সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: শিক্ষার্থীহীন মাদ্রাসায় ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: শিক্ষার্থীহীন মাদ্রাসায় ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী!

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল প্রাণ হলো শিক্ষার্থী। অথচ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার যে চিত্র গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা কেবল উদ্বেগজনকই নয়, রীতিমতো স্তম্ভিত করার মতো। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে যে প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী নেই, কোনো শ্রেণিকক্ষ বা শিক্ষা উপকরণ নেই, সেখানে কাগজে-কলমে বহাল তবিয়তে আছেন ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী! দিনের বেলা যে মাদ্রাসার জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহৃত হয় গোয়ালঘর বা ছাগল বাঁধার স্থান হিসেবে আর রাতে যেখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডাÑসেই ভুতুড়ে প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে সরকারি বই, উপবৃত্তি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছে কোন জাদুবলে, সেই প্রশ্ন এখন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
১৯৯৮ সালে স্থানীয়দের দান করা জমিতে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি শুরুর দিকে ভালো চললেও পরবর্তী সময়ে সুপারিন্টেন্ডেন্টের নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ২০১১ সাল থেকে সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ে। অথচ সরকারি খাতায় প্রতিষ্ঠানটিকে সচল দেখাতে প্রতি বছর জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। অবাক করার বিষয় হলো, চলতি বছরও প্রতিষ্ঠানটি ২২৫ সেট নতুন বইয়ের চাহিদা পাঠায় এবং প্রাক-প্রাথমিক থেকে দাখিল দশম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি বই বরাদ্দও পায়! যেখানে বাস্তবে একজন শিক্ষার্থীরও অস্তিত্ব নেই, সেখানে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সরকারি বই এবং উপবৃত্তির টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে, তা বুঝতে খুব একটা বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, শিক্ষার পবিত্র আঙিনাকে ব্যবহার করে এখানে এক পারিবারিক লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ হওয়া সমস্ত সরকারি অনুদান ও সুবিধা মূলত সুপার ও তাঁর সহকারী শিক্ষিকা স্ত্রী মিলে আত্মসাৎ করছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সরেজমিন অনুসন্ধানেও এর প্রমাণ মিলেছে। যখন মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে ছাগল ও গোখাদ্য মজুত থাকতে দেখা যায়, তখন সহকারী শিক্ষিকা নিজ বাড়িতে ধান শুকানোর ফাঁকে ‘এইমাত্র ক্লাস নিয়ে আসার’ যে দাবি করেন, তা এক চরম ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়। শিক্ষার নামে এমন প্রকাশ্য জালিয়াতি ও প্রতারণা বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে চলছে, তা ভাবতেই অবাক লাগে।
ইতিমধ্যেই জমিদাতারা শিক্ষাহীন এই প্রতিষ্ঠানের কবল থেকে তাঁদের সম্পত্তি ফেরত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এই জালিয়াতির খবর শুনে বিস্মিত হয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আমরা মনে করি, শুধু সাধারণ খোঁজখবর নেওয়াই যথেষ্ট নয়। এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সরকারি সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের যে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তার শিকড় উপড়ে ফেলা জরুরি। শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে এমন তামাশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার এই জালিয়াতির ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় এনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

Ads small one

সাতক্ষীরা শুধু সীমান্ত নয়, সম্ভাবনারও শেষ সীমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা শুধু সীমান্ত নয়, সম্ভাবনারও শেষ সীমানা

মো. মামুন হাসান

মানচিত্রে সাতক্ষীরাকে খুঁজলে চোখ থমকে যায় দেশের একেবারে দক্ষিণ পশ্চিম কোণে, যেখানে বাংলাদেশের ভূখণ্ড শেষ হয়ে মিশে গেছে ভারতের সীমান্তে আর সুন্দরবনের অসীম সবুজে। ভৌগোলিক অবস্থানের এই প্রান্তিকতাই দীর্ঘদিন সাতক্ষীরাকে চিনিয়েছে কেবল একটি সীমান্ত জেলা হিসেবে, উন্নয়নের মানচিত্রে যার অবস্থান প্রায়ই থেকে গেছে প্রান্তিক। কিন্তু পরিসংখ্যান আর সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো ভিন্ন এক গল্প বলছে, এই জেলা সীমান্ত নয়, বরং সম্ভাবনার এক অব্যবহৃত ভাণ্ডার।

