সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ধীরগতি, পাঠদান ব্যাহত
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরম ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার ৯৫নং দক্ষিণ কাদাকাটি কালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া এক আবেদনে এ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি রয়েছে ৪০ শতাংশ। অভিযোগে বলা হয়, নির্মাণকাজে শ্রমিকসংখ্যা কম এবং কাজের গতি অত্যন্ত ধীর।
অনেক সময় শ্রমিকরা নিয়মিত কাজও করেন না। এদিকে তীব্র দাবদাহ ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে টিনশেডের নিচু কক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। এতে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অফিস কক্ষের সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাধ্য হয়ে ২০২৪ সাল থেকে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষ নেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যালয়ের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া টয়লেট সুবিধা না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি আপাতত শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মর্নিং স্কুল চালুর অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “বর্তমান তাপপ্রবাহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে মর্নিং স্কুল চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো যায়।”






