শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শ্যামনগরে জিম্মিদশা থেকে যুবককে উদ্ধার করলো পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে জিম্মিদশা থেকে যুবককে উদ্ধার করলো পুলিশ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে আলফাজ আহমেদ সুজন নামে (২৫) এক যুবক পুলিশের সাড়াঁশি অভিযানের মুখে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাছারীব্রিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতে কাশিমাড়ী এলাকা থেকে উদ্ধার হয়। সে উপজেলার বাদুড়িয়া গ্রামের কামরুল ইসলাম মোড়লের ছেলে। পাওনা স্বর্ণের চেইন ও টাকার জন্য ডেকে নিয়ে ঐ যুবককে বসিয়ে রাখার দাবি করেছে ঘটনায় জড়িতরা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সম্রাট শাহাজান ও নাজমুল হোসেনর দুই ব্যক্তি পথরোধ করে। একপর্যায়ে ব্যবহৃত মটর সাইকেলসহ তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সুজনের পরিবার জরুরী পরিষেবার নম্বরে কল দিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানায়।

 

এসময় শ্যামনগর থানার সেকেন্ড অফিসার বিপ্লব হোসেন, উপ-পরিদর্শক সুদেব মন্ডল, উপ-পরিদর্শক সনজিত মন্ডল ও সহকারী উপ-পরিদর্শক সজীব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে নামে।
পুলিশ সুত্র আরও জানায় প্রযুক্তির সহায়তায় আভিযানিক দলের সদস্য রাত নয়টার দিকে কাশিমাড়ী এলাকায় সুজনের অবস্থান নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে অক্ষত অবস্থায় সুজনকে উদ্দার করতে সক্ষম হয় তারা।

সুজনের ভাষ্য তার ব্যবহৃত মটরসাইকেলে চড়ে শাহাজান ও নাজমুল তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তাকে মারধর না করলেও দিনভর তাকে মানসিক টর্চার করা হয়। পিতার নিকট পাওয়া টাকার জন্য তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলেও তার দাবি। সুজনের পিতা কামরুল ইসলামের দাবি মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলেকে অপহরন করা হয়েছিল। শাহাজান তার নিকট স্বর্ণের চেইন পাওয়ার দাবি করলেও সে সমস্যা মিমাংসিত বলেও তিনি দাবি করেন।

চেষ্টা করেও অভিযুক্ত শাহাজানের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে চাচাত ভাই বাবু জানায় ছেলে চেইন নিয়ে পালিয়েছে বলে কামরুল দাবি করেছিল। সেকারনে পথিমধ্যে সুজনকে পাওয়ার কারনে আটক করে তার পিতাকে ডাকা হয়েছিল। পুলিশের হাতে উঠিয়ে না দিয়ে নিজেদের কাছে আটকে রাখা ‘ভুল ছিল’ বলেও তিনি জানান।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান জরুরী পরিষবো কল পেয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিয়ে চৌকষ একটি দলকে মাঠে নামানোর ৬/৭ ঘন্টার মধ্যে সুজনকে উদ্ধার করা হয়। তবে ভুক্তোভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ করতে সম্মত না হওয়ার কারনে উদ্ধার যুবককে পরিবারের জিম্মায় উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

Ads small one

ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৫০। এমন কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শাই হোপের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ইনিংসে সব হিসাব পাল্টে দিলো ক্যারিবীয়রা। শুক্রবার রাঁচিতে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সফল রান তাড়ার তালিকায় অবশ্য এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৫৯ রান তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার ভারতের ২৪৯ রান পেরিয়ে সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পেসার মায়াঙ্ক যাদব পরপর দুই বলে ফেরান কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে। পরে ২৪ রান করা রোভম্যান পাওয়েলকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে ১২০ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে ভারতীয় বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান তারা।

৩৮ রানে থাকতে মায়াঙ্ক যাদবের সহজ ক্যাচে জীবন পান রাদারফোর্ড। জীবন পেয়ে পরে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রাদারফোর্ড। মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কুলদীপ যাদবের বলে আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছয়।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তোলার গতি ঠিকই ধরে রাখেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪৫ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ। তার ইনিংসে ভর করেই ৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছয়।

এর আগে স্যামসনের ৪১ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তুলেছিল ভারত। ইনিংসের শুরুতে অভিষেক শর্মা ও স্যামসনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র চার ওভারের কম সময়ে ৪২ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা।

