বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ধীরগতি, পাঠদান ব্যাহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ধীরগতি, পাঠদান ব্যাহত

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরম ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার ৯৫নং দক্ষিণ কাদাকাটি কালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া এক আবেদনে এ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন।

 

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি রয়েছে ৪০ শতাংশ। অভিযোগে বলা হয়, নির্মাণকাজে শ্রমিকসংখ্যা কম এবং কাজের গতি অত্যন্ত ধীর।

 

অনেক সময় শ্রমিকরা নিয়মিত কাজও করেন না। এদিকে তীব্র দাবদাহ ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে টিনশেডের নিচু কক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। এতে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অফিস কক্ষের সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাধ্য হয়ে ২০২৪ সাল থেকে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষ নেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যালয়ের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া টয়লেট সুবিধা না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

 

স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি আপাতত শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মর্নিং স্কুল চালুর অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “বর্তমান তাপপ্রবাহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে মর্নিং স্কুল চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো যায়।”

Ads small one

শ্যামনগরে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, ব্যাহত পড়াশোনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, ব্যাহত পড়াশোনা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ঘনঘন বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষা চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা ও রাতের সময় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। অনেক এলাকায় দিনে ৫-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থীরা আলো সংকটের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।

শিক্ষার্থী আব্দুস সাদী জানায়, “পরীক্ষার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ থাকে না। গরমের মধ্যে অন্ধকারে পড়তে খুব কষ্ট হয়, অনেক সময় পড়াই সম্ভব হয় না।” অভিভাবকরাও একই অভিযোগ করে বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে এবং অনেক স্থানে দৈনিক কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই এবারের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী প্রতিবেদককে জানান, এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, এবং পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অন্তত সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা দরকার, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

 

তীব্র গরমে লোডশেডিং, শেষ ভরসা বাঁশবাগান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
তীব্র গরমে লোডশেডিং, শেষ ভরসা বাঁশবাগান

সাতক্ষীরায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। দুপুরের তীব্র রোদে গ্রামের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে। প্রচ- গরমে ফ্যান-বিদ্যুৎহীন অসহনীয় হয়ে উঠেছে জনজীবন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা গ্রামের একটি বাঁশ বাগানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও পাটি বা চাটাই বিছিয়ে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।

বকচরা গ্রামের আলমগীর লস্কর বলেন, দিনে ও রাতে মিলেও ১৪ ঘন্টা কারেন্ট থাকে না। ফলে ইটের দালান বা টিনের ঘরের ভ্যাপসা গরমে থাকাটাই অসহনীয় ব্যাপার, তার চেয়ে দুপুরে কারেন্ট গেলে বাঁশবাগানের ভেতরের পরিবেশ অনেকটাই সহনীয় হয়ে ওঠে। বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়া একটু তো স্বস্তি দিচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাসিন্দা মুকুল বলেন, “ঘরের ভেতর গরমে থাকা যায় না, লোডশেডিং তো আছেই। তাই বিকেলে বাঁশবাগানে চলে আসি। এখানে বসলে একটু ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যায় কিন্তু বাড়ি ঘরে মহিলাদের এই অসহনীয় গরম সহ্য করতে হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, ঘন সবুজ উদ্ভিদ এলাকাভেদে আশপাশের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম অনুভব করাতে পারে, যা তাপদাহের সময় গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি দেয়।

চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দিনের তীব্র তাপদাহ এবং রাতের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে খোলা ও গাছের ছায়াযুক্ত জায়গা বেছে নিচ্ছেন। দেশের চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমাধান চান দেশবাসী।

উল্লেখ্য যে, এই প্রতিবেদন তৈরি করতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দুপুর ৩টা ৩৬ মিনিটে সংবাদটি ইমেইলে পাঠানোর সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। দীর্ঘ এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে বিদ্যুৎ ফিরে এলে আবারও সংবাদটি পাঠাতে হয়। লোডশেডিংয়ের এই চক্র শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সংবাদকর্মীদের কাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদদাতা এসএম আশরাফুল ইসলাম

 

 

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শাড়ি ও আগরবাতি আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার কেরাগাছি হতে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে।

এছাড়াও, মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার চান্দা হতে ২৪ হাজার টাকার ভারতীয় আগরবাতি আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯৪ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।