মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লোনা জমিতে ধানের জোয়ার, সাতক্ষীরায় ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
লোনা জমিতে ধানের জোয়ার, সাতক্ষীরায় ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক

ইব্রাহিম খলিল: উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলায় একসময় লবণাক্ততার কারণে অনেক জমিতে ভালো ফসল হতো না। দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকত বা সীমিত আকারে চাষ হতো। তবে এখন সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। লবণসহিষ্ণু জাতের বোরো ধান চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা আবারও মাঠে ফিরছেন, আর চলতি মৌসুমে শুরু হয়েছে ধান কাটার ব্যস্ততা।

২০২০ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে। এতে কৃষি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। অনেক কৃষকই চাষাবাদ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি বিভাগের পরামর্শ, গবেষণার ফলাফল এবং কৃষকদের নিজস্ব অভিজ্ঞতায় বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি।

কুড়িকাওনিয়া গ্রামের কৃষক মজিদ শেখ ১২ বিঘা জমিতে চাষ করেন। তিনি জানান, দুর্যোগের পর কয়েক বছর জমিতে কিছুই করতে পারেননি। পরে জমিতে মিঠা পানি ধরে রেখে লবণ কমানো, আগাম বোরো চাষ এবং লবণসহিষ্ণু জাত ব্যবহার করে আবার চাষাবাদ শুরু করেন। এ বছর তার জমিতে ভালো ফলন হয়েছে এবং ধান কাটা শুরু হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, তার এলাকার অধিকাংশ জমিতে উচ্চমাত্রার লবণ থাকায় সব জাতের ধান চাষ করা সম্ভব হয় না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে কয়েক বছর ধরে তিনি লবণসহিষ্ণু ব্রি-৬৭ জাতের ধান চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে ১৫ বিঘা জমিতে এই ধান আবাদ করেছেন। গত বছর একই জমিতে তিনি প্রায় ২৭ মণ পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন। তার গ্রামের অনেক কৃষক এখন একই পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।

শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর গ্রামের কৃষক আমিনুর ইসলাম জানান, তার এলাকার জমিগুলোতেও লবণাক্ততার মাত্রা বেশি। কয়েক বছর আগেও সেখানে বোরো ধানে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণের বেশি ফলন হতো না, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম ছিল। তবে গত চার বছর ধরে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান চাষ শুরু করার পর পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি বলেন, এখন অনেক কৃষক চিংড়ির ঘেরেই ধান চাষ করছেন একই জমিতে মাছ ও ধান দুই ধরনের উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে জেলার সাত উপজেলায় ৭৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে, যেখানে আগের মৌসুমে এ পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার হেক্টর। চলতি মৌসুমে এই আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টরে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর বেশি।

চলতি মৌসুমে জেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ততা বাড়ছে। তবে কৃষকেরা এখন অভিযোজন কৌশল গ্রহণ করছেন। প্রতি বছরই লবণসহিষ্ণু জাতের বোরো ধানের আবাদ বাড়ছে। আমরা কৃষকদের আগাম চাষ, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা দিচ্ছি।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে আমরা ইতোমধ্যে ১৪টি লবণসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছি। এর মধ্যে ব্রি ধান-৬৭, ৯৭ ও ৯৯ উল্লেখযোগ্য। এসব জাত ১২ থেকে ১৪ ডিএস পর্যন্ত লবণ সহ্য করতে পারে এবং বিঘাপ্রতি ২৬ থেকে ২৭ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

একসময় যে জমি লবণাক্ততার কারণে অনাবাদি ছিল, আজ সেখানে ধান কাটার দৃশ্য এটি শুধু একটি কৃষকের গল্প নয়, বরং উপকূলীয় কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশল, যা অনুসরণ করে অন্যরাও নিজেদের জীবন বদলাতে পারেন।

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি-জনতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি-জনতা

আরিফ মাহমুদ: ভারত থেকে অবৈধভাবে পুশইন ঠেকাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে সাধারণ জনতা। কিছু সীমান্তে বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারার খবর পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি কলারোয়া সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুরসহ কয়েকটি সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইন করতে বহু নারী-পুরুষকে জড়ো করা হয় বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়। এরই জের ধরে কলারোয়া সীমান্তজুড়ে কঠোর টহল, নজরদারী ও অবস্থান জোরদার করে বিজিবি। বিভিন্নভাবে বিজিবিকে সহায়তা করছেন স্থানীয় জনতাও।

বছরের পর বছর উপজেলার ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাটি মাদক ও চোরাকারবারীদের কাছে বিভিন্ন চোরাচালান, অবৈধভাবে মানুষ যাতায়াতের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত বলে জানা যায়। এর সাথে যোগ হয়েছে সম্প্রতি পুশইনশংকা। ফলে সতর্কাবস্থনে বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা। উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন স্থলভাগ ও নদী দ্বারা ভারতের সাথে বিভক্ত। এর মধ্যে কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের সিংহভাগ ও সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের পুরোটা সোনাই নদী দ্বারা ভারতের সাথে বিভক্ত, আর চন্দনপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ ইছামতি নদী ও বাকী অংশ স্থলভাগে বিভক্ত।

 

নদী সীমান্তের চেয়ে তুলনামূলক স্থলভাগ দিয়ে পুশইন সম্ভাবনা বেশি থাকায় উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী, সুলতানপুর ও গোয়ালপাড়ার স্থল সীমান্তে বিজিবির টহল ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

 

বিজিবির সুলতানপুর বিওপির কমান্ডার নায়েক সুবেদার কামরুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে ওই বিওপির অধীনে সাড়ে ৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোন অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।

সুলতানপুর ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবীর জানান, হ্যান্ড মাইকে সতর্কতা, সীমান্তে বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারা, রাতে টর্চলাইটের আলো এবং কঠোর অবস্থান রয়েছে।

সাতক্ষীরা, ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া ইনচার্জ সার্জেন্ট মিলন জানান, এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ পুশইন রোধ করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ছাত্রদলের নেতারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১টায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের কার্যালয়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন ইসলামের নেতৃত্বে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মঞ্জুরুল আলম বাপ্পী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদুল আলম, দিবা-নৈশ কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব তামিম রশিদ, সিটি কলেজ ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হাসান, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আকবর হোসেন, আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়ারাজ হোসেন, শহর ছাত্রদলের সদস্য শরিফুল ইসলাম এবং ছাত্রনেতা মো. গোলাম রাব্বি।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে জেলা প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে কলারোয়া হাসপাতাল রোডে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।

তিনি জানান, লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, অপরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কারণে মিতালী ডায়গনস্টিক সেন্টারকে ২০হাজার টাকা ও ডক্টরস ডিজিটাল ল্যাবকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় কলারোয়া থানার ওসি এইচএম শাহীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শফিকুল ইসলাম, বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।