সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: পানির জন্য ম্যারাথন!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: পানির জন্য ম্যারাথন!

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কলস কাঁধে তরুণ-তরুণীদের সাড়ে চার কিলোমিটারের এক ব্যতিক্রমী দৌড় বা ম্যারাথন কেবল কোনো প্রতীকী আয়োজন নয়; বরং এটি উপকূলীয় জনপদের এক চরম ও নিষ্ঠুর বাস্তবতার আর্তনাদ। যখন আমরা প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ আর উন্নয়নের কথা বলছি, ঠিক তখন এক কলস নিরাপদ পানির জন্য উপকূলের মানুষকে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হচ্ছেÑএটি সভ্যতার জন্য এক বড় পরিহাস। ‘রান ফর ওয়াটার-২.০’ শীর্ষক এই ম্যারাথন মূলত নীতিনির্ধারকদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, নিরাপদ পানি পাওয়ার অধিকার থেকে এ অঞ্চলের মানুষ কতটা বঞ্চিত।
উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট আজ নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত ও অমানবিক হয়ে উঠছে। উপর্যুপরি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মিষ্টি পানির পুকুরগুলো লোনা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, আর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপগুলো হয়ে পড়ছে অকেজো। ফলে এক কলস পানির সন্ধানে গৃহবধূ ও শিশুদের যে হাহাকার, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পানির এই সংকট কেবল জীবনযাত্রাকেই দুর্বিষহ করছে না, বরং উপকূলের নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসহ দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
আয়োজকদের ভাষায়, উপকূলের মানুষের এই কষ্টের কথা জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিতেই এই ম্যারাথন। প্রশ্ন হলো, আমাদের উন্নয়ন ভাবনায় উপকূলের এই তৃষ্ণা কতটুকু গুরুত্ব পাচ্ছে? বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা স্থানীয় যুব সংগঠনগুলো সীমিত সাধ্যে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং বা ফিল্টার বসানোর চেষ্টা করলেও, তা বিশাল জনসংখ্যার চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল চ্যারিটি বা স্বল্পমেয়াদী প্রকল্পে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা।
উপকূলীয় এলাকায় বড় পরিসরে সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার (ডি-স্যালাইনাইজেশন) প্ল্যান্ট স্থাপন এবং নদী ও খাল সংস্কারের মাধ্যমে মিষ্টি পানির আধার তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করার জন্য জোরালো দরকষাকষিও জরুরি। কারণ, যে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উপকূলের মানুষ দায়ী নয়, তার চরম খেসারত তারা কেন দেবে? শ্যামনগরের এই ‘কলস ম্যারাথন’ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পানি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার।
আশা করি, কলস কাঁধে দৌড়ানো তরুণদের এই বার্তা রাজধানীর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের কর্মকর্তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছাবে। উপকূলের মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে, অদূর ভবিষ্যতে এই পানির সংকট এক বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ও জনপদ জনশূন্য হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে ৩৩৯ কোটি টাকা চুক্তিতে মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বর্তমানে প্রকল্পের মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁক সোজা করার কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার মূল কাজ অর্ধেকের কম হয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলোবালি ও খানাখন্দে যানবাহনের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি লাগছে। বিশেষ করে রোগী, পরীক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াতে চরম বিঘœ ঘটছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণাও নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান।