মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষকের মর্যাদাই হোক শিক্ষা সংস্কারের শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষকের মর্যাদাই হোক শিক্ষা সংস্কারের শুরু

মো. মামুন হাসান

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের কথা নতুন নয়। পাঠ্যক্রম বদলেছে, পরীক্ষাপদ্ধতি বদলেছে, মূল্যায়নের ধরণ বদলেছে, কখনো কখনো একটি নীতির ফল দেখার আগেই আরেকটি নীতি এসে হাজির হয়েছে। প্রতিবারই ঘোষণায় থাকে নতুন স্বপ্ন, আর বাস্তবায়নের দায়িত্ব গিয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকের কাঁধে। এই পরিচিত চিত্র দেখে আমার একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। সংস্কারের শুরুটা আমরা কোথা থেকে করছি। আমার বিশ্বাস, শুরুটা হওয়া উচিত শিক্ষক থেকে, আর সেই শুরুর প্রথম ধাপ শিক্ষকের মর্যাদা নিশ্চিত করা।

প্রথমে একটি সহজ সত্য মেনে নেওয়া দরকার। কোনো সংস্কার কাগজে সম্পূর্ণ হয় না, সম্পূর্ণ হয় শ্রেণিকক্ষে। নীতিমালা যত সুচিন্তিত হোক, শিক্ষার্থীর কাছে সেটি পৌঁছায় শিক্ষকের মাধ্যমে। নতুন পাঠ্যক্রম বুঝিয়ে দেওয়া, নতুন মূল্যায়ন প্রয়োগ করা, শিক্ষার্থীর ভয় ও দ্বিধা কাটানো, সবই করেন শিক্ষক। অর্থাৎ সংস্কারের সফলতার চাবি তাঁর হাতেই। অথচ সংস্কারের পরিকল্পনায় তাঁকে প্রায়ই দেখা হয় বাস্তবায়নের একটি উপকরণ হিসেবে, অংশীদার হিসেবে নয়। উপকরণ হিসেবে দেখলে তাঁর কাছ থেকে নির্দেশ পালন পাওয়া যায়, কিন্তু উদ্যম পাওয়া যায় না। আর উদ্যম ছাড়া কোনো সংস্কার প্রাণ পায় না।

এই বাস্তবতা থেকেই বোঝা যায় কেন মর্যাদা এত গুরুত্বপূর্ণ। মর্যাদা বলতে আমি কেবল সামাজিক সম্মান বোঝাচ্ছি না। ১৯৬৬ সালে আইএলও ও ইউনেস্কোর সুপারিশ শিক্ষকের মর্যাদাকে অধিকার ও দায়িত্বের একটি কাঠামো হিসেবে দেখেছিল। তার ষাট বছর পূর্ণ হচ্ছে এই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা কতটা এগিয়েছি, সেই হিসাব নেওয়ার এটাই সময়। মর্যাদার মধ্যে আছে ন্যায্য পারিশ্রমিক, নিরাপদ চাকরি, স্পষ্ট পেশাগত অগ্রগতির পথ, পাঠদানের স্বাধীনতা, প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের অধিকার। এগুলোর কোনোটি বাদ গেলে মর্যাদা অসম্পূর্ণ থাকে, আর অসম্পূর্ণ মর্যাদার ওপর দাঁড়ানো সংস্কার টলমলে হয়।

কেন শুরুটা শিক্ষক দিয়েই হতে হবে, তার তিনটি যুক্তি আমি দিতে চাই।
প্রথম যুক্তি আস্থার। যে শিক্ষককে পেশাদার হিসেবে বিশ্বাস করা হয়, তিনি নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহস পান। তিনি পাঠদানের পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেন, শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে বদলান। কিন্তু যে ব্যবস্থায় প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য নির্দেশ ও নজরদারি, সেখানে শিক্ষক নিরাপদ পথে হাঁটতে শেখেন। সংস্কার চায় সৃজনশীলতা, আর সৃজনশীলতা জন্মায় আস্থার পরিবেশে।
দ্বিতীয় যুক্তি প্রতিভার। যে কোনো পেশার মান নির্ভর করে সেখানে কারা আসছেন তার ওপর। আজ অনেক মেধাবী তরুণ শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে ভাবে না, কারণ তারা সেখানে নিরাপত্তা, সুযোগ ও সম্মানের নিশ্চয়তা দেখে না। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি মানে শেষ পর্যন্ত ভালো শিক্ষক পাওয়া। ভালো শিক্ষক পেতে হলে পেশাটিকে আকর্ষণীয় করতে হবে। এই কাজটি সংস্কারের সবচেয়ে গোড়ার কাজ, কারণ বাকি সব পরিবর্তন এর ওপরেই দাঁড়ায়।

