মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: জাটকা সংরক্ষণই হোক আগামীর রূপালি বিপ্লবের সোপান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: জাটকা সংরক্ষণই হোক আগামীর রূপালি বিপ্লবের সোপান

‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’Ñএই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি, কৃষ্টি ও রসনাবিলাসে ইলিশের স্থান অনন্য। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ কেবল একটি সরকারি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আমাদের জাতীয় সম্পদ রক্ষার এক জীবনমুখী আন্দোলন।
ইলিশ কেবল মাছ নয়, এটি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের এক অনন্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। তথ্যমতে, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে এবং প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। বিগত এক দশকে সরকারি নানা পদক্ষেপে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে। তবে এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে জাটকা রক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, মাত্র ২০ শতাংশ জাটকা রক্ষা করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বছরে আরও প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও বেহুন্দি জালের অবাধ ব্যবহার জাটকা নিধনের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল নদীতে অভিযান চালিয়ে এই নিধনযজ্ঞ বন্ধ করা কঠিন; বরং এসব জালের কারখানা ও বিক্রয়কেন্দ্রে কঠোর নজরদারি এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকাকালীন জেলেদের জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে আসে। সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে চাল সহায়তা দিলেও অনেক ক্ষেত্রে তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের ঋণের কিস্তি ও সংসার চালানোর চাপ তাদের নিষিদ্ধ সময়েও নদীতে নামতে প্ররোচিত করে। তাই কেবল দ- বা জেল-জরিমানা নয়, জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প কর্মসংস্থান ও সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা গেলে জেলেদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
নদীর নাব্য সংকট, শিল্পবর্জ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইলিশের বিচরণক্ষেত্র আজ হুমকির মুখে। এর মধ্যে জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে এই রূপালি শস্য অচিরেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠবে। এক্ষেত্রে কেবল সরকার বা মৎস্য অধিদপ্তরের ওপর দায় না চাপিয়ে সাধারণ ক্রেতা হিসেবে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ কেনা থেকে বিরত থাকা এবং জাটকা নিধনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত পালিত হতে যাওয়া এই সংরক্ষণ সপ্তাহ সফল হোক। রূপালি ইলিশের প্রাচুর্য বজায় রাখতে জাটকা রক্ষা করা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। আজকের জাটকাকে বড় হতে দিলে তা আগামীকাল আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আসুন, জাতীয় স্বার্থে আমরা প্রতিজ্ঞা করিÑজাটকা ধরব না, জাটকা কিনব না এবং জাটকা খাব না। দেশের রূপালি সম্পদ রক্ষা পাক আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

Ads small one

শ্রীলঙ্কার বিমানবন্দরে ১১০ কেজি গাঁজাসহ ২২ বৌদ্ধ ভিক্ষু আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কার বিমানবন্দরে ১১০ কেজি গাঁজাসহ ২২ বৌদ্ধ ভিক্ষু আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১১০ কেজি গাঁজাসহ ২২ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আটক করেছে শুল্ক বিভাগ। শনিবার ব্যাংকক থেকে বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার পর তাদের আটক করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

শ্রীলঙ্কার শুল্ক বিভাগের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন মন্দিরে প্রশিক্ষণরত কনিষ্ঠ ভিক্ষু। চার দিনের ব্যাংকক সফর শেষে ফেরার সময় তাদের লাগেজে কুশ নামক শক্তিশালী গাঁজা লুকিয়ে রাখা ছিল। লাগেজের ভেতর গোপন কুঠুরি বানিয়ে তারা প্রায় পাঁচ কেজি করে মাদক বহন করছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের ভেতরে ভিক্ষুরা তাদের মুখ লুকানোর চেষ্টা করছেন। রবিবার তাদের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

কর্মকর্তাদের মতে, শ্রীলঙ্কার কোনও বিমানবন্দরে গাঁজা উদ্ধারের এটিই একক বৃহত্তম ঘটনা। জব্দ করা এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১০ কোটি রুপি (২৫ লাখ পাউন্ড)।

স্থানীয় দৈনিক ডেইলি নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিক্ষুদের এই ভ্রমণ ছিল অন্যের পৃষ্ঠপোষকতায়। তাদের মোবাইল ফোনে থাকা ছবিতে তাদের ব্যাংককে সাধারণ পোশাকে আনন্দভ্রমণ করতে দেখা গেছে।

এই ঘটনায় কলম্বোর উপকণ্ঠ থেকে আরও এক ভিক্ষুকে আটক করা হয়েছে, যাকে এই ভ্রমণের মূল আয়োজক বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ওই ব্যক্তি ভ্রমণে ছিলেন না। তিনি অন্য ভিক্ষুদের বলেছিলেন যে, এই পার্সেলগুলো অনুদান এবং পরে একটি ভ্যান এসে এগুলো সংগ্রহ করবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছরের মে মাসে একই বিমানবন্দরে ৪৬ কেজি মাদকসহ এক ২১ বছর বয়সী ব্রিটিশ তরুণীকে আটক করা হয়েছিল। দক্ষিণ লন্ডনের কুলসডন থেকে আসা শার্লট মে লি নামের ওই তরুণীও ব্যাংকক থেকে কলম্বো যাচ্ছিলেন। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, তার অজান্তেই তার লাগেজে মাদক রাখা হয়েছিল।

 

