শ্যামনগরে প্রবাসীর পথ বন্ধ করে চাঁদা দাবির অভিযোগ
সংবাদদাতা: শ্যামনগরে এক আমেরিকা প্রবাসীর দীর্ঘ ২০ বছরের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহা. জিল্লুর রহমানের জমিতে প্রবেশের একমাত্র পথটি রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিনি ও তার পরিবার।
ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমান জানান, গত ২০ বছর ধরে তারা যে পথে যাতায়াত করছেন, সেই পথের সামনের সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) খাস জমিতে সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন স্থানীয় মো. শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন। এতে প্রবাসীর প্রাচীরবেষ্টিত নিজস্ব জমিতে প্রবেশের পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বাধা দিতে গেলে শফিকুল ইসলাম ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে জমি জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা থানায় অভিযোগ করলে বিবাদী শফিকুল ইসলাম গভীর রাতে নিজের ঘরে নিজে আগুন দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। তবে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান সরেজমিনে তদন্ত করে জানান, অগ্নিকা-ের বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো ছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি মীমাংসার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে একাধিকবার বসা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শফিকুল ইসলাম সালিসে বড় অঙ্কের অর্থের দাবি করায় এবং বিচারকদের সিদ্ধান্ত না মানায় কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সালিসেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা চেয়ে গত ৯ এপ্রিল শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা প্রবাসে থাকি, কিন্তু দেশে এসে আমাদের নিজের জমিতে প্রবেশ করতে পারছি না। উল্টো আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।”
শ্যামনগর থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।