তৃতীয় যুক্তি ধারাবাহিকতার। বারবার বদলে যাওয়া নীতি শিক্ষককে ক্লান্ত করে। নতুন পদ্ধতি শিখতে না শিখতেই আরেকটি এসে যায়। এই সংস্কার ক্লান্তি থেকে বাঁচার উপায় হলো শিক্ষকদের আগে থেকেই আলোচনায় যুক্ত করা। তাঁরা যদি পরিকল্পনার অংশীদার হন, তাহলে সেটি তাঁদের নিজেদের হয়ে ওঠে এবং বাস্তবায়নে তাঁরা সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ান।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় এই যুক্তিগুলো আরও জোরালো। আমি নিজে একটি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানে পর্যটন ও আতিথেয়তা বিভাগে পড়াই। এই খাতে শিল্পের চাহিদা বদলায় খুব দ্রুত। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার কথা আমরা বলি, কিন্তু সেই শিক্ষা দিতে হলে শিক্ষকের নিজের হাতে কলমে অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। তাঁকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হয়, কর্মশালায় আধুনিক সরঞ্জাম দিতে হয়, নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়। এসব না দিয়ে নতুন পাঠ্যক্রম চাপিয়ে দিলে শিক্ষক এমন দায়িত্ব পান, যা পালনের উপকরণ তাঁর হাতে নেই। তখন সংস্কার হয় নামমাত্র, আর স্নাতকেরা সনদ নিয়ে বের হয় ঠিকই, কিন্তু কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতি নিয়ে নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ এই প্রয়োজনকে আরও তীব্র করেছে। তথ্য এখন সবার হাতের মুঠোয়। তাই শিক্ষকের ভূমিকা এখন তথ্য দেওয়ার চেয়ে প্রশ্ন করতে শেখানো, যাচাই করতে শেখানো, নৈতিকতা ও মানবিকতা গড়ে তোলার দিকে সরে এসেছে। এই কাজ আগের চেয়ে কঠিন ও সূক্ষ্ম। যে সংস্কার এই নতুন ভূমিকাকে স্বীকার করবে না, সে সংস্কার সময়ের পেছনে পড়ে থাকবে। আর যে শিক্ষকের কাছে আমরা এই নতুন ভূমিকা দাবি করছি, তাঁকে প্রযুক্তি শেখার সুযোগ, ডিজিটাল অবকাঠামো ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

মর্যাদার আরেকটি দিক নিরাপত্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে এক টুকরো ভিডিও বা অর্ধসত্য মন্তব্য একজন শিক্ষকের বছরের পর বছরের সুনাম নষ্ট করে দিতে পারে। শিক্ষকও মানুষ, তাঁর ভুল হলে জবাবদিহি অবশ্যই হবে। কিন্তু সেই জবাবদিহি হতে হবে তথ্য যাচাই করে, তাঁর বক্তব্য শুনে, ন্যায্য প্রক্রিয়ায়। আতঙ্কের মধ্যে থাকা শিক্ষক ঝুঁকি নিতে চান না, আর ঝুঁকি ছাড়া শিক্ষার উন্নতি হয় না।

শিক্ষকের কাজের বোঝার প্রশ্নটিও সংস্কারের আলোচনায় জরুরি। পাঠদানের পাশাপাশি তথ্য সংকলন, প্রতিবেদন, নানা কমিটির কাজ, এসব মিলিয়ে অনেক শিক্ষক শেখানোর জন্য যথেষ্ট সময় পান না। প্রতিটি নতুন সংস্কারের সঙ্গে যদি আরও কাগজপত্র যুক্ত হয়, তাহলে সংস্কার শিক্ষকের জন্য সহায়তা না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই সংস্কারের নকশা করার সময়ই জিজ্ঞেস করা দরকার, এতে শিক্ষকের সময় বাঁচবে নাকি আরও কমবে।

তবে একতরফা দাবি করলে আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকবে। শিক্ষক হিসেবে আমাদেরও নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। সম্মান দাবি করার আগে তা অর্জনের দায় আমাদের আছে। বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানো, সময়ানুবর্তিতা ও সততা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীর প্রতি সহমর্মী থাকা এবং প্রতিদিন শেখার আগ্রহ ধরে রাখা, এগুলো পেশার মর্যাদাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। কিছু শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা পুরো পেশার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মর্যাদা ও জবাবদিহি একে অপরের বিরোধী নয়, পরিপূরক। স্বচ্ছ মূল্যায়ন ও পেশাগত আচরণবিধি থাকলে শিক্ষকের দাবি আরও গ্রহণযোগ্য হয়।

তাহলে সংস্কারের শুরুতে কী করা দরকার। প্রথমত, যে কোনো সংস্কার প্রস্তাবের খসড়া পর্যায়েই মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বড় পরিবর্তনের আগে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদের মতামত নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ন্যায্য বেতন কাঠামো, স্বচ্ছ পদোন্নতি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রশিক্ষণকে অধিকার হিসেবে দেখে ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সমান সুযোগ দিতে হবে। চতুর্থত, কারিগরি শিক্ষকদের জন্য শিল্প অভিজ্ঞতার নিয়মিত সুযোগ ও আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পঞ্চমত, প্রশাসনিক বোঝা যুক্তিসংগত রাখতে হবে। ষষ্ঠত, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।

অভিভাবক ও সমাজেরও এখানে ভূমিকা আছে। শিক্ষককে হেয় করার সংস্কৃতি বদলাতে হবে, শিক্ষকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মনোভাব গড়তে হবে। সন্তানের শিক্ষার সাফল্য ঘরে ও বিদ্যালয়ের সমন্বিত চেষ্টার ফল।কেউ বলতে পারেন, সীমিত সম্পদের দেশে সবকিছু একসঙ্গে সম্ভব নয়। কথাটি আংশিক সত্য। কিন্তু অগ্রাধিকার ঠিক করাই আসল কথা। বহু সংস্কার ব্যর্থ হয় এ কারণে নয় যে নকশা খারাপ ছিল, ব্যর্থ হয় এ কারণে যে যাঁরা তা বাস্তবায়ন করবেন, তাঁদের প্রস্তুত করা হয়নি। শিক্ষকে বিনিয়োগ করলে বাকি সব বিনিয়োগের ফলও বাড়ে। এটি ব্যয় নয়, সবচেয়ে নিশ্চিত পুঁজি।

শেষ পর্যন্ত কথাটা এই দালান গড়তে গেলে আগে ভিত গড়তে হয়। শিক্ষাব্যবস্থার ভিত হলেন শিক্ষক। সেই ভিত দুর্বল রেখে ওপরে যত সুন্দর কাঠামোই তুলি, তা টেকসই হবে না। এই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক, সংস্কারের পরিকল্পনা শুরু করার আগে আমরা শিক্ষকের পাশে দাঁড়াব, তাঁর কথা শুনব, তাঁর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করব। কারণ শিক্ষার ভবিষ্যৎ বদলাতে চাইলে আগে বদলাতে হবে শিক্ষকের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি।

মো. মামুন হাসান, বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

 

Ads small one

অসুস্থ জামায়াতনেতার ছেলের পাশে স্থানীয় নেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
অসুস্থ জামায়াতনেতার ছেলের পাশে স্থানীয় নেতারা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হাফিজুল ইসলামের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে হুজাইফা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেস, সদর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শহিদুর রহমান, উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আনিছুর রহমান, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন আমীর মাওলানা জাকির হুসাইন, ইউনিয়ন সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী, মাওলানা শাহিনুর রহমান এবং জামায়াত নেতা হাফেজ শাহিনুজ্জামান।

নেতৃবৃন্দ অসুস্থ শিশুটির চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। পরে শিশুটির দ্রুত সুস্থতা ও আশু আরোগ্য কামনায় শয্যাপাশে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

আশাশুনি সরকারি কলেজে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনি সরকারি কলেজে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

আশাশুনি প্রতিনিধি: বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আশাশুনি সরকারি কলেজে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার আয়োজক কমিটির উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে শিক্ষক, বিএনসিসি সদস্য ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

অনুষ্ঠান আহ্বায়ক কমিটির প্রধান প্রভাষক মো. আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রভাষক মো. রবিউল ইসলাম। এ ছাড়া আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রভাষক সজল আঢ্য, মাহমুদুল ইসলাম ও মাসুদুর রহমান।

গাড়িতে যাত্রার সময় মাথা ঘোরা-বমিভাব কমাবে অ্যান্ড্রয়েডের ফিচার, চালু করবেন যেভাবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
গাড়িতে যাত্রার সময় মাথা ঘোরা-বমিভাব কমাবে অ্যান্ড্রয়েডের ফিচার, চালু করবেন যেভাবে

যাত্রাপথে চলমান গাড়িতে অবস্থানরত অবস্থায় ফোনের পর্দায় দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে অনেকের মধ্যেই মাথা ঘোরা, বমিভাব বা অস্বস্তির প্রবণতা দেখা যায়। চোখের সাপেক্ষে ফোনের পর্দা স্থিরাবস্থায় দেখা গেলেও, মানবশরীর ও কানের ভারসাম্যব্যবস্থা গাড়ির গতি, বাঁক ও থামার পরিবর্তন বুঝতে পারে। চোখ ও শরীরের মস্তিষ্কে প্রেরিত সংকেতের গড়মিলের কারণেই মূলত কিছু যাত্রী মোশন সিকনেস অনুভব করে থাকেন। তবে এই সমস্যা কমাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে রয়েছে গুগলের ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ সুবিধা।

গুগলের এই সুবিধাটি চালু করলে ফোনের পর্দার দুই পাশে ছোট ছোট বুদবুদের মতো চিহ্ন দেখা যায়। ফোনের মোশন সেন্সর গাড়ির গতিবিধি শনাক্ত করে এসব আকৃতিকে রিয়েল-টাইমে সেই অনুযায়ী নড়াচড়া করায়। গাড়ি বাঁক নিলে, গতি বাড়ালে বা ব্রেক করলে পর্দার প্রান্তে থাকা চিহ্নগুলোর অবস্থানও পরিবর্তিত হয়। এর মাধ্যমে চোখে দেখা দৃশ্য ও শরীরের অনুভূত গতির মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে মস্তিষ্ককে দুই ধরনের সংকেতের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে সহায়তা করাই এই ফিচারের মূল উদ্দেশ্য। পর্দার মাঝখানের অংশে এসব চিহ্ন না থাকায় ব্যবহারকারী অনায়াসে ফোনে নিজের কাজ করতে পারবেন।

মোশন অ্যাসিস্ট ব্যবহার করতে ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ১৭ বা পরবর্তী সংস্করণ এবং আপডেটেড গুগল প্লে সার্ভিস থাকতে হবে। ফিচারটি প্রথমে পিক্সেল ফোনে চালু হলেও পরে অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও এই সুবিধাটি ধাপে ধাপে নিয়ে আসে গুগল। স্যামসাং ফোনে সুবিধাটি ব্যবহার করতে চাইলে ওয়ান ইউআই ৯ প্রয়োজন হতে পারে। ফোনভেদে সেটিংসের নাম বা অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে মোশন অ্যাসিস্ট চালু করতে প্রথমে ‘সেটিংস’ অ্যাপে গিয়ে সার্চ বক্সে ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ লিখে খুঁজতে হবে। ফোনটি ফিচারটি সমর্থন করলে সার্চ ফলাফল থেকে ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ নির্বাচন করে সেটি চালু করা যাবে। তবে সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সুবিধাটি পাওয়া যাবে না। ফোনের মডেল, অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ও নির্মাতার সফটওয়্যারের ওপর ভিত্তি করে ফিচারটি নাও থাকতে পারে। তাই সেটিংসে সার্চ করার পর ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ অপশন না পাওয়া গেলে ওই ফোনে বর্তমানে সুবিধাটি সমর্থিত নয় বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।

গাড়িতে উঠলেই ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু করতে ‘স্টার্ট ইন আ মুভিং ভেহিকল’ অপশনটি সক্রিয় করা যাবে। তবে ফোন সব সময় গাড়ির গতিবিধি সঠিকভাবে শনাক্ত করতে নাও পারে। এ কারণে দ্রুত ব্যবহারের জন্য ‘কুইক সেটিংস’-এ মোশন অ্যাসিস্টের টাইল যুক্ত করে রাখা যেতে পারে। এতে যেকোনো পর্দা থেকে দ্রুত ফিচারটি চালু বা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া ‘কাস্টমাইজ’ অপশন থেকে পর্দার দুই পাশে প্রদর্শিত আকৃতিগুলোর রং, আকার ও স্বচ্ছতার মাত্রা পরিবর্তন করা যাবে। ‘র‍্যান্ডমাইজেশন’ চালু করলে নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব আকৃতির রং ও ধরন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। তবে মোশন অ্যাসিস্ট মূলত গাড়ির যাত্রীদের জন্য তৈরি। তাই গাড়ি চালানোর সময় চালকের এটি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।