শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরে সেই নারীর ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সেই নারীর ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রাস্তার মধ্যে প্রসব বেদনায় কাতর এক নারীর জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে রীতিমত প্রসংশায় ভাসলেন বিএনপি নেতা ড. মোঃ মনিরুজ্জামান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালে যান সেই নারীর সদ্য ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে। তিনি চিকিৎসকদের কাছে প্রসূতি মা ও তার সন্তানের স্বাস্থ্যের খোজখবর নেন।

শুক্রবার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার চাঁদনীমুখা গ্রামের বনজীবী হারুন গাজীর স্ত্রী হিরা খাতুনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর জন্য তিনি নিজের ব্যবহৃত গাড়ি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে প্রায় ২৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রসূতিকে বহনকারী গাড়িটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে পৌছাতেই হিরা খাতুন কন্যা সন্তানের জম্ম দেন। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার নীলডুমুর খেয়াঘাটে।

প্রসূতির মা রুমি বেগমসহ অন্যরা জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় হিরা খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হয়। তবে তার স্বামী ও জামাই হারুন মধু সংগ্রহের কাজে সুন্দরবনে অবস্থান করায় সিদ্ধান্ত নিতে যেয়ে তারা দেরি করে ফেলেন।

 

একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যাওয়ায় প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে নৌকা চালিয়ে হিরাকে নীলডুমুর খেয়াঘাটে নেয়া হয়। তবে সেখানে পৌছে কোন যানবাহন না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন সকলে। এসময় তীব্র প্রসব বেদনায় চিৎকার করতে থাকা প্রসূতি হিরার মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করেন তারা। বিষয়টি দেখে ঘটানাক্রমে সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান এগিয়ে যান এবং নিজের গাড়ি দিয়ে তাদের হাসপাতালে পৌছে দেন।

রুমি বেগম জানান, দুর্গম আর উপকুলবর্তী হওয়ায় রাতে কোন যানবাহন পাওয়া যায় না। নৌকা একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হলেও রাতে মেলে না। এলাকায় প্রসূতিদের উপযুক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্র না থাকায় প্রসব বেদনা শুরু হলেই শ্যামনগর সদরে ছুটতে হয়। ইতিপুর্বে এভাবে একাধিক প্রসুতির মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মনিরুজ্জামানের কল্যাণে মেয়েটা সময়মত হাসপাতালে পৌছাতে পেরেছিল। শুক্রবার সকালে মনিরুজ্জামান নানা ধরনের উপঢৌকন নিয়ে সদ্যজাত সন্তানসহ ঐ প্রসূতিকে দেখতে এসেছিল।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ড. মোঃ মনিরুজ্জামানের ভাষ্য তিনি গাবুরায় কর্মী সভা শেষে শ্যামনগরের উদ্দেশ্যে রুনা দিয়ে পথিমধ্যে উক্ত প্রসূতি ও তার অসহায় স্বজনদের দেখতে পান। এসময় খোঁজ নিতে যেয়ে তাদের বিপদের কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে নিজে মোটরভ্যানযোগে শ্যামনগরে ফিরলেও হিরা ও তার স্বজনদের ব্যক্তিগত গাড়িযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তরিকুল ইসলাম জানান সময়মত হাসপাতালে পৌছানের কারনে সমুহ বিপদ থেকে সদ্যজাত শিশু ও তার মা রক্ষা পেয়েছে। দু’জনেই সুস্থ- তথ্য দিযে তিনি আরও বলেন, গাবুরার জন্য বিশেষ একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র অতি জরুরী। তিনি ড. মনিরুজ্জামানের প্রশংসা করে বলেন, তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

এদিকে সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি গাজী ইমরান জানান, এমন মানবিক আচারণ প্রত্যেকের করা উচিত। মনিরুজ্জামান অন্যের জন্য অনুকরণীয় আচারণ করলেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রভাষক দেবাশীষ মিস্ত্রি।

 

 

 

Ads small one

এই পৃথিবী বড়ই অভাগা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
এই পৃথিবী বড়ই অভাগা

অরুণ সান্যাল
এই পৃথিবী বড়ই অভাগা
এখানে সুখের চেয়ে
চোখের জলের মাত্রা বেশি দাগা।
মানুষের বুকে নেই মানুষের টান,
স্বার্থের বাজারে বিক্রি হয় পবিত্র সব মান।

স্নেহের আলো নিভে যায় স্বার্থের ঝড়ে
বিশ্বাস হারিয়ে যায় শূন্যতার ঘরে।
চোখের পলকে আপন মানুষ অচেনা হয়ে যায়,
ভালোবাসা শুধু আজ বেদনার খেলায় হারায়।

তবুও মানুষ বাঁচে মিথ্যে আশার টানে,
অশ্রু লুকিয়ে রাখে মলিন হাসির গানে।
ক্ষতের ওপর প্রলেপ মেখে পথ চলে একা,
ভাগ্যের সাথে যেন নেই কোনো সুখের লেখা।
তবুও তো এই ধরায় কোনো এক কোণে,
ভালোবাসা বেঁচে থাকে নিঃস্ব মানুষের মনে।

“কথার ভার”

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
“কথার ভার”

 

 

বাপী নাগ
রাগ-অভিমান ভুলে একবার এসো, জমে থাকা কথাগুলো একটু ভাগ করে নিই।
কী হলো, শুনতে পাচ্ছ? এখনও কিছু না-বলা কথা রয়ে গেছে— সময়ের ভাঁজে, নীরবতার আড়ালে।
না না, ভয় নেই! আমার শত দুঃখের ভার তোমায় নিতে হবে না, তোমার সুখের অংশও আমায় দিতে হবে না। শুধু কিছু কথার বিনিময়— হয়তো এতেই মনটা একটু হালকা হবে।
রাগ কোরো না, তোমার রোজনামচায় জমে থাকা কিছু কথা আজ নির্দ্বিধায় আমায় বলতে পারো। আমিও প্রতিদিনের বুকের ভেতর জমে থাকা কিছু অপ্রকাশিত কথা নিঃসংকোচে তোমার হাতে তুলে দিতে চাই।
বাকশক্তি থাকা কালীন কথা বিনিময় ছাড়া বেঁচে থাকা বোধহয় অসম্ভব। কারণ, কিছু নীরবতা শব্দের অপেক্ষায়ই বেঁচে থাকে।
আজ নিরবে, নিঃশব্দে, জমে থাকা অনেক কথা বলতে চাই। নেবে কি আমার কথার ভার? শুনবে কি আমার হৃদয়ের দীর্ঘদিনের নীরব স্বীকারোক্তি?
বিশ্বাস করো, সব কথা অভিযোগ নয়, কিছু কথা শুধু মানুষ হয়ে মানুষের পাশে বসার আকুতি। কিছু কথা ক্ষমা চায়, কিছু কথা ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া সেই সহজ সম্পর্ক।
হয়তো কথা বললেই দুঃখের যন্ত্রণা পুরোপুরি মুছে যাবে না, তবু বুকের ভারটা একটু হালকা হবে। কারণ, না-বলা কথার চেয়ে বলা কথার আফসোস অনেক কম।
তাই একবার এসো— শুধু কিছুক্ষণ সময় নিয়ে। আজ কথা হোক, কারণ একদিন হয়তো সময় থাকবে, কিন্তু বলার মতো মানুষটি আর থাকবে না।
কথারা কখনও দূরত্ব বাড়ায় না, দূরত্ব বাড়ায় শুধু নীরবতা। তাই এসো, অভিমানের দেয়াল ভেঙে একবার কথা বলি… হিসেব-নিকেশ নয়,আজ শুধু হৃদয়ের দরজাটা খুলে দিই। যদি কিছুই ফিরে না পাই,তবু এই তৃপ্তিটুকু থাকবে—চেষ্টা করেছিলাম,নীরবতাকে হারিয়েকথার আলোয় ফিরে আসতে।
শেষবারের মতো বলছি- এসো, একবার কথা হোক।
হয়তো সব অভিমান মুছে যাবে না, সব প্রশ্নের উত্তরও মিলবে না। তবু কিছু নীরবতার অবসান হবে, কিছু দীর্ঘশ্বাস ফিরে পাবে মুক্তির পথ।
জীবন তো অনিশ্চিত— কে কখন কোন মোড়ে হারিয়ে যায়, তা কেউ জানে না। তাই সময় থাকতে কথাগুলো বলে নিই, ক্ষমাগুলো চেয়ে নিই, ভালোবাসাগুলো জানিয়ে দিই।
কারণ, একদিন হয়তো মানুষ থাকবে না, শুধু থেকে যাবে— না-বলা কিছু কথা….. আর বুকভরা একরাশ আফসোস।

শ্রাবণের বর্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
শ্রাবণের বর্ষা

দুখু হুমায়ুন
শ্রাবণ মেঘে বরষা নামে
বাংলার পল্লী-গাঁয়,
টিনের চালে মজার তালে
নূপুর বেজে যায়।
তালের পাতা শালের পাতা
বৃক্ষ-লতা যত,
নাচছে হেলে রূপের ছন্দে
দক্ষ পটুয়ার মতো।
হঠাৎ ফাঁকে থামলো বৃষ্টি
সূর্য আঁখি খোলে,
উঠলো হেসে পল্লী বাংলা
অরূপ রূপের কোলে।

আকাশকোণে ফিনকি দিয়ে
রংধনুটা হাসে,
ছড়িয়ে পড়ে রূপের ছটা
সাতটি রঙের পাশে।

হঠাৎ আবার আসলো ধেয়ে
ঝমঝমিয়ে ঢল,
একটুখানি জিরিয়ে বুঝি
ফিরে পেল বল।
শ্রাবণ দিনে এমনি চলে
রূপের লুকোচুরি,
বাংলার বুকে বর্ষা সাজায়
হাজার রূপের ডালি।