শিক্ষককে অপমান: ক্ষমা চাওয়া নিয়ে উত্তপ্ত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ
মুক্তমত
মো. হাফিজুল ইসলাম
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে অপমানের ঘটনায় অভিযুক্ত কোচিং পরিচালকের ক্ষমা প্রার্থনা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই ক্ষমা প্রার্থনাকে ‘সুবিধাবাদী পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, শিক্ষককে অপমানের জেরে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজুদ্দীন। তিনি বলেন, “স্বেচ্ছায় অনুশোচনা থেকে ক্ষমা চাইলে তা মহত্ত্বের লক্ষণ হয়। কিন্তু শিক্ষকদের অপমান ও শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধের পর বিপদে পড়ে ভোল পাল্টানো মূলত সুবিধাবাদ। এটি নৈতিক পরাজয় আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।”
ছাত্রদল নেতার মতে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা সচেতন এবং তারা বোঝে কোনটি প্রকৃত অনুশোচনা আর কোনটি অস্তিত্ব রক্ষার অভিনয়।
গত বৃহস্পতিবার কলেজ চলাকালে কোচিং সেন্টার খোলা রাখা নিয়ে আপত্তি জানান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, এ কারণে ওই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক সজীব মুঠোফোনে শিক্ষকের সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন ও উগ্র আচরণ করেন। পরবর্তীতে সেই কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
এর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা সাতক্ষীরায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারটি ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোচিং সেন্টার থেকে কম্পিউটার ও হার্ডডিস্ক জব্দ করে এবং প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেয়।
শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ থেকে আসা কথিত ক্ষমা প্রার্থনা ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে অনলাইন ও অফলাইনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শিক্ষক অবমাননার এই ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও শিক্ষকের সম্মান বজায় রাখতে এই ঘটনার একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন। লেখক: সংবাদকর্মী









