সম্পাদকীয়/প্রাথমিক শিক্ষায় তীব্র জনবল সংকট: অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ জরুরি
একটি জাতির উন্নতির মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। শৈশবের এই পাঠশালাতেই শিশুর মেধা, চরিত্র ও ভবিষ্যতের সঠিক বুনিয়াদ গড়ে ওঠে। অথচ দেশের প্রান্তিক জেলা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাত বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে পতিত হয়েছে। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উপজেলাটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পাশাপাশি শিক্ষকদের বিপুলসংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে, যা স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতিকে মারাত্মকভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৮টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। বাধ্য হয়ে সহকারী শিক্ষকদেরকে দিয়ে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে স্কুলের প্রশাসনিক দায়িত্ব চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ৮৩১ জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে ৫৮টি পদ শূন্য থাকায় সব মিলিয়ে শিক্ষক পদ খালি রয়েছে ১৫৬টি। শুধু ক্লাসরুমেই নয়, সংকট উপজেলা শিক্ষা অফিসেও। ৬ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিপরীতে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মাত্র ৪ জন, আর ৫টি প্রশাসনিক পদের বিপরীতে চালকের ভূমিকায় রয়েছেন মাত্র দু’জন কর্মচারী।
এই চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যখন একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রতিদিন গাদা গাদা দাপ্তরিক ফাইলপত্র ও প্রশাসনিক ঝামেলা সামলাতে হয়, তখন শ্রেণিকক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকের অভাবে যথাযথ ক্লাস হচ্ছে না, অন্যদিকে বাড়তি চাপে শিক্ষকেরাও পাঠদানে মনোযোগ হারিয়ে ফেলছেন। পরিণতিতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক মেধা বিকাশ।
শিক্ষা কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, শূন্যপদের তালিকা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের একটি আশ্বাসও পাওয়া গেছে। আমরা এই আশ্বাসকে স্বাগত জানাই, তবে একই সাথে মনে করিয়ে দিতে চাই যেÑশুধু সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েই এই সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। প্রধান শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে স্থায়ী নিয়োগ না দিলে বিদ্যালয় পরিচালনার অচলাবস্থা কাটবে না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এভাবে ধুঁকে ধুঁকে চলতে দেওয়া যায় না। প্রাথমিক শিক্ষার সংকট দূর করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী নিয়োগ বা পদোন্নতির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক জনবল পূরণ করে পরিদর্শনের কাজ বেগবান করা আবশ্যক। কালিগঞ্জের কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিলম্ব না করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেনÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।









