সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

শ্যামনগরে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা পর্যায়ের দিকনির্দেশনা অধিবেশন ও যুব নেটওয়ার্ক গঠন সভা।

সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) শ্যামনগর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘ইয়ুথ শেয়ার-নেট’ প্রকল্প-এর আওতায় দলিত-এর বাস্তবায়নে সম্পন্ন হয়। প্রকল্পটি সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের খুলনা, যশোর, নড়াইল ও বাগেরহাট জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার এখনও একটি সংবেদনশীল ও অনেকাংশে উপেক্ষিত বিষয়। সামাজিক রক্ষণশীলতা, কুসংস্কার এবং তথ্যের অভাবের কারণে বিশেষ করে দলিত ও প্রান্তিক তরুণ-তরুণীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্য থেকে বঞ্চিত হন। এ বাস্তবতায় তরুণদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়িয়ে একটি শক্তিশালী যুব নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২০ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, স্থানীয় যুব ক্লাবের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে মৌলিক ধারণা, শারীরিক স্বায়ত্তশাসন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সামাজিক কলঙ্ক ও বাধা মোকাবেলার কৌশল এবং যুব নেতৃত্ব ও যোগাযোগ দক্ষতা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণমূলক আলোচনা, দলীয় কাজ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উপস্থাপনার মাধ্যমে বিষয়গুলোকে সহজ ও বাস্তবমুখীভাবে তুলে ধরা হয়।

আয়োজকদের মতে, এই দিকনির্দেশনা অধিবেশনের মাধ্যমে একটি জেলা পর্যায়ের যুব নেটওয়ার্ক গঠিত হবে, যা ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ জন যুবক নিজ নিজ এলাকায় ছোট ছোট দল গঠন করে প্রায় ২০০ জন প্রান্তিক তরুণ-তরুণীর মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ক ধারণা দেন দলিত-এর ‘ইয়ুথ শেয়ার-নেট’ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাকিকুরুন আক্তার। এ সময় কর্মসূচিতে অংশ নেন দলিত-এর ‘ইয়ুথ শেয়ার-নেট’ প্রকল্পের অর্থ কর্মকর্তা প্রতাপ কুমার দাস ও প্রোগ্রাম অফিসার রতিকান্ত মুন্ডা।

এসময় বক্তারা বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে নীরবতা ভাঙতে হবে এবং তরুণদের জন্য একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা নির্ভয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। একইসঙ্গে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে যুবকদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছে। তারা ভবিষ্যতে নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আয়োজকদের আশা, ‘ইয়ুথ শেয়ার-নেট’ প্রকল্পের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই যুব নেটওয়ার্ক উপকূলীয় অঞ্চলে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ওরিয়েন্টেশনের সমাপনী পর্যায়ে উপজেলা ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) কর্মকর্তা প্রণব বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে শুধু সচেতনতা নয়, প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করা। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, যে কোনো ধরনের সহিংসতা, নির্যাতন বা হয়রানির ঘটনায় নির্ভয়ে আইনি সহায়তা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরে এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুব সমাজই পারে সমাজের বিদ্যমান কুসংস্কার ভাঙতে এবং একটি নিরাপদ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে। তাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হয়ে কাজ করার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা কাজের তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সাতক্ষীরা শহরের বাড়িতে একা হয়ে পড়া মেয়েটির ওপর তখন পরিবারের কার্যকর কোনো নজরদারি ছিল না। সেই সুযোগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পার হতেই সে জানতে পারে তার স্বামী একজন পেশাদার জুয়াড়ি। পাওনাদারদের চাপ, পারিবারিক কলহ আর স্বামীর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মুখে বাপের বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হয় সে। পরবর্তীতে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করে সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ-মাইনাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জীবনে বাল্যবিবাহের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে এই তরুণী এখন বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উল্লেখ করেন, অবুঝ বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সংসারে অশান্তি শুরু হয় এবং জানতে পারেন স্বামী নিয়মিত জুয়া খেলত ও ঋণের মধ্যে ছিল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে ফিরে এসে আবার পড়াশোনা শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিজের মতো করে জীবন গড়ে তুলতে চান।
সাতক্ষীরা শহরজুড়ে আইনি ফাঁকফোকর, সামাজিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে শতশত কিশোরীর জীবন এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের কলবাড়ি নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে এই কিশোর-কিশোরী এক সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়েছিল যে, বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই অঙ্গীকারনামা অমান্য করে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা জজ কোর্টের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করিয়ে ১৫ ও ১৬ বছরের দুই নাবালক-নাবালিকাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও আইনি ও দাপ্তরিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্য না চাইলে পুলিশ সরাসরি গিয়ে অভিযান চালাতে পারে না।
শ্যামনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য অফিশিয়াল নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি উপস্থিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলামের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এফিডেভিটের মাধ্যমে সামাজিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের বর্তমান গড় হার দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে, যার মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। উপকূলীয় এই অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত লবণাক্ততায় নিয়মিত কাজ করার ফলে কম বয়সে মেয়েদের শরীরের ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে সামাজিক ভীতি থেকে অভিভাবকেরা দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেন।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি হেলেনা বিলকিস জানান, ক্লিনিকে আসা গর্ভবতী নারীদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই বয়সে সন্তান ধারণের কারণে এবং অতিরিক্ত লবণাক্ত পরিবেশের প্রভাবে তাদের উচ্চ রক্তচাপ, এপিলেপসি ও রক্তস্বল্পতার হার বেশি। নদী পার হয়ে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে অনেক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ে বেআইনি। অসাধু নোটারি পাবলিক ও জালিয়াতি চক্র টাকার বিনিময়ে এফিডেভিট করে দিচ্ছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত জানান, কার্যকর নজরদারির অভাবের কারণেই অঙ্গীকারনামা থাকার পরও বাল্যবিবাহ রোখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকারের উদ্যোগ ও সঠিক সনদ যাচাই ছাড়া বিবাহ রেজিস্ট্রি বন্ধ করা প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, গোপনে ও এফিডেভিটের অপব্যবহার করে বিয়ে সম্পাদন করার কারণে সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না, তবে স্থানীয় নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

সংবাদদাতা: আশাশুনির প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপদ অপসারণ ও আগাম সতর্কবার্তা বিষয়ক পরিবারভিত্তিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর বাস্তবায়নে, ‘সিডিডি’-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে ‘রেজিলেন্স বিগিনস এট হোম’ প্রকল্পের অধীনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ২৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর কেয়ারগিভার অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসেন। বক্তব্য দেন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মো. মামুন আলী ও প্রজেক্ট ফোকাল এস এম মিজানুর রহমান।

আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি দখল করে বানানো খুপড়ি ঘর ও বেড়া আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অপসারনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কালিগঞ্জ থানার গোলঘরে অনুষ্ঠিত এক সালিশি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ১৪ আগস্ট রাতে গ্রাম পুলিশ সাইফুল ও তার সহযোগীরা জয়দেব রজক ও বাসুদেব রজকসহ ছয়টি পরিবারের জমিতে খুপড়ি ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে বাসুদেব রজক ও রীনা রানী রজক থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করলে শালিসি সভা ডাকা হয়।
সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল মীর জানান, সাইফুলের পক্ষ থেকে জমির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অবৈধ ঘর ও বেড়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শালিসি সভায় দক্ষিণ শ্রীপুর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলফিকার সাঁফুই ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তনামায় স্বাক্ষর করেন। কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম হাওলাদারকে বদলী করে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মো. শাহীন যোগদান করেছেন।