সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার দায়
{"data":{"source_platform":"mobile_2","pictureId":"b9cfa949cee04c3998ddbdd6dbeff509","appversion":"8.5.0","stickerId":"","filterId":"7580249178828180737","infoStickerId":"","imageEffectId":"","playId":"","activityName":"","os":"android","product":"retouch","originAppId":"7356","exportType":"","editType":"","alias":"","enterFrom":"enter_launch","capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]},"effect_type":"tool","effect_id":"filter#7580249178828180737"},"source_type":"hypic","tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"client_key":"awgvo7gzpeas2ho6","template_id":"","filter_id":["7580249178828180737"],"capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]}}"}
সাতক্ষীরা জেলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে বুধবার দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় যে চিত্রটি সামনে এসেছে, তা এক কথায় হতাশাজনক। জেলায় ৬৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী মানুষ থাকলেও তাদের আইনি অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্লিপ্ততা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে, যেখানে বিপুল সংখ্যক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে, সেখানে মাত্র ২ শতাংশের উপবৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি উচ্চশিক্ষার পথকে শুরুতেই রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩’ একটি সংবিধিবদ্ধ আইন। এই আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি সভা করা বাধ্যতামূলক। অথচ সাতক্ষীরায় উপজেলা সুরক্ষা কমিটিগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘কাজের চাপের’ অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যখন একটি সংবিধিবদ্ধ কমিটির সভা বছরের পর বছর হয় না, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের তালিকায় এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীটি কতটা উপেক্ষিত।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আশিস বিশ্বাসের মতো শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষা কেন্দ্রে আইনি অধিকারভুক্ত ‘অতিরিক্ত সময়’ পান না, তখন তা কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়ে দাঁড়ায়। শ্রুতিলেখক বা অতিরিক্ত সময়ের নীতিমালার সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের কেন দ্বারে দ্বারে অনুরোধ করতে হবে? কেন জেলা শিক্ষা অফিস বা পরিসংখ্যান অফিসে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সঠিক ডাটাবেজ থাকবে না? এই তথ্যহীনতা প্রমাণ করে যে, তাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা প্রশাসনের নেই।
সাফল্যের যে দু-একটি উদাহরণ আমরা দেখি, যেমন সিহাব সিদ্দিকীর মতো অদম্য তরুণদের সংগ্রামÑতা মূলত তাদের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ফল। রাষ্ট্র বা প্রশাসন এখানে সহায়ক হওয়ার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে। চাহিদার তুলনায় উপবৃত্তির বরাদ্দের স্বল্পতা আরেকটি বড় বাধা। ভাতা বা করুণা নয়, বরং সংবিধিবদ্ধ অধিকার হিসেবে উপবৃত্তির আওতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত যৌক্তিকÑআইন অমান্য করা কোনো দাপ্তরিক ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে বৈধ করা যায় না। আমরা মনে করি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় সাতক্ষীরার উপজেলা সুরক্ষা কমিটিগুলোকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষা বিভাগ ও সমাজসেবা কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ডাটাবেজ তৈরি এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের আইনগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবন্ধকতা যে মেধার পথে বাধা নয়, তা সিহাবরা বারবার প্রমাণ করছেন। এখন প্রয়োজন প্রশাসনের সদিচ্ছা। আইন আছে, নীতিমালাও আছে; এখন প্রয়োজন কেবল সেগুলোর কঠোর প্রয়োগ। রাষ্ট্রের সম্পদ ও সুযোগে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়, বরং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।









