রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যামনগরে ডা. অনিমেষ অপহরণ মামলা, গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ডা. অনিমেষ অপহরণ মামলা, গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বৈশখালি গ্রামের পশু চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্য অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তারা সাতক্ষীরার আমলী আদালত-৫ এর বিচারক মেহেদী হাসানের খাস কামরায় অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এ জবানবন্দি দেয়।
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দাতারা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে যুবদল নেতা মাহামুদুল হাসান ডন (৩২), একই গ্রামের সুজাউদ্দিনের ছেলে মুন্সিগঞ্জের ৭নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি আব্দুর জব্বার(৩৫) ও নেছার আলীর ছেলে শাহীনুর গাজী (৩০)। এদিকে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসি সোমবার বিকেলে ভেঙে দিয়েছে অপহরণকারি বনদস্যু আশরাফের বাড়ির ঘরের চাল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২ মে সকাল ১০টার দিকে বৈশখালি গ্রামের টেকনিশিয়ান ভেটেনারী পল্লী চিকিৎসক অনিমেষ পরামান্য বাড়ি থেকে বের হয়ে হরিনগর গ্রামের ফাল্গুনী রপ্তানের বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন। পথিমধ্যে চেয়ারম্যান মোড়ে ট্যারাখালি গ্রামের ও বর্তমানে বৈশখালি গ্রামে বসবাসরত আশরাফ হোসেন তার মোটরসাইকেলে উঠে সুন্দরবন বাজারে যাওয়ার আব্দার করে। তাকে সুন্দরবন বাজারে নামিয়ে দেওয়া হয়। সকাল ১১টার দিকে ফাল্গুনী রপ্তানের বাড়ি থেকে বের হয়ে সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে তাকে থামায় আশরাফ ও রবিউল। এক পর্যায়ে রবিউলের বাড়িতে অসুস্থ গরু দেখতে যাওয়ার কথা বলে দুজনকে মোটরসাইকলে তুলে মীরগাং যেতে হয়। সেখানে গরু না থাকায় গরু আনতে দেরী হবে বলে তাকে নিয়ে সুন্দরবনে ঘুরে আসার কথা বলে রবিউল। এক পর্যায়ে নিজের মোটরসাইকেলে তালা মেরে বেড়িবাঁধের উপর রেখে আশরাফ ও রবিউলসহ নৌকায় ওঠেন তিনি। নৌকায় আগে থেকে জব্বার গাজী, মাহামুদুল হাসান, শাহীনুর ও মতিয়ার বসে ছিল। ধলের খালে নৌকা পৌছালে সকলে তাকে ঘিরে ধরে তার ব্যাগে থাকা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। পরে গামছা ও দড়ি দিয়ে তাকে বেঁধে ফেলে লাঠি দিয়ে মারপিট করে মুক্তিপণ বাবদ ৫০ লাখ টাকা চায়। কেড়ে নেওয়া হয় মোটরসাইকেলের চাবি। পরবর্তীতে তার স্ত্রী সবিতা রানীর কাছে তারই মুঠোফোন থেকে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। তাকে খুঁজে না পাওয়ায় ভাই প্রিয়নাথ পরমান্য ২ মে রাতে থানায় ১০০ নম্বর হারানো সংক্রান্ত ডায়েরী করেন। স্ত্রী সবিতা টাকা দিতে রাজী হওয়ায় ৩ মে রাত সাড়ে সাতটার দিকে আসামী মতিয়ার টাকা নিতে মীরগাং বেড়িবাঁধের উপর আসে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের তৎপরতা দেখে মতিয়ার বনের মধ্যে চলে যায়। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৪ মে সকাল ৮টার দিকে তাকে ফেরৎ দেওয়া হবে বলে শলাপরামর্শ করতে থাকে আসামীরা। রাত ৯টার দিকে সুন্দরবনে পুলিশি অভিযান শুরু হবে জানতে পেরে শাহীনুরের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে নিয়ে শাহীনুর মীরগাং বেড়িবাঁধে আসে। চিৎকার করায় শাহীনুরকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে দেয়। পরে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক সুদেব পাল জানান, মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অনিমেষ পরমান্য বাদি হয়ে সোমবার রাতে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা (৬ নম্বর) দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত ২০১৮ সালে র‌্যাবের হাতে আত্মসমর্পণকারি মাহামুদুল হাসান ডন, শাহীনুর ও জব্বারকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে নিয়ে আসা হয়। বিকেলে তারা আমলী আদালত-৫ এর বিচারক মেহেদী হাসানের কাছে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি পর্যালোচনা করে পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মাঈনউদ্দিন জানান, জবানবন্দি শেষে তিন আসামীকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে) বিকেলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সরকারি আদেশ অমান্য করায় অভিযুক্তকে জরিমানাও করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মৌজার ১৪৯ দাগের ‘ক’ তপশিলভুক্ত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধ নির্মাণের প্রমাণ পান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন তালা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, মাত্র এক শতক সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি আদেশ অমান্য করার দায়ে দ-বিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় নির্মাণাধীন স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জনস্বার্থে কোনো অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

এমএ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাল ডাক্তারি সনদ বিক্রি করে আসছিল ‘প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন’ (পিটিএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার (১০ মে) দুপুরে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা অভিযান চালিয়ে ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছেন।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছিলেন। সে সময় জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এ কে আজাদ ওরফে ইকতিয়ারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে লোকচক্ষুর অন্তরালে চক্রটি তাদের জাল সনদ বিক্রির বাণিজ্য অব্যাহত রাখে।
২০১৬ সালে খুলনার যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (জয়েন্ট স্টক) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড়ে একটি ভাড়া বাসায় পিটিএফের ‘কেন্দ্রীয় হেড অফিস’ খোলেন আবুল কালাম আজাদ। এরপর ডিএমএফ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিসহ ৫৬টি ট্রেডে সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে ট্রেনিং সেন্টার শুরু করেন। আকর্ষণীয় লিফলেটের প্রলোভনে পড়ে বেকার যুবকরা এখানে আসতেন এবং কোর্সভেদে ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডাক্তারি সনদ হাতিয়ে নিতেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক যেকোনো ট্রেনিং বা সনদ প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ কে আজাদ জয়েন্ট স্টকের একটি সাধারণ নিবন্ধনকে পুঁজি করে গত ১১ বছর ধরে অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সরকারি তদারকি না থাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, “পিটিএফ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুয়া সনদ বিক্রি করছেÑএমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খরিয়াটি গ্রামে স্বামীর গচ্ছিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এক গৃহবধূর পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খরিয়াটি হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা আব্দুস সবুর সরদার এই ঘটনায় খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন ও নিজের স্ত্রী রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে আব্দুস সবুরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আব্দুস সবুর বাড়িতে না থাকার সুযোগে রেশমা খাতুন দুই সন্তানকে ফেলে খোকনের সঙ্গে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি মাদ্রাসার সঞ্চয় তহবিলের নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং ৩ ভরি ২ আনা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী আব্দুস সবুর জানান, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংগৃহীত মাদ্রাসার টাকা ব্যাংক ছুটি থাকায় তিনি বাড়িতে রেখেছিলেন। স্ত্রী ও অর্থসম্পদ হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আদালতে সিআর ১৫৯/২৬ (আশাশুনি) নং মামলা দায়ের করার পর আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী ০৮ নং আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।