শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

সরকারি সম্পদ দখলদারের-নাকি জনগণের ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
সরকারি সম্পদ দখলদারের-নাকি জনগণের ?

মুক্তমত

এম. এম হায়দার আলী

সরকারি সম্পদ কার? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে কোনো অভিধান ঘাঁটতে হয় না। সরকারি জমি, পুকুর কিংবা স্থাপনা, সবই জনগণের। রাষ্ট্রের সম্পদ মানে জনগণের সম্পদ। অথচ সেই জনগণের সম্পদ যখন বছরের পর বছর কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের দখলে পড়ে থাকে, তখন প্রশ্ন শুধু দখলদারের বিরুদ্ধে ওঠে না, প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়েও।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনিতে সম্প্রতি যা ঘটছে, তা তাই নিছক একটি পুকুর বা কয়েক শতক জমি উদ্ধারের ঘটনা নয়। এর ভেতরে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের একটি বাস্তবতা এবং একটি কঠিন প্রশ্ন। যে সম্পদ এতদিন বেদখলে ছিল, তা উদ্ধারের জন্য এতদিন কী করা হয়েছিল? থানার পাশে জেলা পরিষদের প্রায় ৫৫ শতক পুকুর ও জমি দীর্ঘদিন দখলে থাকার পর এখন তা দখলমুক্ত করে জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের উপস্থিতিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দৃশ্য সাধারণ মানুষের চোখে তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, সরকারি সম্পদ বেদখল হওয়া নতুন কোনো গল্প নয়। গল্পটা বরং পুরোনো, দখল হয়, মানুষ দেখে, কর্তৃপক্ষ জানে, আলোচনা হয়; তারপর সময় চলে যায়।

 

অনেক সময় দখলদারিত্ব এতটাই পুরোনো হয়ে যায় যে মানুষ সেটিকে অস্বাভাবিক বলেই মনে করতে ভুলে যায়। সেখানেই বর্তমান উদ্যোগের গুরুত্ব। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এই কর্মতৎপরতাকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অনেকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। তাদের মুখে প্রশংসা, আলোচনায় বাহবা। কারণ দীর্ঘদিন পর তারা দেখছেন, সরকারি সম্পদকে আবার সরকারি সম্পদ হিসেবে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আর যেখানে জনগণ বাহবা দিচ্ছে, সেখানে দখলদারদের অস্বস্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 

স্থানীয় ভাবে আলোচনা রয়েছে, দখলমুক্তির উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলকারীদের অনেকেই নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। এটি যদি সত্য হয়, তাহলে আরও বড় প্রশ্ন সামনে আসে, কারা এতদিন সরকারি সম্পদ দখলে রেখেছিল? কীভাবে রেখেছিল? কার ছত্রচ্ছায়ায় রেখেছিল? যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রয়োজন সরকারি নথি, ভূমি রেকর্ড, দখলের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ববর্তী কার্যক্রম খতিয়ে দেখা। তাহলেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল চিত্র। প্রশ্ন হলো,একটি সরকারি সম্পত্তি বছরের পর বছর বেদখলে থাকার পরও যদি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না হয়, তাহলে শুধু দখলদারকে দায়ী করলেই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? না। দখলদার যেমন প্রশ্নের মুখোমুখি হবে, তেমনি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে সেই ব্যবস্থাকেও, যে ব্যবস্থা জনগণের সম্পদ পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছিল। এ কারণেই হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বর্তমান উদ্যোগকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের চোখে দেখলে ভুল হবে।

 

সরকারি সম্পদ উদ্ধার কোনো দলের সম্পদ নয়, কোনো নেতার ব্যক্তিগত কৃতিত্বের বিষয়ও নয়। এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে দীর্ঘদিনের নীরবতার মধ্যে কেউ যদি সেই নীরবতা ভেঙে উদ্যোগ নেন, তাহলে সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব। তিনি ইতোমধ্যে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি অবকাঠামো, জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা দখলে থাকলে সেগুলো দখলমুক্ত করে সরকারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন।

এখন জনগণ দেখতে চায়, কথা কতটা কাজে রূপ নেয়। শ্যামনগর-আশাশুনির ৫৫ শতক দিয়ে কি অভিযান থেমে যাবে, নাকি সাতক্ষীরার অন্য প্রান্তে বেদখলে থাকা সরকারি সম্পত্তির দিকেও নজর যাবে? কারণ একটি ৫৫ শতকের পুকুর উদ্ধার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দখলমুক্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। সরকারি সম্পদ উদ্ধারের পর সেটি আবার যেন কারও ব্যক্তিগত কবজায় চলে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সীমানা নির্ধারণ করতে হবে, রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে, প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড দিতে হবে, নিয়মিত নজরদারি করতে হবে। নইলে আজ উদ্ধার, কাল আবার দখল, এই পুরোনো নাটকই চলতে থাকবে।

 

সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়ন চায়। তারা সরকারি সম্পদের অপচয় চায় না। তারা চায় না, জনগণের সম্পদ কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হোক। তারা চায় প্রশাসন জাগুক, জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিক, আর সরকারি সম্পদ ফিরে আসুক জনগণের কাজে। আজ তাই প্রশ্নটি আরও জোরে উচ্চারিত হওয়া দরকার, সরকারি জমি দখল করে রাখার সাহস দখলদারকে কে দেয়? বছরের পর বছর বেদখল থাকার পরও সংশ্লিষ্টরা নীরব থাকেন কেন? দখলমুক্তির উদ্যোগ নিলে যারা নড়েচড়ে বসে, তাদের ভয়টা কোথায়? আর সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব কি কেবল কোনো একজনের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে, নাকি এটি হবে রাষ্ট্রের নিয়মিত দায়িত্ব?

সময় এসেছে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার।

হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বর্তমান উদ্যোগ যদি সত্যিই ধারাবাহিক হয়, যদি সাতক্ষীরার প্রতিটি বেদখল সরকারি সম্পত্তির দিকে নজর পড়ে, যদি উদ্ধার হওয়া সম্পদ আবার দখলের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে। কারণ শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নয়, কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়। এটি জনগণের সম্পদ।

আর জনগণের সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে আপোসের কোনো জায়গা নেই। দখলদার যতই শক্তিশালী হোক, সরকারি সম্পদের ওপর তার অধিকার নেই। আর দায়িত্বশীলরা যতদিন নীরব থাকবেন, ততদিন দখলদারিত্বের শেকড় ততই গভীরে যাবে। তাই এখন সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার। দখলমুক্ত হোক সরকারি সকল সম্পদ,ফিরে আসুক জনগণের অধিকার আমি অধমের এমনটি প্রত্যাশা। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

এক মঞ্চে মেসি-রোনালদো, স্বপ্নের আয়োজন করছেন তেভেজ!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
এক মঞ্চে মেসি-রোনালদো, স্বপ্নের আয়োজন করছেন তেভেজ!

পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন ২০২২ সালেই। কিন্তু কার্লোস তেভেজের আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচটা এখনো হয়নি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে পারে। যদি সব পরিকল্পনা ঠিকঠাক এগোয়, ডিসেম্বরে বোকা জুনিয়র্সের ঘরের মাঠ বোম্বোনেরায় দেখা যেতে পারে ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।

প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের আলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন মেসি ও রোনালদো। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দুজনকে একই দলে কিংবা একই মাঠে খেলতে দেখা তাই নিঃসন্দেহে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অবিস্মরণীয় এক দৃশ্য হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সম্প্রতি অবসরের ঘোষণা দেওয়া মেসি এবং পর্তুগালের অধিনায়ক রোনালদো সর্বশেষ একই মাঠে ছিলেন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে। সেবার একটি প্রদর্শনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুজন। মেসি খেলেছিলেন পিএসজির হয়ে, আর রোনালদো ছিলেন রিয়াদ অল-স্টার একাদশে।

সৌদি আরবের কিং ফাহদ ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ গোলে জিতেছিল পিএসজি। মেসি করেছিলেন একটি গোল, আর রিয়াদ অল-স্টার একাদশের হয়ে জোড়া গোল করেছিলেন রোনালদো।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস শনিবার জানিয়েছে, বোকা জুনিয়র্সের সভাপতি ও তেভেজের সাবেক সতীর্থ হুয়ান রোমান রিকেলমের সঙ্গে নিজের বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন নিয়ে কথা বলেছেন তেভেজ। বোম্বোনেরায় ম্যাচটি আয়োজনের বিষয়ে রিকেলমের কাছ থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছেন তিনি।

তবে ম্যাচের চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সপ্তাহের শুক্র বা শনিবার আয়োজন করা হতে পারে ম্যাচটি।

বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ক্যারিয়ারে তিন দফা খেলেছেন তেভেজ। তিন অধ্যায়ে ক্লাবটির হয়ে ২৭৯ ম্যাচে মাঠে নেমে করেছেন ৯৪ গোল, জিতেছেন ১১টি ট্রফি। তাই তার আনুষ্ঠানিক বিদায়ের জন্য বোম্বোনেরার চেয়ে উপযুক্ত মঞ্চ আর কী-ই বা হতে পারে!

টিওয়াইসি স্পোর্টসের খবর অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সী তেভেজের পাশে বিদায়ী ম্যাচে থাকবেন তার শৈশবের বন্ধু ও ফুটবল ক্যারিয়ারের ঘনিষ্ঠজনেরা। প্রতিপক্ষ দলেও থাকবেন ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করা তারকারা।

ইউরোপের ফুটবলে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি ও জুভেন্টাসের মতো বড় ক্লাবে খেলেছেন তেভেজ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও তার পথচলা ছিল এক দশকের বেশি সময়ের। ২০০৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ৭৬ ম্যাচে মাঠে নেমে করেছেন ১৩ গোল।

সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ জন সাবেক ও বর্তমান তারকা এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে বড় দুই নাম মেসি ও রোনালদো। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং ৪১ বছর বয়সী রোনালদো দুজনকেই আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তেভেজের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্ক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে, আর মেসির সঙ্গে তার সম্পর্ক আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম থেকে।

ফলে বোম্বোনেরায় তেভেজের বিদায়ী ম্যাচ সত্যিই যদি মেসি ও রোনালদোকে এক মাঠে হাজির করতে পারে, তাহলে সেটি শুধু একটি বিদায়ী ম্যাচ থাকবে না। পরিণত হতে পারে ফুটবল নস্টালজিয়ার এক মহাউৎসবে।

সিডনিতে শাবনূরের বাসায় অতিথি তাসকিন, জমলো বারবিকিউ আড্ডা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
সিডনিতে শাবনূরের বাসায় অতিথি তাসকিন, জমলো বারবিকিউ আড্ডা

ক্রিকেট মাঠে নয়, সিনেমার পর্দাতেও নয়; সুদূর অস্ট্রেলিয়ার সিডনির এক ঘরোয়া আয়োজনে দেখা মিললো তাসকিন আহমেদ ও শাবনূরের। হাসিমুখে ক্যামেরাবন্দি দুই তারকার সেই মুহূর্ত প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তদের কৌতূহল, কীভাবে একসঙ্গে হলেন ক্রিকেট ও চলচ্চিত্রের দুই জনপ্রিয় মুখ?

ঘটনার সূত্রপাত সিডনিতে শাবনূরের ভাইয়ের বাসায়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বারবিকিউ পার্টিতে যোগ দেন জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ। বর্তমানে ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন শাবনূর।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শাবনূরের সঙ্গে তোলা একটি ছবি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন তাসকিন। ছবিতে দুজনকেই দেখা যায় বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও স্বতঃস্ফূর্ত ভঙ্গিতে।

পোস্টে তাসকিন জানান, অস্ট্রেলিয়ার সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলসে শাবনূরের পরিবারের সঙ্গে বারবিকিউ পার্টিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। পরিবারের আতিথেয়তায় দারুণ একটি সন্ধ্যা কেটেছে বলেও জানান এই ক্রিকেটার।

আয়োজনের জন্য শাবনূর ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাসকিন লেখেন, ‘সেটা একটা সুন্দর সন্ধ্যা এবং বারবিকিউ রাত ছিল। আমাদের আতিথেয়তা করার জন্য শাবনূর আপু ও তার পরিবারকে ধন্যবাদ।’

 

তাসকিনের পোস্টের আগেই অবশ্য এই সাক্ষাতের কথা জানান শাবনূরও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাসকিনের সঙ্গে কাটানো সময়ের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে তিনি লেখেন, ভাইয়ের বাসায় পরিবারের সঙ্গে প্রিয় ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদের সঙ্গে বারবিকিউ পার্টিতে দারুণ সময় কেটেছে তাদের।

তাসকিন ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শাবনূর লেখেন, ‘ধন্যবাদ তাসকিন ও তোমার পরিবারকে, তোমাদের সঙ্গে সময়টা সত্যিই সুন্দর ছিলো।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাসকিনের অবদানের প্রশংসা করে তাকে দেশের গর্ব ও এই সময়ের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে উল্লেখ করেছেন শাবনূর। তাসকিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আরও অনেক সাফল্যও কামনা করেছেন তিনি।

 

অন্যদিকে তাসকিনও শাবনূরকে ‘আপু’ সম্বোধন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আনন্দের কথা জানিয়েছেন।

দুই তারকার পোস্ট প্রকাশের পরই তা নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। মন্তব্যের ঘরে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন অনেকে। কেউ ছবিটির প্রশংসা করেছেন, কেউ আবার এমন সুন্দর একটি মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার জন্য দুজনকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ক্রিকেট মাঠে গতিময় পেসার হিসেবে তাসকিনের পরিচিতি, আর রুপালি পর্দায় শাবনূর দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের ভালোবাসার নাম। দুই ভিন্ন জগতের এই দুই তারকাকে এক ফ্রেমে দেখে তাই স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে।

তবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ছবিটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক তারকাখ্যাতির বাইরের সেই সহজ মুহূর্ত। ক্রিকেট মাঠ কিংবা আলো-ঝলমলে পর্দার বাইরে পরিবারের সঙ্গে হাসি-আড্ডায় সময় কাটাতে দেখা গেল তাসকিন ও শাবনূরকে—সিডনির সেই সন্ধ্যায় যেন প্রবাসের মাটিতে মিলল এক টুকরো বাংলাদেশ।

‘বাড়ি দখল’ এর ঘটনায় যা বললেন দিলারা জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
‘বাড়ি দখল’ এর ঘটনায় যা বললেন দিলারা জামান

দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর উত্তরায় নিজের কেনা ফ্ল্যাটে বাস করছেন দেশের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান। কিন্তু শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তার বাড়ি দখল হয়েছে। এ বিষয়টি শুনে বিস্মিত ও বিরক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী।

দিলারা জামান জানান, প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে তার বর্তমান জীবনের কোনও মিল নেই। ফলে বিভ্রান্তি দূর করতে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মানুষের মাথা কি নষ্ট হয়ে গেছে! একটু ভেবেচিন্তে, কথা বলে লিখলে তো ভালো হয়। ভালো কাজে যদি মস্তিষ্ক কাজে না লাগে, তাহলে কেমন লাগে! কী আর বলব।’

তাহলে দিলারা জামানের বাড়ি দখলের ঘটনা কি একেবারেই ঘটেনি? ঘটেছিল, তবে সেটি আজকের ঘটনা নয়—প্রায় ২২–২৩ বছর আগের।

তার মতে, ২০০৩–২০০৪ সালের দিকে তিনি ঢাকার শ্যামলী এলাকায় থাকতেন। সেখানে ছিল তার পৈতৃক বাড়ি। বাবার কাছ থেকে পাওয়া সেই বাড়িতেই পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। একপর্যায়ে বাড়িটি দখলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে সেই দখলের পরিস্থিতি আর এগোয়নি।

দিলারা জামানের ভাষ্য, ‘ঢাকার শ্যামলীর সেই ঘটনা তো ২২–২৩ বছর আগের। সেই বাড়ি পরে বিক্রি করে দিই। ২০০৮ সালে আমি পরিবার নিয়ে উত্তরায় চলে আসি। এখানে ১৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনি। তার পর থেকে এখানেই থাকছি।’