বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

শিকলে বন্দী মিতু- মানবিক সহায়তা পেলে ফিরতে পারে স্বাভাবিক জীবনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
শিকলে বন্দী মিতু- মানবিক সহায়তা পেলে ফিরতে পারে স্বাভাবিক জীবনে

{"data":{"source_platform":"mobile_2","pictureId":"b9cfa949cee04c3998ddbdd6dbeff509","appversion":"8.5.0","stickerId":"","filterId":"7580249178828180737","infoStickerId":"","imageEffectId":"","playId":"","activityName":"","os":"android","product":"retouch","originAppId":"7356","exportType":"","editType":"","alias":"","enterFrom":"enter_launch","capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]},"effect_type":"tool","effect_id":"filter#7580249178828180737"},"source_type":"hypic","tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"client_key":"awgvo7gzpeas2ho6","template_id":"","filter_id":["7580249178828180737"],"capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]}}"}

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায় মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। মিতু (২৪) নামের এক তরুণী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পায়ে শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শৈশব থেকেই মিতু মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাধ্য হয়ে পায়ে শিকল পরানো হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থা তার জীবনের নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি, যা তার চলাফেরাকে অত্যন্ত কষ্টকর করে তুলেছে। দীর্ঘদিন এভাবে শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মিতুর মা হাসিনা বেগম বলেন, “মেয়েটি প্রায়ই এদিক-সেদিক চলে যায়-এই ভয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রাখতে হয়েছে। অভাবের কারণে তার চিকিৎসা করাতে পারিনি। তবে ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।”

পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট বছর আগে মিতুর বাবা আবুল মোড়ল মারা যান। বর্তমানে মা-ই তাকে দেখাশোনা করছেন। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন বিবাহিত, আর ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মরত। মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা আয় দিয়ে পুরো পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, “সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত মিতুকে হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই একে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত চিকিৎসা, সামাজিক সহায়তা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে মিতুকে এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার দায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার দায়

{"data":{"source_platform":"mobile_2","pictureId":"b9cfa949cee04c3998ddbdd6dbeff509","appversion":"8.5.0","stickerId":"","filterId":"7580249178828180737","infoStickerId":"","imageEffectId":"","playId":"","activityName":"","os":"android","product":"retouch","originAppId":"7356","exportType":"","editType":"","alias":"","enterFrom":"enter_launch","capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]},"effect_type":"tool","effect_id":"filter#7580249178828180737"},"source_type":"hypic","tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"client_key":"awgvo7gzpeas2ho6","template_id":"","filter_id":["7580249178828180737"],"capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]}}"}

সাতক্ষীরা জেলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে বুধবার দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় যে চিত্রটি সামনে এসেছে, তা এক কথায় হতাশাজনক। জেলায় ৬৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী মানুষ থাকলেও তাদের আইনি অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্লিপ্ততা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে, যেখানে বিপুল সংখ্যক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে, সেখানে মাত্র ২ শতাংশের উপবৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি উচ্চশিক্ষার পথকে শুরুতেই রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩’ একটি সংবিধিবদ্ধ আইন। এই আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি সভা করা বাধ্যতামূলক। অথচ সাতক্ষীরায় উপজেলা সুরক্ষা কমিটিগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘কাজের চাপের’ অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যখন একটি সংবিধিবদ্ধ কমিটির সভা বছরের পর বছর হয় না, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের তালিকায় এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীটি কতটা উপেক্ষিত।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আশিস বিশ্বাসের মতো শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষা কেন্দ্রে আইনি অধিকারভুক্ত ‘অতিরিক্ত সময়’ পান না, তখন তা কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়ে দাঁড়ায়। শ্রুতিলেখক বা অতিরিক্ত সময়ের নীতিমালার সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের কেন দ্বারে দ্বারে অনুরোধ করতে হবে? কেন জেলা শিক্ষা অফিস বা পরিসংখ্যান অফিসে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সঠিক ডাটাবেজ থাকবে না? এই তথ্যহীনতা প্রমাণ করে যে, তাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা প্রশাসনের নেই।
সাফল্যের যে দু-একটি উদাহরণ আমরা দেখি, যেমন সিহাব সিদ্দিকীর মতো অদম্য তরুণদের সংগ্রামÑতা মূলত তাদের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ফল। রাষ্ট্র বা প্রশাসন এখানে সহায়ক হওয়ার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে। চাহিদার তুলনায় উপবৃত্তির বরাদ্দের স্বল্পতা আরেকটি বড় বাধা। ভাতা বা করুণা নয়, বরং সংবিধিবদ্ধ অধিকার হিসেবে উপবৃত্তির আওতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত যৌক্তিকÑআইন অমান্য করা কোনো দাপ্তরিক ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে বৈধ করা যায় না। আমরা মনে করি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় সাতক্ষীরার উপজেলা সুরক্ষা কমিটিগুলোকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষা বিভাগ ও সমাজসেবা কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ডাটাবেজ তৈরি এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের আইনগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবন্ধকতা যে মেধার পথে বাধা নয়, তা সিহাবরা বারবার প্রমাণ করছেন। এখন প্রয়োজন প্রশাসনের সদিচ্ছা। আইন আছে, নীতিমালাও আছে; এখন প্রয়োজন কেবল সেগুলোর কঠোর প্রয়োগ। রাষ্ট্রের সম্পদ ও সুযোগে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়, বরং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

 

 

সাতক্ষীরা সদরে গবাদিপশু পালন বিষয়ে ৭ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সদরে গবাদিপশু পালন বিষয়ে ৭ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: যুব সমাজকে দক্ষ, স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা সদর এর উদ্যোগে আয়োজিত গবাদিপশু পালন বিষয়ক ৭ দিনব্যাপী অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণে প্রান্তিক যুব সংঘের মোট ৩০ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন, যারা বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথ সুগম করার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীত কুমার দাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস. এম. আজিজুল হকএবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।
সাতদিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা গবাদিপশু পালন, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, টিকাদান পদ্ধতি এবং পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা ভবিষ্যতে নিজস্ব খামার গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন এবং উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন। এতে করে তাদের ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ ও নির্ধারিত ভাতা প্রদান করা হয়।

আশাশুনি সদরে সমুদ্রে মাছধরা জেলেদের খাদ্য সহায়তা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
আশাশুনি সদরে সমুদ্রে মাছধরা জেলেদের খাদ্য সহায়তা বিতরণ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদে সমুদ্রে মাছ ধরা জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউন হতে খাদ্য সহায়তা (চাল) বিতরণ করা হয়। গত ১৫ এপ্রিল হতে ৫৮দিন সমুদ্রে যান্ত্রিক নৌযান ব্যবহার করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ, এ নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা হতে বিতরত থাকা জেলেদের মাঝে সরকার খাদ্য সহায়তা বাবদ চাল বরাদ্দ দিয়েছে।

সদর ইউনিয়নের ৩১২জন কার্ডধারী জেলেদের মাঝে ১৫টন ৬২০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম হোসেনুজ্জামান। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি ট্যাগ অফিসার উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের ক্যাশিয়ার কবিরুল ইসলাম, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি খায়রুল আহসান, ইউপি সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কার্ডধারী জেলেরা সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।