বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

রোল নম্বরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অদ্ভুত মানুষের গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
রোল নম্বরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অদ্ভুত মানুষের গল্প

আখলাকুর রহমান

খুব মধ্যরাতে যখন চারপাশ নিঝুম হয়ে আসে, তখন কখনো কি ভেবে দেখেছেন—পড়ালেখার মতো এত কঠিন এবং নিরস একটা বিষয়ে এত তীব্র রোমাঞ্চ কীভাবে লুকিয়ে থাকে? একটা ছেলে কিংবা একটা মেয়ে সারা বছর পড়াশোনা করল, দিনরাত এক করে পরীক্ষার খাতায় কী যেন সব লিখল, তারপর একটা খামবন্দি ফলাফলের জন্য দরদর করে ঘামতে লাগল। এই যে পুরো তীব্র উত্তেজনার একটা খেলা, এই খেলার মূল চাবিকাঠি কিন্তু লুকিয়ে আছে মাত্র গুটিকয়েক সংখ্যার ভেতর।

 

আমরা যাকে খুব সহজ ভাষায় বলি—রোল নম্বর। একটা খাতার ওপর কোনো নাম থাকে না, কোনো ধর্ম থাকে না, কোনো গোত্র থাকে না। অথচ আজ থেকে একশ বছর আগে এই উপমহাদেশে দৃশ্যটা এমন ছিল না। খাতার ওপর মস্ত বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকত পরীক্ষার্থীর নাম। আর সেই নামের আড়ালে চলত এক অদ্ভুত অন্ধকারের খেলা। সেই অন্ধকার তাড়িয়ে প্রতিটি খাতার ওপর সংখ্যার এক জাদুকরী আলো যিনি জ্বেলেছিলেন, তিনি সাতক্ষীরার নলতা গ্রামের এক অতি সাধারণ অথচ অতি অসাধারণ মানুষ—খান বাহাদুর আহছানউল্লা।

১৮৭৩ সালের এক কনকনে শীতের রাতে যখন তিনি এই পৃথিবীতে এলেন, নলতা গ্রামের মেঠোপথ তখনো জানত না যে এই ছেলেটি একদিন পুরো ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেবে। তিনি বড় হলেন, পড়াশোনা করলেন এবং একসময় ব্রিটিশ ভারতের শিক্ষা বিভাগে প্রথম মুসলিম ‘ইন্ডিয়ান এডুকেশন সার্ভিস’ অফিসার হিসেবে যোগ দিলেন। চাকরি পাওয়ার পর তিনি একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলেন।

 

পরীক্ষার খাতা যখন পরীক্ষকদের টেবিলে যায়, তখন খাতার ওপর জ্বলজ্বল করতে থাকা নামগুলো দেখে পরীক্ষকদের মনস্তত্ত্বে এক প্রচ্ছন্ন পক্ষপাতিত্ব কাজ করে। কার নাম ‘রাম’, কার নাম ‘রহিম’, কে কোলকাতার বাবুদের ঘরের সন্তান আর কে সাতক্ষীরার কাদা-জল মাখা মফস্বলের ছেলে—তা খাতার নাম দেখেই আলাদা করা যেত। ফলে দেখা যেত, মফস্বলের এক প্রান্তিক কিশোর অসামান্য লিখেও কেবল নামের কারণে কম নম্বর পাচ্ছে, আর শহরের কোনো প্রভাবশালী ঘরের সন্তান সাধারণ লিখেও পার পেয়ে যাচ্ছে। মেধার এই অসম লড়াই খান বাহাদুর আহছানউল্লাকে ভীষণভাবে পীড়িত করত। তিনি ভাবলেন, এই প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়ের একটা শেষ হওয়া দরকার।

 

ঈশ্বরের তৈরি মানুষের মধ্যে জাত-পাত থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের তৈরি খাতার ভেতর মেধার কোনো জাত থাকতে পারে না। তিনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে এক অদ্ভুত এবং যুগান্তকারী প্রস্তাব পাঠালেন—পরীক্ষার খাতা থেকে পরীক্ষার্থীর নাম পুরোপুরি মুছে দিতে হবে। সেখানে থাকবে কেবল একটা গোপন ‘সংকেত নম্বর’ বা ‘রোল নম্বর’। পরীক্ষক খাতা কাটার সময় জানবেনই না তিনি কার ভাগ্য নির্ধারণ করছেন, তাঁর সামনে থাকবে শুধু মেধার নির্যাস। তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ এবং খোদ ব্রিটিশ সরকারের বড় বড় কর্তারা এই প্রস্তাবে হেসেই খুন। তারা ভাবলেন, নাম ছাড়া আবার পরীক্ষা হয় নাকি! কিন্তু এই নরম স্বভাবের মানুষটি ভেতরে ভেতরে ছিলেন প্রচ- জেদি। তিনি একা হাতে সমস্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর তীব্র বিরোধিতার দেয়াল ভেঙে চুরমার করে দিলেন। অবশেষে ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রথম চালু হলো পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বর লেখার নিয়ম।

এই একটিমাত্র নিয়মের কারণে রাতারাতি বদলে গেল কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভাগ্য। নামহীন সেই খাতাগুলোর ভেতর দিয়ে মফস্বলের অবহেলিত ছেলেমেয়েরা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে মেধার শীর্ষে উঠে আসতে লাগল। আজ আমরা যখন যেকোনো পরীক্ষার খাতায় নিজেদের রোল নম্বরটি লিখি, আমরা কেউ হয়তো মনে রাখি না যে এই ছয়-সাতটা সংখ্যার আড়ালে সাতক্ষীরার এক চিরস্মরণীয় মানুষের কতটা জেদ, কতটা লড়াই আর কতটা ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল। ১৯৬৫ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি তিনি যখন নলতার মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন হয়তো চারপাশের প্রকৃতিও নীরবে বলেছিল, এই মানুষটি চিরকাল বেঁচে থাকবেন প্রতিটি পরীক্ষার্থীর কলমের ডগায়, প্রতিটি নামহীন খাতার পাতায়। লেখক : উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা : আসিফা

Ads small one

শতবর্ষী আব্দুল কাদেরের জীবন চলে নাতনির ভিক্ষার টাকায়, মেলেনি সরকারি ঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
শতবর্ষী আব্দুল কাদেরের জীবন চলে নাতনির ভিক্ষার টাকায়, মেলেনি সরকারি ঘর

0-4064x3074-0-0#

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ফয়জুল্যাপুর গ্রামে এক জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে চরম অভাব আর অনাহারে দিন কাটছে শতবর্ষী বৃদ্ধ আব্দুল কাদের সরদারের। কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় প্রতিবন্ধী নাতনির ভিক্ষার টাকা এবং সামান্য সরকারি ভাতায় চলছে তিন সদস্যের এই পরিবারের জীবনসংগ্রাম।
ফয়জুল্যাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের বয়স একশ বছর পেরিয়ে গেছে। ১৫-১৬ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। তিন কন্যাসন্তান থাকলেও তারা সবাই দরিদ্র এবং স্বামীর সংসারে থাকেন। বর্তমানে বিদ্যুৎহীন একটি ছোট্ট পলিথিনের ছাউনি দেওয়া ঘরে কাদেরের সঙ্গে থাকেন তার প্রতিবন্ধী নাতনি আহ্লাদী ও নাতনির দুই বছরের এক কন্যাসন্তান। ভাঙা ঘরে রোদ-বৃষ্টির মধ্যেই তাদের বাস করতে হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কাদেরের নামে মাসে ৬০০ টাকার বয়স্ক ভাতা এবং তার নাতনির নামে ৮৩৩ টাকার প্রতিবন্ধী ভাতা রয়েছে। এই সামান্য টাকায় চাল, ডাল, ওষুধ ও শিশুর খাবার কেনা সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবার এবং নাতনি আহ্লাদীর ভিক্ষার আয়ের ওপরই তাদের টিকে থাকতে হচ্ছে। টাকার অভাবে এই ঘরে আজ পর্যন্ত বিদ্যুতের কোনো সংযোগও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আব্দুল কাদেরের কপালে কোনো ঘর জোটেনি। জীবনের শেষ সময়ে এসে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, দুমুঠো অন্ন আর ঘরের আলোর আকুতি জানিয়েছেন এই বৃদ্ধ।
ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, আব্দুল কাদেরকে ইতিমধ্যে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি ঘরের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে বরাদ্দ কম থাকায় কিছুটা সময় লাগছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিদের নানা প্রতিশ্রুতি দেখা গেলেও এই অসহায় পরিবারের পাশে টেকসই সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসেনি। বৃদ্ধ আব্দুল কাদেরের শেষ জীবনটা একটু শান্তিতে কাটানোর জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিত্তবান ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাকে ‎সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: ‎নাম: আব্দুল কাদের সরদার, ‎গ্রাম: ফয়জুল্যাপুর, ডাক: ব্রহ্মরাজপুর, ‎উপজেলা: সাতক্ষীরা সদর, জেলা: সাতক্ষীরা, ‎মোবাইল: ০১৩১১০৫৪৮৩৫ (নগদ)।

আশাশুনিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রস্তুতি সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এই সভা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) আশাশুনির যৌথ আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (আরডিও) আবুল কালাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাশ, খাদ্য নিয়ন্ত্রক সঞ্জয় কুমার রায়, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা পলাশ কান্তি রায়, বিআরডিবি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
সভায় আগামী ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, সমবায়ীদের পুরস্কার বিতরণ এবং সুফলভোগী সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দেবহাটায় পুওর ওয়েলফেয়ার ফোরামের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুওর ওয়েলফেয়ার ফোরামের প্রস্তুতি সভা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ‘পুওর ওয়েলফেয়ার ফোরাম’ (পফ)-এর নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলার কামটাস্থ সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এই সভা হয়।
সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম। সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহছান হাবীবের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন, বেসরকারি সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম, সাবেক কোষাধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান প্রমুখ। উল্লেখ্য, এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি স্থানীয় এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে।