এবং যুগান্তকারী প্রস্তাব পাঠালেন—পরীক্ষার খাতা থেকে পরীক্ষার্থীর নাম পুরোপুরি মুছে দিতে হবে। সেখানে থাকবে কেবল একটা গোপন ‘সংকেত নম্বর’ বা ‘রোল নম্বর’। পরীক্ষক খাতা কাটার সময় জানবেনই না তিনি কার ভাগ্য নির্ধারণ করছেন, তাঁর সামনে থাকবে শুধু মেধার নির্যাস। তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ এবং খোদ ব্রিটিশ সরকারের বড় বড় কর্তারা এই প্রস্তাবে হেসেই খুন। তারা ভাবলেন, নাম ছাড়া আবার পরীক্ষা হয় নাকি! কিন্তু এই নরম স্বভাবের মানুষটি ভেতরে ভেতরে ছিলেন প্রচ- জেদি। তিনি একা হাতে সমস্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর তীব্র বিরোধিতার দেয়াল ভেঙে চুরমার করে দিলেন। অবশেষে ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রথম চালু হলো পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বর লেখার নিয়ম।

এই একটিমাত্র নিয়মের কারণে রাতারাতি বদলে গেল কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভাগ্য। নামহীন সেই খাতাগুলোর ভেতর দিয়ে মফস্বলের অবহেলিত ছেলেমেয়েরা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে মেধার শীর্ষে উঠে আসতে লাগল। আজ আমরা যখন যেকোনো পরীক্ষার খাতায় নিজেদের রোল নম্বরটি লিখি, আমরা কেউ হয়তো মনে রাখি না যে এই ছয়-সাতটা সংখ্যার আড়ালে সাতক্ষীরার এক চিরস্মরণীয় মানুষের কতটা জেদ, কতটা লড়াই আর কতটা ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল। ১৯৬৫ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি তিনি যখন নলতার মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন হয়তো চারপাশের প্রকৃতিও নীরবে বলেছিল, এই মানুষটি চিরকাল বেঁচে থাকবেন প্রতিটি পরীক্ষার্থীর কলমের ডগায়, প্রতিটি নামহীন খাতার পাতায়। লেখক : উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা : আসিফা

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ হিজলদী ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, হিজলদী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার বড়ালী হতে ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার চারাবাড়ি হতে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

 

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলের বনজীবী, জেলে ও বাওয়ালিদের জীবন সত্যিই চরম অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি এবং কষ্টের প্রতীক। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকার লাখ লাখ মানুষ জীবিকার জন্য এই বন ও নদীর ওপর নির্ভরশীল।

রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গভীর বনে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করতে হয়। এ সময় তাদের প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আতঙ্কে থাকতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার প্রকোপে তাদের জীবন ও জীবিকা বারবার বিপর্যস্ত হয়। লবণাক্ত পানি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও চাষাবাদের জমি নষ্ট হওয়া তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম এবং বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে বনজীবীদের বনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ থাকে। ওই দীর্ঘ সময়টাতে কাজ না থাকায় অনেকেই চরম মানবিক সংকটে ও অনাহারে দিন কাটান। বনে যাওয়ার জন্য দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। এরপর বন থেকে আহরিত সম্পদ বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না, ফলে সারা বছর অভাব পিছু ছাড়ে না। বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অপহরণের ভয় তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বর্তমানে বনের পরিস্থিতি অনেক অশান্ত এবং বন বিভাগের অনুমতি ও পাস-পারমিট সংগ্রহ করে বনে টিকে থাকা এখনো একটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া।

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার অন্যতম প্রধান নদী শাকবাড়িয়ার তীরে সুন্দরবন সংলগ্ন ১৫টি গ্রাম মঠবাড়ি, কাশিয়াবাদ, কয়রা ৪ নম্বর, ৫ নম্বর, ৬ নম্বর, পাথরখালী, মাটিকাটা, গাববুনিয়া, শাকবাড়িয়া, হরিহরনগর, গাতিঘেরি, বীনাপানি, জোড়শিং, আংটিহারা ও গোলখালী। এই ১৫টি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এখনও বনের সম্পদের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। বনজীবীরা মাছ ও কাঁকড়া ধরা, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহ করা। বনের ভেতর ও আশপাশের নদী-খালে এরা চিংড়ি পোনাও ধরে থাকেন। জীবিকা নির্বাহে এটাও তাদের অন্যতম কাজ।

ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ লাখ পরিবারের জীবন ও জীবিকা এভাবেই কষ্টে কাটছে। খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবী। উপকূলের সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ দরিদ্র মানুষ তাদের জীবিকার জন্য পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে এসব মানুষের বসবাস, যারা জীবিকার জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের গভীরে যান। তবে গত এক দশকে এসব অঞ্চলের মানুষের আয় কমছে সুন্দরবন থেকে।

বন বিভাগ তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে। সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে ২০১৭ সালে ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৫২ শতাংশ করা হয়েছে। তাই সম্পদ আহরণ সংকীর্ণ হয়ে আসার পাশাপাশি আয় কমেছে সুন্দরবন নির্ভর জনগোষ্ঠীর। বাধ্য হয়ে পেশা বদল করেছেন, নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে বাস্তুচ্যুতও হয়েছেন অনেকে। অনেকে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শাস্তির শিকার হয়েছেন। বন থেকে মাছ, মধু কিংবা অন্য কোনো সম্পদ বৈধভাবে আহরণ করে আগে যেখানে সচ্ছলভাবে চলত প্রতিটি পরিবার, সেখানে এখন ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে হয় তাদের।

সুন্দরবন ঘেঁষা এলাকার অধিকাংশ পুরুষেরা মৎস্য আহরণ, গোলপাতা কাটা, কাঁকড়া ধরা আর মধু আহরণে আর নারীরা ব্যস্ত থাকেন চিংড়ির পোনা ধরায়। পরিবারের সবাই মিলে কঠিন সংগ্রাম করেও তিনবেলা ভাত জোটাতে না পেরে বনজীবীদের অনেকে আবার ফিরছে অন্য কাজে। কেউ এলাকায়, আবার কেউ দূরের শহরে। ঋণ বা দাদনের জালে অনেকটাই বন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের এসকল জেলেরা। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থাকে না। এ কারণে সংসার চালাতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মুখে দু-মুঠো ভাত তুলে দিতে জেলেরা হাত পাতছেন বিভিন্ন এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ী কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে। ঋণ নিয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করলেও পরবর্তী সময়ে যা আয় করছেন তা দিয়ে চালাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে বাড়তি কোনো টাকা আর সঞ্চয় রাখতে পারছেন না।

কয়রার মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রমেন মন্ডল, তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সুন্দরবনের ওপর ভর করে জীবনযাপন করছেন। পাসের টাকা, অন্যান্য খরচের টাকা, বনদস্যুর টাকা, ঘুষের টাকা দিয়ে গভীরে গিয়ে যে মাছ পাওয়া যায় তা দিয়ে আসলেই কিছু হয় না। তাই এ বছর আর জঙ্গলে যাইনি। মহাজনের কাছে টাকা ধার করে সংসার চালাচ্ছি।

পাইকগাছার গড়ইখালী গ্রামের জেলে রহমত সরদার বলেন, গত বছরও মাছ ধরতে গিয়ে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বনে যাওয়া নিষেধ থাকে। আগের মতো নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। আর প্রতিদিন মাছ নিয়ে আড়তে না গেলে আড়তদারদের লোকজন জেলেদের কটু কথা বলে। আড়তদার ও কোম্পানিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মাছ ও টাকা কেটে নিয়ে নেয়। কোন সঞ্চয় তো হয় না ঝণ করতে হয়। দাদন ব্যবসা ও মহাজনের কবলে পড়ে জেলেরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন যেমন আমাদের রক্ষা করা প্রয়োজন তেমনি এত গুলো মানুষের জিবীকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি বনজীবীদের বিকল্প আয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করতে। বেশ কয়েকটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। বনজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের জন্য যোগ্য করে তোলা হবে।

সরকারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে উপকূলীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

 

কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনি থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১ টায় কপিলমুনি ফাঁড়ী পুলিশ তাদের আটক করে।

পুলিশ জানায়, কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কাশিমনগর মৎস্য আড়ৎ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও পুলিশকে সহায়তা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির দেহে তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কপিলমুনির নাছিরপুরের খালেক বিশ্বাসের ছেলে মোঃ জয়নাল বিশ্বাস (২৬) ও আফসার বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আলমগীর বিশ্বাস (৪০)। তাদের পাইকগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে বলে জানান তিনি।