বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

মাথাপিছু ঋণ দেড় লাখ টাকার পথে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
মাথাপিছু ঋণ দেড় লাখ টাকার পথে

সরকারের ঋণ বাড়ার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনের শেষে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়াতে পারে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণ বেড়ে রেকর্ড ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে, বিদেশি ঋণের নতুন অর্থছাড় কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে ছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ কম। বিপরীতে, আগের ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার— নতুন অর্থছাড়ের প্রায় ২ দশমিক ৪ গুণ।

একই সময়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরসহ প্রথম তিন মাসে এই ঋণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি

অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়াতে পারে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। দেশের জনসংখ্যা আনুমানিক ১৭ কোটি ৫০ লাখ ধরে হিসাব করলে মাথাপিছু সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৬০ লাখ ধরলে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ হবে প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ, জনসংখ্যার হিসাবভেদে অঙ্ক কিছুটা পরিবর্তিত হলেও অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি থাকতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন শেষে মাথাপিছু ঋণ ওই অঙ্কের তুলনায় প্রায় ২১ হাজার টাকা বাড়তে পারে।

তবে অর্থবছর শেষে সরকারের প্রকৃত ঋণের স্থিতি, জনসংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট হিসাবের ওপর চূড়ান্ত মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ নির্ভর করবে। মাথাপিছু ঋণ বলতে সরকারের মোট ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া গড় অঙ্ক বোঝায়। এটি প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত ঋণ নয়।

দুই বছরে সরকারি ঋণ বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল প্রায় ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ প্রায় ৯ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণ ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। সে হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় দুই বছরে ঋণের স্থিতি বাড়তে পারে প্রায় ২৩ শতাংশ।

ঋণ বাড়ার এই প্রবণতা পরবর্তী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকার প্রাক্কলন রয়েছে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণ ২৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর শেষে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

অর্থাৎ, আগামী দুই অর্থবছরেও সরকারের ঋণ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এদিকে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি আগের ‘নিম্ন’ পর্যায় থেকে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

বিদেশি ঋণ বেড়ে ১১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। গত মার্চ শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১১০ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। তিন মাসে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এই বৃদ্ধির প্রধান অংশ এসেছে সরকারি খাতের ঋণ থেকে। মার্চ শেষে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ছিল ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ১৪ কোটি ডলার কমে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

২০২৫ সালের জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা ২০ পয়সা বিনিময় হার ধরে হিসাব করলে, জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ১১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যা ধরে মাথাপিছু মোট বিদেশি ঋণ প্রায় ৮১ হাজার টাকা এবং সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ৬৭ হাজার টাকা।

তবে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ও সরকারের সরাসরি বিদেশি ঋণ এক বিষয় নয়। সরকারি খাতের হিসাবে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণও অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণের মাথাপিছু অঙ্কের সঙ্গে সরকারের মোট মাথাপিছু ঋণ যোগ করলে দ্বৈত গণনার ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণ জিডিপির প্রায় ২৪ শতাংশ ছিল।

দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি

ঋণের মেয়াদ অনুযায়ী, গত জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৮৭ দশমিক ৫২ শতাংশ ছিল দীর্ঘমেয়াদি। এর পরিমাণ ১০০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

ঋণদাতাদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছিল ৪৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ছিল ৩২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঋণ ছিল ১০ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ প্রায় ৫ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার।

ঋণের ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী পরিশোধের সময়সূচি আলাদা হওয়ায় মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি কোন সময়ে কত ঋণ পরিশোধ করতে হবে, সেটিও ঋণ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঋণ ছাড় কমেছে ৬১ শতাংশ, পরিশোধ বেড়েছে

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশ বিদেশি সহায়তা পেয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ২৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার এবং অনুদান ৩১ লাখ ডলারের কিছু বেশি।

এই সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে এডিবি, প্রায় ১২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং জাপান দিয়েছে প্রায় ৪ কোটি ডলার।

গত অর্থবছরের একই সময়ে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় ছিল প্রায় ৭৫ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ। একই সময়ে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও সীমিত ছিল। জুলাই ও আগস্টে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ২৪ কোটি ডলারের।

অন্যদিকে, আগের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার, যা প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার সমান। এর মধ্যে আসল পরিশোধ করা হয়েছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের বেশি।

নতুন অর্থছাড়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪ গুণ। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় ও ঋণ পরিশোধের হিসাব অনুযায়ী নিট প্রবাহ প্রায় ৪০ কোটি ডলার ঋণাত্মক হয়েছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ, পরিশোধের পরিমাণ বাড়লেও একই সময়ে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমে যাওয়ায় নিট প্রবাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

ইআরডির আগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ রেকর্ড ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের আসল পরিশোধ ২০২৭ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যাংক খাত থেকেও বাড়ছে সরকারের ঋণ

বিদেশি ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও সরকারের ঋণ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা। গত জুনের শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণ জুনের শেষের ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা থেকে কমে ৩০ আগস্টে ৯০ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় তা পাঁচ গুণেরও বেশি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রথম দুই মাসেই ওই লক্ষ্যের ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশের সমপরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরসহ প্রথম তিন মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়লে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তির ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা ব্যাংকগুলোর তারল্য, ঋণের চাহিদা এবং সুদের হারের ওপর নির্ভর করে। ব্যাংকগুলোর তহবিলের বড় অংশ সরকারি ঋণে ব্যবহৃত হলে বেসরকারি ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য ঋণপ্রবাহ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাজেটের ১৪ শতাংশ যাবে সুদ পরিশোধে

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একইসঙ্গে পুরোনো ঋণের সুদ পরিশোধেও বাজেটের বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে সরকারের সুদ ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই এখন খেলাপি। এর আগের প্রান্তিক, অর্থাৎ মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল। ব্যাংক খাতের এই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়া অব্যাহত রেখেছে।

মাথাপিছু ঋণ নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘‘২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর প্রাক্কলন এবং বিদেশি ঋণ বৃদ্ধির বিষয়টি সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হওয়া স্বাভাবিক। তবে মাথাপিছু ঋণের অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক নাগরিককে সরাসরি ওই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সরকারের মোট ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এই গড় হিসাব করা হয়। কিন্তু ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারি বাজেটের ওপরই পড়ে। আর এই বাজেটের অর্থের বড় উৎস হলো কর ও অন্যান্য রাজস্ব আয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো, সরকার ঋণ নিয়ে কী করছে এবং সেই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে কি না। ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবহার করা হলে তা ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু অপচয়, দুর্বল প্রকল্প পরিকল্পনা, বাস্তবায়নে বিলম্ব কিংবা প্রত্যাশিত আয় না এলে ঋণ বাড়লেও তার সুফল সীমিত থাকবে। তখন ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ সামলাতে উন্নয়ন ও জনসেবার অন্যান্য খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’’

‘‘বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময় হার, সুদের হার ও পরিশোধের সময়সীমাও গুরুত্বপূর্ণ। টাকার অবমূল্যায়ন হলে একই পরিমাণ ডলার পরিশোধ করতে আগের চেয়ে বেশি দেশীয় মুদ্রার প্রয়োজন হয়। তাই ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি এর শর্ত, অর্থের ব্যবহার, প্রকল্পের ফলাফল এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। এ বিষয়ে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো উচিত’’, বলেন তিনি।

ঋণের বোঝা ও অর্থনীতির সক্ষমতা

সরকারি ঋণের প্রভাব নির্ধারণে মোট ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত, রাজস্ব আয়, সুদের হার, ঋণ পরিশোধের সময়সূচি এবং ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্র বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ও তুলনামূলক কম সুদের ঋণ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, পরিবহন, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহৃত হলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ রাজস্ব আয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, ঋণের অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন, আয় বা অর্থনৈতিক সুফল না এলে ঋণ পরিশোধের দায় বহাল থাকে। বিদেশি ঋণ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়লে একই পরিমাণ ডলার পরিশোধে সরকারের বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়।

