বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

শ্যামনগরের দুর্গাবাটিতে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের দুর্গাবাটিতে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটিতে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন। বুধবার বিকেল থেকে দুর্গাবাটি এলাকায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। দিনভর উৎসবের আমেজ, মানুষের ভিড় এবং নদীবক্ষে প্রতিমা প্রদর্শনকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।

দুর্গাপূজার সমাপনী দিনে দুর্গাবাটি ও খোলপেটুয়া নদীকে ঘিরে এই আয়োজন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়। শ্যামনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ দুর্গা প্রতিমার শোভাযাত্রা ও বিসর্জন দেখতে দুর্গাবাটিতে সমবেত হন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন শাখার নবনির্বাচিত সদস্যসচিব জি এম রুস্তম আলীর সার্বিক উদ্যোগ ও প্রথম প্রচেষ্টায় দুর্গাবাটির এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দর্শনার্থীদের সমাগম এবং প্রতিমা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উৎসবের ভিন্নমাত্রা যোগ হয়।

বিকেল থেকে দুর্গাবাটি এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমা নিয়ে আসতে থাকেন পূজারিরা। শত শত ট্রলারের মাধ্যমে নদীতে প্রতিমা ঘোরানো হয়। নদীবক্ষে সাজানো প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। নৌযানে করে প্রতিমা প্রদর্শনের এ দৃশ্য উপভোগ করতে নদীর দুই পাড়েও ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দুর্গাবাটি ও আশপাশের এলাকা।

সন্ধ্যার পর খোলপেটুয়া নদীতে একে একে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ সময় আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে ছিল বিদায়ের আবেগ ও আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশা।
স্থানীয়দের কাছে ‘দ্বিতীয় টাকি’ হিসেবে পরিচিত দুর্গাবাটির এ আয়োজন কেবল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন ও উপকূলীয় জনপদের ঐতিহ্যকে ধারণ করে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবেÑএমন প্রত্যাশা দর্শনার্থীদের। সব মিলিয়ে, হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শত শত ট্রলারে প্রতিমা প্রদর্শন এবং খোলপেটুয়া নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শ্যামনগরের দুর্গাবাটিতে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

Ads small one

চার মাসের সংসার, প্রথম দুর্গোৎসবেই নববধূর করুণ বিদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
চার মাসের সংসার, প্রথম দুর্গোৎসবেই নববধূর করুণ বিদায়
মিলন বিশ্বাস: বিয়ের মাত্র চার মাস। নতুন সংসারের স্বপ্ন আর বাবার বাড়িতে প্রথম দুর্গোৎসবের আনন্দ সবকিছু যেন এক মুহূর্তেই থমকে গেল। বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারালেন তন্নি দে (২০) নামে এক নববধূ। উৎসবের আনন্দঘন মুহূর্ত পরিণত হলো শোক আর কান্নায়। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তন্নি দে কুমিরা গ্রামের মহাদেব দের মেয়ে। চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে এটাই ছিল তাঁর প্রথম দুর্গোৎসব।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় ননদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে যান তন্নি। সেখানে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমার কপালে সিঁদুর দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্তেই হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
ঘটনার পরপরই বিসর্জনস্থলের উৎসবমুখর পরিবেশ শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। যে উৎসবে সিঁদুরের রঙে রঙিন হওয়ার কথা ছিল বিজয়ার শেষ বিকেল, সেখানে নেমে আসে কান্নার আবহ। মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন বাবা মহাদেব দেসহ পরিবারের সদস্যরা।
তালা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার ও স্থানীয় সূত্রে এ মৃত্যুর খবর জানা গেছে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিসর্জনস্থলে এক নববধূর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তন্নি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় তাঁদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

Oplus_131072

পত্রদূত ডেস্ক: আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় নিয়েছেন দেবী দুর্গা। পূজার আনুষ্ঠানিকতা অনুযায়ী, বুধবার সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। পরে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াই বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এসব প্রবৃত্তি ত্যাগ করে পরস্পরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।
গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫ দিন রাজধানীসহ দেশের পূজামন্ডপগুলোতে পূজা অর্চনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হয়।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক (বাবার বাড়ি) থেকে স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে ফিরে যান। আগামী বছর শরৎকালে তিনি পুনরায় ধরণীতে ফিরে আসবেন।
এর আগে দুপুরে বিভিন্নস্থানে বের হয় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা ও বিসর্জনে অংশ নিতে দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন মন্ডপ থেকে ভ্যান নৌকা ট্রাকসহ বিভিন্ন বাহনে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা নদ-নদী জলাশয়ের পাশে জড়ো হতে থাকেন। এবছর জেলায় সর্বোচ্চ ৬১২টি মন্ডপে সুষ্ঠ শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

আঠারো মাইল সড়কে ঝরলো ৬ প্রাণ, আহত ৪০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
আঠারো মাইল সড়কে ঝরলো ৬ প্রাণ, আহত ৪০

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের আঠারো মাইলে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ২টর দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল ডাঙ্গীরপাড় নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) পারভেজ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামি ইমাদ পরিবহনের ধাক্কায় মটর সাইকেল আরোহী এক মাছ ব্যবসায়িসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা-চুকনগর সড়কের ১৮ মাইল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘাতক পরিবহনটি আটক করছে সাতক্ষীরা পুলিশ।
খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহী বাস (সাতক্ষীরা জ-১১-০০৯৬) সাতক্ষীরা অভিমুখে যাচ্ছিল। বাসটি খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল ডাঙ্গীরপার নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ক্রাউন সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের (নারায়ণগঞ্জ উ-১১-০০২৬) মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায় এবং ট্রাকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ৪০-৪২ যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার জিন্নাত আলী (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকচালক মারা গেছেন বলে জানা গেছে। খাদে পড়ে যাওয়া বাসের নিচ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ডুমুরিয়া ফায়ার সার্ভিস।
খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পারভেজ হাসান বলেন, নিহত চারজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খাদে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছিল। তবে উদ্ধারকারীদের ধারণা বাসের নিচে বা ভিতরে আরও মৃতদেহ থাকতে পারে।
এদিকে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামি ইমাদ পরিবহনের ধাক্কায় মটর সাইকেল আরোহী এক মাছ ব্যবসায়িসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা-চুকনগর সড়কের ১৮ মাইল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘাতক পরিবহনটি আটক করছে সাতক্ষীরা পুলিশ।

নিহতরা হলেন, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারী গাজীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ি রাফিউর রহমান রউফ (৪৩) ও একই গ্রামের আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস আলী (২৫)।

নিহত রাফিউর রহমানের ভাই আব্দুল হামিদ জানান, তার ভাইয়ের চুকনগর বাজারে মাছের সেট রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তিনি ইউনুসকে নিয়ে হিরো মটর সাইকেলে সাতক্ষীরার তালায় যান। কয়েকটি পূজা ম-প ঘুরে ও ব্যক্তিগত কাজ মিটিয়ে রাত দেড়টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় ১৮ মাইল নামক স্থানে পৌঁছালে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামি ইমাদ পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫২৫৯) তাদের মটর সাইকেলে ধাক্কা মারে। এতে মটর সাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে গেলে দু’জনকেই চাপা দিয়ে চলে যায় ওই পরিবহনটি। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের খর্ণিয়া ফাঁড়ির উপপরিদর্শক খালিদ হোসেনের মাধ্যমে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি সাপেক্ষে বাড়িতে এনেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ইমাদ পরিবহনের যাত্রী পুরাতন সাতক্ষীরার মালেকা পারভিন জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গুলিস্তান থেকে তিনি সাতক্ষীরাগামি ইমাদ পরিবহনে ওঠেন। একই সময়ে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসটিও ছাড়ে। ইমাদ পরিবহনটির চালক খুব খারাপভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে চুকনগরে এসে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসকে ওভারটেক করে। রাত দেড়টার দিকে ১৮ মাইলে এসে তালা থেকে চুকনগরগামি একটি মটরসাইকেলকে সজোরে ধাকা মেরে দ্রুত গতিতে চলে আসে। কাটিয়া আমতলা এলাকায় ওই পরিবহনটি আটক করে পুলিশ। এ সময় চালক ও সুপারভাইজার পালিয়ে যায়। পরে ওই মটর সাইকেলে থাকা চালক ও আরোহী মারা গেছে মর্মে তারা জানতে পারেন।
খর্ণিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক খালিদ হোসেন বলেন, লাশ দুটি উদ্ধার করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দিয়ে নিহত রাফিউর রহমান রউফের ভাই আব্দুল হামিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আব্দুল হামিদ ডুমুরিয়া থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি মামলা না করলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘাতক পরিবহনটি সাতক্ষীরা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ডুমুরিয়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ি হাইওয়ে পুলিশ মামলার বাদিকে সঙ্গে করে নিয়ে আসার কথা। তবে বুধবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এ নিয়ে থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি।