সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৬৩ নম্বর মহেশ্বরীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ইউনুস আলী মোড়লের মৎস্য ঘেরে লুটপাটের সময় বাধা দেওয়ায় রোজিনা খাতুন নামের এক গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর ও পরিধেয় বস্ত্র টেনেহিঁচড়ে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।
কালিকাপুর গ্রামের মো. সোহেল গাজী, মৃত জহর আলী গাজীর দুই পুএ মো. কুদ্দুস গাজী ও মো. আছাদুল গাজী, দেয়াড়া গ্রামের মো. আ. হাই এবং মাদারবাড়িয়া গ্রামের মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশ্বরীপুর গ্রামের মোবারেক মোড়লের পুএ মো. ইউনুস মোড়ল কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লোহার রড, শাবল, হাতুড়ি, ধারালো দা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে মৎস্য ঘেরে প্রবেশ করে মাছ লুটপাট করতে থাকে। এ সময় পরিবারের সদস্য মোছা. রোজিনা খাতুন বাধা দিতে গেলে সোহেল গাজী তাঁর হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করেন। কুদ্দুস গাজী চুলের মুঠি ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে পানিতে চুবিয়ে নাক, মুখ ও চোয়ালে আঘাত করেন।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রোজিনা খাতুন অচেতন হয়ে পানিতে পড়ে গেলে আছাদুল গাজী পরিধেয় কাপড় টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহানি ঘটান। এ ছাড়া রবিউল ইসলাম গলার স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসকের পরামর্শে খুলনায় পাঠানো হয়। কয়রা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদদাতা: আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক-এমপি বলেছেন, সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। তবে জনগণের রায়কে তুচ্ছ করে এ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। ২২ অক্টোবর সাতক্ষীরার আল-আমিন ট্রাস্টের হলরুমে সাতক্ষীরা পৌর ও সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম এবং দলীয়করণের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই সনদের গণরায় প্রত্যাখ্যান করার অর্থ হলো জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করা। সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং পৌর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ১৪ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরান্দা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার মো. মোখলেছুর রহমান (৪০) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আশাশুনি উপজেলার সরাপপুর দারুসসুন্নাহ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগকারী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওই প্রতিষ্ঠানের হিফজ বিভাগের ছাত্র এবং মাদ্রাসার আবাসিক বোর্ডিংয়ে থাকত।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে ওই শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে হয়রানি ও মারধর করা হতো। এ ছাড়া গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতে নিজের কক্ষে নিয়ে শিক্ষার্থীকে দিয়ে হাত-পা টেপানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বোর্ডিং থেকে চাল-ডাল নিয়ে রান্নাঘরে দিয়ে ফেরার পথে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থী চিৎকার করলে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মুখ চেপে ধরেন এবং কাউকে ঘটনাটি না জানানোর জন্য নিষেধ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে বাড়িতে ফিরে শিক্ষার্থী তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। অসুস্থ বোধ করায় তাকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা মো. আক্তারুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার আশাশুনি থানায় মামলা করেন।
আশাশুনি থানার ওসি শাহিদুর রহমান বলেন, “মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরান্দা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ২০ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ৯(১) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনজির হোসেন।