 

সাদা সোনার অর্থনীতি দিয়েই শুরু করা যাক। সাতক্ষীরা প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি, মৎস্য ও মানবসম্পদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে, যেখানে চিংড়ি রপ্তানি থেকে শুরু করে কৃষিক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প ও প্রবাসী আয় মিলিয়ে এই অঞ্চল দেশের অর্থনৈতিক ভান্ডার হিসেবে বিবেচিত। সংখ্যার ভাষায় এই সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট, সাতক্ষীরায় প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বড় উৎস, এবং জেলার লবণাক্ততা সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি ইতিমধ্যে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যে লবণাক্ততাকে আমরা এতদিন কেবল সংকট হিসেবে দেখেছি, সেই একই লবণাক্ততার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া বাগদা চিংড়ি চাষ আজ জেলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

 

নীতিগত স্বীকৃতির দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরে গেছে সাতক্ষীরার ভাগ্যে। সরকারি সিদ্ধান্তে জেলাটিকে ঘোষণা করা হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে, অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার ফলে উৎপাদিত পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার যেমন বিস্তৃত হবে, তেমনি বৈদেশিক বাণিজ্যও বাড়বে, পরিকল্পিত উপায়ে শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে এবং কাঁচামাল আমদানিতে বন্দরের গুরুত্বও বাড়বে, যার ফলে এ জেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে। এই একটি প্রশাসনিক স্বীকৃতি আসলে একটি ঘোষণাপত্র, যা বলছে, সাতক্ষীরা আর কেবল কৃষি বা মৎস্যনির্ভর প্রান্তিক জেলা থাকবে না, বরং হয়ে উঠতে পারে একটি পরিকল্পিত শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র।

 

তবে এই সম্ভাবনার পথে বাধাও কম নয়, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে থেকে গেছে অবহেলিত।অবকাঠামোগত ঘাটতি, যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার সাতক্ষীরা শ্যামনগর মহাসড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, বাগদা চিংড়িসহ রুই কাতলা ভেটকি ও পারশে মাছ সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য একটি আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ জোন প্রতিষ্ঠা করা, এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা। এই তিনটি দাবিই আসলে একটি অভিন্ন বার্তা দেয়, সাতক্ষীরার সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে পারছে না অবকাঠামোর অভাবে, সম্পদের অভাবে নয়।

 

এই আলোচনায় সুন্দরবনের ভূমিকাকেও পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার। সাতক্ষীরা কেবল একটি কৃষি বা মৎস্য জেলা নয়, এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের প্রবেশদ্বারও বটে। সুন্দরবনের ভৌগোলিক অবস্থান পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে। যদি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিকল্পিত শিল্পায়ন আর সুন্দরবনকেন্দ্রিক ইকো ট্যুরিজম একসঙ্গে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোয় গাঁথা যায়, তবে সাতক্ষীরা হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার, যেখানে রপ্তানি বাণিজ্য, কৃষি উদ্ভাবন আর পর্যটন একসঙ্গে একটি নতুন অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলবে।

 

শেষ পর্যন্ত সাতক্ষীরার গল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় শিক্ষা দেয়। সীমান্তবর্তী অবস্থান কোনো জেলাকে প্রান্তিক করে রাখার কারণ হতে পারে না, বরং সঠিক পরিকল্পনায় সেই একই অবস্থান হয়ে উঠতে পারে কৌশলগত সুবিধা। অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্বীকৃতি ইতিমধ্যে দরজা খুলে দিয়েছে, এখন প্রয়োজন সড়ক, বন্দর সুবিধা আর প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামোর মাধ্যমে সেই দরজা দিয়ে প্রকৃত বিনিয়োগ আর কর্মসংস্থান প্রবেশ করানো। সাতক্ষীরা তাই আক্ষরিক অর্থে দেশের সীমান্ত হলেও, তার সম্ভাবনার কোনো সীমানা নেই, প্রয়োজন কেবল সেই সম্ভাবনাকে চেনার আর লালন করার সাহস।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

