বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ উপকূলীয় মৎস্যজীবী নারীদের ঘামে ভেজা জীবন: স্বীকৃতি, সুরক্ষা ও টেকসই সমাধানের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলীয় মৎস্যজীবী নারীদের ঘামে ভেজা জীবন: স্বীকৃতি, সুরক্ষা ও টেকসই সমাধানের তাগিদ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় জনপদে ভোরের সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় জীবনসংগ্রামের এক নিরবচ্ছিন্ন অধ্যায়। সংসারের রান্নাবান্না ও সন্তানদের দেখাশোনা শেষ করেই শ্যামনগরসহ উপকূলের অসংখ্য নারী হাতে জাল তুলে নিয়ে নেমে পড়েন রূপসা, কালিন্দী বা খোলপেটুয়ার মতো প্রমত্তা নদীতে। জোয়ার-ভাটার গতিপথ মেপে হাঁটু কিংবা কোমরপানিতে ঘণ্টা পর ঘণ্টা জাল টেনে তাঁদের সংগ্রহ করতে হয় বাগদা-গলদার রেণু ও নদীর ছোট মাছ। পরিবারকে দুমুঠো অন্ন জোগানোর এই নিত্যদিনের লড়াই কেবল এক দারিদ্র্যের রূপকথা নয়; এটি তাঁদের অপরিসীম আত্মনির্ভরতা, সহনশীলতা ও দায়বদ্ধতার গল্প।

বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজকাঠামোয় উপকূলীয় নারীদের এই অবদান কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলোÑযে নারীদের ঘামে ভেজা পরিশ্রমে উপকূলীয় সংসারের চাকা ঘোরে, তাঁদের শ্রম আজও সমাজে যথাযথ স্বীকৃতি ও সামাজিক মর্যাদা পায় না। রোদ, বৃষ্টি আর নোনা পানির দীর্ঘ শারীরিক ক্লান্তি সহ্য করে অর্জিত জলজ সম্পদের ন্যায্যমূল্য পান না তাঁরা। স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী ও আরতদারদের দাপটে তাঁদের পাওয়া অর্থের অঙ্ক থাকে অত্যন্ত নগণ্য, যা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তদুপরি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারির শিকার এসব উপকূলীয় নারী। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বেড়িবাঁধ ভাঙন এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে বছরে বহু দিন নদী বন্ধ থাকে। কোনো সঞ্চয় না থাকায় কয়েক দিনের এই কর্মবিরতি তাঁদের ঠেলে দেয় তীব্র খাদ্যসংকটে। সঙ্গে যোগ হয়েছে নদীর নোনা পানির প্রভাবে বিভিন্ন চর্মরোগ ও জরায়ুজনিত নানা শারীরিক জটিলতা। একদিকে অনিশ্চিত জীবিকা, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকিÑএ দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন।
উপকূলীয় নারীদের এই দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামকে টেকসই সমাধানে রূপ দিতে হলে সমন্বিত নীতি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। প্রথমত, এসব মৎস্যজীবী নারীকে ‘শ্রমিক’ ও ‘মৎস্যজীবী’ হিসেবে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় এনে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। দুর্যোগকালীন সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনী ও খাদ্যসহায়তার তালিকায় তাঁদের অগ্রাধিকার প্রদান আবশ্যক। দ্বিতীয়ত, দাদনপ্রথা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে বাঁচাতে সহজ শর্তে ও সুদমুক্ত বা স্বল্পসুদে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তৃতীয়ত, শুধু মাছ ধরার ওপর নির্ভরতা কমাতে নারীবান্ধব বিকল্প কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজনÑযেমন উপকূলীয় জলবায়ুসহনশীল হাঁস-মুরগি বা ছাগল পালন, হস্তশিল্প এবং বিকল্প কৃষিকাজ। একই সাথে স্থানীয় বাজারব্যবস্থায় তাঁদের উৎপাদিত বা সংগৃহীত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে যৌথ বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

