মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ জলাবদ্ধতার অভিশাপ কাটিয়ে সম্ভাবনার আলো: সাতক্ষীরার পানি ফল চাষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ জলাবদ্ধতার অভিশাপ কাটিয়ে সম্ভাবনার আলো: সাতক্ষীরার পানি ফল চাষ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় বছরের পর বছর ধরে অগণিত একর জমি আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টির পানিতে থইথই করে। অপরিকল্পিত নদী ভরাট, অপ্রতুল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বেড়িবাঁধের জটিলতায় হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতার শিকার। এতে ঐতিহ্যবাহী ধানচাষ বন্ধ হয়ে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের জীবন-জীবিকা প্রায় থমকে দাঁড়ানোর উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু সাতক্ষীরার পরিশ্রমী ও উদ্ভাবনী কৃষকেরা জলাবদ্ধতার এই দীর্ঘ অভিশাপকেই রূপান্তরিত করেছেন অর্থনৈতিক আশার আলোয়। অকেজো পতিত জলাশয়ে পানি ফল (পানি সিংড়া) চাষের মাধ্যমে যে নীরব অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটছে, তা আজ গোটা দেশের জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর জেলায় যেখানে ১৬৪ হেক্টর জমিতে পানি ফলের চাষ হয়েছিল, চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ হেক্টরে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই পতিত জমি থেকেই প্রায় ১০০ কোটি টাকার পানি ফল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি কেবল এক হাজার একর জলমগ্ন জমির সদ্ব্যবহারই নয়; বরং এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন রূপান্তরের গতি এসেছে। সামান্য বিনিয়োগে প্রতি বিঘায় ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে যেখানে প্রায় দেড় লাখ টাকার ফল বেচাকেনা হচ্ছে, সেখানে প্রান্তিক কৃষকের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

এই কৃষি বৈচিত্র্যের সবচেয়ে আশাব্যাঞ্জক দিকটি হলো গ্রামীণ কর্মসংস্থান, বিশেষ করে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ। জলমগ্ন জমি পরিচর্যা থেকে ফল সংগ্রহ ও বিপণনের কাজে স্থানীয় শত শত নারী ও পুরুষ শ্রমিক প্রতিদিনের নিশ্চিত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয় বাজার থেকে শুরু করে পাইকারি ব্যবসায়ী পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) যুক্ত প্রতিটি ধাপে আয় ও কর্মসংস্থানের নিত্যনতুন দুয়ার খুলছে। এর পাশাপাশি এই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল জেলা শহরের গ-ি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে পৌঁছে পুষ্টির চাহিদাও মেটাচ্ছে।

তবে এই উজ্জ্বল সম্ভাবনার পথ পুরোপুরি নিষ্কণ্টক নয়। মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিলে দেখা যায়, কৃষকেরা নিজস্ব উদ্যোগে ঝুঁকি নিয়ে এই চাষে নেমেছেন। চাষিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের সরবরাহ, কীটনাশক ও সার ব্যবস্থাপনা, আর সবচেয়ে বড় কথাÑকৃষি ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দ্রুত পচনশীল এই ফল বাজারজাতকরণের জন্য উপযুক্ত পরিবহন ও শীতলীকরণ বা হিমাগার সুবিধাও এখন সময়ের দাবি। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সঠিক বাজার সংযোগ গড়ে তুলতে না পারলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষক প্রকৃত মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা একটি দীর্ঘমেয়াদি ভূ-প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত সংকট, যার স্থায়ী সমাধান অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তরের যে প্রয়াস কৃষকেরা দেখাচ্ছেন, তা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার দাবি রাখে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যদি পানি ফল চাষিদের উন্নত প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেয়, তবে সাতক্ষীরার অবহেলিত জলাবদ্ধ অঞ্চল কেবল ১০০ কোটি টাকার পানি ফলই নয়, দেশের নীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) ও জলজ কৃষির অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

 

 

 

Ads small one

কপ৩১-কে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা: ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
কপ৩১-কে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা: ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-কে সামনে রেখে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম এই পদযাত্রার আয়োজন করে।

সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে পদযাত্রাটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশ ও পক্ষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, দিন দিন বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করছেন। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি, জীবিকা ও সুপেয় পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বারবার দুর্যোগে নিঃস্ব হয়ে অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। জীবিকার তাগিদে তাদের কেউ কেউ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

তারা বলেন, কপ৩১-কে সামনে রেখে জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে জোরালো দাবি তুলে ধরতে হবে।

এসময় গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, গ্রীন কোয়ালিশনের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, জেলা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সদস্যসচিব ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মো. মফিজুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য জ্যোতি সরকার প্রমুখ। #

সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত: প্রয়োজন সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত: প্রয়োজন সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ

সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ ও প্রাণহানির হার প্রতিদিন বাড়ছে। সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরাতেও প্রতিদিন নতুন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ২৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ কাজের বা পড়াশোনার জন্য পার্শ্ববর্তী জেলা খুলনায় অবস্থান করছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরে সাতক্ষীরায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। সারাদেশে মৃত্যু প্রায় তিন শতাধিক এবং আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁইÑযা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিগত বছরগুলোর চরম ব্যর্থতা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সংকটের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রার তারতম্য, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এডিস মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমানে এডিস মশার বিস্তার কেবল রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে সীমাবদ্ধ নেই; গ্রাম ও মফস্বলেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে শয্যা, প্রয়োজনীয় কিট ও ওষুধের সংকট এই মুহূর্তে না থাকলেও মূল সমস্যা রয়ে গেছে প্রতিরোধের জায়গায়। কেবল আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেই এ মহামারির মতো সংকট নিরসন সম্ভব নয়; প্রয়োজন এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র নির্মূল করা।

প্রতি বছর ডেঙ্গুর মওসুমে রুটিনমাফিক কিছু স্প্রে ও মৌখিক প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশলের ঘাটতি সুস্পষ্ট। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথমত স্থানীয় প্রশাসন ও কৌরসভাগুলোকে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে কার্যকর মশক নিধন অভিযান চালাতে হবে। ব্যবহৃত কীটনাশকের মান, কার্যকারিতা ও সঠিক মাত্রা নিয়মিত মনিটর করা জরুরি, যাতে নি¤œমানের কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ ও শ্রমের অপচয় না ঘটে।

দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশা স্বচ্ছ জমাটবদ্ধ পানিতে বংশবৃদ্ধি করে এবং মূলত দিনের বেলায় কামড়ায়। ফলে নিজ নিজ ঘরবাড়ি, আঙিনা, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি মওসুমি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি একটি স্থায়ী জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। সময় এসেছে প্রথাগত মশক নিধন কার্যক্রমের বাইরে এসে বছরব্যাপী গবেষণা, মশার লার্ভা ধ্বংসের কার্যকর প্রযুক্তি এবং সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারণাকে সমন্বিত করার। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশকে এডিস মুক্ত রাখতে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; নতুবা ডেঙ্গুর এই রূপ আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বাঁশদহায় কাওনডাঙ্গা বাজারে রমজান আলীর মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
বাঁশদহায় কাওনডাঙ্গা বাজারে রমজান আলীর মতবিনিময়

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১নম্বর বাঁশদহা ইউনিয়নের কাওনডাঙ্গা বাজারে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রমজান আলী। সোমবার কাওনডাঙ্গা বাজারে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।