মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরে এআই কর্মী অনিমেষ পরমান্যকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে এআই কর্মী অনিমেষ পরমান্যকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনিমেষ পরমান্য (৫০)নামে এক এআই (কৃত্রিম প্রজনন কর্মী) কর্মীকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দুস্কৃতিকারীরা। শনিবার বেলা ১০টার দিকে রোগী দেখার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরবতীতে সন্ধ্যায় সাতটায় তার স্ত্রী’র মোবাইলে কল দিয়ে মুক্তিপণ বাবদ ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অনিমেষ উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের বৈশখালী গ্রামের মৃত নিতাই পরমান্যের ছেলে। এঘটনায় অনিমেষ পরমান্যের ভাই প্রিয়নাথ পরমান্য শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

প্রিয়নাথ পরমান্যের ভাষ্য শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার দাদা রোগী দেখতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ পরিবারের সাথে যোগাযোগ না করায় তারা অনিশেশের মোবাইলে কল দিয়ে তা বন্ধ পান। একপর্যায়ে স্বজনরা উদ্বীগ্ন হয়ে খোঁজ খবর নিতে শুরু করলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে অনিমেষের ফোন দিয়ে অপরিচিত এক ব্যক্তি তাকে জিম্মি করার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এসময় তারা মুক্তিপণ বাবদ ২০ লাখ টাকা দাবি করে বিষয়টি গোপন রাখার ব্যাপারে তাদের সতর্ক করে। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে শ্যামনগর থানায় যেয়ে সাধারণ ডায়েরী করার পর পুলিশ রাতেই উপজেলার সুন্দরবন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়েও অনিমেষকে উদ্ধার করতে পারেনি।

এদিকে অনিমেষের ভাইপো সুব্রত পরমান্য জানান, রোববার তার কাকা অনিমেষ ও প্রতিবেশী ফজলুল হকের ছেলে খলিলের যৌথভাবে একটি জমি ক্রয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল রোববার। ২২ লাখ টাকা মুলমান্যের উক্ত দলিলের খসড়া চুড়ান্ত করার জন্য শনিবার খলিলের নিযুক্ত প্রতিনিধি আমানত গাজীর সাথে তার(অনিমেষের) শ্যামনগর সদরে যাওয়ার কথা ছিল। জমি ক্রয়ের জন্য গচ্ছিত টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য তার কাকাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে বলে দাবি কার।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বিশ^াস জানান অনিমেষ পরমান্য কৈখালী ইউনিয়নের কৃত্রিম প্রজনন কর্মী হিসেবে দায়িত্বরত। তার নিখোঁজ হওয়াসহ পরবতী নানা ঘটনায় সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার রাতেই থানায় যেয়ে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে খলিল হোসেনে ভাষ্য তারা তিনজন মিলে সাড়ে ২২ লাখ টাকায় একটি জমি কিনতে চেয়েছিলেন। স্থানীয় দালাল আমানত গাজীকে সাথে নিয়ে অনিমেষের শনিবার দুপুরের আগে শ্যামনগর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডাকাতরা তাকে অপহরণ করার কারনে রোববার জমি রেজিস্ট্রি হচ্ছে না। তবে অনিমেষ অপহরণের সাথে নিজের কোন সম্পৃক্ততার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানান অনিমেষের পরিবারের নিকট আসা ফোন কলের লোকেশনসহ নির্ধারণের পর আশপাশের এলাকায় শনিবার দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সন্ধান মিলেছে-জানিয়ে তিনি আরও বলেন পুলিশ গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে। সাম্ভব্য সবগুলো সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে অনিমেষের নিখোঁজ ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

Ads small one

কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার রেজাকাটি শহীদ জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক নতুন ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বাধা দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও তাঁর সহযোগীর হাতে জমির মালিক দম্পতি লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই (সোমবার) জমির মালিক ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম ও সহকারী শিক্ষক কাকরকে অভিযুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসানপুর ইউনিয়নের ৫০ নম্বর রেজাকাটি মৌজার ৩৭৫৪ নম্বর দলিল ও সংশ্লিষ্ট খতিয়ান সূত্রে ফিরোজা খাতুন ডাঙ্গা ও অন্যান্য শ্রেণিতে মোট ১৮.৩৮ শতক জমির মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে বিভিন্ন ফলের গাছগাছালিও রোপণ করেছিলেন তিনি। তবে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের আয়াকে দিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলেন এবং উক্ত বিতর্কিত জমিতেই স্কুলের নতুন ভবনের কাজ শুরু করেন।
গত ২০ জুলাই সকালে ফিরোজা বেগম ও তাঁর স্বামী মো. আব্দুল হাদিস নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং সরকারি আমিন দিয়ে জমি মেপে ভবন করার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আব্দুল হাদিসকে মারধর ও গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম বলেন, মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। স্কুলে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে। ফিরোজা বেগমের জমি স্কুলের ভেতর রয়েছে কিনা তা তাঁর জানা নেই; সরকারিভাবে নকশা এলে জমি মেপে দেখা হবে।
যোগাযোগ করা হলে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন জানান, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা ভুয়া এবং স্বাক্ষর জালের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে শেষ ধাপের তদন্ত শেষে এ তথ্য জানা যায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তেরখাদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মতিয়ার রহমান ও খুলনা সদর থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এই অভিযোগের ওপর তদন্ত চালান। এতে উপজেলার ৩৪ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য লিখিত ও মৌখিকভাবে জমা দেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের রিট মামলার খরচ বাবদ শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ও সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীম মিলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করেছেন। তবে অভিযোগের মূল ভিত্তি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়।
তদন্তে হাজির হয়ে অভিযোগকারী হিসেবে নাম থাকা সহকারী শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমন কোনো কাগজে সই করেননি; তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। অন্যদিকে ফোনে যোগাযোগের পর অপর অভিযোগকারী সুভাষ চন্দ্র মন্ডলও একই কথা জানিয়ে বলন, মধুখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার তাঁর সই জাল করেছেন।
অবশ্য বাবুল আক্তার জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমতি নিয়েই অন্য প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন। এ বক্তব্যের পরই সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্বাক্ষর জালিয়াতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
পাইকগাছা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বলেন, ১০ম গ্রেড নিয়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি। শিক্ষক সংগঠনকে হেয় করতে একদল শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় আশাশুনি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের আর্থিক সহায়তায় এবং ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘আইসিআরডিসিভি-৩’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু।
ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শামসুল হক মৃধার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক সম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিতীশ চন্দ্র গোলদার, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মণ, এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির।
এ ছাড়া সভায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাস, বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রিজাউল করিম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী ও আবু বক্কর সিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিপিপি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো এবং টেকসই অভিযোজন কৌশলের ওপর জোর দেন বক্তারা। দুর্যোগ পূর্ববর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ ও ঝুঁকি হ্রাসে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।