মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

শ্যামনগরে উপকুল রক্ষা বাঁধ থেকে ১২টি নাইনটি অপসারিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে উপকুল রক্ষা বাঁধ থেকে ১২টি নাইনটি অপসারিত

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে ঘিরে থাকা ১৫ নং পোল্ডারের আওতাধীন উপকুল রক্ষা বাঁধ থেকে ১২টি নাইনটি অপসারণ করেছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা, ডুমুরিয়া, চাদনীমুখা ও ৯ নং সোরা এলাকার বাঁধ হতে থেকে এসব নাইনটি অপসারণ করা হয়।

 

চিংড়িঘেরে নদীর লবন পানি সরবরাহের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীরা সম্প্রতি উপরিভাগের ব্লক সরিয়ে বাঁধ কেটে ও ছিদ্র করে পাইপের সাহায্যে সেখানে এসব নাইনটি স্থাপন করেছিল। এসময় অন্যান্যের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাশেদ হোসাইন, অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারের ভাষ্য এখনো পর্যন্ত গাবুরার চারপাশে টেকসই বাঁধ নির্মান কাজ শেষ হয়নি। অনেকে নৌকা আটকানোর জন্য খুঁটি স্থাপনের পাশাপাশি কয়েকজন রীতিমত নির্মানাধীন বাঁধ কেটে পাইপের সাহায্যে নাইনটি স্থাপন করেছে। বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিজে থেকে নাইনটিগুলো অপসারণে নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও স্থানীয়রা তাতে কর্নপাত করেনি। বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে বাঁধের জন্য ক্ষতিকর নাইনটি গুলো অপসারণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, টেকসই বাঁধ নির্মাণের অংশ হিসেবে এক হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে গাবুরার চারপাশজুড়ে পুনর্বাসন প্রকল্প চলমান। বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যেই কিছু ব্যক্তি সদ্য নির্মিত বাঁধের উপরের ব্লক সরিয়ে মাটি কেটে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে নাইনটি তৈরি করেছে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন অংশের বাঁধ হতে ১০টিরও বেশী নাইনটি অপসারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কেউ বাঁধের ক্ষতির চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

Ads small one

ভারী বৃষ্টিপাতে পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগ চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টিপাতে পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে একটানা ভারী বৃষ্টিপাতে খুলনার পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। নিচু এলাকা ও কাঁচা রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এবং শ্রেণিকক্ষে জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের মূল কারণগুলো হলো জলমগ্ন রাস্তা ও কাদা। টানা বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ কাঁচা রাস্তা ও সড়ক তলিয়ে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ফলে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ যানবাহন চলাচল করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা বিকল্প উপায়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক পুরোনো ও নিচু স্কুল ভবনে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। বৃষ্টিতে ভিজে বিদ্যালয়ে পৌঁছানো এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ক্লাস করার কারণে শিক্ষার্থীদের ঠান্ডা-জ্বরসহ নানা শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে।

উপজেলার মটবাড়ী গ্রামের অভিভাবক রহিমা বেগম বলেন, আমার ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। বৃস্টির কারণে আসা যাওয়ার পথে বৃস্টিতে ভিজে তার জ্বরও সর্দি হয়েছে। দমকা বাতাস আর বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় দিয়েও রক্ষা হচ্ছে না।

বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পানি ও কাদা মাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। এই বর্ষায় শিক্ষার্থীদের সর্দি-কাশি ও পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি পিচ্ছিল রাস্তায় পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা পড়েছে বৃষ্টির বিড়াম্বনায়।

কলারোয়ার আমেনা হত্যা মামলার আপিলে স্বামী ও শ^শুরের ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার আমেনা হত্যা মামলার আপিলে স্বামী ও শ^শুরের ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন

পত্রদূত রিপোর্ট: ২০১৭ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ার চাঁন্দুড়িয়া গ্রামে গৃহবধু আমেনা খাতুনকে কুলবাগানে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যার পর ইছামতী নদীতে ফেলে লাশ গুম করার চেষ্টার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বামী ওমর আলী ও শ^শুর দ্বীন মোহাম্মদ গাজীর ফাঁসির আদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ প্রদান করা হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি সাথিকা হোসেন গত বছরের ৯ ডিসেম্বর আসামীপক্ষের আপিল শুনানী শেষে এ আদেশ দেন। সম্প্রতি ওই আদেশ সাতক্ষীরা কারাগার ও জজ আদালতে পৌঁছায়।

সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, কলারোয়া উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদ গাজী ও তার ছেলে ওমর আলী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে কলারোয়া উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের আব্বাসউদ্দিনের মেয়ে আমেনা খাতুনের সাথে একই উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদ গাজীর ছেলে ওমর আলীর পারিবারিকভাকে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলায় আমেনা ও তার শ^শুরের সাথে বিরোধ হতো।

 

একপর্যায়ে বাবা দ্বীন মোহাম্মদের পরামর্শে ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল আমেনাকে পাশর্^বর্তী ইছামতী নদীর ধারে আজিজুল ইসলামের কুলবাগানে ডেকে নিয়ে ওমর আলী ও তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদ গাজী আমেনার শরীর থেকে ওড়না খুলে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করে। পরে ইছামতী নদীতে ফেলে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়। ১০ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ইছামতী নদী থেকে আমেনার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই আমেনার বাবা মোঃ আব্বাস উদ্দিন বাদি হয়ে জামাতা ওমর আলী, তার বাবা দ্বীন মাহাম্মদ গাজী, মা আনোয়ারা বিবি’র নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

১২ এপ্রিল ওমর আলীকে মনিরামপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারি কর্মকর্তা কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক ইয়াছিন আলম চৌধুরী। পরদিন ওমর আলী নিজেকে ও বাবাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিচারিক হাকিম রাজীব কুমার রায় এর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এজাহারে উল্লেখিত তিন জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ৭ আগষ্ট তৎকালিন জেলা ও দায়রা জজ ওমর আলী ও তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদ গাজীকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদ- কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

এ আদেশের বিরুদ্ধে ওমর আলী ও দ্বীন মোহাম্মদ গাজী মহামান্য হাইকোর্টে ২৪৯/১৮ ও ২৫০/১৮ নং জেল আপিল করেন। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ওই আপিল শুনানী শেষে বিচারপতিদ্বয় তাদের মৃত্যুদ-াদেশ প্রত্যাহার করে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ দেন। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ গত ২ জুলাই সাতক্ষীরা আদালত ও জেলা কারাগারে পৌঁছায়।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. মোস্তফাজামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ সিইসির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ সিইসির

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়কে দ্রুত নির্বাচনি আচরণবিধি ও নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন এক নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘সিইসি স্যার আমাদের দ্রুত বিদ্যমান বিধিমালাগুলো চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

এর আগে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছিলেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা যৌক্তিক হবে। সে ক্ষেত্রে ভোটের অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনি আচরণবিধি ও নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত করা বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে বিধিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধির খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও মতামত দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি দল ইতোমধ্যে মতামত দিয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন বিধিমালার কাজও চলছে। সেটিও জুলাইয়ের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালে নির্বাচন উপযোগী হবে।

 

এ ছাড়া দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভায় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন পাঁচটি উপজেলাসহ বর্তমানে দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা ৫০০। সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। নতুন উপজেলাগুলো হলো—বগুড়ার মোকামতলা, কক্সবাজারের মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ।

অপরদিকে, নতুন বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশে বর্তমানে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা ১৩। সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। তবে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।