সম্পাদকীয়/ নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ। রবিবার ‘পত্রদূত’-এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে জেলায় ৬৮৪টি অপরাধের ঘটনা এবং ১৩৬ জনের অপমৃত্যুর তথ্য আমাদের চিন্তিত করে। ২৫১টি মাদক মামলা, ৫০টি নারী নির্যাতন, ২১টি ধর্ষণ এবং ৯টি হত্যাকা-ের মতো ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সর্বাধিক চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক অস্থিরতার প্রকাশ। তিন মাসে ৬৫টি আত্মহত্যার ঘটনা কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়; এটি তীব্র মানসিক সংকট, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও সামাজিক সহমর্মিতার অভাব নির্দেশ করে। এর পাশাপাশি সুন্দরবনে ডাকাতদের হাতে ৩২ জন জেলের অপহরণ এবং সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা উপকূলীয় ও সীমান্তঘেঁষা মানুষের জীবিকা ও জীবনকে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
আইনশৃঙ্খলার এই ধসের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী মানুষের আইনি সুরক্ষার পথও আজ অবরুদ্ধ। সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘদিন বিচারক না থাকায় শত শত ভুক্তভোগী নারী ও শিশু বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেনÑযা মানবাধিকারের আরেকটি বড় লঙ্ঘন। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই স্থবিরতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। মানবাধিকার রক্ষা কেবল কোনো নির্দিষ্ট সংস্থার একক দায়িত্ব হতে পারে না; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি। সাতক্ষীরার এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তা হলোÑ মাদক ট্রাফিকিং, চুরি-ডাকাতি ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের দৃশ্যমান ও কঠোর টহল নিশ্চিত করা। জজ কোর্টের শূন্য পদে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দিয়ে স্থবির হয়ে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করা। সীমান্তে কঠোর কূটনৈতিক তদারকি এবং সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের যৌথ অভিযান জোরদার করা। আত্মহত্যা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা।
একটি সভ্য সমাজে সংখ্যা দিয়ে মানুষের জীবনের মূল্য বিচার করা যায় না। প্রতিটি অপমৃত্যু ও অপরাধের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সুশীল সমাজকে অবিলম্বে একসঙ্গে বসে এই নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে।

ক্যালারোয়ায় ‘জাতীয় তরুণ সংঘের’ নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রবিউল, সম্পাদক রঞ্জু, সাংগঠনিক মোস্তাক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
ক্যালারোয়ায় ‘জাতীয় তরুণ সংঘের’ নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রবিউল, সম্পাদক রঞ্জু, সাংগঠনিক মোস্তাক

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন জাতীয় তরুণ সংঘের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে কলারোয়া সরকারি কলেজ সংলগ্ন ক্লাবের নিজস্ব ভবনে এক জরুরি সভায় ক্লাবের সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে মো. রবিউল হোসেনকে সভাপতি, আরিফুর রহমান রঞ্জুকে সাধারণ সম্পাদক ও মোস্তাক আহমেদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। এছাড়া কমিটিতে ৬ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে।
সভা শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কলারোয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন জাতীয় তরুণ সংঘ তার ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতে কাজ করবে। মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে অতি দ্রুতই কলারোয়া সরকারি কলেজ মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন, তরুণ প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। একই সাথে উপজেলায় বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মল্লিক, এনায়েত খাঁন টুন্টু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আহম্মেদ সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক ই-ইউনুছ আলী, কোষাধ্যক্ষ আলমগীর কবীর তারেক, দপ্তর সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুকুল হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক শাহাদাত হোসেন অপু, প্রচার সম্পাদক নাছির উদ্দিন, সহ-প্রচার সম্পাদক আতিয়ার রহমান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সাহেব আলী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক উত্তম গোলদার, সহ-সংস্কৃতি সম্পাদক সন্তোষ কুমার, শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম, সহ-শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য মজনুর রহমান মজনু, শাহীনুজ্জামান খাঁন পপি, মোজাম্মেল হক ও নজরুল ইসলাম।
এছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন-সিরাজুল ইসলাম, মাগফুর রহমান রাজু (সাবেক পৌর কাউন্সিলর), শেখ জামিল হোসেন (সাবেক পৌর কাউন্সিলর), শেখ আমজাদ হোসেন (সাবেক সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য), রফিকুল হাসান (সাবেক পৌর কাউন্সিলর) ও ড্যা. মনোয়ার হোসেন।