ঋণের সুদ পরিশোধে বাজেটের বরাদ্দ বাড়লে অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণও প্রভাবিত হতে পারে। একইভাবে, রাজস্ব আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়লে বাজেট ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন হতে পারে।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকারের পরিকল্পনা

সংসদে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাথাপিছু ঋণের বোঝা কমাতে সরকার রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সরকারি অর্থায়নের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ জন্য কর ও করবহির্ভূত রাজস্ব বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ও কম অগ্রাধিকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার ও সরকারি সিকিউরিটিজ বাজার সংস্কার এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ এড়াতে বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা অনুসরণের কথাও উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরগুলোতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি বাড়তে পারে। একই সময়ে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় এবং বাজেটে সুদ ব্যয়ের পরিমাণও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

 

Ads small one

চার মাসের সংসার, প্রথম দুর্গোৎসবেই নববধূর করুণ বিদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
চার মাসের সংসার, প্রথম দুর্গোৎসবেই নববধূর করুণ বিদায়
মিলন বিশ্বাস: বিয়ের মাত্র চার মাস। নতুন সংসারের স্বপ্ন আর বাবার বাড়িতে প্রথম দুর্গোৎসবের আনন্দ সবকিছু যেন এক মুহূর্তেই থমকে গেল। বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারালেন তন্নি দে (২০) নামে এক নববধূ। উৎসবের আনন্দঘন মুহূর্ত পরিণত হলো শোক আর কান্নায়। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তন্নি দে কুমিরা গ্রামের মহাদেব দের মেয়ে। চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে এটাই ছিল তাঁর প্রথম দুর্গোৎসব।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় ননদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে যান তন্নি। সেখানে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমার কপালে সিঁদুর দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্তেই হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
ঘটনার পরপরই বিসর্জনস্থলের উৎসবমুখর পরিবেশ শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। যে উৎসবে সিঁদুরের রঙে রঙিন হওয়ার কথা ছিল বিজয়ার শেষ বিকেল, সেখানে নেমে আসে কান্নার আবহ। মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন বাবা মহাদেব দেসহ পরিবারের সদস্যরা।
তালা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার ও স্থানীয় সূত্রে এ মৃত্যুর খবর জানা গেছে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিসর্জনস্থলে এক নববধূর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তন্নি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় তাঁদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

Oplus_131072

পত্রদূত ডেস্ক: আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় নিয়েছেন দেবী দুর্গা। পূজার আনুষ্ঠানিকতা অনুযায়ী, বুধবার সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। পরে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াই বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এসব প্রবৃত্তি ত্যাগ করে পরস্পরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।
গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫ দিন রাজধানীসহ দেশের পূজামন্ডপগুলোতে পূজা অর্চনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হয়।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক (বাবার বাড়ি) থেকে স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে ফিরে যান। আগামী বছর শরৎকালে তিনি পুনরায় ধরণীতে ফিরে আসবেন।
এর আগে দুপুরে বিভিন্নস্থানে বের হয় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা ও বিসর্জনে অংশ নিতে দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন মন্ডপ থেকে ভ্যান নৌকা ট্রাকসহ বিভিন্ন বাহনে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা নদ-নদী জলাশয়ের পাশে জড়ো হতে থাকেন। এবছর জেলায় সর্বোচ্চ ৬১২টি মন্ডপে সুষ্ঠ শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

আঠারো মাইল সড়কে ঝরলো ৬ প্রাণ, আহত ৪০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
আঠারো মাইল সড়কে ঝরলো ৬ প্রাণ, আহত ৪০

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের আঠারো মাইলে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ২টর দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল ডাঙ্গীরপাড় নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) পারভেজ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামি ইমাদ পরিবহনের ধাক্কায় মটর সাইকেল আরোহী এক মাছ ব্যবসায়িসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা-চুকনগর সড়কের ১৮ মাইল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘাতক পরিবহনটি আটক করছে সাতক্ষীরা পুলিশ।
খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহী বাস (সাতক্ষীরা জ-১১-০০৯৬) সাতক্ষীরা অভিমুখে যাচ্ছিল। বাসটি খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল ডাঙ্গীরপার নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ক্রাউন সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের (নারায়ণগঞ্জ উ-১১-০০২৬) মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায় এবং ট্রাকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ৪০-৪২ যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার জিন্নাত আলী (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকচালক মারা গেছেন বলে জানা গেছে। খাদে পড়ে যাওয়া বাসের নিচ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ডুমুরিয়া ফায়ার সার্ভিস।
খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পারভেজ হাসান বলেন, নিহত চারজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খাদে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছিল। তবে উদ্ধারকারীদের ধারণা বাসের নিচে বা ভিতরে আরও মৃতদেহ থাকতে পারে।
এদিকে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামি ইমাদ পরিবহনের ধাক্কায় মটর সাইকেল আরোহী এক মাছ ব্যবসায়িসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা-চুকনগর সড়কের ১৮ মাইল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘাতক পরিবহনটি আটক করছে সাতক্ষীরা পুলিশ।

নিহতরা হলেন, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারী গাজীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ি রাফিউর রহমান রউফ (৪৩) ও একই গ্রামের আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস আলী (২৫)।

নিহত রাফিউর রহমানের ভাই আব্দুল হামিদ জানান, তার ভাইয়ের চুকনগর বাজারে মাছের সেট রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তিনি ইউনুসকে নিয়ে হিরো মটর সাইকেলে সাতক্ষীরার তালায় যান। কয়েকটি পূজা ম-প ঘুরে ও ব্যক্তিগত কাজ মিটিয়ে রাত দেড়টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় ১৮ মাইল নামক স্থানে পৌঁছালে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামি ইমাদ পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫২৫৯) তাদের মটর সাইকেলে ধাক্কা মারে। এতে মটর সাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে গেলে দু’জনকেই চাপা দিয়ে চলে যায় ওই পরিবহনটি। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের খর্ণিয়া ফাঁড়ির উপপরিদর্শক খালিদ হোসেনের মাধ্যমে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি সাপেক্ষে বাড়িতে এনেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ইমাদ পরিবহনের যাত্রী পুরাতন সাতক্ষীরার মালেকা পারভিন জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গুলিস্তান থেকে তিনি সাতক্ষীরাগামি ইমাদ পরিবহনে ওঠেন। একই সময়ে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসটিও ছাড়ে। ইমাদ পরিবহনটির চালক খুব খারাপভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে চুকনগরে এসে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসকে ওভারটেক করে। রাত দেড়টার দিকে ১৮ মাইলে এসে তালা থেকে চুকনগরগামি একটি মটরসাইকেলকে সজোরে ধাকা মেরে দ্রুত গতিতে চলে আসে। কাটিয়া আমতলা এলাকায় ওই পরিবহনটি আটক করে পুলিশ। এ সময় চালক ও সুপারভাইজার পালিয়ে যায়। পরে ওই মটর সাইকেলে থাকা চালক ও আরোহী মারা গেছে মর্মে তারা জানতে পারেন।
খর্ণিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক খালিদ হোসেন বলেন, লাশ দুটি উদ্ধার করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দিয়ে নিহত রাফিউর রহমান রউফের ভাই আব্দুল হামিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আব্দুল হামিদ ডুমুরিয়া থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি মামলা না করলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘাতক পরিবহনটি সাতক্ষীরা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ডুমুরিয়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ি হাইওয়ে পুলিশ মামলার বাদিকে সঙ্গে করে নিয়ে আসার কথা। তবে বুধবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এ নিয়ে থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি।