সংরক্ষিত নারী আসনে সাতক্ষীরার ৫ নেত্রীর কেউ পেলেন না বিএনপির মনোনয়ন
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে সাতক্ষীরা থেকে আবেদন করা পাঁচ নারী নেত্রীর কেউ শেষ পর্যন্ত মনোনীত হননি। এই পাঁচ নেত্রীই জেলার রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য। তবে শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রের তালিকায় জেলার কারও নাম না থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা হতাশা বিরাজ করছে।
মনোনয়ন বঞ্চিত পাঁচ নেত্রীর রাজনৈতিক প্রোফাইল ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো।
অ্যাডভোকেট শাহানারা পারভীন বকুল: সাতক্ষীরা বিএনপির ‘আশার বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট বকুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সদস্য। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। তার স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকলেও তিনি রাজপথ ও আদালতÑউভয় মাঠেই নেতাকর্মীদের আইনি ও মানসিক সাহস জুগিয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন এবং বিগত দিনের প্রতিকূল সময়ে তৃণমূল কর্মীদের পাশে থেকে তিনি ‘অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ফরিদা আক্তার বিউটি: সাতক্ষীরা জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা আক্তার বিউটি কোনো পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে নয়, বরং নিজস্ব শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে রাজনীতিতে স্থান করে নিয়েছেন। বিগত ১৭ বছর হামলা-মামলা উপেক্ষা করে সাতক্ষীরার রাজপথে নারীদের সংগঠিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন সাহসী ও নিষ্ঠাবান লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত।
অ্যাডভোকেট ফেরদৌসা আরা লুসি: জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি এবং সাবেক জেলা বিএনপি সদস্য অ্যাডভোকেট লুসি একজন নিবেদিতপ্রাণ নেত্রী। তার স্বামী অ্যাডভোকেট. সৈয়দ ইফতেখার আলী ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক। পেশাগতভাবে আইনজীবী হওয়ায় বিগত ১৭ বছরে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে বিপদে-আপদে আইনি সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি। দলের জন্য তার ত্যাগ ও রাজপথের সক্রিয় উপস্থিতি জেলা রাজনীতিতে তাকে বিশেষ অবস্থান দিয়েছে।
সেতারা নাসরিন নিশি: পারিবারিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সেতারা নাসরিন নিশি সাবেক বস্ত্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম মনসুর আলীর পুত্রবধূ এবং সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতউল্লাহ পলাশের স্ত্রী। ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক এই নেত্রী বাংলাদেশ বিমানের ম্যানেজার হিসেবে দীর্ঘ পেশাদার জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। এবারের নির্বাচনে তারেক রহমানের ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নে তিনি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
নুরজাহান পারভীন ঝরনা: উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগরের পরিচিত মুখ নুরজাহান পারভীন ঝরনা। তিনি শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তার স্বামী অ্যাডভোকেট এম এম আশেক ইলাহি মুন্না জেলা বিএনপির সদস্য এবং সাবেক ছাত্রনেতা, যিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। ঝরনা নিজে পেশায় শিক্ষক হলেও ফ্যাসিবাদের সময় জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, সাতক্ষীরা থেকে ৫জন নেত্রী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। দুঃখজনকভাবে এবার সাতক্ষীরা, খুলনা বা বাগেরহাটের কাউকেই সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। বিগত ১৭ বছর আমাদের জেলা অবহেলার শিকার হয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতে স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি হাইকমান্ড নজর দেবেন বলে আশা করি।