নদী বাঁচলে যেমন উপকূলীয় জনপদ বাঁচবে, তেমনি নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে উপকূলের সামগ্রিক অর্থনীতি। উপকূলের মৎস্যজীবী নারীদের এই অসামান্য শ্রমকে অবহেলায় ফেলে রাখা মানে কেবল কয়েকটি পরিবারকে সংকটে রাখা নয়, বরং আমাদের গ্রামীণ ভিত্তিমূলকে দুর্বল করে রাখা। সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল, স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে এখনই এই নারীদের পাশে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সঠিক সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করতে পারলেই উপকূলের এসব অদম্য নারীদের জীবনসংগ্রাম অবশেষে এক স্থায়ী স্বস্তির মুখ দেখবে।

Ads small one

সম্পাদকীয়: মাদুরশিল্প বাঁচাতে উদ্যোগ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: মাদুরশিল্প বাঁচাতে উদ্যোগ জরুরি

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় তালা উপজেলার বহু পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল মাদুর তৈরি। পাটকেলঘাটার মাদুরের সুনামও ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মাদুরের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে এ শিল্প এখন সংকটে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মেলে ঘাসের দাম বেড়েছে, অথচ মাদুরের বিক্রিমূল্য সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে শ্রম ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কারিগরদের হাতে সামান্য অর্থ থাকছে। এ কারণে অনেকেই পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণের অপ্রতুলতা ও সরকারি সহায়তার অভাবও শিল্পটির সংকট বাড়াচ্ছে।
এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমে মাদুরশিল্পীদের সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মাদুরের নকশা ও ব্যবহার বহুমুখী করে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে মাদুর মেলার আয়োজন এবং দেশীয় ও অনলাইন বাজারে বিপণনের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
পাটকেলঘাটার মাদুরশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি স্থানীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির অংশ। তাই শিল্পটি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগেই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এতে ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি বহু প্রান্তিক পরিবারের কর্মসংস্থানও টিকে থাকবে।

 

কলারোয়ায় ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটিই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটিই

কলারোয়া প্রতিনিধি: সামনেই শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে ঘিরে কলারোয়া উপজেলার সব ম-পে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রঙ-তুলির শেষ মুহূর্তের ছোঁয়া। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
বৃহস্পতিবার পৌরসভার তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া মাতৃমন্দির, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া ও গোয়ালঘাটা পূজাম-প ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার নির্মাণ ও রঙের কাজ প্রায় শেষ। ম-পে ম-পে প্রতিমা দেখার জন্য স্থানীয় হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। উৎসব ঘিরে সর্বত্র সম্প্রীতিময় পরিবেশ বজায় রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়ায় এবার ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গতবারের চেয়ে একটি বেশি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভায় জানানো হয়, উপজেলার সবকটি ম-প সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। কোনো ম-পকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

পৌরসভার আটটি ম-প হলোÑতুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া সর্বজনীন, তুলসীডাঙ্গা গোয়ালঘাটা, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া, মুরারিকাটি দক্ষিণ পাড়া, মুরারীকাটি দক্ষিণ হরিসভা, গোপীনাথপুর ঘোষপাড়া, গোপীনাথপুর দক্ষিণ পাড়া ও ঝিকরা হরিতলা সর্বজনীন পূজাম-প।
ইউনিয়ন পর্যায়ের ম-পগুলোর মধ্যে জয়নগরে আটটি, দেয়াড়ায় ছয়টি, কুশোডাঙ্গায় চারটি, জালালাবাদ, কেঁড়াগাছি ও হেলাতলায় তিনটি করে, কয়লা, লাঙ্গলঝাড়া, চন্দনপুর, কেরালকাতা ও যুগিখালিতে দুটি করে এবং সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে একটি ম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস দেবু সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে এবং কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সবার সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে এবারও পূজা সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

তালায় দুর্গাপূজা ঘিরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
তালায় দুর্গাপূজা ঘিরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা

শাহিন আলম, খলিষখালী (পাটকেলঘাটা): শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তালার খলিষখালীতে বিভিন্ন পূজাম-পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে পাটকেলঘাটা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় খলিষখালী রামকৃষ্ণ আশ্রমে এ সভা হয়।
খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাবীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাটকেলঘাটা থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শেখ নূর আহম্মেদ ও শেখ আব্দুল হান্নান, তালা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার, খলিষখালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. সায়েম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জিহাদ হোসেন এবং জয়দেব বাবু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তালা উপজেলা যুবদলের নেতা মেহেদী হাসান।