মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: কৃষকের কান্না ও বিপন্ন কৃষি; ধান আছে, দাম নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: কৃষকের কান্না ও বিপন্ন কৃষি; ধান আছে, দাম নেই

সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের নাচন। কৃষকের উঠোন ভরে ওঠার কথা নতুন ধানের ঘ্রাণে। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম। সাতক্ষীরার বোরো চাষিদের চোখে এখন আনন্দের বদলে অনিশ্চয়তার জল। হাড়ভাঙা খাটুনি আর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ফলানো ফসল এখন তাঁদের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক সংকট, আকাশছোঁয়া মজুরি আর প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধানের আশঙ্কাজনক দরপতন। সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত সাতক্ষীরার কৃষি খাত।
মাঠজুড়ে পাকা ধান পাহার দিলেও তা ঘরে তোলার লোক মিলছে না। জেলার সদর থেকে শুরু করে জেলারÑসর্বত্রই শ্রমিকের হাহাকার। যে সুযোগে দিনমজুরদের দৈনিক মজুরি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এক বিঘা জমির ধান কাটতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি। পেকে যাওয়া ধান ঝরে পড়ার ভয়ে কৃষক যখন হন্যে হয়ে শ্রমিক খুঁজছেন, ঠিক তখন বাজারে ধানের দাম পড়ে যাওয়াটা কেবল দুর্ভাগ্যজনক নয়, বরং এক ধরনের অবিচার।
কৃষকদের এই সংকটের মূলে রয়েছে বিপণন ব্যবস্থার ত্রুটি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যখন আকাশচুম্বী, তখন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো প্রধান খাদ্যশস্যের দাম নি¤œমুখী হওয়াটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। সিন্ডিকেট ও ফড়িয়াদের কারসাজিতে কৃষকের ন্যায্য পাওনা হাতবদল হয়ে চলে যাচ্ছে সুবিধাবাদীদের পকেটে। সরকার ধান সংগ্রহের ঘোষণা দিলেও তার সুফল প্রান্তিক কৃষকের দ্বারে পৌঁছাচ্ছে না বলেই অভিযোগ উঠছে। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়াটি আজও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপমুক্ত হতে পারেনি।
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবেÑএটি কেবল রাজনৈতিক স্লোগান হয়ে থাকলে চলবে না। সাতক্ষীরার কৃষকদের এই ‘সর্বনাশের’ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে সরকারকে অবিলম্বে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে সরাসরি কৃষকের কার্ডের মাধ্যমে ধান কেনার পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার জন্য ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ সহ আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা বাড়াতে হবে, যাতে শ্রমিক সংকটের মুখে কৃষককে জিম্মি হতে না হয়।
মনে রাখতে হবে, কৃষি আমাদের অর্থনীতির মেরুদ-। সেই মেরুদ- যদি লোকসানের বোঝায় ভেঙে পড়ে, তবে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। সাতক্ষীরার চাষিদের মুখের হাসি ফিরিয়ে আনতে এবং কৃষি খাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

 

 

 

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি-জনতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি-জনতা

আরিফ মাহমুদ: ভারত থেকে অবৈধভাবে পুশইন ঠেকাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে সাধারণ জনতা। কিছু সীমান্তে বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারার খবর পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি কলারোয়া সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুরসহ কয়েকটি সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইন করতে বহু নারী-পুরুষকে জড়ো করা হয় বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়। এরই জের ধরে কলারোয়া সীমান্তজুড়ে কঠোর টহল, নজরদারী ও অবস্থান জোরদার করে বিজিবি। বিভিন্নভাবে বিজিবিকে সহায়তা করছেন স্থানীয় জনতাও।

বছরের পর বছর উপজেলার ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাটি মাদক ও চোরাকারবারীদের কাছে বিভিন্ন চোরাচালান, অবৈধভাবে মানুষ যাতায়াতের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত বলে জানা যায়। এর সাথে যোগ হয়েছে সম্প্রতি পুশইনশংকা। ফলে সতর্কাবস্থনে বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা। উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন স্থলভাগ ও নদী দ্বারা ভারতের সাথে বিভক্ত। এর মধ্যে কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের সিংহভাগ ও সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের পুরোটা সোনাই নদী দ্বারা ভারতের সাথে বিভক্ত, আর চন্দনপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ ইছামতি নদী ও বাকী অংশ স্থলভাগে বিভক্ত।

 

নদী সীমান্তের চেয়ে তুলনামূলক স্থলভাগ দিয়ে পুশইন সম্ভাবনা বেশি থাকায় উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী, সুলতানপুর ও গোয়ালপাড়ার স্থল সীমান্তে বিজিবির টহল ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

 

বিজিবির সুলতানপুর বিওপির কমান্ডার নায়েক সুবেদার কামরুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে ওই বিওপির অধীনে সাড়ে ৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোন অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।

সুলতানপুর ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবীর জানান, হ্যান্ড মাইকে সতর্কতা, সীমান্তে বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারা, রাতে টর্চলাইটের আলো এবং কঠোর অবস্থান রয়েছে।

সাতক্ষীরা, ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া ইনচার্জ সার্জেন্ট মিলন জানান, এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ পুশইন রোধ করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ছাত্রদলের নেতারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১টায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের কার্যালয়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন ইসলামের নেতৃত্বে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মঞ্জুরুল আলম বাপ্পী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদুল আলম, দিবা-নৈশ কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব তামিম রশিদ, সিটি কলেজ ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হাসান, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আকবর হোসেন, আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়ারাজ হোসেন, শহর ছাত্রদলের সদস্য শরিফুল ইসলাম এবং ছাত্রনেতা মো. গোলাম রাব্বি।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে জেলা প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে কলারোয়া হাসপাতাল রোডে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।

তিনি জানান, লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, অপরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কারণে মিতালী ডায়গনস্টিক সেন্টারকে ২০হাজার টাকা ও ডক্টরস ডিজিটাল ল্যাবকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় কলারোয়া থানার ওসি এইচএম শাহীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শফিকুল ইসলাম, বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।