বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শুক্রবারের চিকিৎসা, ওষুধের অনিশ্চয়তা: সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যব্যবস্থার অদৃশ্য সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
শুক্রবারের চিকিৎসা, ওষুধের অনিশ্চয়তা: সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যব্যবস্থার অদৃশ্য সংকট

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
সকাল আটটা। সাতক্ষীরা শহরের প্রধান সড়কগুলো তখনই ব্যস্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে। আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, তালা, কলারোয়া-জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন। কারও হাতে পরীক্ষার রিপোর্ট, কারও চোখে উদ্বেগ, কারও সঙ্গে অসুস্থ বাবা-মা বা শিশু সন্তান। কারণ একটাই-আজ শুক্রবার। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর দিন। কিন্তু এই আশার দিনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে আরেকটি বাস্তবতা-চিকিৎসা পাওয়ার পরও চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হওয়ার এক নীরব সংকট। প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়েও অনেক রোগী ফিরছেন অনিশ্চয়তা নিয়ে, কারণ প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না, বা পেতে হচ্ছে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা।

 

এই দৃশ্য কোনো ব্যতিক্রম নয়। বরং এটি এখন একটি নিয়মিত চিত্র, যা সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করে। স্বাভাবিক অর্থনীতির ভাষায়, কোনো পণ্য বা সেবার চাহিদা বাড়লে সরবরাহও বাড়ার কথা। কিন্তু সাতক্ষীরার বাস্তবতা যেন সেই সূত্রের উল্টো। শুক্রবার-যেদিন রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি-সেই দিনেই শহরের অর্ধেক অংশের ফার্মেসি বন্ধ থাকে। ওষুধ ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পালাক্রমে দোকান বন্ধ রাখা হয়। ফলে কার্যত অর্ধেকের বেশি দোকান সেবা থেকে বাইরে থাকে।

 

এতে দুটি বড় সমস্যা তৈরি হয়-খোলা থাকা দোকানগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ, রোগীদের জন্য সময় ও সেবার সংকট ফলে বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে হওয়ার কথা নয়। এই সংকটকে বুঝতে হলে মাঠের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন রোগী ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। তিন-চার ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে শহরে পৌঁছেছেন। চিকিৎসকের চেম্বারে অপেক্ষা করেছেন আরও কয়েক ঘণ্টা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে যখন প্রেসক্রিপশন হাতে পেয়েছেন, তখন শরীর-মন দুটোই ক্লান্ত।

এই অবস্থায় যদি তাঁকে আরও দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে সেটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়-এটি একটি মানবিক ব্যর্থতা। বিশেষ করে-বয়স্ক রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশুরা এই দীর্ঘ অপেক্ষার কষ্ট আরও তীব্রভাবে অনুভব করেন। সংকটের ভেতর আরও একটি উদ্বেগজনক দিক উঠে এসেছে-সব রোগী সমান সেবা পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ফার্মেসি বড় অংকের প্রেসক্রিপশনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ছোট অংকের ওষুধ নিতে আসা রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়, কখনো বা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নয়-এটি নৈতিক সংকট। স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য মানে-দরিদ্র মানুষ আরও বঞ্চিত হওয়া, জরুরি রোগী ঝুঁকিতে পড়া, সামাজিক অসাম্য আরও গভীর হওয়া। ওষুধ ব্যবসায়ীদের বক্তব্যও একেবারে অযৌক্তিক নয়। তারা বলছেন-কর্মচারীদের নির্দিষ্ট শিফট নেই, দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়, বিশ্রামের সুযোগ প্রয়োজন। এই বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো-সমাধান কি এই? স্বাস্থ্যসেবা খাতে সমাধান হতে হবে এমন, যাতে-কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত হয়, রোগীদের সেবাও ব্যাহত না হয়, কিন্তু বর্তমান পদ্ধতিতে দেখা যাচ্ছে, ভারসাম্য তৈরি হয়নি।

 

স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ পণ্য নয়। এটি একটি “রহবষধংঃরপ ফবসধহফ বা অনমনীয় চাহিদার ক্ষেত্র। অর্থাৎ-রোগী তার চাহিদা স্থগিত করতে পারে না, বিকল্প খুঁজে নেওয়ার সুযোগ সীমিতসময়ই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে স্বাস্থ্যসেবাকে পুরোপুরি বাজারের নিয়মে পরিচালনা করা যায় না। ফার্মেসিগুলো যদি শুধুই ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিচালিত হয়, তাহলে এই ধরনের সংকট তৈরি হবেই। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-প্রশাসন কী করছে? বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবা একটি জরুরি সেবা।

 

এই সেবার অংশ হিসেবে ওষুধ সরবরাহও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে-সাপ্তাহিক ছুটিতে ফার্মেসি বন্ধ রাখার নীতিমালা কী? কোনো তদারকি আছে কি? অভিযোগের তদন্ত হয় কি? এই প্রশ্নগুলোর সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায় না। শুক্রবারের এই ভিড় আসলে একটি বড় সমস্যার লক্ষণ। কারণ-উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, মানসম্মত ডায়াগনস্টিক সুবিধার সীমাবদ্ধতা, চিকিৎসা ব্যবস্থার কেন্দ্রীভবন ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে শহরে আসে। এটি একটি “পবহঃৎধষরুবফ যবধষঃযপধৎব সড়ফবষ-এর ফলাফল।

 

সাতক্ষীরার এই চিত্র পুরো দেশের একটি প্রতিফলন। সমস্যাগুলো হলো-শহর বনাম গ্রামের বৈষম্য, সরকারি ও বেসরকারি সেবার অসমতা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা এই কারণে ছোট একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও বড় সংকটে পরিণত হয়। সমস্যার সমাধান আছে, তবে তা হতে হবে বাস্তবসম্মত। সব দোকান খোলা রেখে কর্মীদের পালাক্রমে ছুটি দেওয়া। প্রতিটি এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক ফার্মেসি খোলা রাখা বাধ্যতামূলক করা। লাইফ-সেভিং ওষুধ সবসময় নিশ্চিত রাখা। টোকেন বা সিরিয়াল সিস্টেম চালু করা।

 

সেবায় বৈষম্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া। বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক সমস্যা কমানো সম্ভব-অনলাইন প্রেসক্রিপশন, ওষুধের স্টক তথ্য, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং এসব উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভিড় কমানো সম্ভব। সবশেষে বিষয়টি মানবিক। একজন রোগী যখন-দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন, অসুস্থ শরীরে অপেক্ষা করেন, ওষুধ না পেয়ে ফিরে যান তখন সেটি কেবল একটি সিস্টেমের ব্যর্থতা নয়, এটি একটি সমাজের ব্যর্থতা। এই সংকটকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

 

কারণ-এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন, এটি প্রশাসনিক সক্ষমতার পরীক্ষাসাতক্ষীরার শুক্রবার আমাদের সামনে একটি সহজ কিন্তু গভীর প্রশ্ন তুলে ধরে-চিকিৎসা কি শুধু প্রেসক্রিপশন, নাকি পূর্ণাঙ্গ সেবা? যদি উত্তর হয় পূর্ণাঙ্গ সেবা, তাহলে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতেই হবে। সমস্যাটি দৃশ্যমান, সমাধানও সম্ভব। প্রয়োজন-সমন্বয়, সদিচ্ছা, কার্যকর নীতি-শুক্রবারের শহর যেন আর কষ্টের প্রতীক না হয়ে ওঠে-এই প্রত্যাশাই থাকল।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

 

 

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।