বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যামনগরে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, ব্যাহত পড়াশোনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, ব্যাহত পড়াশোনা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ঘনঘন বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষা চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা ও রাতের সময় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। অনেক এলাকায় দিনে ৫-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থীরা আলো সংকটের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।

শিক্ষার্থী আব্দুস সাদী জানায়, “পরীক্ষার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ থাকে না। গরমের মধ্যে অন্ধকারে পড়তে খুব কষ্ট হয়, অনেক সময় পড়াই সম্ভব হয় না।” অভিভাবকরাও একই অভিযোগ করে বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে এবং অনেক স্থানে দৈনিক কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই এবারের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী প্রতিবেদককে জানান, এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, এবং পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অন্তত সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা দরকার, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

 

Ads small one

নাটক ও পটগানে জলবায়ু সচেতনতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
নাটক ও পটগানে জলবায়ু সচেতনতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও সচেতনতা বাড়াতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হলো সচেতনতামূলক নাটক ও পটগান। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর আলাউদ্দিন মার্কেট প্রাঙ্গণে এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)-এর ‘প্রোমোটিং ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট কমিউনিটিস ইন বাংলাদেশ’ (পিসিআরসিবি) প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিকেলের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে স্থানীয় শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু এই প্রদর্শনী উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে নাটক ও পটগানের মাধ্যমে উপকূলীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। বিশেষ করে লবণাক্ত পানির কারণে জীবিকা সংকট ও তা থেকে উত্তরণে অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয় দর্শকদের।

আয়োজনের বিশেষ দিক হলোÑ গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘পটগান’-এর মাধ্যমে শিল্পীরা গান ও চিত্রের সংমিশ্রণে জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নাটকের সংলাপে দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই জীবনযাপনের নানা দিক সহজ ভাষায় ফুটিয়ে তোলা হয়। স্থানীয়রা জানান, বিনোদনের পাশাপাশি এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা দুর্যোগের প্রস্তুতি সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানতে পেরেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপগ্রহ ক্লাবের সভাপতি মো. আব্দুল হালিম, সিসিডিবি পিসিআরসিবি প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার অমিতাভ হালদার, পার্থ সাহা, জগদীশ সরদার ও দিল আফরোজ প্রমুখ।

আয়োজক সংস্থা সিসিডিবির প্রতিনিধিরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত বার্তা পৌঁছানো সম্ভব। জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

 

 

 

ভুল পরামর্শে বালাইনাশক ব্যবহার: ৮০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে তরমুজ চাষি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
ভুল পরামর্শে বালাইনাশক ব্যবহার: ৮০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে তরমুজ চাষি

প্রতিকার চেয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: বায়ার ক্রপসায়েন্স লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির প্রতিনিধির ভুল পরামর্শে বালাইনাশক ব্যবহার করে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার এক তরমুজ চাষি। এতে তাঁর প্রায় ৮০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি পবিত্র কুমার মন্ডল আজ বৃহস্পতিবার ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পবিত্র কুমার মন্ডল আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের নড়রাবাদ গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে। এক প্রতিবন্ধী সন্তানের জনক পবিত্র স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলতি মৌসুমে চাম্পাখালী মৌজায় ৮০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে তরমুজ গাছে ফল আসা শুরু হলে বিশ্বরূপ চন্দ্র ঘোষ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বায়ার কোম্পানির ‘কৃষি পরামর্শদাতা’ পরিচয় দিয়ে পবিত্রর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি নিজেকে বায়ারের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা দাবি করে পবিত্রকে আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর দেওয়া ১২ দিনের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ দিলে ফলন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

সূত্রের দাবিÑবিশ্বরূপের দেওয়া তিনটি ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী গত ৭ এপ্রিল ক্ষেতে বালাইনাশক প্রয়োগ করেন পবিত্র। এর ৬-৭ দিন পর গাছগুলোর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। বিষয়টি বিশ্বরূপকে জানানো হলে তিনি অন্য কোনো কোম্পানির ওষুধ ব্যবহার করতে নিষেধ করেন এবং আগের ওষুধই চালিয়ে যেতে বলেন। পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ চালিয়ে যাওয়ার ফলে অধিকাংশ তরমুজ গাছ মরে শুকিয়ে যায়। এতে তাঁর প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যসহ প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে পবিত্র কুমার মন্ডল বলেন, “আমি সরকারি কৃষি অফিসের পরামর্শ না নিয়ে ওই ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে আজ পথে বসেছি। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো পথ নেই। কোম্পানি এখন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা করছে।”

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ছাড়া কোনো বেসরকারি কোম্পানির কথায় অনিবন্ধিত বা মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহার করা চাষিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু এ প্রসঙ্গে বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

অভিযুক্ত বিশ্বরূপ চন্দ্র ঘোষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাষিদের দাবি, নামি কোম্পানির পরিচয় দিয়ে অনেক সময় অসাধু প্রতিনিধিরা গ্রামে এসে ভুল পরামর্শ ও নি¤œমানের ওষুধ গছিয়ে দেয়, যার দায়ভার শেষ পর্যন্ত কৃষককেই নিতে হয়।

 

শ্যামনগরে মৎস্য ঘের দখলচেষ্টা ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে মৎস্য ঘের দখলচেষ্টা ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

সংবাদদাতা: শ্যামনগরে একটি মৎস্য ঘের জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। লিজ নেওয়া ঘেরটি দখল করতে দফায় দফায় মাছ নিধনে বিষ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঘের ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় প্রতিকার ও জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চ-ীপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী গাজীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম ভুরুলিয়া মৌজায় ৫ একর ১০ শতাংশ জমি প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে ‘ডিড’ (চুক্তি) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করে আসছেন। কিন্তু ওই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ভুরুলিয়া গ্রামের বিশ্বজিৎ মন্ডল ও কুমার শানু তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিবাদীরা দলবল নিয়ে তার ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে। এতে ঘেরের বিপুল পরিমাণ গলদা ও সাদা মাছ মারা যায়। এ ঘটনায় শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে জমির মালিক রহিম সরদার বাদী হয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মামলাও (নং ৩৮৯/২৬) দায়ের করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছেÑআদালতের মামলা চলমান থাকলেও গত ২১ এপ্রিল বিবাদীরা পুনরায় ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে। এতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। জবরদখলের প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা চড়াও হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি লিজ নিয়ে ব্যবসা করছি। কিন্তু বিবাদীরা গায়ের জোরে আমার ঘের দখলের চেষ্টা করছে এবং বারবার বিষ দিয়ে আমাকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” শ্যামনগর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।