রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষকের মর্যাদাই হোক শিক্ষা সংস্কারের শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষকের মর্যাদাই হোক শিক্ষা সংস্কারের শুরু

মো. মামুন হাসান

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের কথা নতুন নয়। পাঠ্যক্রম বদলেছে, পরীক্ষাপদ্ধতি বদলেছে, মূল্যায়নের ধরণ বদলেছে, কখনো কখনো একটি নীতির ফল দেখার আগেই আরেকটি নীতি এসে হাজির হয়েছে। প্রতিবারই ঘোষণায় থাকে নতুন স্বপ্ন, আর বাস্তবায়নের দায়িত্ব গিয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকের কাঁধে। এই পরিচিত চিত্র দেখে আমার একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। সংস্কারের শুরুটা আমরা কোথা থেকে করছি। আমার বিশ্বাস, শুরুটা হওয়া উচিত শিক্ষক থেকে, আর সেই শুরুর প্রথম ধাপ শিক্ষকের মর্যাদা নিশ্চিত করা।

প্রথমে একটি সহজ সত্য মেনে নেওয়া দরকার। কোনো সংস্কার কাগজে সম্পূর্ণ হয় না, সম্পূর্ণ হয় শ্রেণিকক্ষে। নীতিমালা যত সুচিন্তিত হোক, শিক্ষার্থীর কাছে সেটি পৌঁছায় শিক্ষকের মাধ্যমে। নতুন পাঠ্যক্রম বুঝিয়ে দেওয়া, নতুন মূল্যায়ন প্রয়োগ করা, শিক্ষার্থীর ভয় ও দ্বিধা কাটানো, সবই করেন শিক্ষক। অর্থাৎ সংস্কারের সফলতার চাবি তাঁর হাতেই। অথচ সংস্কারের পরিকল্পনায় তাঁকে প্রায়ই দেখা হয় বাস্তবায়নের একটি উপকরণ হিসেবে, অংশীদার হিসেবে নয়। উপকরণ হিসেবে দেখলে তাঁর কাছ থেকে নির্দেশ পালন পাওয়া যায়, কিন্তু উদ্যম পাওয়া যায় না। আর উদ্যম ছাড়া কোনো সংস্কার প্রাণ পায় না।

এই বাস্তবতা থেকেই বোঝা যায় কেন মর্যাদা এত গুরুত্বপূর্ণ। মর্যাদা বলতে আমি কেবল সামাজিক সম্মান বোঝাচ্ছি না। ১৯৬৬ সালে আইএলও ও ইউনেস্কোর সুপারিশ শিক্ষকের মর্যাদাকে অধিকার ও দায়িত্বের একটি কাঠামো হিসেবে দেখেছিল। তার ষাট বছর পূর্ণ হচ্ছে এই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা কতটা এগিয়েছি, সেই হিসাব নেওয়ার এটাই সময়। মর্যাদার মধ্যে আছে ন্যায্য পারিশ্রমিক, নিরাপদ চাকরি, স্পষ্ট পেশাগত অগ্রগতির পথ, পাঠদানের স্বাধীনতা, প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের অধিকার। এগুলোর কোনোটি বাদ গেলে মর্যাদা অসম্পূর্ণ থাকে, আর অসম্পূর্ণ মর্যাদার ওপর দাঁড়ানো সংস্কার টলমলে হয়।

কেন শুরুটা শিক্ষক দিয়েই হতে হবে, তার তিনটি যুক্তি আমি দিতে চাই।
প্রথম যুক্তি আস্থার। যে শিক্ষককে পেশাদার হিসেবে বিশ্বাস করা হয়, তিনি নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহস পান। তিনি পাঠদানের পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেন, শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে বদলান। কিন্তু যে ব্যবস্থায় প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য নির্দেশ ও নজরদারি, সেখানে শিক্ষক নিরাপদ পথে হাঁটতে শেখেন। সংস্কার চায় সৃজনশীলতা, আর সৃজনশীলতা জন্মায় আস্থার পরিবেশে।
দ্বিতীয় যুক্তি প্রতিভার। যে কোনো পেশার মান নির্ভর করে সেখানে কারা আসছেন তার ওপর। আজ অনেক মেধাবী তরুণ শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে ভাবে না, কারণ তারা সেখানে নিরাপত্তা, সুযোগ ও সম্মানের নিশ্চয়তা দেখে না। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি মানে শেষ পর্যন্ত ভালো শিক্ষক পাওয়া। ভালো শিক্ষক পেতে হলে পেশাটিকে আকর্ষণীয় করতে হবে। এই কাজটি সংস্কারের সবচেয়ে গোড়ার কাজ, কারণ বাকি সব পরিবর্তন এর ওপরেই দাঁড়ায়।

তৃতীয় যুক্তি ধারাবাহিকতার। বারবার বদলে যাওয়া নীতি শিক্ষককে ক্লান্ত করে। নতুন পদ্ধতি শিখতে না শিখতেই আরেকটি এসে যায়। এই সংস্কার ক্লান্তি থেকে বাঁচার উপায় হলো শিক্ষকদের আগে থেকেই আলোচনায় যুক্ত করা। তাঁরা যদি পরিকল্পনার অংশীদার হন, তাহলে সেটি তাঁদের নিজেদের হয়ে ওঠে এবং বাস্তবায়নে তাঁরা সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ান।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় এই যুক্তিগুলো আরও জোরালো। আমি নিজে একটি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানে পর্যটন ও আতিথেয়তা বিভাগে পড়াই। এই খাতে শিল্পের চাহিদা বদলায় খুব দ্রুত। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার কথা আমরা বলি, কিন্তু সেই শিক্ষা দিতে হলে শিক্ষকের নিজের হাতে কলমে অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। তাঁকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হয়, কর্মশালায় আধুনিক সরঞ্জাম দিতে হয়, নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়। এসব না দিয়ে নতুন পাঠ্যক্রম চাপিয়ে দিলে শিক্ষক এমন দায়িত্ব পান, যা পালনের উপকরণ তাঁর হাতে নেই। তখন সংস্কার হয় নামমাত্র, আর স্নাতকেরা সনদ নিয়ে বের হয় ঠিকই, কিন্তু কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতি নিয়ে নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ এই প্রয়োজনকে আরও তীব্র করেছে। তথ্য এখন সবার হাতের মুঠোয়। তাই শিক্ষকের ভূমিকা এখন তথ্য দেওয়ার চেয়ে প্রশ্ন করতে শেখানো, যাচাই করতে শেখানো, নৈতিকতা ও মানবিকতা গড়ে তোলার দিকে সরে এসেছে। এই কাজ আগের চেয়ে কঠিন ও সূক্ষ্ম। যে সংস্কার এই নতুন ভূমিকাকে স্বীকার করবে না, সে সংস্কার সময়ের পেছনে পড়ে থাকবে। আর যে শিক্ষকের কাছে আমরা এই নতুন ভূমিকা দাবি করছি, তাঁকে প্রযুক্তি শেখার সুযোগ, ডিজিটাল অবকাঠামো ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

মর্যাদার আরেকটি দিক নিরাপত্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে এক টুকরো ভিডিও বা অর্ধসত্য মন্তব্য একজন শিক্ষকের বছরের পর বছরের সুনাম নষ্ট করে দিতে পারে। শিক্ষকও মানুষ, তাঁর ভুল হলে জবাবদিহি অবশ্যই হবে। কিন্তু সেই জবাবদিহি হতে হবে তথ্য যাচাই করে, তাঁর বক্তব্য শুনে, ন্যায্য প্রক্রিয়ায়। আতঙ্কের মধ্যে থাকা শিক্ষক ঝুঁকি নিতে চান না, আর ঝুঁকি ছাড়া শিক্ষার উন্নতি হয় না।

শিক্ষকের কাজের বোঝার প্রশ্নটিও সংস্কারের আলোচনায় জরুরি। পাঠদানের পাশাপাশি তথ্য সংকলন, প্রতিবেদন, নানা কমিটির কাজ, এসব মিলিয়ে অনেক শিক্ষক শেখানোর জন্য যথেষ্ট সময় পান না। প্রতিটি নতুন সংস্কারের সঙ্গে যদি আরও কাগজপত্র যুক্ত হয়, তাহলে সংস্কার শিক্ষকের জন্য সহায়তা না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই সংস্কারের নকশা করার সময়ই জিজ্ঞেস করা দরকার, এতে শিক্ষকের সময় বাঁচবে নাকি আরও কমবে।

তবে একতরফা দাবি করলে আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকবে। শিক্ষক হিসেবে আমাদেরও নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। সম্মান দাবি করার আগে তা অর্জনের দায় আমাদের আছে। বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানো, সময়ানুবর্তিতা ও সততা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীর প্রতি সহমর্মী থাকা এবং প্রতিদিন শেখার আগ্রহ ধরে রাখা, এগুলো পেশার মর্যাদাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। কিছু শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা পুরো পেশার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মর্যাদা ও জবাবদিহি একে অপরের বিরোধী নয়, পরিপূরক। স্বচ্ছ মূল্যায়ন ও পেশাগত আচরণবিধি থাকলে শিক্ষকের দাবি আরও গ্রহণযোগ্য হয়।

তাহলে সংস্কারের শুরুতে কী করা দরকার। প্রথমত, যে কোনো সংস্কার প্রস্তাবের খসড়া পর্যায়েই মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বড় পরিবর্তনের আগে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদের মতামত নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ন্যায্য বেতন কাঠামো, স্বচ্ছ পদোন্নতি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রশিক্ষণকে অধিকার হিসেবে দেখে ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সমান সুযোগ দিতে হবে। চতুর্থত, কারিগরি শিক্ষকদের জন্য শিল্প অভিজ্ঞতার নিয়মিত সুযোগ ও আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পঞ্চমত, প্রশাসনিক বোঝা যুক্তিসংগত রাখতে হবে। ষষ্ঠত, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।

অভিভাবক ও সমাজেরও এখানে ভূমিকা আছে। শিক্ষককে হেয় করার সংস্কৃতি বদলাতে হবে, শিক্ষকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মনোভাব গড়তে হবে। সন্তানের শিক্ষার সাফল্য ঘরে ও বিদ্যালয়ের সমন্বিত চেষ্টার ফল।কেউ বলতে পারেন, সীমিত সম্পদের দেশে সবকিছু একসঙ্গে সম্ভব নয়। কথাটি আংশিক সত্য। কিন্তু অগ্রাধিকার ঠিক করাই আসল কথা। বহু সংস্কার ব্যর্থ হয় এ কারণে নয় যে নকশা খারাপ ছিল, ব্যর্থ হয় এ কারণে যে যাঁরা তা বাস্তবায়ন করবেন, তাঁদের প্রস্তুত করা হয়নি। শিক্ষকে বিনিয়োগ করলে বাকি সব বিনিয়োগের ফলও বাড়ে। এটি ব্যয় নয়, সবচেয়ে নিশ্চিত পুঁজি।

শেষ পর্যন্ত কথাটা এই দালান গড়তে গেলে আগে ভিত গড়তে হয়। শিক্ষাব্যবস্থার ভিত হলেন শিক্ষক। সেই ভিত দুর্বল রেখে ওপরে যত সুন্দর কাঠামোই তুলি, তা টেকসই হবে না। এই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক, সংস্কারের পরিকল্পনা শুরু করার আগে আমরা শিক্ষকের পাশে দাঁড়াব, তাঁর কথা শুনব, তাঁর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করব। কারণ শিক্ষার ভবিষ্যৎ বদলাতে চাইলে আগে বদলাতে হবে শিক্ষকের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি।

মো. মামুন হাসান, বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

 

Ads small one

দৃশ্যমান হয়ে উঠছে ৩৫ হাজার মুক্তায় গাঁথা বুড়িয়ার দুর্গাপ্রতিমা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
দৃশ্যমান হয়ে উঠছে ৩৫ হাজার মুক্তায় গাঁথা বুড়িয়ার দুর্গাপ্রতিমা

আশাশুনি সংবাদদাতা: প্রতিমার শরীরে মাটির প্রলেপ, তার ওপর রং-তুলির কাজ। এরপর একে একে বসানো হচ্ছে হাজার হাজার মুক্তা। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে এখনও বাকি। এরই মধ্যে ব্যতিক্রমী প্রতিমা দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে এমন আয়োজন। বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত মন্দিরটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমাশিল্পী ও কারিগরেরা ব্যস্ত রং, সাজসজ্জা ও মুক্তার কাজ নিয়ে। ১৩টি প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা। সব মিলিয়ে প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে প্রায় চার লাখ টাকা।

 

আয়োজকরা জানান, এবারের মূল আকর্ষণ মুক্তার কারুকাজ। প্রচলিত সাজসজ্জার বাইরে ভিন্ন নকশায় তৈরি করা হচ্ছে ১৩টি প্রতিমা। প্রতিমার শরীর ও অলংকারের বিভিন্ন অংশে বসানো হয়েছে মুক্তা। পূজা শুরুর আগেই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখছেন। প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ ম-ল বলেন, প্রতিবছরই নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন তাঁরা। এবার দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় দেখা কয়েকটি মূর্তির নকশার সঙ্গে নিজেদের পরিকল্পনা মিলিয়ে প্রতিমার নকশা করা হয়েছে। মুক্তার কাজ সূক্ষ্ম হওয়ায় সময় ও শ্রম বেশি লেগেছে। চারজন শিল্পী ৫২ দিন ধরে কাজ করেছেন। ১৩টি প্রতিমায় প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু ম-ল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরে দুর্গোৎসব হয়ে আসছে। প্রতিবছর ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন কিছু করার চেষ্টা করা হয়। এবার মুক্তার কারুকাজের মাধ্যমে প্রতিমায় ভিন্নতা আনা হয়েছে।

 

দর্শনার্থীদের নতুনত্বের স্বাদ দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। তিনি জানান, দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে বিবেচনায় নিরাপত্তার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ম-পে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় বাসিন্দা অসিত ম-ল বলেন, বুড়িয়া আড়ংকে ঘিরে প্রতিবছরই মানুষের আগ্রহ থাকে। এবার মুক্তার কারুকাজ সেই আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা এস এম শরিফুল ইসলাম বলেন, বড়দল ইউনিয়নে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন। দুর্গোৎসবেও পারস্পরিক সহযোগিতার সেই সংস্কৃতি দেখা যাবে।

 

আশাশুনি পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার বৌদ্দ জানান, এ বছর উপজেলায় ১০৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন ম-পে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী প্রতিমা ও সাজসজ্জার উদ্যোগ। বুড়িয়ায় মুক্তাখচিত প্রতিমা, ঘুঘুমারীতে ঝরনার আদলে বিশেষ আয়োজন এবং বুধহাটা কাছারীবাড়ি ও দক্ষিণ বড়দলে ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শে পর্যায়ে। অপর দিকে বুধহাটা সুবর্ণ বনিক পাড়ায় সাধারণ মাটির কাজ দিয়ে তৈরি প্রতিমা সকলের নজড় কাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ম-পগুলোর সঙ্গে প্রশাসন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন।

দেবহাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: ভ্রাম্যমান আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: ভ্রাম্যমান আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নাংলা জামতলা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের নেতৃত্ব দেন দেবহাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসতিয়াক আহমেদ অপু ।

রবিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাংলা এলাকায় পরিচালিত উক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়ায় অবৈধ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ সালের ৭ (ক) ও ১৫ (১) ধারা অনুযায়ী রফিকুল এন্ড ব্রাদারসের আশিকুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে আশপাশের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট ধ্বসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজার মেশিন বন্ধ করেন এবং জড়িতদের হাতেনাতে আটক করেন।

অভিযান শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, ড্রেজার বা অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলন বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ। জনস্বার্থে এবং পরিবেশ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দেবহাটায় এ ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের ঝটিকা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাংলা এলাকার স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

সাতক্ষীরায় বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুরে বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি রোগী বাছাই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ডি.বি. ইউনাইটেড হাইস্কুলে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই রোগীদের চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়।
৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেস, সাতক্ষীরা সিটি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, ডি.বি. ইউনাইটেড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান মুকুল এবং ৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী। ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আনিছুর রহমান।

ক্যাম্পে বিনা মূল্যে চোখের দৃষ্টি ত্রুটি, চোখের প্রেসার ও নেত্রনালীর পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয় এবং ছানি রোগীদের বাছাই করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাছাই করা ছানি রোগীদের বিদেশি লেন্সের মাধ্যমে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া তাঁদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, কালো চশমা, যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। ক্যাম্পে কম মূল্যে ওষুধ ও চশমা পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়।

আয়োজকেরা জানান, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ছানি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনাই এ ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য। ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চিকিৎসাসেবা নিতে উপস্থিত হন।