তবে সেই ঝড়ো শুরু থামান রোস্টন চেজ। অভিষেককে (২০) ফেরানোর পর ৪৩ রান করা ঈশান কিষান ও শিবম দুবেকেও (৭) আউট করেন তিনি। শামার স্প্রিঙ্গারের শিকার হন স্যামসন (৮২)।

শেষ দিকে আবারও রান তোলার গতি বাড়ায় ভারত। শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক বর্মা মাত্র ৩২ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। আইয়ার ১৮ বলে করেন ৪০ রান। ইনিংসের শেষ ওভারের আগের বলে আউট হন তিনি। তাতে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৪৯ রান। তিলক ১৮ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ক্যারিবীয়দের হয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন রোস্টন চেজ। ৬৪ রানে দুটি নেন শামার স্প্রিঙ্গার।

সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি হবে রবিবার।

শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আন্তর্জাতিক আইনের প্রখ্যাত প্রবক্তা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কৌঁসুলি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, পিল্লাইয়ের এমন মন্তব্যের জের ধরে এ প্রতিক্রিয়া জানায় দেশটি।

শুক্রবার পিল্লাইয়ের নোবেল বিজয়ের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, নোবেল প্রাইজ কমিটি তাদের নৈতিক দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছে। তারা এমন একজন কট্টর বর্ণবাদীকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করেছে, যিনি একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালিয়ে ক্যারিয়ার গড়েছেন।

একই সঙ্গে পিল্লাই ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ও কুৎসা রটাতে উসকানি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারি অন দ্য অকুপাইড প্যালেনস্টাইন টেরিটরি-এর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেন ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই। অবশ্য এই কমিশনটি জাতিসংঘের মূল প্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি কথা বলে না। তবে গত বছর এক প্রতিবেদনে কমিশনটি উল্লেখ করে যে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা সংঘটিত করছে।

সূত্র: এএফপি

গ্রেফতার এড়াতে লিঙ্গ পরিবর্তন, ৮ বছর পর ধরা পড়লেন পলাতক আসামি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
গ্রেফতার এড়াতে লিঙ্গ পরিবর্তন, ৮ বছর পর ধরা পড়লেন পলাতক আসামি

আইনের চোখকে ফাঁকি দিতে মানুষ কত কৌশলই না অবলম্বন করে! কিন্তু কারাদণ্ড এড়াতে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করে বোন সেজে থাকার মতো ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ২০১৮ সাল থেকে পলাতক তোঘরুল বাশার নামের এক ব্যক্তি ঠিক এই অবিশ্বাস্য কাণ্ডটিই ঘটিয়েছেন। অবশেষে দীর্ঘ আট বছর পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

২০১০ সালে সরকারি কর্মকর্তা সেজে তিনটি চুরির ঘটনায় তোঘরুল বাশারকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। কিন্তু ২০১৮ সালে সাজা এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলের কাদিকোয় জেলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের ধরতে এক বিশেষ অভিযান শুরু হলে পুলিশ বাশারের সন্ধান পায়।

তবে পুলিশকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে বাশারের আত্মগোপনের অদ্ভুত কৌশল। তিনি হুবহু তার বোনের রূপ ধারণ করেছিলেন এবং নিজের চেহারা এতটাই বদলে ফেলেছিলেন যে তাকে চেনার কোনও উপায় ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি একজন রূপান্তরকামী নারী হিসেবে বাস করছিলেন।

পুলিশ বাশারের পরিবার ও পরিচিতদের ওপর প্রযুক্তিগত নজরদারি চালিয়ে এই জট খোলে। তদন্তে দেখা যায়, তার বোনের বাড়িতে দুজন তরুণী বসবাস করছেন এবং ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় তারা দুজনেই একই পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন। পুরোনো ছবির সঙ্গে চেহারার কোনও মিল না থাকায় পুলিশ ওই রহস্যময় নারীকে অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেয়। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর বাশারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তার কাছে তার বোনের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়, তবে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনিই পলাতক বাশার। কিছু সূত্রে তার ছদ্মবেশ ধারণের কথা বলা হলেও অন্য বেশ কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে তিনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করেছিলেন। অবশ্য এসবের কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে দৈহিক পরিবর্তন বা নিজস্ব পরিচয় যাই হোক না কেন, তুরস্কের আইন অনুযায়ী বাশারকে পুরুষদের কারাগারেই সাজা ভোগ করতে হবে। কারণ তুরস্কের সরকারি সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমে তিনি কখনোই নিজের নাম বা লিঙ্গ পরিবর্তন করেননি। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা লিঙ্গ অনুযায়ী তাকে পুরুষদের কারাগারেই পাঠানো হচ্ছে।

সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল