শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলার উত্তর পাশে অবস্থিত ‘নলেজ একাডেমিক পয়েন্ট কোচিং সেন্টার’-এ এই ঘটনা ঘটে।

এই হামলায় গুরুতর আহত কোচিং সেন্টারের পরিচালক মইনুল ইসলাম (৩০) বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- পুরাতন সাতক্ষীরা (নাথপাড়া) এলাকার ইমরান হোসেন (২৪), মো. তোহা (২১), মো. শিপন হোসেন (২৬) এবং মো. রকি (২২)।

লিখিত এজাহার থেকে জানা যায়, মইনুল ইসলামের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে একজন আসামির ১৬ বছর বয়সী এক বোন পড়াশোনা করত। কোচিংয়ে আসা-যাওয়ার সুবাদে সেন্টারের শিক্ষক আলফাজের সঙ্গে ওই ছাত্রীর অতিরিক্ত কথাবার্তা বলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়। বিষয়টি পরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি কোচিংয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিক্ষক আলফাজকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন এবং ওই ছাত্রীকেও কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করে দেন।

এঘটনার পর ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদের কাছে বিষয়টি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৪ মে রাতে আসামিরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বেআইনিভাবে কোচিং সেন্টারের নিচতলার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরিচালক মইনুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১নং আসামি ইমরান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে, যার ফলে তার মাথায় ৪টি সেলাই লেগেছে। ২নং আসামি তোহা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে মইনুল ইসলামের বাম গাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানেও ৪টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া ৩ ও ৪নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

হামলার একপর্যায়ে ১নং আসামি ইমরান হোসেন পরিচালকের কাছে থাকা নগদ ৪২ হাজার ৫২০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় ফরহাদ হোসেন ও আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত সাক্ষীদের সহায়তায় গুরুতর আহত মইনুল ইসলামকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।

 

 

Ads small one

জাতীয় রোলার কোস্টার দিবস: রোমাঞ্চ, বিজ্ঞানের খেলা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
জাতীয় রোলার কোস্টার দিবস: রোমাঞ্চ, বিজ্ঞানের খেলা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিবছর ১৬ আগস্ট বিশ্বজুড়ে রোমাঞ্চপ্রেমী মানুষ, থিম পার্ক এবং বিনোদন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উদযাপন করেন জাতীয় রোলার কোস্টার দিবস। এটি কেবল একটি বিনোদনমূলক দিবস নয়; বরং মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা এবং বিজ্ঞানের চমৎকার প্রয়োগের প্রতি এক বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি। ১৮৯৮ সালের এই দিনে উদ্ভাবক এডউইন প্রেসকট বিশ্বের প্রথম উল্লম্ব লুপযুক্ত রোলার কোস্টারের পেটেন্ট লাভ করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

রোলার কোস্টারের ইতিহাস মানবসভ্যতার বিনোদন সংস্কৃতির এক অনন্য অধ্যায়। ইতিহাসবিদদের মতে, এর সূচনা হয় ১৭শ শতকের রাশিয়ায়। তুষারে ঢাকা উঁচু ঢাল বেয়ে কাঠের স্লেজে চড়ে নামার যে রোমাঞ্চকর খেলা তখন জনপ্রিয় ছিল, তা “রাশিয়ান মাউন্টেনস” নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ১৮১৭ সালে ফ্রান্সে চাকার সাহায্যে ট্র্যাকে চলাচলকারী আধুনিক রোলার কোস্টারের বিকাশ ঘটে। এরপর ১৮৮৫ সালে আমেরিকার কনি আইল্যান্ডে লামার্কাস আদনা থম্পসন প্রথম সফল বাণিজ্যিক রোলার কোস্টার চালু করে বিনোদন জগতে এক নতুন যুগের সূচনা করেন।

আজকের রোলার কোস্টার শুধু একটি রাইড নয়, বরং আধুনিক প্রকৌশল ও প্রযুক্তির এক অসাধারণ নিদর্শন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্মিত বিশালাকৃতির কোস্টারগুলো মানবসৃষ্টির সাহসী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত ‘ফরমুলা রোসা’ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে বিশ্বের দ্রুততম রোলার কোস্টারের মর্যাদা অর্জন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিংডা কা’ বিশ্বের সর্বোচ্চ রোলার কোস্টার হিসেবে পরিচিত, যার উচ্চতা ৪৫৬ ফুট। জাপানের ‘স্টিল ড্রাগন ২০০০’, কানাডার ‘ইউকন স্ট্রাইকার’ এবং জাপানের ‘তাকাবিসা’ রোমাঞ্চের নতুন নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে।

বাংলাদেশে রোলার কোস্টারের রোমাঞ্চ উপভোগের জন্য বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় থিম ও বিনোদন পার্ক রয়েছে। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের ফিউচার ওয়ার্ল্ড ও কার্নিভাল জোনে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত নির্মিত রোলার কোস্টার দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম এবং সাভারের নন্দন পার্কে বিভিন্ন রোমাঞ্চকর রোলার কোস্টার ও বিনোদনমূলক রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ডে পরিবারসহ উপভোগের উপযোগী পারিবারিক রোলার কোস্টার দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।

রোলার কোস্টারের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানের অত্যন্ত আকর্ষণীয় ব্যবহার। অনেকেই মনে করেন শক্তিশালী ইঞ্জিনের সাহায্যে এটি চলে, কিন্তু বাস্তবে এর প্রধান চালিকাশক্তি হলো পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্র। রাইডের শুরুতে কোস্টারটিকে একটি উঁচু স্থানে তুলে নিয়ে স্থিতিশক্তি সঞ্চয় করা হয়। পরে নিচে নামার সময় সেই স্থিতিশক্তি গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে পুরো যাত্রাপথে গতি বজায় রাখে। অভিকর্ষ বল, জড়তা এবং কেন্দ্রমুখী বলের সমন্বয়ে রাইডাররা লুপ, বাঁক এবং খাড়া ঢাল অতিক্রম করেও নিরাপদে সিটে অবস্থান করতে পারেন। ফলে রোলার কোস্টার বিজ্ঞান শিক্ষারও একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

জাতীয় রোলার কোস্টার দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন থিম পার্কে নানা আয়োজন করা হয়। বিশেষ টিকিট ছাড়, সদস্যদের জন্য রাতব্যাপী রাইড, রোলার কোস্টারের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি দেখার সুযোগ এবং স্মারক উপহার বিতরণ এই দিনের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। এসব আয়োজন শুধু বিনোদনই নয়, বরং প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার প্রতি মানুষের আগ্রহও বৃদ্ধি করে। ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উন্নত চৌম্বক প্রযুক্তির ব্যবহার রোলার কোস্টার অভিজ্ঞতাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করে তুলতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে রোলার কোস্টার পর্যটন শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে থিম পার্কগুলো প্রতি বছর কোটি কোটি দর্শনার্থী আকর্ষণ করে, যা অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনা নিরাপত্তা প্রযুক্তি, প্রকৌশল গবেষণা এবং নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করছে। একই সঙ্গে রোলার কোস্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ভবিষ্যতের বিনোদন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

জাতীয় রোলার কোস্টার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের কল্পনা, সাহস এবং বিজ্ঞান একত্রিত হলে অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব। এটি শুধু দ্রুতগতির এক রাইডের গল্প নয়; বরং ইতিহাস, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও মানবসৃজনশীলতার এক অনবদ্য সমন্বয়। রোমাঞ্চের প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি উত্থান-পতন যেন আমাদের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি—ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণাময় বার্তা।

 

মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে মানুষ যখন পেছন ফিরে তাকায়, তখন অনেক হিসাবই নতুন করে করতে হয়। যৌবনে যেসব বিষয়কে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, বয়সের ভারে সেগুলোর অনেকটাই তুচ্ছ হয়ে যায়। অর্থ, সম্পদ, পদ-পদবি, প্রতিপত্তি কিংবা অন্যকে হারিয়ে দেওয়ার আনন্দÑসবকিছুর ওপরে তখন উঠে আসে একটি প্রশ্ন: কতটা ভালো মানুষ হয়ে বাঁচতে পেরেছি?