ভারতীয় ভিসার বিষয়ে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
ভারতীয় ভিসার বিষয়ে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা প্রাপ্তি সহজ হওয়া এবং বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে শিগগিরই তা স্বাভাবিক হওয়ার সুখবর দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিন মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর ইকবালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মঙ্গলবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্তাপিত হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘‘ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও সংহতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে অভিন্ন মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক সংযোগ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সার্বভৌম সমতা, ন্যায্যতা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।’’

ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান সংসদকে জানান, ভারতের সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ইতোমধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ভারত সফরে সেদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক ভিসার প্রক্রিয়া পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুতই ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এত তেল ইরানে, রাখতে হচ্ছে পরিত্যক্ত ট্যাঙ্কে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
এত তেল ইরানে, রাখতে হচ্ছে পরিত্যক্ত ট্যাঙ্কে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে তেল রফতানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে ইরান। দেশে তেলের মজুত বেড়ে যাওয়ায় তা সংরক্ষণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে তেহরান। পরিস্থিতির চাপে পড়ে দেশটি এখন এমন সব পরিত্যক্ত স্থানে তেল রাখার চেষ্টা করছে, যেগুলোকে শিল্প খাতে বাতিল গুদাম হিসেবে অভিহিত করা হয়। একই সঙ্গে, অপরিশোধিত তেল চীনের বাজারে পাঠাতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রেলপথ ব্যবহারেরও চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থায় ইরানের তেল অবকাঠামো এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কে আগে নতি স্বীকার করে, তা দেখার জন্যই চলছে এই অদৃশ্য লড়াই।

গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করার আগে থেকেই দেশটি তেলের মজুত নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল। অ্যানালাইটিক্স প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল ইরান প্রতিদিন গড়ে ২১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট লোড করতো। অবরোধের পর ১৪ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল এই হার কমে দৈনিক ৫ লাখ ৬৭ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে। যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে ইরান দৈনিক গড়ে ২০ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করতো।

রফতানি পথ বন্ধ থাকায় ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানি এখন বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। কেপলার-এর তথ্য অনুসারে, যদি এই অবরোধ অব্যাহত থাকে, তবে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ইরানের তেল উৎপাদন বর্তমান থেকে অর্ধেকে নেমে অর্থাৎ ১২ লাখ থেকে ১৩ লাখ ব্যারেলে ঠেকতে পারে।

মজুত সক্ষমতা ফুরিয়ে আসছে বলে অপারেটররা এখন নতুন পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে। ইরানের আহভাজ ও আসালুইয়ের মতো দক্ষিণাঞ্চলীয় তেল কেন্দ্রগুলোতে থাকা পরিত্যক্ত ট্যাংক ও কন্টেইনারে তেল রাখার কাজ শুরু হয়েছে। এক ইরানি তেল কর্মকর্তা জানান, অনেক ট্যাঙ্ক নাজুক অবস্থার কারণে এতদিন অব্যবহৃত ছিল। এছাড়া সাগরে ভাসমান ট্যাঙ্কারেও তেল রাখার চেষ্টা চলছে। তবে এসব ট্যাঙ্কার এখন বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পারছে না।

ইরানি তেল রফতানিকারক ইউনিয়নের মুখপাত্র হামিদ হোসেইনি জানান, তারা রেলপথ ব্যবহার করে চীনে তেল পাঠানোর চেষ্টা করছেন। তেহরান থেকে চীনের ইউউ এবং শিয়ান শহর পর্যন্ত রেল সংযোগ থাকলেও এটি মোটেও সাশ্রয়ী নয়। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি নীতি বিশেষজ্ঞ এরিকা ডাউনস বলেন, দুঃসময়ে মরিয়া পদক্ষেপ নিতে হয়। কিন্তু পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় এটি কোনও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

হঠাৎ তেল উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া বা কমিয়ে দেওয়া ইরানের পুরোনো তেল ক্ষেত্রগুলোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির মতে, ইরানের প্রায় অর্ধেক তেলক্ষেত্রের চাপ কম বা ভূতাত্ত্বিকভাবে নাজুক। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে এগুলোতে স্থায়ীভাবে উৎপাদন ক্ষমতা হারানোর শঙ্কা রয়েছে।

ইরান আশা করছে, এই অর্থনৈতিক দুর্ভোগ তাদের অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, উৎপাদন বন্ধের চাপ আলোচনার গতি বাড়াতে পারে।

তবে প্রথম দফার আলোচনা কোনও সাফল্য ছাড়াই শেষ হয়েছে এবং ইরান দ্বিতীয় দফায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইরান বর্তমানে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে তারা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিনিময়ে যুদ্ধ শেষ করা এবং মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে সোমবার হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরানের এই প্রস্তাব নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তার কঠোর অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত।

অনেকে মনে করছেন, দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে ইরানের তেল মজুতের জায়গা পুরোপুরি ফুরিয়ে যেতে পারে, যাকে শিল্প পরিভাষায় বলা হয় ‘ট্যাঙ্ক ভর্তি’। বর্তমানে ইরানের স্থলভাগের তেল মজুতের পরিমাণ ৪৬ লাখ ব্যারেল বেড়ে প্রায় ৪৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এর মোট সক্ষমতা ৯৫ মিলিয়ন ব্যারেল হলেও ভৌগোলিক ও নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতায় এর বড় অংশই ব্যবহারযোগ্য নয়।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮.২৩ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই সংকট সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, ইরানের তেল অবকাঠামো বিকল হতে বড়জোর তিন দিন সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের এক জ্বালানি কর্মকর্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ চলাকালীন ইরানের কোনও তেলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল