বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রীউলায় ভাঙনকবলিত বাঁধ পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
শ্রীউলায় ভাঙনকবলিত বাঁধ পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালী এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল তিনটায় তিনি ওই এলাকায় যান। দীর্ঘ সময় পায়ে হেঁটে তিনি বাঁধের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
হাজরাখালীসহ শ্রীউলা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে প্রতিবছরই বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ জনপদ। ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এলাকার শত শত মানুষ। বর্তমানে হাজরাখালী এলাকার বাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সেকশন অফিসার (এসও) মো. আ. আলিম, শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক দীপঙ্কর বাছাড়, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্যের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাড়িয়ালা হাই স্কুল ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি সংস্কারের নামে তিন মাস আগে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। অথচ বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ ছাড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বাঁধের স্থায়িত্ব কমছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। পাউবোর এসও আ. আলিম জানান, কাজ বন্ধ রাখায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।
পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রবিউল বাশার বলেন, “হাজরাখালী বাঁধের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। দ্রুত কাজ না হলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। আমি টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” সড়ক মেরামতে গাফিলতির বিষয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কোনো পথ না রেখে মাসের পর মাস রাস্তা খুঁড়ে রাখা চরম হতাশাজনক। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি নদীর পাড় রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেন এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Ads small one

শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি সামিউল মনির।

 

সাধারণ সম্পাদক আছাদুজ্জামান লিটনের সঞ্চালনায় সভায় গুণীজন সংবর্ধনা আয়োজনসহ সংবিধানের অস্পষ্টতা দূরীকরণে কমিটি গঠনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া সদস্যদের নিজ হাতে নিউজ লেখা, অনিয়মিত সদস্যদের নিয়মিত হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ ছাড়াই সভায় অনুপস্থিত সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাহিদ সুমন, সোহরাব হোসেন, আবু কওছার, আবু সাঈদ, রনজিত বর্মণ, মোস্তফা কামাল, মোহাম্মদ আলী, শেখ আফজালুর রহমান, কামরুজ্জামান, মুরাদ হোসেন, আরিফ হোসেন, মারুফ হোসেন, আবু মুছা, আমিনুল ইসলাম বকুল, মিজানুর রহমান, সাহেব আলী, রাজিব রায়, টুমু আনাম, আশরাফুল আলম মিন্টু, আব্দুল কাদের, আশিকুর রহমান, মুনসুর আলম, মনজুরুল ইসলাম, আব্দুল আহাদ, মেহেদী হাসান, সামিউল মন্টি, আব্দুল আলিম, মনিরুজ্জামান মিশুক, ফিরোজ হোসেন প্রমুখ।

বিজয়া দশমীতে সাতক্ষীরার ৩৮ পূজাম-পে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
বিজয়া দশমীতে সাতক্ষীরার ৩৮ পূজাম-পে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা

পত্রদূত ডেস্ক: বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এবং প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। এই উৎসব যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্ত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশব্যাপী বিভিন্ন পূজাম-পে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৯টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর সংলগ্ন ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৯টি পূজাম-পের প্রতিমা বিসর্জনের সময় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যগণ নিরাপত্তা প্রদান করছেন। প্রতিটি পূজাম-পকে ঘিরে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ থাকে, সে লক্ষ্যে বিজিবি সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল প্রদান করছে। এই নিরাপত্তার দায়িত্বে ৩৩ বিজিবির ১৬টি প্লাটুন দায়িত্ব পালন করছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য এবং জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম যেন নির্বিঘেœ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা বা দুর্ঘটনা ছাড়াই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে, সে লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত রয়েছে।

 

এ ছাড়া উৎসব চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যরা প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

শ্যামনগরের দুর্গাবাটিতে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের দুর্গাবাটিতে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটিতে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন। বুধবার বিকেল থেকে দুর্গাবাটি এলাকায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। দিনভর উৎসবের আমেজ, মানুষের ভিড় এবং নদীবক্ষে প্রতিমা প্রদর্শনকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।

দুর্গাপূজার সমাপনী দিনে দুর্গাবাটি ও খোলপেটুয়া নদীকে ঘিরে এই আয়োজন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়। শ্যামনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ দুর্গা প্রতিমার শোভাযাত্রা ও বিসর্জন দেখতে দুর্গাবাটিতে সমবেত হন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন শাখার নবনির্বাচিত সদস্যসচিব জি এম রুস্তম আলীর সার্বিক উদ্যোগ ও প্রথম প্রচেষ্টায় দুর্গাবাটির এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দর্শনার্থীদের সমাগম এবং প্রতিমা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উৎসবের ভিন্নমাত্রা যোগ হয়।

বিকেল থেকে দুর্গাবাটি এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমা নিয়ে আসতে থাকেন পূজারিরা। শত শত ট্রলারের মাধ্যমে নদীতে প্রতিমা ঘোরানো হয়। নদীবক্ষে সাজানো প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। নৌযানে করে প্রতিমা প্রদর্শনের এ দৃশ্য উপভোগ করতে নদীর দুই পাড়েও ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দুর্গাবাটি ও আশপাশের এলাকা।

সন্ধ্যার পর খোলপেটুয়া নদীতে একে একে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ সময় আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে ছিল বিদায়ের আবেগ ও আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশা।
স্থানীয়দের কাছে ‘দ্বিতীয় টাকি’ হিসেবে পরিচিত দুর্গাবাটির এ আয়োজন কেবল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন ও উপকূলীয় জনপদের ঐতিহ্যকে ধারণ করে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবেÑএমন প্রত্যাশা দর্শনার্থীদের। সব মিলিয়ে, হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শত শত ট্রলারে প্রতিমা প্রদর্শন এবং খোলপেটুয়া নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শ্যামনগরের দুর্গাবাটিতে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।