 

জীবনের সবচেয়ে বড় নির্মম সত্য হলো, এই উপলব্ধি আমাদের অনেকেরই আসে দেরিতে। যখন সময় থাকে, তখন আমরা সময়ের মূল্য বুঝি না। যখন সম্পর্কগুলো পাশে থাকে, তখন তার যতœ নিই না। যখন শরীর শক্তিশালী, তখন অসুস্থতা ও মৃত্যুর কথা ভাবি না। আর যখন বুঝতে শুরু করি কোনটি সত্যিকার অর্থে মূল্যবান, তখন অনেক কিছুই আর ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকে না।এক হাত জমির জন্য প্রতিবেশীর সঙ্গে বছরের পর বছর বিবাদ চলে।

 

সামান্য অর্থের জন্য ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। সম্পত্তির ভাগ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। অথচ একদিন সেই জমি, সেই অর্থ, সেই সম্পত্তিÑসবই পড়ে থাকবে। মানুষটি চলে যাবে। তখন প্রশ্ন উঠবে না, কে কতটুকু জমি পেল; প্রশ্ন উঠবে, সম্পর্কগুলো কেন নষ্ট হলো।আমাদের সমাজে সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতা যতটা প্রবল, সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা ততটা নয়।

 

আমরা সন্তানকে শেখাই কীভাবে ভালো চাকরি করতে হয়, কীভাবে বেশি অর্থ উপার্জন করতে হয়, কীভাবে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হয়। কিন্তু কতটা মানবিক হতে হয়, অন্যের কষ্ট কীভাবে বুঝতে হয়, ভুল করলে কীভাবে ক্ষমা চাইতে হয়Ñএসব শিক্ষা অনেক সময় গৌণ হয়ে যায়।অথচ মানুষের জীবনের শেষ সময়ে এসে এই মানবিক বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। একটি কঠিন কথা কখনো কখনো মানুষের মনে বছরের পর বছর ক্ষত তৈরি করে।

 

রাগের মাথায় বলা একটি বাক্য সম্পর্কের মধ্যে এমন দূরত্ব তৈরি করতে পারে, যা পরে আর সহজে মেরামত করা যায় না। অথচ আমরা কথা বলার আগে যতটা ভাবি নিজের স্বার্থ নিয়ে, ততটা ভাবি না অন্যের অনুভূতি নিয়ে।ক্ষমতার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা। সামান্য ক্ষমতা হাতে এলেই কেউ কেউ দুর্বলকে ভয় দেখান, অধীনস্থকে অপমান করেন, নিজের প্রভাব জাহির করেন।

 

কিন্তু ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। পদ চলে যায়, প্রভাব কমে যায়, শরীর দুর্বল হয়। তখন সেই মানুষগুলোই আর পাশে থাকে না, যাদের একসময় ভয় দেখানো হয়েছিল।জীবনের শেষ সময়ে এসে বোঝা যায়Ñভয় সৃষ্টি করে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করা যায়, কিন্তু ভালোবাসা অর্জন করা যায় না। আমাদের সময়ের বড় একটি সমস্যা হলো, আমরা সাফল্যের সংজ্ঞাকে খুব সংকীর্ণ করে ফেলেছি। ভালো ফল, বড় চাকরি, বেশি আয়, বাড়ি-গাড়ি, সামাজিক অবস্থানÑএসবই যেন সাফল্যের প্রধান মানদ-।

 

ফলে ছোটবেলা থেকেই শুরু হয় তুলনা। কে ক্লাসে প্রথম হলো, কে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ল, কে কত টাকা আয় করল, কে বিদেশ গেলÑএসব নিয়ে আমাদের ব্যস্ততা শেষ হয় না। কিন্তু জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে হয়তো এসব প্রশ্নের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়। ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র না হলেও জীবন ব্যর্থ হয় না। অনেক অর্থ উপার্জন করতে না পারলেও মানুষের মূল্য কমে যায় না। বরং একজন সাধারণ মানুষও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারেন তাঁর আচরণ, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কারণে।

 

একজন মানুষ কত বড় বাড়ি বানিয়েছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেÑতিনি কত মানুষের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তাঁর ব্যাংক হিসাবে কত টাকা ছিল, তার চেয়ে বড় হয়ে উঠতে পারেÑকতজন বিপদের দিনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।মানুষের আশীর্বাদÑশব্দটি হয়তো খুব সাধারণ। কিন্তু এর মধ্যে জীবনের গভীর একটি সত্য লুকিয়ে আছে। অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু আন্তরিক শুভকামনা কেনা যায় না। ক্ষমতা দিয়ে মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বাধ্য করা যায়, কিন্তু হৃদয় থেকে শ্রদ্ধা আদায় করা যায় না।

 

একজন মানুষ চলে যাওয়ার পর কতজন তাঁর জন্য ভালো কথা বলেন, কতজন তাঁর অভাব অনুভব করেন, কতজন তাঁর কোনো ভালো কাজের কথা স্মরণ করেনÑসেটিই তাঁর জীবনের এক ধরনের সামাজিক উত্তরাধিকার।

এই উত্তরাধিকার গড়ে ওঠে এক দিনে নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণ দিয়ে। কাউকে বিপদে সাহায্য করা, একজন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবেশীর সমস্যায় সহযোগিতা করা, কর্মচারীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা, পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়াÑএসবের কোনো বাজারমূল্য নেই। কিন্তু মানুষের জীবনে এর মূল্য অপরিসীম।আজ মানুষের যোগাযোগের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। হাতে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য পরিচিতি, মুহূর্তেই বার্তা পাঠানোর সুযোগ। তবু অনেক মানুষ আগের চেয়ে বেশি একা।

 

রাত জেগে কারও সঙ্গে চ্যাট করা, অদৃশ্য কোনো সম্পর্কের মধ্যে নিজের আবেগ ঢেলে দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানোÑএসব কখনো কখনো বাস্তব সম্পর্ক থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়।অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ভার্চ্যুয়াল জগতে শত শত ‘বন্ধু’ থাকলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে থাকার মতো মানুষ হয়তো খুব কম। তাই যোগাযোগের সংখ্যা নয়, সম্পর্কের গভীরতাই গুরুত্বপূর্ণ। কতজনের সঙ্গে কথা বলি, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণÑকতজনের সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক আছে। জীবনের শুরুতে চাওয়া থাকে অনেক।

 

বড় হওয়ার স্বপ্ন, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আকাক্সক্ষা, অর্থসম্পদ অর্জনের বাসনাÑসবই স্বাভাবিক। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে এসে মানুষের চাওয়া আশ্চর্যভাবে ছোট হয়ে যায়। একটু শান্তি। একটু স্বস্তি। প্রিয় মানুষের মুখ। পাশে পরিচিত কারও হাত। আর কষ্ট ছাড়া বিদায়ের আকাক্সক্ষা।তখন আর কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করে না, আপনি কত টাকা উপার্জন করেছিলেন। কত বড় পদে ছিলেন।

 

কত জমির মালিক ছিলেন। বরং মনে পড়েÑকে আপনাকে সত্যিকারভাবে ভালোবাসত, কাকে আপনি ভালোবেসেছিলেন, কার মনে আপনি কষ্ট দিয়েছিলেন।শেষ বয়সের উপলব্ধির জন্য শেষ বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং সুস্থ ও কর্মক্ষম অবস্থাতেই যদি মানুষ জীবনের অগ্রাধিকারগুলো ঠিক করতে পারে, তাহলে অনেক অনুতাপ এড়ানো সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া এড়িয়ে চলা, ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া, অন্যের ভুল ক্ষমা করা, অহংকার কমানো, দুর্বল মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং আপনজনকে সময় দেওয়াÑএসব খুব কঠিন কাজ নয়।

 

শুধু আমাদের অগ্রাধিকার বদলাতে হবে।আজ যে মানুষটি পাশে আছেন, তিনি চিরকাল থাকবেনÑএমন নিশ্চয়তা নেই। আজ যে সম্পর্কটি মেরামত করা সম্ভব, কাল হয়তো তার সুযোগ থাকবে না। তাই ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো অর্থ নেই। শেষ পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কই থেকে যায়। সম্পদ উত্তরাধিকারীরা ভাগ করে নেয়, পদ-পদবি অন্য কেউ পায়, বাড়িঘর অন্যের ঠিকানা হয়ে যায়। কিন্তু একজন মানুষের ভালো ব্যবহার, মমতা, সততা ও ভালোবাসার স্মৃতি সহজে মুছে যায় না।

 

তাই জীবনের শেষ হিসাবটা যদি আজই করা যায়, তাহলে হয়তো অনেক ভুল থেকে আমরা ফিরে আসতে পারি। কতটা সম্পদ রেখে গেলামÑএটি জীবনের একটি হিসাব। কিন্তু কতটা ভালোবাসা রেখে গেলামÑসেটিই হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় হিসাব। শেষ বেলায় যেন আফসোস না থাকেÑএই জীবন পেয়েও মানুষ হয়ে বাঁচার সুযোগটি আমরা নষ্ট করেছি। বরং বিদায়ের আগে যেন অন্তত মনে হয়, খুব বড় কিছু করতে না পারলেও মানুষের মনে কষ্টের চেয়ে ভালোবাসার স্মৃতিই একটু বেশি রেখে যেতে পেরেছি।

লেখক: সংবাদকর্মী

খালের গলায় ফাঁসি, ভোগান্তিতে পুরো জনপদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
খালের গলায় ফাঁসি, ভোগান্তিতে পুরো জনপদ

দীপঙ্কর বিশ্বাস

একটু বৃষ্টি হলেই চারপাশ থৈ থৈ, রাস্তায় হাঁটু জল আর বাসাবাড়িতে নোংরা জলের অনুপ্রবেশ আমাদের চেনা প্রতিচ্ছবি। আমরা ভাবি, বৃষ্টিটাই বুঝি সব নষ্টের মূল। কিন্তু আসল সত্যিটা আমরা অনেকেই এড়িয়ে যাই। আমাদের তৈরি কৃত্রিম বাঁধ ও অবৈধ উপায়ে খাল দখলেই লুকিয়ে আছে এই জলাবদ্ধতার আসল রহস্য।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খালের পর খালে অবাধে বসানো হচ্ছে আড়াআড়ি বাঁশের খুঁটি। তার সঙ্গে ঝুলছে নিষিদ্ধ কারেন্ট বা বিভিন্ন ধরনের চীনানি জাল। খালের স্বাভাবিক জলপ্রবাহকে পুরোপুরি রুদ্ধ করে চলেছে একদল অসাধু চক্র।

এর ফলে যে অপপূরণীয় ক্ষতিগুলো হচ্ছে, তা কেবল জলাবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ নয়:
১. সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহারের ফলে রুই-কাতলার মতো বড় মাছের পোনা থেকে শুরু করে দেশীয় ছোট মাছ (যেমন- পুঁটি, টেংরা, কৈ, বাইন) এবং জলজ কীটপতঙ্গ ও ছোট প্রাণীদের ডিম অবাধে ধ্বংস হচ্ছে। ফলে নদী-খালের স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে।

২. খালের জল সময়মতো নদীতে নামতে পারছে না, আর সেই জমা জল ভাসিয়ে দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের চাষের জমি ও ঘরবাড়ি। অতিরিক্ত জল জমে থাকার কারণে ফসলি জমি দীর্ঘদিন জলের নিচে আটকে থাকে, ফলে ফসল পচে গিয়ে কৃষকরা সর্বশান্ত হচ্ছেন।

৩. খালের তলদেশে জমে থাকা পলি ও ময়লা-আবর্জনা অবৈধ বাঁধের কারণে সরতে পারে না। এতে খালের নাব্য হ্রাস পায় এবং স্বাভাবিক সেচ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

৪. দীর্ঘদিন বাসাবাড়ি ও আশপাশে পচা জল জমে থাকার ফলে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও ডেঙ্গুর মতো পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব ঘটে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নটা এখানেই উঠে আসে। বিভিন্ন সময় লোকদেখানো কিছু অভিযান বা কয়েকটা জাল বাজেয়াপ্ত করেই কি দায়িত্ব শেষ? অভিযান শেষ হতে না হতেই অলক্ষ্যে আবারও বসে যায় বাঁশের খুঁটি, আবার টানা হয় বিষাক্ত জাল। এই খেলা দিয়ে একটি জনপদকে বছরের পর বছর জলাবদ্ধ করে রাখা যায় না। কেবল চিঠি দেওয়া কিংবা দু-একটি মোটাদাগের অভিযান চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। দরকার নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা, খালের স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় তদারকি কমিটি গঠন করে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।

খাল কোনো ব্যক্তি বিশেষের উপার্জনের পৈতৃক জোগান নয়; খাল একটি অঞ্চলের নিঃশ্বাস নেওয়ার স্বাভাবিক ধমনী। আইন অমান্যকারীদের কঠোর হাতে দমন না করলে এবং খালের মুখ থেকে সমস্ত অবৈধ জাল ও বাঁধ স্থায়ীভাবে অপসারণ না করলে আগামী দিনে জলাবদ্ধতার এই নরকযন্ত্রণা ও পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো দ্বিতীয় পথ নেই।

প্রশাসনের সদিচ্ছা ও কঠোর পদক্ষেপের অপেক্ষায় পুরো এলাকা। খালগুলোকে বাঁচতে দিন, পরিবেশ রক্ষা করুন, মানুষকে একটু শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে দিন।